আওয়ামী লীগ মানেই বর্গীদের মতো লুট করে নিয়ে যাওয়া

0

জিসাফো ডেস্কঃ গত সোমবার রাজধানীতে এক আলোচনা সভায় বিএনপির মহাসচিব বলেন, “এখন কানাডাতে ‘বেগম পল্লী’ তৈরি হচ্ছে। আমরা শুনতে পাই যে, সেখানে ক্ষমতাসীনদের সহধর্মিনীরা আলাদা করে বাড়ি তৈরি করছেন। শুনতে পাই, সিঙ্গাপুরে ফ্ল্যাট তৈরি হচ্ছে, ব্যাংকক, মালয়েশিয়াতে তৈরি হচ্ছে। টাকা রাখার মতো জায়গা নেই তাদের-এই একটা অবস্থা হয়ে গেছে।”

দেশের ‘অত‌্যন্ত’ প্রভাবশালী ব‌্যক্তিদের নাম পানামা পেপারসে উঠে এসেছে দাবি করে তিনি বলেন, “সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের একাউন্টে টাকার পরিমাণ বেড়ে গে্ছে- এটা কীসের আলামত?

“এটা হচ্ছে অনেকটাই বর্গীরা যেমন আসত আগে, সব কিছু লুট করে নিয়ে চলে যেত।আওয়ামী লীগ আসা মানেই বর্গীদের মতো লুট করে নিয়ে যাওয়া।”

রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় বক্তব‌্য দেন মির্জা ফখরুল।

ঢাকার মোহাম্মদপুরের ২৯ নম্বর ওয়ার্ডে বস্তি উচ্ছেদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “২০ হাজার মানুষের একটা বস্তি, আজকে সকাল ৯টা থেকে দুপুর পর্যন্ত উচ্ছেদ করে দিয়ে সরকারি দলের লোকেরা প্লট তৈরি করে নিচ্ছে। কোথায় যাবে মানুষ, কার কাছে যাবে? এই অসহায় মানুষগুলো শীতের দিনে কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে? তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে তাদের জমি থেকে উচ্ছেদ করে দখল করে নেওয়া হচ্ছে। এই সরকার অত্যাচারী ও জবর দখলকারী সরকার।”

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতাল পল্লীতে অগ্নিসংযোগের জন‌্য স্থানীয় সংসদ সদস‌্য আবুল কালাম আজাদ ও আওয়ামী লীগ নেতাদের দায়ী করে তিনি বলেন, “টেলিভিশনে দেখলাম, ভিডিওতে দেখলাম- আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তারা নিজেরা আগুন দিচ্ছে। সবচেয়ে অসহায় পেছনে পড়ে থাকা সম্প্রদায়ের বাড়িতে আগুন জ্বালাচ্ছে। কোথায় যাবে মানুষ? ব্রাহ্মণবাড়িয়ার হিন্দু সম্প্রদায়ের জমি দখল করার জন্য মন্দির-বাড়ি সব কিছু জ্বালিয়ে পুঁড়িয়ে ছারখার করে দেওয়া হল।”

বিরোধীদের দমনের জন‌্য জঙ্গিবাদকে ব‌্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন বিএনপি মহাসচিব।

সরকার  ছদ্মবেশে ‘একদলীয় শাসন’ চালাচ্ছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, “আজকে প্রেক্ষাপট ভিন্ন, তাই তারা (সরকার) ভিন্ন মোড়কে ছদ্মবেশে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা চালাচ্ছে। তারা একদিকে বিচার ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করছে, মিডিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করছে, প্রশাসনকে নিয়ন্ত্রণ করছে। সব রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে তারা ক্ষমতাকে টিকিয়ে রাখতে চায়।

“যে ক্ষমতার কোনো বৈধ্যতা নেই্, কোনো নৈতিকতা নেই। কারণ তারা যেভাবে ক্ষমতায় এসেছে এটা নৈতিকতাবিরোধী। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি শতকরা ৫ জনও ভোট দিতে যায়নি।”

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ‘ধ্বংস’ করে দেওয়া হচ্ছে অভিযোগ করে ফখরুল বলেন, “জিপিএ ৫ পেয়েও উচ্চ শিক্ষায় ভর্তি হতে পারছে না। এখন শতকরা ৪২ ভাগ যুবক বেকার-এটা আমার কথা নয়, আইএলও’র রিপোর্ট। ব্যাংকগুলো শেষ করে দিয়েছে।”

এই অবস্থা থেকে উত্তরণে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম‌্যান এইচ এম এরশাদেরও সমালোচনা করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আয়ু বাড়িয়ে দিতে তাকে ফের ক্ষমতায় নেওয়ার যে আহ্বান এরশাদ তার নেতাকর্মীদের প্রতি রেখেছেন সে বিষয়ে ফখরুল বলেন, “আপনি তো ক্ষমতার জন্যই জনগণের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির আগে ফ্যাসিবাদীদের সাথে হাত মিলিয়েছিলেন। আমরা অনেক কিছু জানি, অনেক কিছুর সাক্ষী। বলতে চাই না, কাউকে আমরা ছোট করতে চাই না।

“এখনও বলছি- নেমে আসুন, জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান করবেন না। জনগণের কাতারে আসুন, তাহলে হয়ত জনগণ আপনাকে ক্ষমা করলেও করতে পারে।”

বক্তব্যের শুরুতে প্রয়াত নেতা কাজী জাফর আহমেদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বিভিন্ন আন্দোলনে তার ভূমিকা স্মরণ করেন বিএনপি মহাসচিব।

জাতীয় পার্টির এই অংশের মহাসচিব মোস্তফা জামাল হায়দার বলেন, “দেশের বর্তমান অস্বস্তিকর অবস্থা থেকে উত্তরণে সকল দেশপ্রেমিক, জাতীয়তাবাদী, গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করে ২০ দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আমরা যে পথযাত্রা শুরু করেছি, সেই অগ্রযাত্রাকে কাঙিক্ষত লক্ষ্যে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।’’

দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এটিএম ফজলে রাব্বী চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও যুগ্ম মহাসচিব এএমএম শামীমের পরিচালনায় আলোচনা সভায় অন‌্যদের মধ‌্যে প্রেসিডিয়াম সদস্য এসএমএম আলম, আহসান হাবিব লিংকন, নওয়াব আলী আব্বাস খান, খালেকুজ্জামান চৌধুরী, হোসনে আরা, সেলিম মাস্টার, মজিবুর রহমান ও কাজী জাফরের বড় মেয়ে কাজী জয়া বক্তব্য রাখেন।