কালীহাতিতে জনগণের উপর গুলি করল পুলিশ, আবার তাদেরকেই আসামি করল পুলিশ

0

জাবিন সাজ্জাদঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ছেলের সামনে মাকে ধর্ষণের মামলার বিচারপ্রার্থী এলাকাবাসীর উপর পুলিশ গুলি ছোড়লে নিহত হন তিনজন। এ ঘটনায় গুলি চালানো সাতজন পুলিশ সদস্যকে চিহ্নিত করে থানা থেকে প্রত্যাহারও করা হয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পুলিশ তার সংস্কৃতি বদলায়নি। পুলিশের উপর হামলার অভিযোগ এনে প্রায় ৯০০ জনকে আসামি করে দুটি মামলা দায়ের করা
হয়েছে।

hk751eJiFiOS

শনিবার রাতে কালিহাতী ও ঘাটাইল থানায় এ মামলা দুটি হয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট থানার কর্মকর্তারা।পুলিশের উপর হামলার পাশাপাশি পুলিশের কাজে বাধা দেওয়া এবং গাড়ি ভাংচুরের অভিযোগ আনা হয়েছে এসব মামলায়।কালিহাতী থানার ওসি শহিদুল ইসলাম জানান,এসআই মোশারফ হোসেন বাদী হয়ে সকালে তাদের থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। এ মামলায় অজ্ঞাত পরিচয় ৩০০ থেকে ৪০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।একই অভিযোগে ঘাটাইল থানার এসআই মনসুব আলী অজ্ঞাত পরিচয় ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করে তাদের থানায় একটি মামলা দায়ের করেন বলে ওই থানার ওসি মুখলেছুর রহমান জানান।

মামলার আগে টাঙ্গাইল সদর সার্কেলের এএসপি হাফিজ আল আসাদ
জানিয়ে ছিলেন, শুক্রবারের সংঘর্ষের ঘটনায় ৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এছাড়াও এলাকাবাসীর বিরুদ্ধে পুলিশের মামলার প্রস্ততি
চলছে।

ছেলের সামনে মাকে ধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শুক্রবার বিক্ষোভের ডাক দেয়। ওই দিন বিকালে কালিহাতী ও ঘাটাইল উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রামের লোকজন প্রথমে হামিদপুর বাজারে আসলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। বাধা উপেক্ষা করে জনতা কালিহাতী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় জড়ো হয়ে ধর্ষক রোমার বাড়ি ও থানা ঘেরাওয়ের চেষ্টা চালায়। এ সময় প্রথমে লাঠিচার্জ করে পুলিশ। পরে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে এবং গুলিও চালায়। এসময় পুলিশের সাথে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ বেধে যায়। লোকজন পুলিশের ওপর ইট-পাটকেল ছুড়ে মারে। শুরু হয় ধাওয়া- পাল্ট ধাওয়া। এসময় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান কালিহাতী উপজেলার কুষ্টিয়া গ্রামের ছানু শেখের ছেলে ফারুক হোসেন (৩৮), ঘাটাইল উপজেলার কালিয়া গ্রামের মৃত ওসমানের ছেলে শামিম (৩২) ও আঠারদানা গ্রামের রবি চন্দ্র পালের ছেলে শ্যামল চন্দ্র পাল (৩৮)।

images

তারা গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর নেওয়া হয়েছিল কালিহাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। এর মেডিকেল কর্মকর্তা মাহফুজা ইয়াছমিন জানিয়েছেন, ‘নিহত শামিমের পিঠে গুলি লেগে বুক দিয়ে বের হয়ে যায়। ফারুকের
পেটে গুলি লাগে। শ্যামলের মাথায় গুলি লাগে।’

কার্যতঃ কালিহাতীর ঘটনা সরকার ও পুলিশের ভূমিকাকে ফের প্রশ্নবিদ্ধ
করেছে। ছেলের সামনে মাকে ধর্ষণের ঘটনাই জঘন্যতম অপরাধ। তার প্রতিবাদ জানানোয় আবার জনসাধারণকেই গুলি করে হত্যা।

ফলে পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে তড়িঘড়ি করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এরই মধ্যে তিন নিহতের প্রত্যেক পরিবারকে দেয়া হয়েছে ৫০ হাজার টাকা করে। ঢাকা ও টাঙ্গাইলে চিকিৎসাধীন আহতদের চিকিৎসা খরচও দেয়া হচ্ছে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে।

images (2)

আর গুলির ঘটনায় জড়িত ৩ জন এসআইসহ ৭ পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ঘটনা তদন্তে পুলিশ সদর দফতর ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা
হয়েছে। আগামী ৩ দিনের মধ্যে তদন্ত কমিটিকে রিপোর্ট দেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।কিন্তু এত কিছুর পরে পুলিশের চোখে জনগণই
আসামি হয়ে থাকল!