কওমী ডিগ্রি দাওরা এমএ ডিগ্রীর মর্যাদা পায় ২০০৬ সালের ২৯শে আগস্ট

0

আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করা ছদ্মবেশী সেকুলার আওয়ামীলীগ দেশের সাধারণ মানুষের “ধর্মীয় অনুভূতির ফায়দা লোটা”র পুরান খেলায় নেমে পড়েছে, এই “ধর্মীয় অনুভূতির ফায়দা লোটা” প্রোগ্রামের অংশ হিসাবে তারা এবার অভিনব কায়দায় ডিজিটাল ফাপড়বাজীর আশ্রয় নিয়েছে।

কি সেই “ডিজিটাল ফাপড়বাজী”?

বিগত চার দলীয় জো্ট সরকার এর সময়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রজ্ঞাপন জারীর মাধ্যমে সরকারি গেজেট ভুক্ত ও স্বীকৃতি প্রাপ্ত “দাওরায়ে হাদিসকে এমএ (ইসলামিক স্টাডিজ/ সাহিত্য) সমমান”সনদ কে বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকার কর্তৃক পুনরায় প্রজ্ঞাপন জারী করে স্বীকৃতির মাধ্যমে দেশের সাধারণ মানুষের “ধর্মীয় অনুভূতির ফায়দা লোটা”র নব্য “ডিজিটাল ফাপড়বাজী”।

বিগত চার দলীয় জো্ট(২০০১-২০০৬)সরকার এর সময়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাথে সাক্ষাৎ কালে কওমি মাদ্রাসার নেতৃবৃন্দ কওমি মাদ্রাসার ডিগ্রি কে বিশ্ববিদ্যালয় সমূহের ডিগ্রির সমমানের মর্যাদা প্রদানের দাবী জানান ।তাদের দাবির প্রেক্ষাপট বিবেচনায় এনে মাদ্রাসা শিক্ষাকে যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশে অনতিবিলম্বে মন্ত্রীপরিষদ কমিটি গঠন করা হয়।

গঠিত মন্ত্রীপরিষদ কমিটি যুগোপযোগী মাদ্রাসা শিক্ষা অবকাঠামো নিয়ে দেশের ইসলামী চিন্তাবিদ, পণ্ডিত, রাজনীতিবিদদের সাথে দীর্ঘ আলোচনা শেষে তাদের মতামত ও প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পরামর্শক্রমে দাওরায়ে হাদিসকে এমএ সমমান দেয়াসহ বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেয়। বিএনপি নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোট সরকার আগস্টের শেষ সপ্তাহে কওমি মাদ্রাসার প্রাণের দাবী সনদের মান প্রদান সম্পন্ন করে ।

২৯শে আগস্ট ২০০৬ তারিখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অনুমতি সাপেক্ষে সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে কওমি মাদ্রাসার ডিগ্রি সনদের মান সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন-নম্বর- শাখা-১৬/বিবিধ-১১(৯)/২০০৩(অংশ)-৮৮৭ জারী করা হয়। প্রজ্ঞাপনের সারসংক্ষেপে বলা হয় – কওমি মাদ্রাসার সর্বোচ্চ ডিগ্রি “দাওরায়ে হাদিসকে এমএ (ইসলামিক স্টাডিজ/ সাহিত্য) সমমান” হিসাবে ঘোষণা করা হলো। পরবর্তীতে এই প্রজ্ঞাপনের ধারাবাহিকতায় ২০ ডিসেম্বর ২০০৬ রাষ্ট্রপতি প্রফেসর ইয়াজউদ্দিনের তত্ত্বাবধায়ক সরকার কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড গঠন সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারী করে তা গেজেট হিসাবে প্রকাশ করে।

উপরোক্ত তথ্যে স্পষ্ঠ প্রতীয়মান সরকারি ভাবে “কওমী মাদ্রাসা সনদ”র প্রশাসনিক স্বীকৃতি বিএনপি নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোট সরকারের আমলেই সম্পন্ন হয় যা পরবর্তী ইয়াজউদ্দিনের কেয়ারটেকার সরকারের “কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড গঠন” প্রজ্ঞাপন জারী ও গেজেট অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে ইন্সটিটিউশনাল যাত্রা শুরু করে।চারদলীয় জোট আমলের “কওমী মাদ্রাসা সনদ”র সরকারি সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়নের বিষয়টি পরবর্তীতে জরুরী অবস্থার (ফখরুদ্দিন) সরকার ও আওয়ামীলীগের বৈধ- অবৈধ সরকার বিগত ১১ বছরে নানা অজুহাতে ঝুলিয়ে রাখে।

কিছুদিন আগে গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সাথে হেফাজত ইসলামের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের সাক্ষাতে মওলানা আহমেদ শফিকে প্রধানমন্ত্রী বলেন ‘ দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্স সমমান দিয়ে দিলাম’। ব্যাপার খানা এমন যে, তিনারাই বোধহয় প্রথম এই সিদ্ধান্ত দিলেন। অত:পর হঠাৎ করেই গত ১৩ এপ্রিল কওমি মাদ্রাসার সর্বোচ্চ ডিগ্রি দাওরাকে এমএ সমমান ঘোষণা করে সরকারের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে সহকারী সচিব আবদুস সাত্তার মিয়া সাক্ষরিত নতুন একটি প্রজ্ঞাপন জারী করা হয়েছে।

এ আদেশে বলা হয়, “কওমি মাদ্রাসার স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখে ও দারুল উলুম দেওবন্দের মূলনীতি সমূহকে ভিত্তি ধরে কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসের সনদকে মাস্টার্স (ইসলামিক স্টাডিজ এবং আরবি) এর সমমান প্রদান করা হলো।”

এখন প্রশ্ন উঠছে, একই বিষয়ে ১১ বছর পরে নতুন প্রজ্ঞাপন জারির ফলে পুরানা প্রজ্ঞাপন কি বহাল থাকবে, নাকি বাতিল করা হয়েছে, সেটা বলা হয়নি। ২০০৬ এর প্রজ্ঞাপন পরবর্তী ১১ বছরে এ নিয়ে সরকারী পর্যায়ে অনেক কাজ হয়েছে, কয়েকটি কমিটি গঠন হয়েছিল, এবং তারা কাজও করেছে। তাহলে কি ঐসব কাজ এখন মুছে দেয়া হলো? সরকারের ধারাবাহিকতা কি এভাবে ছুড়ে ফেলা যায়? যে সিদ্ধান্ত ২০০৬ সালেই গেজেট হয়েছে সে সিদ্ধান্ত ২০১৭ সালে শেখ হাসিনার ঘোষণার পর পুনরায় ঘোষণা করে সরকার কি বোঝাতে চাচ্ছেন?

ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করা ছদ্মবেশী সেকুলার আওয়ামীদের প্রকৃত চরিত্রই নির্বাচনের আগে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি ও সাজানো নাটক করে ৯০% মুসলমানের ধর্মীও অনুভূতির ফয়দা লোটা এবং নির্বাচনের পর “জনগণ লুণ্ঠন”, “মুসলিম নিধন” ও “মরীচিকা উন্নয়ন” করে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা।

“তত্বাবধায়ক সরকার” প্রথা বাতিলের মাধ্যমে, দেশের ১৬কোটি মানুষের ভোটের অধিকার হরণকারী, “গণতন্ত্রের ছদ্মবেশে স্বৈরাচারী” রাজনৈতিক দল আওয়ামীলীগ দেশে-বিদেশে সর্বৌচ্য সমালোচিত ২০১৩ সালের ৫ই জানুয়ারির অবৈধ(৩০০ এমপির মধ্যে ১৫১ এমপিই স্ব-নির্বাচিত)সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে পুনরায় ক্ষমতা দখল করে।

সাংবিধানিক নিয়ম রক্ষার নির্বাচনের কথা বলে ক্ষমতায় এসে, প্রতিশ্রুত পুন:নির্বাচন না দিয়ে শেয়ার বাজার থেকে লক্ষ কোটি টাকা আত্মসাৎ, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে টাকা পাচার, সরকারি ব্যাংকগুলো লোপাট, ক্ষমতাসীনদের আশীর্বাদ পুষ্ট ভুয়া কোম্পানিগুলোকে সরকারি ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাটের সুযোগ করে দেয়ার মাধ্যমে দেশকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দিয়েছে ক্ষমতালিপ্স অবৈধ সরকার। আওয়ামী লীগ ঠিকই জানে নিরপেক্ষ তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে বাংলাদেশের জনগণ তাদেরকে ৫% ভোটও দিবে না। যার জন্য অবৈধ ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার লক্ষে জনগণের বাক-স্বাধীনতা হরণ, আন্দোলনরত গণতন্ত্র কামী বিরোধী দলীয় নেতা-কর্মী অপহরণ-গুম-খুন, মিডিয়া সেন্সর, সংসদ ও দেশের জনগণকে অন্ধকারে রেখে স্পর্শকাতর দ্বিপাক্ষিক পররাষ্ট্র চুক্তির মতো স্বৈরাচারী সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের মধ্যে দিয়ে চরম ফ্যাসিষ্ট রূপে আত্মপ্রকাশ করেছে তারা।

এই অশক্তিকে পরাজিত করে বাংলাদেশের জনগণের অপহৃত গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য একমাত্র পথ আমাদের জাতীয়তাবোধের সম্মিলিত পুনরুত্থান। আমাদের জাতীয়তা(বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ)’র পরিচায়ক, বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক, আমাদের মহান স্বাধীনতার ঘোষক, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান একজন ভবিষ্যৎ দ্রষ্টার মতই তাঁর লেখায় বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থা ও তা থেকে উত্তরণের পথ বলে গেছেন:

“আমাদের কর্মকাণ্ডের মূল ভিত্তি হলো জাতীয়তাবাদী চেতনা। কারণ জাতীয়তাবাদী চেতনাই দেশকে ও জাতিকে বহিঃশক্তির হুমকি থেকে রক্ষা করতে পারে।”
ইংরেজ জাতি এ অঞ্চলে তাদের উপনিবেশ কায়েমের প্রাথমিক ক্ষেত্র হিসাবে বাংলাদেশকে বেছে নিয়েছিলো কেন? উপমহাদেশের অন্য যেকোনো স্থান তারা প্রথম দখল করতে চাইলে হয়তো পারতো। কিন্তু . বাংলাদেশকে. তারা এ’জন্য বেছে নিয়েছিলো যে, এখান থেকে আন্তর্জাতিক চলাচলে সুবিধা হবে। বাংলাদেশের যে ভৌগলিক অবস্থান ও আকার তাতে এখান থেকে পশ্চিমে ও পূর্বদিকে যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করাও সুবিধাজনক বলে ইংরেজগণ এ দেশকে প্রথমে বেছে নিয়েছিলো। সুচতুর ইংরেজরা এ’ পরিকল্পনা এতটা নির্ভুলভাবে করেছিলো যে পর্যায়ক্রমিকভাবে তারা গোটা ভারতবর্ষ এবং ব্রহ্মদেশ দখল করে নিতে সক্ষম হয়েছিলো। এ থেকে স্পষ্ট যে বাংলাদেশ ছিলো এক বিরাট স্ট্রাটেজিক অবস্থানে এবং বলা বাহুল্য যে সেই অবস্থান আজও গুরুত্বপূর্ণই রয়ে গেছে। এ কারণেও বাংলাদেশের ভূখণ্ড ও বঙ্গোপসাগরের জলরাশির উপর এ অঞ্চলের অন্যান্য দেশ এবং পরাশক্তিগুলোর অশুভ দৃষ্টি রয়েছে। যা আমাদের জন্যে মারাত্মক হুমকি স্বরূপ। আমাদের প্রতি হুমকি হয়ে দাঁড়িয়ে আছে আধিপত্যবাদ, নয়া উপনিবেশবাদ, সাংস্কৃতিক সাম্রাজ্যবাদ ও সম্প্রসারনবাদ। কাজেই বাংলাদেশের নয় কোটি মানুষের সার্বিক কল্যাণের লক্ষ্যে এবং এই আধিপত্যবাদ, নয়া উপনিবেশবাদ, সাংস্কৃতিক সাম্রাজ্যবাদ ও সম্প্রসারনবাদ সমূহের হাত থেকে জাতিকে রক্ষা করার জন্যে আমাদের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করতে হবে। আমাদের কর্মকাণ্ডের মূল ভিত্তি হলো জাতীয়তাবাদী চেতনা। কারণ জাতীয়তাবাদী চেতনাই দেশকে ও জাতিকে বহিঃশক্তির হুমকি থেকে রক্ষা করতে পারে।
আমাদের পথ : শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম)

Written&Published By: Imprisoned Democracy(অবরুদ্ধ গণতন্ত্র)