কি পেলাম কি হারালাম, ভিক্ষুক মুক্তিযোদ্ধার আর্তনাদ .

0

স্বাধীনতার পর ৪৮ বছর পার করছে বাংলাদেশ। মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ের সাড়ে ৭ কোটি বাঙালি এখন ১৭ কোটি ছুঁই ছুঁই। পাল্টে গেছে বাংলার চিত্র। পাল্টে গেছে অনেক কিছু, অনেকের ভাগ্য ও বিত্তবৈভব। পাল্টাইনি মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রাজ্জাকের ভাগ্য। অর্ধাহারে-অনাহারে দিনাতিপাত করছেন তিনি। বয়সের ভারে কাজ করতে না পারায় ভিক্ষাবৃত্তির পথ বেছে নিয়েছেন। এমনকি মেলেনি মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি। এখন তার জীবন চলে ভিক্ষার টাকায়।

২০১৬ সালে তাকে নিয়ে সংবাদমাধ্যমে সংবাদও প্রকাশিত হয়। তার দুই বছর পর এবার তার দেখা মিলল জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে। একটি ব্যানার নিয়ে বসে আসেন তিনি। তার সেই ব্যানারে লেখা আছে- কি পেলাম কি হারালাম। স্বাধীনতার ৪৮ বছর পর আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা। আমি জীবনের তাগিদে ভিক্ষা করি, ভাতা পাইনি। কবে পাব জাতীর বিবেকের কাছে আমার প্রশ্ন? আমাকে ভিক্ষা দিয়ে সাহায্য করুন।

মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রাজ্জাকের বাড়ি মাগুরা সদর উপজেলা নিজনান্দুয়ালি গ্রামে। ভিক্ষা করেন ঝিনাইদহের বিভিন্ন স্থানে। সম্প্রতি ভিক্ষা করতে দেখা গেছে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার হাটগোপালপুর বাজারে।

সে সময় আব্দুর রাজ্জাক জানিয়েছেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে তিনি ভারতের বনগাঁ কাঁঠাল বাগান এলাকায় প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণ শেষে শৈলকুপা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার রহমত আলী মন্টুর নেতৃত্বে শৈলকুপার আলফাপুর, কুমিড়াদহ, আবাইপুর ও বাগনী এলাকায় যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।

বাংলাদেশ স্বাধীন পর আজো তার স্বীকৃতি মেলেনি। তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন তার পরিচয়পত্র দিয়েছেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ আবদুল আহাদ চৌধুরী। শৈলকুপা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার রহমত আলী তার সনদপত্র দিয়েছেন। মাগুরা জেলা মুক্তিযোদ্ধাদের ১২৫নং তালিকায় নাম থাকলেও স্বীকৃতি পাননি তিনি। সরকারি সহযোগিতার জন্য তিনি বারবার বিভিন্ন মহলে ধরনা দিলেও তার কথায় কর্ণপাত করেননি কেউ। মুক্তিযোদ্ধা ভাতা তো দূরের কথা, বয়স্ক ভাতাও জোটেনি তার কপালে। অসুস্থ আবদুর রাজ্জাক এক দিন ভিক্ষায় বেরোতে না পারলে সারা দিন অভুক্তই থাকতে হয় সংসারের সবাইকে। চিকিৎসার অভাবে প্রায়ই রাস্তার পাশে পড়ে থাকতে দেখা যায় তাকে। উৎস-আমাদেরসময় ডট.কম