ঐতিহাসিক ৭ই নভেম্বর – ফিরে দেখা ইতিহাস, প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ এবং আমাদের অনুপ্রেরনা

0
 ঐতিহাসিক ৭ই নভেম্বর 
আলোচ্য বিষয় ১৯৪৭-১৯৭১ -১৯৭৫ পূর্ববর্তী ও পরবর্তী প্রেক্ষাপটে বিশ্বাসঘাতক , ভন্ড, মহাষড়যন্ত্রকারী বিপথগামী, অপরিনামদর্শী এক মাতাল লোভাতুর স্বৈরশাসক মুজিব ও তার গংদের ২১ টি মহাপাপ আর জঘন্য ঘৃণ্য কাজ এবং ইতিহাসের মহানায়ক জিয়া হাজার লক্ষ অবিসংবাদিত কাজের ভীড়ে এর অনন্য  কিছু কাজ /;
independence
বাংলাদেশ একটি স্বাধীণ সার্বভৌম দেশ আমাদের প্রাণের ধণ। বাংলাদেশ আমার গর্ব, বাংলাদেশ আমার অহংকার। এদেশের প্রতিটি ইঞ্চি মাটি পুত পবিত্র। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে এক সাগর রক্তের দামে কেনা, লক্ষ লক্ষ তাজা প্রাণের বিনিময়ে এই মাটি সোনার চেয়েও খাঁটি, হীরার চেয়েও মূল্যবান। স্বাধীনতা আমার পরম পাওয়া। স্থান, কাল, পাত্র, ধর্ম, বর্ন, আচার বা সংস্কৃতি, গোত্র নির্বিচারে এই দেশ আমার শ্রেষ্ঠ সম্পদ। ধনী, গরিব, মেহনতি মানুষ, কৃষক, জেলে, কামার, কুমার নির্বিশেষে সকল শ্রেণীপেশার মানুষের এই মাটি ও মানুষের প্রতি অধিকার রয়েছে। আর প্রতিটি মানুষের জন্মগত মৌলিক অধিকার বাস্তবায়নে রাষ্ট্র বধ্যপরিকর। এ দেশের মানুষের নুন্যতম সৎ, স্বপ্ন আশা আকাং্খাকে স্বার্থক করে তোলা, সঠিক ইতিহাস জানা আর দেশমাতৃকার কল্যাণধর্মী কাজে একতাবদ্ধভাবে কাজ করাই আমাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য, মিথ্যার প্রাসাদ গড়ে সত্যকে ঢাকা যায়না। চাপাবাজি করে, গলাবাজি করে, সারাবিশ্বের সব দালাল একত্র করে, বন্দুকের নল দিয়ে ইতিহাস বদলানো যায়না। স্বৈরাচার এর বুটের তলায় ইতিহাস কখনোই পিষ্ট হয়না। শত সহস্র কিংবা লক্ষ কোটি আনবিক বোমা দিয়ে সত্যকে ঢাকা যায়না। যেমনি হিটলার কিংবা ফেরাঊন, নমরুদ, মুসেলীনী পারেননি সত্যি ইতিহাসকে ঢাকতে। সত্য সত্য হল সূর্য আর সে আগামীকাল প্রভাতে তার কিরণ জ্বেলে ঊঠবেই। ইতিহাস কারো গোলামী করেনা। ইতিহাস কাল থেকে মহাকালে তার আপন গতিতে চলে। কোন পরাধীনতা ইতিহাসকে গ্রাস করতে পারেনা। ইতিহাস কারো রক্তচক্ষুকে পরোয়া করেনা। যুগে যুগে কালে কালে কিছু কিছু স্বৈরাচার সমস্ত শক্তি দিয়ে ইতিহাসকে বদলাতে বা বিকৃত করতে চাইলেও ইতিহাস কখনোই বদলানো যায়নি।
DSC06029
আমাদের বাংলাদেশেও ইতিহাসকে বিকৃত বা সম্পুর্ণ পরিবর্তন করার সেই অপচেষ্টা চলছে গত ৭ বছর ধরে প্রায়। আমাদেরকে সত্য কথা, সত্য তথ্য জানতেই হবে। এটাও আমাদের মৌলিক মানবাধিকার !  আর সেই উদ্দেশ্য নিয়েই সম্পুর্ণ সত্য তথ্য আর উপাত্ত নিয়ে যুক্তিযুক্ত উপায়ে নিরপেক্ষ ৃষ্টিতে আসুন ইতিহাসের পাঠে সত্য জেনে নেই, বাংলাদেশের ইতিহাসে শেখ মুজিব অবশ্যি কার্যকর, দক্ষ আন্দোলনের উদ্ভুদ্ধকারী, মহান মুক্তিযুদ্ধে প্রেরনাদানকারী সর্বোচ্চ নেতা, তিনি অবশ্যি কিছুটা শ্রদ্ধা পেতেই পারেন সেজন্য, কিন্তু রাস্ট্র পরিচালনায় তিনি পুরোপুরিভাবে ব্যর্থ। তিনি মহা দুর্নিতীবাজ। ফ্যাসিবাদী ছিলেন, এক নম্বর স্বৈরাচার ছিলেন তিনি। আর তাই সত্যসন্ধানী দিক দিয়ে বিবেচনা করে প্রথমেই আমরা জেনে নেই শেখ মুজিবের বিশ্বাসঘাতকতার ২১ টি কর্ম বৃতান্ত যা সঠিক নির্মোহ ইতিহাসেরই অংশ।
 41FZAlwe3uL._UY250_
১. ১৯৪৭ সালে ভারত পাকিস্তান দেশ বিভাগের পর থেকেই শেখ মুজিব ভারতের একনিষ্ঠ দালালি করেছেন, * র* এর সাথে নিয়মিত বৈঠক, ভারতের সরকার প্রধানের সাথে গোপন টেলিফোন এ যোগাযোগ, যা আজ দিবালোক এর মত সত্য আর প্রমানিত।
stephen-m-gilljpg-e9808bc9214aa761
** Discovery of Bangladesh** বইটিতে Stephen M. Gill লিখেছেন :::::: *** The RAW spokesman Sudhir kumar Nath clearly narrated ( in contemporary discussion in Hypothetical conversation in Delhi ) How strong and secret Relationships was existed beween Sheikh Mujib and RAW. He said RAW agent regularly had been met him in club, hotel or Dhaka University campus area specially at Night ensconced way and tell Mr. Mujib what to do and should not to do in any political event in East Pakistan starting from 1950s….. Mujib always Buttress India, and India also Did reinforcement to break Pakistan by any means. Our Indian Policy and plan was always effectuated, prosecuted by Mr. Mujib in a most Masquerade manner because we never tolerated any Pakistans momentum, Amelioration or prosperity which was Geographically, Economically and mostly politically sensitive, Clamorous, imperative for us…..***
davidludden
David Ludden নামের আরেক লেখক “” India And South Asia : A short story “” বইতে লিখেছেন নিত্যানন্দ কর্মকার নামে সাবেক এক ব্যক্তিগত সহকারী যিনি ইন্দিরা গান্ধীর একান্ত গোপন সহকারী ছিলেন তিনি এক মদের আসরে বেশ খানিকটা মাতাল আর বেহুশ অবস্থায় অনেক সত্য কথা বলেন যা এই লেখক তার ভাষায় লিখেন এইভাবে ::::: *** While I Had visited India 13th September for the first Time in my life 1968 in Delhi,( actually i was doing one year internship program on public health in Chennai in 1968 ) , i had met one of political volunteer, i had come to know so many political matters , i liked him because of his political concerns, He helped me to find political Enshroud lurk information about India and south Asia, because I had a great interest and eagerness to know about the India Policy in south Asia, so my volunteer adviced me to contact with a old but potential informer of Indian Government officials and Technical Fulgent, Incandescent trustee Diplomat Nittanando Karmakar who act as a special P.S to Priminister Indira Gandhi. First time i failed to contact with him. Second time when i had come India again on 27th August in 1974, that time i was Inside a bar and i had an appointment with him. I had met him, after discussing too many interesting topics ,He was totally intoxicated with Vodka & Red wine, i can say he was deeply Drunken , suddenly shouted to me and told me some abstruse Axiom, He told me in East pakistan Mr. Mujib was usually used to talked with Indira Ghandhi since 1966 -1967 , and even after that to till now and whatever India wanted, Mujib had done it accordingly. By this way India able to break Pakistan in the name of Independent War in 1971. Actually India did it’s Fabulous accomplishment to break Pakistan into two pieces which is India’s First priority..
1974416
*** তাছাড়া ** আমি মুক্তিযোদ্ধা ছিলাম ** বইতে আতোয়ার রহমান সম্পাদিত বইয়ে এক মুক্তিযুদ্ধকালের ঘটনা স্পষ্ট করতে গিয়ে বলেছেন : “”” আমি একদিন মুজিব ভাইয়ের বাসায় গেলাম আন্দোলনের ব্যাপারে আলাপ করতে , কিন্তু গিয়ে শুনি উনি ব্যস্ত, আমি বাহিরে বসে আছি, আমার সাথে আরো বন্ধু ৪/৫ জন যারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ত তন্মধ্যে কাশেম, নিজাম, জয়নুল ও আফসারও ছিল, যাই হোক আমি টানা ৩ ঘণ্টা বসা, খিদেয় পেট চো চো করছে, সকাল ১১ টা বাজে, কিচ্ছু খাইনি, তাই সাহস করে আমি একাই মুজিব ভাইয়ের বসার ঘরে পাশ দিয়ে যাচ্ছি, তার সাথে দ্রুত দেখা করবো এই মনস্থির করে, হঠাৎ শুনি মুজিব ভাই টেলিফোনে কথা বলছে ইংরেজিতে আবার মাঝে মাঝে হিন্দিতে, তাই আমি কৌতুহলের বশে দরজার ওপাশে লুকিয়ে দাড়িয়ে খানিকটা কথোপকথন শুনলাম যার সারমেয় কথা এই যে, যে কোন মুল্যেই হোক পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতেই হবে। কিন্তু মুজিব ভাই বার বার না করছিলেন। মুজিব ভাই প্রধানমন্ত্রীত্ব চাচ্ছেন। কিন্তু ওপাশ থেকে যিনি বলেছিলেন তিনি বোধ হয় বেশ শক্ত ভাষায় মুজিব ভাইকে শাসাচ্ছিল না হলে মাঝে মাঝে মুজিব ভাইয়ের মুখটা ছোট আর কালচে হয়ে যেত কেন? বোধ করি ঐ ফোনটা ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধীর ফোন ছিল…. আমি মুজিব ভাইয়ের এহেন দ্বিমুখী আচরন দেখেও না দেখার ভান করে ঐদিন মুজিব ভাইয়ের বাসা থেকে ওনার সাথে সাক্ষাত না করেই একরাশ দু:খ আর হতাশা নিয়ে চলে আসি,*
Book16248
“” মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ব্যক্তির অবস্থান “” বইটিতে এ,এস, এম শামসুল আরেফিন লিখেন : “””” ব্যক্তি মুজিব কখনোই ভারতের পরামর্শ ছাড়া কিছুই করতেন না যেটা ১৯৫২ সালের পর থেকেই সুস্পষ্টভাবে প্রতিভাত হয়। যেটা নিয়ে মাওলানা ভাসানী হুজুর বহুবার মুজিব ভাইকে সতর্ক করেছেন। কিন্তু মুজিব ভাই তার কথায় বিন্দুবৎ কর্নপাত করতেন না। এমনকি মাঝে মাঝে হুজুর ভাসানী ভারতের প্রসংগ তুললেই মুজিব ভাই এড়িয়ে যেতেন, এটা তৎকালীন ন্যাপের কেন্দ্রিয় কমিটির সদস্য টাংগাইলের মোসলেম উদ্দিনের বক্তব্য :
 Rally_on_21Feb1954_Abdul_Hamid_and_Bangabandhu bhasani-3
২. ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট গঠনের পর ২১ দফা গৃহীত হয়, যার মূল প্রতিপাদ্যই ছিল পূর্বপাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন, সবাই এই মূল নীতিকথার বিষয়ে শপথও করেন কিন্তু মনে মনে শেখ মুজিব চান ক্ষমতা, তার আর কিছুই দরকার নেই আর সেই পদ আর ক্ষমতার প্রতি লোভের কারনেই লোভের কারনেই ১৯৫৭ সালের ৭-৮ ফেব্রুয়ারি কাগমারী সন্মেলনে শেখ মুজিব পূর্বপাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন এর বিরোধীতা করেন, তার উদ্দেশ্য ছিল ২ টি : ক. ভাসানীকে উত্তেজিত করে দল থেকে বের হয়ে যাওয়ার প্রচ্ছন্ন পরিবেশে তৈরি করা। খ.। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী সোহরাওয়ার্দী স্বায়ত্তশাসন বিরোধী ছিলেন বিধায় মুজিবও এসুযোগে সোহরাওয়ার্দীর পক্ষে আর স্বায়ত্তশাসন এর বিরোধীতা করে সোহরাওয়ার্দীর অনুকুল্য নিয়ে নতুন রাজনৈতিক দল বানাতে পারবেন যাতে করে সে ভবিষ্যতেও প্রেসিডেন্ট বা প্রধানমন্ত্রী হবার সমূহ সম্ভাবনা তৈরি হয়। ( সাক্ষাতকার : সিরাজুল আলম খান, দৈনিক ইত্তেফাক, ১৯ শে মার্চ, ১৯৫৭)
৩. ১৯৬৬ সালে শেখ মুজিব ছয় দফা দাবীতে ৬ নং ধারায় শুধুমাত্র ভারতের * র* চাপাচাপিতে এবং সক্রিয়তা ও এর পরামর্শক্রমে পূর্বপাকিস্তানে আধাসামরিক বা বেসামরিক বাহিনী গড়ে তোলার কথা বলেন, এর উদ্দেশ্যই ছিল *র*’ দিয়ে প্রচ্ছন্নভাবে দেশ ( পূর্ব পাকিস্তান) শাসন যা স্বাধীণ এর পরে রক্ষীবাহিনী ( র পরিচালিত) হিসেবে আত্নপ্রকাশ ঘটেছিল। বস্তুতপক্ষে পূর্ব পাকিস্তানের সেই সময়ে স্বতন্ত্র বেসামরিক বা আধাসামরিক বাহিনীর প্রয়োজন ছিলনা মোটেই। ( সুত্র :::: THE CRUEL BIRTH OF BANGLADESH, আর্চার কে. ব্লাড, দি ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড, ২০০২)
 The Cruel Birth of Bangladesh - Memoirs of an American Diplomat
৪. ১৯৬৮ সালের আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলাটি ১০০% সত্যি ছিল এবং শেখ মুজিব সরাসরি জড়িত ছিল। তার উদ্দেশ্যে ছিল পাকিস্তান বিভক্তি, আর তাতে ভারতের মূল উদ্দেশ্যও সফল হয় । পাঠক লক্ষ্য করুন একদিকে মুজিব পাকিস্তানের কাছে স্বায়ত্তশাসন চাচ্ছেন, প্রধানমন্ত্রীত্ব চাচ্ছেন আবার তলে তলে ভারতের সাথে নগ্ন দালালি। এই দ্বিমুখী চরিত্রের লোক কি করে জাতীয় নেতা হন? ( প্রমান : অসমাপ্ত ইতিহাসের ডায়েরী ::: লে কমান্ডার মোয়াজ্জেম হোসেন ডায়েরী ও শামসুর রহমান সাহেবের ফরিদপুরের ডি সি কে লেখা চিঠি : লেখক আগরতলা মামলার অন্যতম আসামী মেজর আবদুল মোতালেব)
 img_9491
৫. ১৯৭০ সালের নির্বাচনে শেখ মুজিব কখনোই স্বাধীনতার কথা বলেননি, নির্বাচনী ইশতিহারে কোথাও স্বাধীনতা শব্দটি উচ্চারণ করেন নি। এই নিয়ে তাজউদ্দীন শেখ সাহেবের সাথে মনোমালিন্য হয়, তাজউদ্দীন ছিলেন একদম নিঁখাদ খাঁটি মানুষ, তিনি পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীনতাকেই সর্বাগ্রে বিবেচনা করতেন। যাই হোক ওই যাত্রা সিরাজুল আলম খান তাদের আপোস করে দেন, মুজিব বলেছিলেন এবং চেয়েছিলেন ও বটে পাকিস্তানি সরকারকে সহযোগীতা করতে, এমনকি তিনি টেলিফোনে ইয়াহিয়ার সাথে বলে দেন যে, পশ্চিম পাকিস্তান ছয় দফা মানুক আর নাই মানুক অন্তত তারা যেন শেখ মুজিবকে প্রধানমন্ত্রীত্ব হবার পথ সুগম করে দেন, এই টেলিফোনের আপোসরফা অনেকেই জানেন না:::: বাস্তবিক অর্থে তিনি ক্ষমতা কেন্দ্রিক লালায়িত ছিলেন তা অস্বীকার করা মানে ইতিহাসেরই অবমাননা। ( প্রমান দেখুন :::: *** বাংলাদেশের অভ্যুদয় : পলাশী থেকে একাত্তর এবং প্রাসঙ্গিক কিছু কথা *** বইতে মেজন জেনারেল (অব.) এম এ মতিন, বীর প্রতীক, পিএসসি))))
৬. ভারতের *র* এর সাথে ধারাবাহিক আলোচনা সাপেক্ষে , তাদেরই সমঝোতায় ১৯৭০ সালের নির্বাচনে ব্যাপক টাকা উৎকোচ নেন ( আনুমানিকভাবে ৭৮ লক্ষ ভারতীয় রুপী) রাজনৈতিক ক্যারিশম্যাটিক, থ্রিলার, ইরোটিক শেখ মুজিব, ভারতের উদ্দেশ্য পাকিস্তান দ্বিখণ্ডিত করা। ((((প্রমাণ দেখুন ::::: ত্রিপুরা থেকে প্রকাশিত সমাচার পত্রিকা ::::: ৭ই জানুয়ারী, ১৯৭১ সং্খ্যা, সম্পাদক ছিলেন ** শ্রী অনীল ভট্টাচার্য। তিনি দৈনিক যুগান্তরের ত্রিপুরা প্রতিনিধি ছিলেন।)))
৭. *** মুজিব চেয়েছিলেন ক্ষমতা, আর ভারত চেয়েছিলল যুদ্ধ ***** তাই ১৯৭০ এর ডিসেম্বরে নির্বাচনে ব্যাপক জয়ের পরেও পূর্বপাকিস্তানকে পুরাটাই বঞ্চিত আর নিগৃহীত করার পরেও মুজিব আলোচনায় বিশ্বাসী ছিলেন তাই তিনি কখনোই যুদ্ধের জন্য বিন্দুমাত্র প্রস্তুত ছিলেন না, এ নিয়ে ইন্দিরা গান্ধীর সাথে ব্যাপক মনোমালিন্য হয় “”””” ( প্রমান দেখুন :::::: “‘মুজিবের রাষ্ট্রদ্রোহের প্রকৃতি’”, ২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ১৯৭১, দ্য সানডে টাইমস, জাম্বিয়া, ‘ভারত-পাকিস্তান উপমহাদেশ পরিস্থিতি’, সানডে পোস্ট, নাইরোবি, ২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ** মুজিব- ইন্দিরা মনোমালিন্য ** ২৩ শে ফেব্রুআরি, ১৯৭১; ‘মানিচি, ডেইলি নিউজ, টোকিও)
 IMG_0022
৮. মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বই, “” ১৯৭১ : ভেতরে বাইরে “” বই লিখে মহান মুক্তিযদ্ধের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ এ কে খন্দকার আওয়ামীলীগ এর সব গোমর ফাঁস করেছেন। বইটিতে তিনি লিখেন :::: “”” বংগবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৭ মার্চের ভাষণের শেষে “জয় পাকিস্তান” উচ্চারণ করেছেন। ****** আমি নিজ কানে স্পট শুনেছি। ৯. মুক্তিযুদ্ধের উপ-অধিনায়ক সেক্টর কমান্ডার, এ,কে খন্দকার তার ঐতিহাসিক বইটিতে আরও লিখেছেন “”‘ বংগবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন, তার কোনো প্রমাণ তিনি কোথায়ও পাননি। *** তিনি বলেন আমি সত্যি কথাই বলে যাব, ইতিহাসের সত্যকেই আমি তুলে ধরেছি, আমি কারো পক্ষে বা বিপক্ষে নই, আমাকে আমার কাজের জন্য বংগবন্ধুই স্বাধীতার পর বীর উত্তম উপাধি দিয়েছেন এবং পরবর্তীতে স্বাধীনতা পদক দিয়ে সম্মানিত করা হয়েছে। তাই আমি মুক্তিযোদ্ধা না রাজাকার তা বংগবন্ধুই ভাল জানেন। আমি কারো কাছ থেকে এবিষয়ে উপদেশ বা নিন্দাজনক কথা পরোয়া করিনা। তিনি তার বইটিতে আরো বলেছেন **** স্বাধীনতা বা মুক্তিযুদ্ধের জন্য আওয়ামী লীগ প্রস্তুত ছিল না। আর আওয়ামীলীগ প্রস্তত থাকলে বা সামান্যতম যুদ্ধের পরিকল্পনা থাকলে ২৫ শে মার্চের আগে ও পরে এত হতাহত হতনা…. আর তাই এই ব্যাপক হত্যাযজ্ঞের দায়ভার আওয়ামীলীগ বা বংগবন্ধু কোনক্রমেই এড়াতে পারেন না…. . ***
১০. **** ভারতীয় গোয়েন্দাদের সাথে শেখ মুজিব *** ভারতীয় গোয়েন্দাদের সাথে শেখ মুজিবের সংশ্লিষ্টতার কথা বলেছেন ভারতীয় লেখক ও সাংবাদিক অশোক রায়না। অশোক রায়নার বই থেকে একটা উদ্ধৃতি দেয়া যাকঃ “In order to present a clear synopsis of the events that finally brought RAW (Indian spy agency) into the Bangladesh operation, one must review the intelligence activities that started soon after its formation in 1968. But by then Indian operatives had already been in contact with the “pro-Mujib” faction. A meeting convened in Agartala during 1962-63 between the IB (Intelligence Bureau) foreign desk operatives and the Mujib faction, gave some clear indications of what was to follow. The meeting in Agortala had indicated to colonel Menon (which in fact was Sankaran Nair), the main liaison man between the Mujib faction and the Indian intelligence, that the “group” was eager to escalate their movement They raided the armoury of East Bengal Riflees in Dhaka but this initial movement failed. In fact it was a total disaster. A few months later, on January 6, 1968, the Pakistan governmentt announced that 28 person would be prosecuted for conspiring to bring about the secession of East Pakistan, with the Indian help (which is known as Agartala conspiracy case in judicial history of Pakistan)”. ( Asoka Raina, Inside RAW: The Story of Indian Secret Service, page 49-50). অর্থঃ “কি ধরণের ঘটনাবলী ভারতীয় গুপ্তচর সংস্থা RAW (Research & Analytic Wing) কে তার অপারেশনকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে টেনে নেয় সেটির উপর একটি সুস্পষ্ট ধারণা পেতে হলে অবশ্যই ১৯৬৮ সালে RAW প্রতিষ্ া পাবার পর থেকে তার কাজকর্মকে পর্যালোচনা করতে হবে। কিন্তু ইতিমধ্যেই (অর্থাৎ RAW প্রতিষ্ া পাবার পূর্ব থেকেই) ভারতীয় গুপ্তচরেরা মুজিবগ্রুপের সাথে সংযোগ গড়ে তুলেছে। আগরতলাতে ১৯৬২-৬৩ সালে ইনটেলিজেন্স বুরোর বিদেশ বিভাগের গুপ্তচর এবং মুজিবগ্রুপের সাথে যে বৈঠক হয়েছিল সেটিই একটি সুস্পষ্ট ধারণা দেয় যে সামনে কি হতে যাচ্ছে। আগরতলার সে মিটিং কর্নেল মেনকে (আসলে তিনি ছিলেন সংকরান নায়ার) যিনি ছিলেন মুজিবের লোক এবং ভারতীয় গুপ্তচর সংস্থার এজেন্টদের মাঝে সংযোগ রক্ষাকারি- এ ধারণা দেয়া হয়, তারা তাদের কাজকে আরো প্রবলতর করতে আগ্রহী। তারা ইস্ট বেঙ্গল রাইফেলস ঢাকাস্থ অস্ত্রাগারে হামলা করে, কিন্তু প্রাথমিক এ হামলা ব্যর্থ হয়ে যায়। … আসলে এটি ছিল বিপর্যয়। কয়েক মাস পরেই ১৯৬৮ সালের জানুয়ারিতে পাকিস্তান সরকার ঘোষণা দেয়, ভারতের সাথে ষড়যন্ত্র করে পূর্ব পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগে ২৮ জনের বিরুদ্ধে বিচার করবে। এবং এটাই পাকিস্তানের ইতিহাসে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা রূপে পরিচিত। আগরতলা মামলা প্রসঙ্গে বাংলাদেশ সংসদের ডিপুটি স্পীকার এবং আওয়ামী লীগের নেতা অবঃ কর্নেল শওকত আলীর বক্তব্য, “আমরা তখন রাজনৈতিক কারণে অনেক কথাই বলেছি। তবে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় যে অভিযোগ দায়ের করেছিল তা শতভাগ িক ছিল। আমাদের পরিক্ল্পনা শুরু হয় ১৯৬৪ সালে। ১৯৬৮ সালে আমরা ধরা পড়ি। পরিকল্পনা ছিল, একটি নির্দিষ্ট রাতের একটি নির্দিষ্ট সময়ে বাঙালী সৈন্যরা পূর্ব পাকিস্তানের সব সেনানিবাস দখল করে পাকিস্তানী সৈন্যদের অস্ত্র কেড়ে নেবে। এরপর মুজিব ভাইয়ের নেতৃত্বে স্বাধীনতা ঘোষণা করব।” – (দৈনিক প্রথম আলো, ৭/১২/২০০৯)। অশোক রায়নার কথা, ভারতীয় গুপ্তচর সংস্থা প্রতিষ্ িত হয় ১৯৬৮ সালে। আর শেখ মুজিবের সাথে ভারতীয় গোয়েন্দাদের যোগাযোগ ছিল তার অনেক আগে। এবং সেটি ছিল ভারতীয় “আই.বি”র সাথে। মুজিব যে পাকিস্তান ভাঙ্গার ষড়যন্ত্রটি করেছেন সত্তরের নির্বাচনের বহু পূর্ব থেকেই সেটি তিনি নিজ মুখে বলেছেন পাকিস্তান থেকে ফেরার পর ‌১০ই জানুয়ারি রেসকোর্সের ময়দানে। বলেছিলেন, “স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিষ্ ার লড়াই একাত্তর থেকে নয়, সাতচল্লিশ থেকে।” সে লক্ষ্যে তিনি আগরতলাতেও গিয়েছিলেন। ১১. আগরতলা ষড়যন্ত্রের অকাট্য প্রমাণ:সে প্রমাণটি এই : আগরতলায় শেখ মুজিব সম্পর্কে ত্রিপুরার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী শ্রী শচীন্দ্রলাল সিংহ বলেন, “১৯৬৩ সালে আমার ভাই এমএলএ শ্রী উমেশলাল সিং সমভিব্যহারে শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে ১০জন ত্রিপুরার পালম জিলার খোয়াই মহকুমা দিয়া আগরতলায় আমার আগরতলার বাংলোয় রাত্র ১২ ঘটিকায় আগমন করেন। প্রাথমিক আলাপ-আলোচনার পর আমার বাংলো বাড়ি হইতে মাইল দেড়েক দূর ভগ্নী হেমাঙ্গিনী দেবীর বাড়িতে শেখ সাহেব আসেন। সেখানেই থাকার-খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। তারপর মুজিবুর ভাইয়ের প্রস্তাব অনুযায়ী আমি আমাদের প্রধানমন্ত্রী পন্তিত জওয়াহের লাল নেহরুর সাথে দেখা করি। আমার সাথে ছিলেন শ্রী শ্রীরমন চীফ সেক্রেটারি। তাকে (শ্রীরমনকে)শ্রী ভান্ডারিয়ার বিদেশ সচিবের রুমে রাখিয়া প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করি। তিনি মুজিবুর রহমানকে ত্রিপুরায় থাকিয়া প্রচার করিতে দিতে সম্মত হন নাই কারণ চীনের সাথে লড়াইয়ের পর এতোবড় ঝুঁকি নিতে রাজি হন নাই। তাই ১৫ দিন থাকার পর তিনি (শেখ মুজিব) ত্রিপুরা ত্যাগ করেন। সোনাপুড়া পশ্চিম ত্রিপুরারই এক মহকুমা কুমিল্লার সাথে সংলগ্ন। শেখ মুজিবুর রহমানকে সর্বপ্রকার সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়।”(সাহিদা বেগম, ২০০০, প্রকাশনায় বাংলা একাডেমী)।১৯৬৮ সালে। ১৯৬৮ সালের ৬ই জানুয়ারি পাকিস্তানের সরকারি প্রেসনোটের বরাত দিয়ে এপিপি জানায়, একটি রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে গত মাসে পূর্ব পাকিস্তানে ২৮ ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ষড়যন্ত্রটি গত মাসে উদঘাটিত হয়। ধৃত ব্যক্তিগণ পূর্ব পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টায় লিপ্ত ছিল। ষড়যন্ত্র সফল করার জন্য প্রচুর অস্ত্রশস্ত্র, গোলাবারুদ এবং অর্থ সংগ্রহ করাই তাদের উদ্দেশ্য ছিল।(সাহিদা বেগম,২০০০;আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা:প্রাসঙ্গিক দলিলপত্র,বাংলা একাডেমী, ঢাকা))।
 b3-2014-03-12-politik-anthony-mascarenhas-bangladesh-a-legacy-of-blood
১২. যেকোন ষড়যন্ত্রের মূল কথা হলো, সেটি করতে হয় অতিশয় সংগোপনে। প্রকাশ্যে যে কাজ হয় তাকে কেউ ষড়যন্ত্র বলে না। ষড়যন্ত্রকারীদের এজন্যই পদে পদে মিথ্যা বলতে হয়। এবং সেটি সত্যের ন্যায় অতি প্রাঞ্জল ভাবে। ষড়যন্ত্রকারিরা এজন্যই মিথ্যাবাদী হয়। শেখ মুজিবের সে ক্ষেত্রে অনেক পারদর্শীতা ছিল। মিথ্যাভাষন তিনি শেষ অবধি চালিয়ে গেছেন। তাই পাকিস্তানের জেল থেকে বেরিয়ে যখন লন্ডন হয়ে ফিরছিলেন তখনও লন্ডনে “দি টাইমস” এর প্রখ্যাত সাংবাদিক এ্যান্থনি ম্যাসক্যারেনহাসকে বলেছিলেন,”going to keep some link with Pakistan” – (Anthony Mascarenhas, Bangladesh: A legacy of Blood, Chapter 5) অথচ দেশে ফিরে বললেন তার উল্টোটি। সোহরোওয়ার্দ্দী উদ্যানের জনসভায় বললেন, “পাকিস্তানের সাথে আর কোন সম্পর্ক নয়।” তিনি বরং গভীর সম্পর্ক এবং সে সাথে ২৫ বছরের দাস-চুক্তি করলেন ভারতের সাথে।
 10252145_10201986393967057_5214934373460645549_n
১৩. “”” ‘তাজউদ্দীন আহমদ নেতা ও পিতা “” বইয়ে স্বাধীনতা ঘোষণার স্মৃতিচারণ করে ১৯৭১ সালের রক্তঝরা, কালো, শোকাতুর অগ্নিগর্ভ, স্বাধীনতার সূচনালগ্নে মার্চের ঘটনাবহ দিনগুলিতে শেখ মুজিব কি পরিমান জঘন্য বিশ্বাসঘাতক ছিলেন তা শারমিন আহমদ লিখেছেন সাবলীল ভাবে, নিচে তার লিখিত বইয়ের অংশবিশেষ :::::::::: ** ‘বড় কোনও সিদ্ধান্ত সম্পর্কে আব্বুর উপদেশ গ্রহণে মুজিব কাকু এর আগে দ্বিধা করেননি।** আব্বুর সে কারণে বিশ্বাস ছিল যে, ইতিহাসের এই যুগসন্ধিক্ষণে মুজিব কাকু কথা রাখবেন। মুজিব কাকু, আব্বুর সাথেই যাবেন। অথচ শেষ মুহূর্তে মুজিব কাকু অনড় রয়ে গেলেন। তিনি আব্বুকে বললেন, “” বাড়ি গিয়ে নাকে তেল দিয়ে ঘুমিয়ে থাকো, পরশু দিন (২৭শে মার্চ) হরতাল ডেকেছি।”” পাঠকবর্গ, আপনারাই বলুন :::: এ কোন মুজিব? একি ইতিহাসের ফেরাউন? নাকি ইতিহাসের মীরজাফর? সমগ্র জাতিকে স্বাধীণতার আন্দোলনের ডাক দিয়ে মুজিব কি ভন্ডামিটাই না করেছিল? এটা কি ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তের সাথে মুজিবের বেঈমানি নয়? শারমিন আরো লিখেন :: * পূর্ব-পরিকল্পনা অনুযায়ী আব্বু স্বাধীনতার ঘোষণা লিখে নিয়ে এসেছিলেন এবং টেপ রেকর্ডারও নিয়ে এসেছিলেন। টেপে বিবৃতি দিতে বা স্বাধীনতার ঘোষণায় স্বাক্ষর প্রদানে মুজিব কাকু অস্বীকৃতি জানান। কথা ছিল যে, মুজিব কাকুর স্বাক্ষরকৃত স্বাধীনতার ঘোষণা হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে (বর্তমানে শেরাটন) অবস্থিত বিদেশী সাংবাদিকদের কাছে পৌঁছে দেয়া হবে এবং তাঁরা গিয়ে স্বাধীনতাযুদ্ধ পরিচালনা করবেন। ১৪. জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতা ঘোষণা প্রসঙ্গে শারমিন আহমদ তার বইটিতে লিখেছেন, শহর ছেড়ে যাওয়ার পথে পদ্মার তীরবর্তী গ্রাম আগারগাঁওয়ে শুকুর মিয়া নামের আওয়ামী লীগের এক কর্মীর তারা আশ্রয় নেন। এই বাড়ির সকলেই তাঁতের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিল। সেখানে তারা শুনতে পান মেজর জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতা ঘোষণা। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে সম্প্র্রচারিত এই ঘোষণাটি আব্বুসহ সামরিক ও বেসামরিক সকল বাঙালিকে অনুপ্রাণিত করে বলে বইটিতে উল্লেখ করেন শারমিন। তাহলে আমার প্রশ্ন : ** শেখ মুজিব স্বাধীনতার ঘোষণা দেন কবে ও কিভাবে? **
১৫. ১৯৭২ সালের ১০ই জানুয়ারী শেখ মুজিব কেন পাকিস্তানের পাসপোর্ট নিয়ে বাংলাদেশে আসলেন, এ থেকে কি প্রমানিত হয়না যে, তিনি বংগবন্ধু নন তিনি পাকবন্ধু…!!! এই পাকিস্তানী পাসপোর্ট নিয়ে তিনি কি করে পুঁত পবিত্র স্বাধীণ বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট না প্রধানমন্ত্রী হন? মুজিবের কি বিন্দুমাত্র লজ্জা নেই? পাকিস্তানী পাসপোর্ট বহন করায় তিনি কি ৩০ লক্ষ শহীদের আত্নার সাথে বিশেয়াসঘাতকতা করেন নি? আপনারাই উওর দিন……!!!! ১৬. জাসদের উত্থান-পতন: অস্থির সময়ের রাজনীতি’ নামে বইটিতে মহিউদ্দিন আহমদ বলেন: * বংগবন্ধু শেখ মুজিব মুখের কথায় বেশ পটু ছিলেন, সে অনর্গল মিথ্যা কথা বলতে পারতেন, মানুষকে বিপ্লবের জন্য আন্দোলিত করতে, সত্য মিথ্যার মিশ্রিত করে মানুষের কাছে সুনিপুণ অভিনয়শৈলী দিয়ে মানুষকে বুঝাতে তার জুড়ি মেলা ভার, তিনি হয়তো কোন কিছু জানেন না বা বুঝেন না কিন্তু সেই বিষয়াদি নিয়ে এমন বক্তব্য দিতেন যাতে আপাতদৃষ্ট দিয়ে মনে হয় তিনি সর্বোচ্চ জ্ঞানী ও সৎ নেতা…****
১৭. আওয়ামীলীগ ঘরানার বুদ্ধিজীবী আর শেখ হাসিনার প্রিয় ব্যক্তি প্রায়াত বিচারপতি হাবিবুর রহমানের নিজের লিখিত বই :::: * বাংলাদেশের তারিখ ও বাংলা ভাষার সংগ্রাম এখনো অসমাপ্ত * বইতে লিখেছেন : “”” ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চে বংগবন্ধু * জয় পাকিস্তান * বলে তার ভাষণ শেষ করেছিলেন। “”” বন্ধুরা, এর অর্থ কি? এই অর্থ বুঝার জন্য কি নিউটন বা আইনষ্টাইন হবার প্রয়োজন আছে? শুধু কি বিচারপতি হাবিবুর রহমান, আওয়ামীলীগ এর একনিষ্ঠ সমর্থন ও ভাবগুরু শামসুল হক তার * কালের ধূলোয় লেখা * বইতে, আহমদ ছফা * একাত্তর : মহাসিন্ধুর কল্লোল * নামক প্রবন্ধে , নির্মল সেনের * আমার জীবনে ৭১ এর যুদ্ধ * বইতে, নির্মলেন্দু গুনের * মা জন্মভূমি * বইয়ের ৫২- ৫৩ পৃষ্ঠায়, অলি আহাদের * জাতীয় রাজনীতি ১৯৪৫ থেকে ৭৫ *, হুমায়ূণ আহমেদের * জোছনা ও জননীর গল্প * বইতে, বদরুদ্দীন উমর এর * একাত্তরের স্বাধীনতা যুদ্ধের নায়করা * নামক প্রবন্ধে, আবুল মনসুর আহমেদের * আমার দেখা রাজনীতিরতে ৫০ বছর * বইতে ৫৫৫ – ৫৫৬ পৃষ্ঠায় লিখেছেন বংগবন্ধু * জয় পাকিস্তান * বলে তার ভাষণটি শেষ করেন। ইতিহাসের সত্য ঘটনাকে কি কেউ লুকাতে পারে ?
১৮. চীন-রাশিয়া বাদ দিলাম, কিউবায় ফিদেল ক্যাস্ট্রো, ইরানে ইসলামী বিপ্লবের পর ইমাম খোমেনীও বিপ্লবের রেশ বজায় রাখতেই একদলীয় শাসন ব্যবস্থাই চালিয়ে গেছেন। এদের কাউকে নমস্য মানেন? তাহলে মুজিবের কি দোষ? সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখা? কেউ যদি সোনার বাংলা গড়ার একমাত্র উপায় হিসেবে কমিউনিস্ট ক্যাস্ট্রো, ইসলামিস্ট জানোয়ার খোমেনীর অনুসৃত পদ্ধতি আমার কাছে বিক্রি করে দেওয়ার ফন্দি আটেঁ, আমি একটু নড়েচরে বসবো বোধহয়। এবং তাকে আভিহিত করবো নিছকই আরেকজন বিরিঞ্চিবাবা হিসেবে, মানুষের কাছে হরেক রকম জিনিষ বিক্রি করে যে কিনা জীবিকা নির্বাহ করে; একজন অনিরপেক্ষ, বায়াসড, সুডোস্কলার কোয়্যাক হিসেবে। কোয়্যাকারির বিরোধিতা আমি সবসময় করেছি, করবো। আর শেখ মুজিব একনায়ক কিনা সেই প্রশ্নে নাহয় নাই গেলাম। তবে, সকল প্রকার রাজনৈতিক সংগঠন নিষিদ্ধ করা, সকল সংবাদপত্র নিষিদ্ধ করা, ব্যক্তিগত মিলিশিয়া রেইজ করা এবং সেই মিলিশিয়া জনগনের উপর লেলিয়ে দেওয়া does ring a bell, doesn’t it? এছাড়াও, পোস্টের শিরোনামটিই প্রচন্ড প্রচন্ড ইনফ্ল্যামেটরি। চর্যাপদের যুগ থেকে যেই বাঙ্গালি জাতি টিকে আছে, চল্লিশ বছর আগে হঠাত করে সেই জাতির একজন পিতা পয়দা হয়ে গেলো from out of nowhere! মানে, বাবার আগেই ছেলে চুল পাকিয়ে ফেললো না, মাথার চুল? পাকিস্তানের মতো একটি রাষ্ট্র থেকে বিভক্ত হয়ে যাওয়ার সংগ্রামে আমাদের নিয়ে গিয়েছিলো, সেই সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছিলো এবং আমাদের সেই সংগ্রাম সফল হয়েছিলো বলে শেখ মুজিবের যেই ব্রাভো পাওনা রয়েছে আমার কাছে, তার সেই পাওনা পরিশোধ করা আমার কাছে সেকেন্ডারি, কেননা ঠিক এই কাজগুলো করাই কিন্তু একজন রাষ্ট্রনায়কের দায়িত্ব, তার ডিউট; আমার কাছে প্রাইমারি হচ্ছে, দেশের সকল মানুষের আশা, ট্রাস্ট সবুকিছুকে বুড়ীগঙ্গায় ভাসিয়ে দিয়ে দেশকে একটি মিষ্টিমধুর দুর্ভিক্ষ উপহার দিয়ে, আনন্দের ঠেলায় জেল থেকে সকল ক্রিমিনালকে মুক্ত করে দিয়ে, নিজের ব্যক্তিগত মিলিশিয়া গঠন করে, সর্বোপরি ফ্রিডম অফ স্পীচ, পলিটিকাল পার্টি নিষিদ্ধ করে যেই বিশাল একডালি অ্যাবিউস শেখ মুজিবের প্রাপ্য রয়েছে আমার কাছ থেকে, তাকে তার সেই প্রাপ্য বুঝিয়ে দেওয়া। শেখ মুজিবের অপকর্মগুলোকে সাধারণত বলা হয় দ্বিতীয় বিপ্লব। এই বিপ্লব করলে গনতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ ইত্যাদি প্রতিষ্ঠিত হয় একযোগে। ইন্টারেস্টিং না? আমি মনে করি, কেউ যদি ব্রাইটও হতে যায় আবার ধর্মের মতোই একইভাবে পারিবারিকভাবে ঔরসজাত পলিটিকাল ডগমার ডিফেন্ডারও হতে চায়, তবে পরিশেষে সে হয়ে যাবে সার্কাসের একটি ক্লাউন। একনায়কতন্ত্র ডিফেন্ড করা কি অন্যায় না ন্যায়? কপটতা বা ভন্ডামী কি ইতিহাসে চলে? ২০১৪ সালের ১৮ ই এপ্রিল শারমিন আহমেদ তার নিজ পুস্তক প্রকাশ উপলক্ষ্যে ঢাকায় এশিয়াটিক সোসাইটিতে বলেন ::: “”” মহান মুক্তিযুদ্ধ একটি মমহান প্রেরনা, সেই প্রেরণার সফল বাস্তবায়ন ছিলেন শেখ মুজিব ও তাজউদ্দীন আহমদ । তাঁরা দুজনে ছিলেন সম্পূরক সত্তা। বাবাকে নিয়ে লেখা স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে শারমিন আহমদ বলেন, ‘আমি গভীর হতাশার সঙ্গে আজকের (শুক্রবার) পত্রিকা খুঁজে দেখেছি, যাঁরা মুজিবনগর দিবস পালন করেছেন, তাঁরা একটি বারও উচ্চারণ করেননি, এ মুজিবনগরের চিন্তাবিদ, স্রষ্টা, সংগঠক ছিলেন তাজউদ্দীন আহমদ।’ তাজউদ্দীন আহমদ: নেতা ও পিতা গ্রন্থ রচনার কারণ উল্লেখ করে শারমিন আহমদ বলেন, ‘বাবা সম্পর্কে কিছু লেখার সুযোগ হয়তো আসত না, যদি তিনি বাংলাদেশের রাজনীতির মানস থেকে একেবারে অদৃশ্য হয়ে না যেতেন। এটা কী করে সম্ভব যে স্বাধীনতাযুদ্ধের প্রাণপুরুষের নাম একটি বারও শোনা যায় না?’ অনুষ্ঠানে শারমিন আহমদ বলেন, আজকে স্কুল কারিকুলাম বা পাঠ্যসূচিগুলো দেখলে, দেখা যায় সেখানে একনায়কতন্ত্রের সবগুলো বীজ প্রোথিত হয়ে যাচ্ছে। জনগণের মতামতকে সে ক্ষেত্রে কোন গুরুত্বই দেয়া হচ্ছে না। তরুণদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমি তরুণদের সাথে আমার চিন্তার একটা সেতুবন্ধন করতে চাচ্ছি। কোন জাতি, দেশ স্বাধীনতার জন্য এতো রক্ত দেয়নি আবার কোন জাতি বা দেশ এমনভাবে তার ঐতিহাসিক স্বাধীনতা নিয়ে এত বিভ্রান্তিতেও ভোগেনি। শারমিন আহমেদ বলেন, যেটা সত্য সেটা শুনতে হবে, জানতে হবে। ভালো না লাগলেও তা শুনতে হবে। তিনি বলেন, এখানে আমার চোখে পড়েছে ১০০০ টাকার নোটে বঙ্গবন্ধু, ৫০০ টাকার নোটে বঙ্গবন্ধু, ১০০ টাকার নোটে বঙ্গবন্ধু, ৫০ টাকার নোটে বঙ্গবন্ধু, ২০ টাকার নোটে বঙ্গবন্ধু, ১ টাকার টাকার নোটে বঙ্গবন্ধু। আমরা এর মধ্যে বঙ্গবন্ধুকে আবদ্ধ করে একটা স্বৈরতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে ডেভোলাপ করতে সহযোগিতা করছি। তিনিতো এটা চাননি। যুক্তরাষ্ট্রের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে ১ ডলার বিলে ফাদার অব দ্য কান্ট্রির প্রতিকৃতি, ১০০ ডলার বিলে বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিনের ছবি। ফ্রাঙ্কলিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ছিলেন না তিনি ছিলেন দার্শনিক ও বিজ্ঞানী। কার ছবি কোথায় যাবে, কতখানি যাবে, কিভাবে যাবে এটা দেশটির পারিবারিক সিদ্ধান্তের মধ্যদিয়ে আসেনি, ব্যক্তি সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে আসেনি, এসেছে কংগ্রেসের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। এসেছ গণতান্ত্রিক চর্চার মাধ্যমে,’ আলাপের মাধ্যমে আলোচনার মাধ্যমে। শারমিন প্রশ্ন করে বলেন, আমরা আজ কোথায় যাচ্ছি??? পারস্পরিক দোষারোপের সংস্কৃতি থেকে রেহাই মিলবে কবে? ইতিহাসকে ছিনতাই করার প্রচেষ্টা মহাপাপ, ইতিহাসে যার যতটুকু প্রাপ্য তাকে ততটুকু দিতেই হবে। ইতিহাসকে কেন আমরা প্রতিদিন ধর্ষন করে যাচ্ছি? “”””
81Nr98FFp3L
১৯. আহমেদ ছফা বলেছেন ও লিখেছেনও বটে তার প্রবন্ধে * মুজিবের শাসন: একজন লেখকের অনুভব – আহমেদ ছফা *.. তিনি লিখেছিলেন …………. “”” উনিশ শ’ পচাত্তর সালের শুরুর দিকে বিরোধীদলীয় রাজনৈতিক কার্যকলাপ একেবারে পুরোপুরি বন্দ্ধ ঘোষনার পরে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল সমর্থক পত্রিকা গণকন্ঠের প্রকাশ রুদ্ধ, সম্পাদক দেশের খ্যাতনামা কবি জনাব আল মাহমুদ কারারুদ্ধ এবং ছাপাখানায় তালা লাগিয়ে দেয়া হয়। এর পূর্বেও “গণকন্ঠ” পত্রিকাটি বন্দ্ধ করার জন্য সরকার নানাধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছিল। পত্রিকাটিতে সরকারি বিজ্জাপন দেয়া হত না, দুয়েকবার ডিক্লারেশন বাতিল করা হয়েছে। আইনের ফ্যাঁকড়া তুলে মুদ্রণ এবং প্রকাশের পথে কৃত্তিম সংকট সৃষ্টি করা হয়েছে। মাঝখানে একবার বন্দ্ধও করে দেয়া হয়েছিল। সাংবাদিকদের সমবেত দাবির মুখে ছেড়ে দিতে বাধ্য হলেও রাজনৈতিক ক্রিয়াকলাপ বন্ধ ঘোষনার সাথে সাথে প্রকাশ রহিত হয়ে গেল। গণকন্ঠের পিছু পিছু সরকার বিরোধী দলীয় ইংরেজি “সাপ্তাহিক ওয়েভ” এবং “হলিডে” কিছুদিন পর্যন্ত টিকে থাকে পরেছিল। পরে দুটোকেই বন্ধ করে দেয়া হয় এবং আপত্তিজনক সংবাদ পরিবেশনের দায়ে “হলিডে”সম্পাদক জনাব এনায়েতুল্লাহ খানকে জেলখানায় প্রেরণ করা হয়। জনাব আলী আশরাফ সম্পাদিত বাংলা“সাপ্তাহিক অভিমত” – এরও একই পরিণতি ঘটে। বিরোধীদল তো ছিলই না। বিরোধীদলীয় পত্রপত্রিকাগুলোকেও নির্মমভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। সরকার সমর্থক পত্রিকাসমুহ এবং সরকারের অন্য দুটো অংগদলের মুখপত্রগুলো প্রতিটি স্বৈরাচারী পদক্ষেপকে একেবারে নির্লজ্জভাবে অভিনন্দিত করে যাচ্ছিল। তথাপি শেখ মুজিবুর রহমান একদলীয় শাসন কায়েম করার প্রাক্কালে বাংলাদেশে পত্র-পত্রিকার সংখ্যা একেবারে কমিয়ে এনে গণমতের বাহনগুলোর কর্তৃত্ব নির্ভরযোগ্য হস্তে অর্পণ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেন। রাজধানী ঢাকা থেকে মাত্র চারটি দৈনিক পত্রিকা প্রকাশিত হবে ঠিক হল। দুটি বাংলা এবন দুটি ইংরেজি এবং এটাও ঠিক হল যে বাদ বাকি পত্রিকাসমুহ বন্ধ করে দেয়া হবে। “ইত্তেফাক” কাগজটিকে পুরোপুরিভাবে সরকারি নিয়ন্ত্রনে নিয়ে আসা হল।“ইত্তেফাক” ছাড়া অপর যে বাংলা কাগজটি বেঁচে থাকবে সেটির নাম “দৈনিক বাংলা”। ইংরেজি কাগজ দুটির নাম“বাংলাদেশ অবজারভার” এবং “বাংলাদেশ টাইমস”।এসব পত্রিকাগুলো একেবারে সরকারি পত্রিকা এবং সাংবাদিকেরা সরকারি কর্মচারীরুপে চিহ্নিত হবেন বলে ঘোষনা দেয়া হল। একসংগে অনেকগুলো পত্রপত্রিকা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে গোটা দেশের সাংবাদিকবৃন্দ এক ভয়াবহ সংকটে নিপতিত হন। এই নির্মম অর্তসংকটের দিনে সাংবাদিকেরা সবান্ধবে বেকার হয়ে পড়ার ফলে তাঁদের সামনে বেঁচে থাকার দ্বিতীয় কোন পন্থা উম্মুক্ত রইল না। যে চারটি পত্রিকা প্রকাশিত হবার সিদ্ধান্ত পাকাপাকি হয়ে গেছে, সেগুলোতে কোনো রকমে স্থান করে নেয়ার জন্য প্রতিটি সাংবাদিকই মরিয়া হয়ে চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন। এই ধরনের পরিস্থিতিতে সাংবাদিকদের কাছ থেকে এর চেয়ে ভিন্ন কোন আচরন আশাও করা বোধহয় সম্ভব ছিলনা। অবশ্য শেখ মুজিবুর রহমানের সরকার তাঁদের কর্মসংস্থান করে দেবেন বলে প্রতিশ্রুতিও দান করেছিলেন এবং সরকার থেকে তাঁরা অল্প-স্বল্প মাইনেও পাচ্ছিলেন। এই অনিশ্চিত শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে সাংবাদিকদের মাথায় যে চিন্তাটা প্রথমে এসেছিল তাতে বাহ্যত দাসোচিত আত্মসমর্পন এবং সুবিধাবাদি চরিত্রের পরিচয় স্পষ্টতভাবে ফুটে উঠলেও বাংলাদেশের পরিস্থিতির বিচারে তাই-ই ছিল একান্ত বাস্তব এবং যুক্তিসংগত। প্রতিটি আলাদা আলাদা পত্রিকার সাংবাদিকেরা ভাবলেন তারা আগেভাগে যদি সরকারি দলে যোগ দেয়ার আবেদনপত্রে সই দিয়ে বসেন, সরকার অনুকম্পা করে তাঁদের কথাটি বিবেচনা করে দেখবেন। এই ধরনের মনোভাবের বশবর্তী হয়ে যাবার বেশ কয়েকদিন পূর্বে “দৈনিক পূর্বদেশ” পত্রিকার সাংবাদিকবৃন্দ সদলবলে বাকশালের কেন্দ্রীয় দফতরে গমন করে সই করা আবেদনপত্রসমুহ জমা দিয়ে এসে মনে করলেন, যা্ক্‌ নিশ্চিন্ত হওয়া গেল। এই ঘটনার পর থেকে অন্যান্য চালু এবং বাতিল পত্রিকার কর্রমরত সাংবাদিকদেরও বোধদয় ঘটল। তাঁরা ভাবলেন, পূর্বদেশের সাংবাদিকদের মত তাঁরাও যেয়ে যদি বাকশালের সদস্যপদের আবেদনপত্রে সই না করেন, তাহলে তাদের চাকুরি হবে না এবং চালু পত্রিকায় কর্মরত থাকলে চাকুরিটি টিকবে না। সরকারি পত্রিকায় সরকারিদলের লোকদের কাজ পাবার নৈতিক দাবীই সবচেয়ে বেশী। তারপর থেকে সাংবাদিকেরা দিগ্বিদিক জ্ঙান হারিয়ে দল বেঁধে নিয়মিত বাকশাল অফিসে ধাওয়া করতে থাকলেন। প্রতিটি পত্রিকার সরকারসমর্থক সাংবাদিকেরা উদ্যোগী হয়ে সহযোগী এবং কলাকুশলীদের টেনে নিয়ে জাতীয় দলের অফিসে হাজিরা দিতে আরম্ভ করলেন। রাস্ট্রের তৃতীয় স্তম্ভ বলে কথিত সংবাদপত্রের কারিগরদের একাংশ পেশাগত মর্যাদা, স্বাধীনতাস্পৃহা, সত্য এবং ন্যায় –সাংবাদিকতাবৃত্তির সংগে সংস্লিষ্ট ইত্যাদি মহত অনুষংগসমুহ বাদ দিয়ে যে নাটকের অবতারনা করেছিলেন বাংলাদেশের সমাজে অনতিবিলম্বে তার প্রভাব অনুভুত হতে শুরু করে। অবশ্য সাংবাদিক মাত্রেই যে বাকশালে যোগ দেয়ার জন্য লালায়িত ছিলেন তেমন কথা বলা আমার উদ্দেশ্য নয়। চাপের মুখে বাকশাল সদস্যপদের আবেদনপত্রে সই করে একজন সাংবাদিককে আমি সত্যি সত্যি নিজের চোখে কাঁদতে দেখেছি। বেশ ক’জন সাংবাদিক ভয়ভীতি অগ্রা হ্য করে শেষ পর্যন্ত সাংবাদিকতার আদর্শ এবং নীতিতে অটল ছিলেন।“ইত্তেফাক” পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক জনাব আসাফউদ্দৌলা রেজা আবেদনপত্রে সই করেননি। এই অভিযোগে সরকারি ব্যবস্থাপনায় “ইত্তেফাক” প্রকাশ পাওয়ার সময় তাঁর চাকরি চলে যায়। বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগের সভাপতি ঘোষনা করেছিলেন যে আমলা, কর্মরত সাংবাদিক,স্বায়ত্বশাসিত এবং আধা স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানসমুহের কর্মচারীবৃন্দ, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষক যে কেউ বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগের সদস্যপদের জন্য আবেদন করতে পারবেন। অবশ্য কাকে সদস্যপদ দেয়া হবে, কাকে হবে না সটি সম্পুর্নভাবে কর্তৃপক্ষের বিবেচনার বিষয়।
sofa
২০. আহমেদ ছফা আরো লিখেন যে , “”” শেখ মুজিবের শাসনামলে জাসদের প্রায় ৩০ হাজার কর্মী হত্যা, ১৭ টি ব্যাংক লুট, ১৩১ টি ছোট বড় কল কারখানা লুট, ৭২-৭৫ তিন বছরে ৭১৬৯ জন নারী ধর্ষন, ৪৫৭ টি হিন্দু বাড়ি সম্পুর্ণ দখল, তাছাড়া মাঠ, ঘাট, মার্কেট অজস্র বাজার করেছে মুজিবের সাংগপাংগরা আর রক্ষীবাহিনী সহ তোফায়েলরা….. এটাই কি স্বাধীনতা? যে কেউ ইচ্ছে করলে সরকারি দলে যোগদান করতে পারবে,এটা ছিল সরকারি ঘোষনা। আসলে যোগ না দিলে কারো নিস্তার পাবার উপায় ছিলনা। ভেতরে ভেতরে সমস্ত সরকারি বেসরকারি দফতর স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান, স্কুল,কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, পত্রিকার সাংবাদিক, লেখক, কবি,সাহিত্যিক এবং বুদ্ধিজীবীদের ওপর চাপ প্রয়োগ করে যাচ্ছিলেন যে, সবাইকে জাতীয়দলে যোগ দেয়ার আবেদনপত্রে সই করতে হবে। কতৃপক্ষ যাকে বিপজ্জনক মনে করেন সদস্যপদ দেবেন না, কিন্তু বাংলাদেশে বাস করে চাকুরি-বাকরি, ব্যাবসা-বানিজ্য করে বেঁচে-বর্তে থাকতে চাইলে জাতীয়দলের সদস্যপদের আবেদনপত্রে সই করতেই হবে। সর্বত্র বাকশালে যোগদান করার একটা হিড়িক পড়ে গেল। শেখ মুজিবুর রহমান যেদিন আনুস্ঠানিকভাবে বাকশালের কেন্দ্রীয় দফতর উদ্বোধন করতে এলেন তাঁকে স্বাগত সম্ভাষন জ্জাপনের উদ্দেশ্যে গোটা দেশের উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা, শ্রমিক, কৃষক সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে হাজির থাকতে বাধ্য করা হয়েছিল। সেদিন ছিল মুষলধারে বৃষ্টি। অবিরাম ধারাস্রোতে প্লাবিত হয়ে ভেজা কাকের মত সুদীর্ঘ মানুষের সারি কিভাবে রাস্তায় তাঁরা অপেক্ষা করছিলেন, যাঁরা এ দৃশ্য দেখেছেন ভুলবেন না। মহিলাদের গাত্রবস্ত্র ভিজে শরীরের সংগে একশা হয়ে গিয়েছিল। এই সুবিশাল জনারন্যে আমাদের দেশের নারীকুলকে লজ্জা-শরম জলান্জলি দিয়ে সশংকিতচিত্তে তাঁর আগমনের প্রতীক্ষা করতে হচ্ছিল। নাগরিক জীবনের সর্বত্র একটা আতন্কের কৃষছায়া প্রসারিত করে আসছিল। এ ধরনের চিন্তা, বুদ্ধি এবং সাহসরোধী পরিবেশে যেখানে মানুষের বিচার-বুদ্ধি কাজ করে না, বেঁচে থাকা বলতে শুধু বোঝায় কোন রকমে পশু অস্তিত্বের সংরক্ষণ। নৈতিক সাহস, মানবিক মুল্যবোধ ইত্যাকার সুসভ্য জীবনের বোধগুলো বাংলাদেশে সর্বপ্রকারের কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলেছে। সবখানে আতন্ক, উদ্বেগ। এ তো গেল একদিকের চিত্র। অন্যদিকে গ্রাম-বাংলার মানুষদের অবস্থা দুর্দশার শেষ প্রান্তে এসে উপনীত হয়েছে। নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিষপত্রের দাম প্রতিদিন হু হু করে বাড়ছে। দেশে অভাব, দুর্ভিক্ষ,মহামারী, প্রাকৃতিক দুর্যোগ। ক্ষুধার তাড়নায় মা সন্তান বিক্রি করছে। স্বামী স্ত্রীকে পরিত্যাগ করছে। বিনা কাফনে লাশ কবরে নামছে। সৎকারবিহীন অবস্থায় লাশ শৃগাল-কুকুরের আাহার্য হওয়ার জন্য পথে পথে পড়ে থাকছে। চারদিকে জ্বলন্ত বিভীষিকা, চারদিকে হা-অন্ন, হা-অন্ন রব। এই অন্নহীন বস্ত্রহীন মানুষের দংগল একমুঠো ভাত, এক ফোটা ফেনের আশায় ঢাকা শহরে এসে শহরের ফুটপাতে চিৎ হয়ে মরে থাকছে। একদিকে উদ্ধত উলংগ স্বৈরাচার, অন্যদিকে নির্মম দারিদ্র,বুভুক্ষা এই দুইয়ের মাঝখানে বাঙালি মধ্যবিত্ত শ্রেণীকে অতি কষ্টে, অতি সন্তর্পনে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হচ্ছিল। অর্থনৈতিক অন্তর্দাহের আঁচ মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোতেও লেগেছে। অনেকগুলো পরিবার মাছ-মাংস স্পর্শ করা বাদ দিতে বাধ্য হয়েছে। কোনো কোনো পরিবারের ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে গিয়েছে। যারা দু’বেলা ভাত খেত দু’বেলা আাটা খেয়ে জীবন কাটাচ্ছে। আবার অনেক পরিবারের দু’বেলা আটাও জোটে না। অথচ শেখ মুজিবুর রহমানের শাসন ক্ষমতার সংগে যাঁরা যুক্ত তাঁদের সুযোগ-সুবিধের অন্ত নেই। তাঁদের হাতে টাকা,ক্ষমতা সবকিছু যেন স্বাভাবিক নিয়মে কেন্দ্রীভূত হচ্ছে। আইন তাঁদের ধন-সম্পদ বৃদ্ধির সহায়, সরকারি আমলারা আ্জ্গাবহ মাত্র, সামাজিক সুনীতি, ন্যায়-অন্যায়, নিয়ম-কানুন কোন কিছুর পরোয়া না-করলেও তাঁদের চলে। উনিশ শ’ একাত্তুর সালের যুদ্ধের পর থেকে এই শ্রেণীটি বাংলাদেশের সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক নৈরাজ্যের থেকে প্রাণরস সংগ্রহ করে ডাঁটো হয়ে মাথা তুলছিল। ঢাকা শহরের প্রশস্ত রাজপথ থেকে শুরু করে সরকারি দপ্তর, স্বায়ত্বশাসিত প্রতিস্ঠান, ব্যাবসায়ীর আড়ত, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান, রেডিও-টেলিভিশন, লেখক-সাহিত্যিকদের আড্ডা, স্কুল-কলেজ, মসজিদ-মন্দির এমনকি দূর-দুরান্তের পল্লীগ্রামের মহল্লায় মহল্লায় এই হঠাৎ জন্মানো নব্যনবাবদের সীমাহীন প্রতিপত্তি। এদের অনুমোদন ছাড়া মরণোম্মুখ রোগী এক ফোটা ওষুধ পেত না, শীতার্ত উলংগ অসহায় মানুষের পরনে রিলিফের একখানি বস্ত্র উঠত না, এক সের রেশনের চাল কি আটা বিলি হতে পারত না। বিধ্ধস্ত বাংলাদেশের জনগনের সাহায্যার্থে যে দেশ থেকেই সাহায্য আসুক না কেন এই শ্রণীটির দুষ্ট ক্ষুধার চাহিদা মিটাতে সবকিছু শেষ হয়ে যেত। এদের অনুমোদন ছাড়া কোন অফিসে একজন সামান্য পিয়নের নিয়োগপত্র পাওয়ার সম্ভাবণা ছিল না,যোগ্যতা যাই হোক না কেন। রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করানো যেত না। ছাত্রকে স্কুলে। বেবাক দেশের দশদিকে এরা ছড়িয়েছিল। আমলাদের মধ্যে, নিম্নশ্রেণীদের মধ্যে,শিক্ষকদের মধ্যে, গায়ক-শিল্পী-সাহিত্যিকদের মধ্যে,কৃষক-শ্রমিকদের মধ্যে অন্তরীক্ষে অবস্থান করে একজন মাত্র মানুষ সবকিছুর সুতো ধরে রয়েছেন তিনি বাংলাদেশের রাস্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান। স্বাধীনতার তিন বছর সময়ের মধ্যে সার্বিক পরিস্থিতি এরকম হয়ে দাঁড়িয়েছে যে বাংলাদেশ এবং শেখ মুজিব এ দুটো শব্দ পরস্পরের পরিপুরক হয়ে দাঁড়িয়েছিল। শেখ মুজিব যদি বলতেন আমিই হলাম গিয়ে বাংলাদেশ,তাহলে তিনি এতটুকুও মিথ্যে বলতেন না। পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর দেশে ফিরে ক্ষমতার সিংহাসনে অধিষ্টিত হয়ে একে একে বামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোর গলা টিপে ধরেছিলেন। বামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোকে তিনি নিষিদ্ধ ঘোষনা করেছেন। তাদের ঘরবাড়ি ভূ-সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছেন, পরিবার-পরিজনের ওপর সীমাহীন অত্যাচার চালিয়েছেন। তাদের কাউকে গ্রেফতার করে কারাগারের উদরে নিক্ষেপ করেছেন। দেদার নেতা এবং কর্মী হত্যা করেছে রক্ষীবাহিনী। বাংলাদেশের গ্রামে-গন্জে বামপন্থী রাজনৈতিক কর্মী দমন করার নামে সরল মানুষদের পাখির মত গুলি করে, গলা কেটে হত্যা করা।
sirajsikder-1
শেখ মুজিব বিরোধী কোন কিছুর আভাস পাওয়ামাত্রই রক্ষীবাহিনী আগ্নেয়াস্ত্রে সুসজ্জিত হয়ে ছুটে গেছে। সবকিছু জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে, ভেংগে-চুড়ে তছনছ লন্ড-ভন্ড করে দিয়েছে। পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টির নেতা তিরিশ বছর বয়স্ক সিরাজ সিকদারকে নৃশংসভাবে হত্যা করিয়ে শেখ মুজিবুর রহমান পরিষদ কক্ষে উল্লসিত উদ্‌ঘোষনায় ফেটে পড়ে বলেছিলেন, এখন কোথায় সিরাজ সিকদার?গ্রফতার, নির্যাতন এসব শেখ মুজিব প্রশাসনের একটা অ্ত্যন্ত উল্লেখযোগ্য দিক হয়ে দাঁড়িয়েছিল। আবদুল মতিন, আলাউদ্দিন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সভাপতি মেজর জলিল, সম্পাদক আ.স.ম. আবদুর রব সহ অসংখ্য নেতা এবং কর্মী, জাতীয় লীগের অলি আহাদ অনেককেই তিনি কারাগারে প্রেরণ করেছিলেন। বিপ্লবী মতাদর্শী রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং কর্মীদের কথা বাদ দিয়েও তিনি উদারনৈতিক গণতান্ত্রিকবোধ আস্থাশীল রাজনৈতিক দলগুলোর উপস্থিতিও বরদাশত করতে পারতেন না। পাকিস্তানের কারাগার থেকে দেশে ফেরার পর তিনি দেশের বিপর্যস্ত অবস্থার উন্নয়ন সাধনের জন্য সময়ে অসময়ে হুন্কার দেয়া ছাড়া কোনো বাস্তব কর্মপন্থা গ্রহণ করেননি। পক্ষকান্তরে তার বিরোধীদের সমুলে বিনাশ করার এক সর্বনেশে খেলায় মেতে উঠেছেন। এমনকি সে বিরোধিতা নিজের দলের লোক থেকে এলেও এবং একান্ত ন্যায়সংগত হলেও তিনি সহ্য করেননি। দৃশ্যত বিরোধীদলবিহীন খোলা ময়দানের তিন তিনটি দলের সর্বময় কর্তা হওয়া স্বত্তেও তিনি নিশ্চিত বোধ করতে পারছিলেন না। তিনটি দলকে এক করে একদলীয় সরকার প্রতিষ্ঠা করে সমস্ত ক্ষমতা নিজের হাতে কুক্ষিগত করে রাখার জন্য রাতারাতি প্রধানমন্ত্রী থেকে রাস্ট্রপতি হয়ে বসলেন। সংবিধান বাতিল ঘোষনা করলেন। জাতীয় পরিষদের সদস্যদের সংগে বয়-বেয়ারাদের মত আচরন করলেন। উদারনৈতিক গণতন্ত্রে বিশ্বাসী শেখ মুজিব গণতান্ত্রিক আওয়ামী লীগ দলের পাটাতনে দাঁড়িয়েই একটি নির্দিষ্ট সময়ের পরিসরে নিজেকে বাঙালি জাতির সংগ্রামী প্রতীক হিসেবে চিহ্নিত করে নিতে পেরেছিলেন এবং বাঙালি জাতির মুক্তি-সংগ্রামের নায়করুপে সারাবিশ্বে পরিচিত হয়ে উঠেছিলেন। তিন বছর যেতে না যেতেই আওয়ামী লীগ দলটির অস্তিত্ব বিলীন করে দিলেন। উনিশ শ’ উনসত্তর সালের পর থেকে এ পর্যন্ত তাঁকে ভাগ্যদেবতা অযাচিতভাবে কৃপা করে আসছে। উনিশ শ’উনসত্তর সালে আইয়ুব বিরোধী অভ্যূথ্থানের ফলে আইয়ুব খানকে আগরতলা ষড়যণ্ত্র মামলে উঠিয়ে নিতে হয়। কারাগার থেকে তিনি বেরিয়ে আসেন বাঙালি জাতীর জনক এবং অদ্বিতীয় নেতা হিসেবে। তাঁর প্রতি জনগনের আস্থা ভালবাসা তাঁর মস্তকে হিমালয় পর্বতের চুড়োর মত উত্তুংগ মহিমায় বিভুষিত করেছে। গোটা জাতি তাঁর পেছনে। এর পূর্বে কোন বাঙালি নায়কের পেছনে মানুষ অকৃত্ত্রিম আস্থা এবং স্বত:স্ফুর্ট ভালাবাসা এমন করে বিলিয়ে দেয়নি। তার আগেও এরকমটি ঘটেছে বারবার। যে-কোন বড় ধরনের রাজনৈতিক বিপ্লব, উপবিপ্লব শুরু হওয়ার পূর্বে শেখ মুজিব কোন যাদুমন্ত্র বলে কারাগারে ঢুকে পড়েছেন। ঘটনার নিয়মে ঘটনাটি ঘটে যাবার পর বিজয়ী বীরের মত শেখ সাহেব দৃপ্ত পদক্ষেপে প্রকাশ্য সূর্যালোকে বেরিয়ে এসে নেতার আসনটিতে বিনাদ্বিধায় বসে পড়েছেন। শেখ মুজিবকেই ঘটনাটির নায়ক বলে লোকে বিনাদ্বিধায় মেনে নিয়েছেন। তাঁর নিজের দলের মধ্যেও এ নিয়ে বোধকরি কোন প্রশ্ন কখনো উঠেনি। উনিশ শ’ একাত্তর সালের পঁচিশে মার্চ তারিখে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী তাঁকে আপন বাসভবন থেকে উঠিয়ে নিয়ে গিয়েছিল এবং উনিশ শ’ বাহাত্তর সালের দশই জানুয়ারি তারিখে বাংলাদেশে এসে এমন একটি আসন পেয়ে গেলেন, বাঙালি জাতির ইতিহাসে কোন মানুষ সে রকম মর্যাদা, ভালোবাসা এবং একছ্ত্র ক্ষমতার আসনে উপনিবেশ করতে পারেনি। তাঁর তেজ, বীর্য এবং বাক্যের মন্ত্রশক্তিতে বিস্ময়াবিশ্ট দেশবাসী বহুকাল পূর্বেই তাঁকে বংগবন্ধু এবং বাঙালি জাতির পিতা ইত্যাদি দুর্লভ সম্মানে ভূষিত করেছিলেন। শ্রদ্ধা এবং ভালবাসার আসনে তো তিনি রাজচক্রবর্তী হিসেবে বহুকাল পূর্বে থেকেই আসীন ছিলেন। পাকিস্তানের কারাগার থেকে বেরিয়ে এসে বাঙালি হ্রদয়ের সিংহাসনের রাজা বাস্তবের সিংহাসনে আরোহন করলেন।
পাকিস্তানের কারাগার থেকে বেরিয়ে এসে বাঙালি হ্রদয়ের সিংহাসনের রাজা বাস্তবের সিংহাসনে আরোহন করলেন। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের অর্থনীতি তাঁর দু:শাসনে যতই বিপর্যয়ের শেষ সীমানায় নেমে আসুক-না কেন, বন্যা,মহামারী, চোরাচালানী, ছিনতাইকারী, টাউট,স্বজনতোষনকারীরা বাংলাদেশে যে অবর্ননীয় দু:খ-দুর্দশারই সৃষ্টি করুক-না কেন তাঁর গোচরেই সবকিছু ঘটে আসছিল। যৌবনবতী মেয়ে মানুষ তার প্রেমিককে যে রকম বিশ্বাস করে এবং ভালবাসে, বাংলাদেশের মানুষ তাঁকে সেই অকৃত্তিম অন্তরের অন্ত:স্থল থেকে উৎসারিত বিশ্বাস এবং ভালাবাসা দিয়েছিল। তিনি এলেন,প্রধাণমন্ত্রী হলেন। নতুন সংবিধান রচনা করলেন, নির্বাচন ডাকলেন এবং নির্বাচিত হওয়ার পর বছর না ঘুরে না-আসতেই প্রধাণমন্ত্রীর পদ তাঁর হল না। তাঁরই নির্দেশে রচিত সংবিধানের বিধানগুলো আঁটোসাটো জামার মত ক্রমাগত তাঁর বিরক্তি উৎপাদন করছিল। তাই তিনি নিজ হাতে গড়া অনুশাসনের নিগড় ছিন্ন করে ফেললেন। সংবিধান বাতিল ঘোষনা করলেন। যে সংসদীয় গনতন্ররে বাঁধানো সড়ক বেয়ে আকাশস্পর্শী উচ্চকাঙখার নির্দেশে একটি সবল, স্বাস্থ্য এবং দরাজ কন্ঠস্বর মাত্র সম্বল করে এতদুর উর্ধ্বে আরোহন করেছেন সেই সংসদীয় গণতণ্ত্র শেখ মুজিবের হাতেই জখম হয়ে হয়ে লাশটি তাঁরই হাতে কবরস্থ হওয়ার জন্য অধীর আগ্রহে প্রতীক্ষা করছিল। অবিলম্বে তিনি তাঁর কর্তব্যকর্ম সমাপন করলেন। সংসদীয় গনতণ্ত্রের লাশটি কবর দিলেন। একদলীয় সরকারের রা্স্ট্টপতি হিসেবে নতুন পরিচয়ে তিনি নিজেকে পরিচিত করলেন। শেখ মুজিব যা করেন সব নিঁখুত। ইতিহাসের সংগোপন আকান্খা তাঁর প্রতি কর্মে অভিব্যক্তি লাভ করে। এ হচ্চে তাঁর পরিষদের ধারণা। কথাটি তিনিও আপনদল এবং বন্ধুদলের মানুষদের কাছ থেকে এতবেশি শুনেছেন যে নিজেও প্রায় অতিমানব বলে বিশ্বাস করে ফেলেছিলেন। তিনিও মনে করতে আরম্ভ করলেন, যা কিছু হও বলবেন, অমনি হয়ে যাবে। এ যেন শেক্সপীয়রের নাটকের নায়ক জুলিয়াস সিজার। আকাশের জ্যোতিস্কমন্ডল বারেবারে শুভ-সংকেত বয়ে নিয়ে আসে। শেখ মুজিবুর রহমানের চরিত্রে সীজারের বীরত্ব এবং গুনাগুন বর্তমান ছিল কিনা বিচার করবেন আগামীদিনের এৈতিহাসিক। তবে একথা সত্য যে, পৃথিবীর দরিদ্রতম দেশ বাংলাদেশে তিনি যা পয়েছেন, যা আদায় করেছেন,অনুরুপ ভাগ্য কোন রোমান সীজারের কোনদিন হয়নি। সব শক্তিদর্পী মানুষের যেমন হয়ে থাকে তেমনি শেখ মুজিবর রহমানের মনে কিছু নিরীহ বস্তু না পাওয়ার ক্ষোভ বারবার তাঁর অন্তর্লোককে পীড়ন করেছে। শক্তিদর্পী মানুষেরাও চায় মানুষ তাদের ভালাবাসুক বন্ধুর মত,আবার যমের মত ভয় করুক। আকাশের দেবতাকে যে রকম ভীতিমিশ্রিত ভালবাসা দিয়ে বিচার করে, শেখ মুজিবুর রহমানের মনেও অবিকল সে রকম একটি বাসনার উদয় হয়েছিল। তিনি বিলক্ষন জানতেন, পান্ডিত্যাভিমানী শিক্ষিত সমাজের মানুষ তাঁকে অন্তর থেকে অবজ্গা করেন। এই শ্রেণীটির চরিত্রের খাঁজগুলো সম্বন্ধে পুরোপুরি অবহিত ছিলেন। উনিশ শ’ উনসত্তর সালের পূর্ব পর্যন্ত এই শ্রেনীর লোকেরা তাঁকে বাগাড়ম্বর সর্বস্ব অমার্জিত হামবগ ছাড়া কিছু মনে করতেন না, তা তাঁর অজানা থাকার কথা নয়। বিভিন্ন বিবৃতি, বক্তৃতা, ঘরোয়া বৈঠক এবং আলাপ-আলোচনায় এঁদের প্রতি প্রচ্ছন্ন ঘৃণা এবং বিরক্তি তিনি কুন্ঠাহীনভাবে ব্যক্ত করেছেন। তা সত্তে্ও উচ্চশিক্ষিত আমলা, লেখক-সাহিত্যিক এবং শিক্ষক, বিশ্ববিদ্যলয়ের শিক্ষক এবং সম্ভ্রন্ত সমাজের একাংশ তাঁকে বংগবন্ধু বলে যে সম্বোধন কেন করতেন শেখ মুজিব তা বুঝতেন এবং তা তাঁর ক্ষমতার স্বাভাবিক প্রাপ্য হিসাবেই গ্রহণ করতেন। তাছাড়া বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবি বলে কথিত শ্রেণীটির হীনমন্যতাবোধ এবং চারিত্রিক দাসত্ব অনেকটা প্রবাদের সামিল। যে-কোন নতুন শাসক এলেই সকলে মিলে তাঁর গুণপনা বাখান করা এখানকার বহুদিনের একটা প্রচলিত প্রথা। কচিত কদাচিত ব্যতিক্রমী কন্ঠ শোনা যায়। এর কারণ নিশ্চয়ই বাংলাদেশের সমাজ শরীরের মধ্যে সংগুপ্ত আছে। শক্তিদর্পী মানুষেরাও যে শেষ পর্যন্ত একেকটা দিকে কাঙাল থেকে যান শেখ মুজিবের মধ্যেও তার পরিচয় পাওয়া যায়। যে বস্তুটি সহজভাবে পাওয়া যায় না তাকে ভেঙে ফেলার জন্য এঁদের অনেক সময় নিয়মমত খাওয়া-শোয়ার ব্যাঘাত ঘটতে থাকে। তাঁর আসন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আগমনের ঘটনাটিকেও এ পর্যায়ে ফেলা যায়। যদিও তিনি দেশের একচ্ছত্র অধিপতি তথাপি তাঁর কানের কাছে অনেক উচ্চকন্ঠ চিৎকার করেছে, বাচাল ও অর্বাচীনেরা অনেক বৃথা লিখেছে, কিন্তু পন্ডিতরা বরাবর নিশ্চুপ থেকেছেন। এই অর্থবোধক নিশ্চয়তা তাঁর বুকে শেলের মত বেজেছে। সেজন্যই তাঁর অত ঘটা করে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসা। যে লোকেরা সহজভাবে তাঁকে স্বীকার করে নেয়নি, তাঁদেরকে তাঁর মহিমা বুঝিয়ে দেয়ার জন্যই বিশ্ববিদ্যলয়ে আসছেন। নইলে যে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে শেখ মুজিব সকাল-সন্ধে ভাঙা কাপে চা খেয়েছেন, সেখানে আাসার জন্য সাড়ে সাত লক্ষ টাকা ব্যয় করার কি প্রয়োজন থাকতে পারে? বিশষত বাংলাদেশের মত দেশে যেখানে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠেও এক-তৃতীয়াংশ ছাত্রের পয়সার অভাবে সকাল বেলার টিফিন জোটে না।
যে গণতণ্রের ধারাস্রোতে বাহিত হয়ে তিনি এসেছিলেন,তাতে তাঁর পুনরায় অবগাহন করার কোন উপায় নেই। কেননা এই তিন বছরে শরীর অনেক ভারী হয়ে গিয়েছে এবং সাঁতারও প্রাঅয় ভুলে গিয়েছেন। যদি তাঁকে একজন মানুষ হিসেবেই বেঁচে থাকতে হবে – জনতাই তাঁর শাসনের বিষয়বস্তু। তিনি রাজা এঁরা প্রজা। এই সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য তিনি মনে মনে সাংঘাতিক রকম অধৈর্য হয়ে পড়েছিলেন। সংবিধান, জাতীয় পরিষদ,পরিষদের সদস্য, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের নীতি বলতেন,তিনি জনগনকে ভালবাসেন এটা তাঁর দীর্ঘদিনের অভ্যাস আর জনগন তাঁকে দেখতে ভিড় করতেন, তাঁর বক্তৃতা মনোযোগ দিয়ে শুনতেন, তাঁর কথায় হাত উঠাতেন এটা জনগনের দীর্ঘদিনের অভ্যাস। বাংলাদেশের মানুষ দীর্ঘদিন থেকে শেখ মুজিবুর রহমানের বক্তৃতা শুনে এবং কথায় কথায় হাত উঠিয়ে অভ্যস্ত। আসলে জনগন অনেকদিন থেকেই তাঁর ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছিলেন। কারণ বাংলাদেশের যে দুর্দশা বন্যা প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতি ধরে নিয়েও বলা যায় তার আশি ভাগই মানুষের সৃষ্টি এবং তাঁর জন্য মুখ্যত দায়ী তাঁর পরিচালিত তৎকালীন সরকার। গ্রামের সরল মানুষকে, অনাহারক্লিষ্টা বিধবাকে আমি নিজের কানে তাদের তাবৎ অভাব অভিযোগের জন্য দায়ী করে অভিস্পাতের বাণী উচ্চারণ করতে শুনেছি। তিনি যে ধীরে ধীরে স্বখাত সলিলে ডুবে যাচ্ছেন খুবই টের পাচ্ছিলেন। জনগনের রুদ্ররোষ কি বস্তু উপলব্ধি করতে সময় লাগেনি। এই জনগনই আগরতলা মামলা প্রত্যাহার করিয়ে শেখ মুজিবকে আইুয়ব খানের কারাগার থেকে মুক্তমানব হিসেবে প্রসন্ন দিবালোকে বের করে এনেছে। উনিশ শ’ একাত্তর সালের মার্চ মাসের দিনগুলোতে জনগনের সংগবদ্ধ শক্তির গভীরতা, তীব্রতা কতদূর হতে পারে, বাঁধভাঙা বন্যার স্রোতের মত রাস্ট্রীয় এবং সামাজিক জীবনে কি অঘটন ঘটিয়ে তুলতে পারে সে জ্গান তিনি হাতে কলমেই লাভ করেছেন। তাই তিনি ক্রমাগতভাবে জনগনের ক্ষোভ আক্রোশ প্রকাশ করার পন্থা রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানসমুহের মুখে বালির বাঁধ রচনা করে যাচ্ছিলেন। তাই তিনি তিনদল ভেঙে একদল করেছেন এবং প্রধানমন্ত্রী থেকে সরাসরি একনায়ক সেজে বসেছেন। ব্যবহারিক দিক দিয়েও তিনি রাজার মতই আচরন করে যাচ্ছিলেন। তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দের কেউ তাঁর সামনে টু-শব্দটি উচ্চারণ করতে সাহস পেতেন না। তাঁকে বুদ্ধি পরামর্শ দিতে পারে মত কেউ ছিলেন না। তিনি যদি কখনো মন্ত্রিসভার সদস্যদের ডাকার প্রয়োজন মনে করতেন, ডাকতেন। এ কারণে যে তাঁর নিজস্ব পরিবারটিকে কেন্দ্র করে একটি রাজপরিবারের ছবি ক্রমশ লক্ষ্যগোচর হয়ে উঠেছিল। তাঁর ছেলে, তাঁর ভাগ্নে, ভগ্নিপতি, ভাই সকলে সত্যি সত্যি দুধের সরের মত বাংলাদেশের শাসকশ্রণীর পুরোভাগে ভেসে উঠেছিলেন। বাকি ছিল রাজমুকুটটা মস্তকে ধারণ করা এবং রাজউত্তরীয়খানি অঙে চড়িয়ে দেয়া। এই জন্যই তাঁর বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। নেপোলিয়নের মত বিশ্ববিখ্যাত বীরযোদ্ধাও হাতে প্রভুত ক্ষমতা থাকা স্বত্তেও রাজমুকুটটি নিজে নিজে পরে বসেননি। রোম থেকে পোপকে আসতে হয়েছিল। এই সমস্ত শক্তিধর মানুষেরা শক্তি দিয়ে সব কাজ করো আনলেও শেষের কাজটি করাবার জন্য এমন কাউকে খোঁজ করে আনেন, যাঁর প্রতি মানবসাধারণের অন্তর্নিহিত দুর্বলতা রয়েছে এবং যা এৈতিহ্যসম্মত। নেপোলিয়নের যুগ গেছে, পোপের যুগ গেছে। কিন্তু মানুষের অন্তরের আগুন সে রকম আছে। উচ্চাকাঙ্খা উদ্ধত হয়ে এখনো আকাশ ফুঁড়ে ফেলতে চায়। তাই শেখ মুজিবুর রহমান আগামীকাল বিশ্ববিদ্যালয়ে আসছেন। একক হাতে বেবাক ক্ষমতা তুলে নেয়ার স্বপক্ষে সাসস্বত সমাজের রায় গ্রহণ করবেন। তাছাড়া আরেকটি গোপন অভিলাষ তাঁর মনের কোনে থাকাও বিচিত্র কি। উচ্চশক্ষাভিমানী পন্ডিতম্মন্য লোকেরা যাঁদের তিনি মনে মনে অপরিসীম তাচ্ছিল্য করেন, তাঁরা সকলে একযোগে এসে তাঁর বিরাটত্ব ও মহত্তের সামনে দন্ডবত হবেন। একজন শিক্ষকও যাতে অনুপস্থিত না-থাকতে পারেন এবং একজনও যাতে অর্থহীন নীরিহ একগুঁয়েমীকে আশ্রয় করে কাগুজে বীর হিসেবে পরিচিত না-হতে পারেন আগেভাগে সে ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্বাধীনতার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ সরকারসমর্থক ছাত্রদের যাবতীয় দুর্নীতির আখড়াতে পরিনত হয়েছিল। পাকিস্তানি শাসনামলে সামরিক সরকারের আরোপিত হাজারো বাধা-বিঘ্ন অগ্রাহ্য করে বাঙালি মনীষা পাথরের ভেতর দিয়ে পথ কেটে একটা সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যের পানে অগ্রসর হচ্ছিল। কি সংস্কৃতি চর্চায়, কি রাজনৈতিক চেতনার বিকাশে, কি মননশীলতার লাবণ্য সন্চারে পাকিস্তান আমলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যে ভুমিকা পালন করেছে তা বাঙালির জাতীয় ইতিহাসে চিরস্মরনীয় হয়ে থাকবে। বাংলাভাষা আন্দোলনের প্রথম শহীদ, বাংলার জাতীয় জাগরনের প্রথম আন্দোলন, উনিশ শ’ উনসত্তরের আইয়ুব বিরোধী বিক্ষোভ, একাত্তর সালের মুক্তিযুদ্ধ এ সকল জাতীয় জীবনে অপরিসীম প্রভাববিস্তারী ঘটনাগুলো ঘটিয়ে তোলার উদ্যোগপর্বে নেতৃত্বদান করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। উন্নয়নশীল দেশসমুহের রাজনীতিতে ছাত্ররা অনিবার্যভাবে কোন্‌ ভুমিকা পালন করে থাকেন শেখ মুজিব তা জানতেন। তিনি নিজেও এরকম ছাত্র আন্দোলনের ভেতর থেকে বেরিয়ে এসেছেন। তাই তাঁকে শুরু থেকেই ছাত্রদের কঠোর নিয়ন্ত্রনে রাখার বিষয়টি অত্যন্ত মনোযোগ সহকারে ভাবতে হয়েছে।
* মুজিবের আফ্রিকান মাগুরলীগ ৭২-৭৫ ষ্টাইল ( সংস্করণ)* ::::::::::::: উনিশশ’ বাহাত্তর সালের পর থেকে প্রকৃত প্রস্তাবে চার পাঁচজন ছা্ত্রই স্টেনগান হাতে বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ চালাত। উপাচার্যবৃন্দ এই অস্ত্রধারী ছা্ত্রদের কথাতে উঠতেন,বসতেন। স্বাধীনতার পূর্বে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো মুক্তির দুর্গ হিসেবে পরিচিত ছিল, কিন্তু স্বাধীনতার পর বিশ্ববিদ্যলয়ের বেবাক পরিবেশটাকেই কলুষিত করে তোলা হল। বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাধীন চিন্তা, কল্পনা, নিরপেক্ষ গবেষনার পথ একেবারে বন্ধ হয়ে গেল। সরকার সমর্থক ছা্ত্ররা প্রকাশ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ঘোরাফেরা করত। দরকারবোধে তারা এগুলো ব্যবহার করতে কোন রকম কুন্ঠা বা সংকোচবোধ করত না। বর্তমানে ঢাকা জেলার জেলা জজের কোর্টে একটি লোমহর্ষক হত্যামামলার বিচার চলছে। সরকার সমর্থক দু’দল ছা্ত্রের মধ্যে মতামতের গরমিল হওয়ায় অবাধে রাতের বেলা অগ্নেয়াস্ত্র ব্যাবহার করে সাতজন সতীর্থকে হত্যা করেছে। আজ থেকে প্রায় একবছর পূর্বে হাজী মুহম্মদ মহসীন ছাত্রাবাসের টিভি কক্ষের সামনেই এই শোকাবহ ঘটনা অনুষ্ঠিত হয়। সরকারসমর্থক ছাত্ররাই যখন মতামতের গড়মিলের জন্য স্বদলীয় ছাত্রের হাতে এভাবে বেঘোরে প্রাণ হারাতে পারে, সাধারণ ছাত্র এবং শিক্ষকদের অবস্থা কি হতে পারে সহজেই অনুমান করা যায়। সরকারসমর্থক ছাত্রের মত শিক্ষকদেরও একটি বিশেষ অসুবিধা হবার কথা নয়। এঁদের অনেকে পুর্ব থেকে ক্ষমতাসীন সরকারগুলোর সেবা করি আসছেন। সুতরাং এই নতুন শাসনামলেও তাঁরা বস্তু-সম্পদের দিক দিয়ে কিন্চিত লাভবান হওয়ার সাধনা করে যাচ্ছিলেন এবং নানাভাবে সরকারসমর্থক ছাত্ররা সক্রিয় সহায়তা দান করে যা্চ্ছিলেন। আর সরকার নিজস্ব প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে অপর কোন মতামত এবং প্রতিষ্ঠান যাতে মাথা তুলতে না-পারে সেজন্য সম্ভাব্য সকল উপায়ে চেষ্টা করে আসছিল। বিশ্ববিদ্যালয়কে সরকারি মতামতের লালনক্ষেত্র হিসেবে গড়ে তুলতে যেয়ে এমন একটা অসহনীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হল, যার সংগে অধিকাংশ শিক্ষক এবং ছাত্র মিলিয়ে নিতে পারলেন না। শেখ মুজিবুর রহমানের রাস্ট্রনৈতিক চিন্তা এবং রাস্ট্রশাসন পদ্ধতিকে মুজিববাদ আখ্যা দিয়ে, তার প্রচার, প্রসার এবং বাস্তবায়নের জন্য সরকারসমর্থক ছাত্ররা বিশ্ববিদ্যালয়সমুহে এমন একটা সুসংগঠিত অভিযান পরিচালনা করলেন, কোন স্বাধীনচেতা, ন্যায়বান ছাত্র কিংবা শিক্ষক তার সংগে অন্তরের সামান্য সংযোগও অনুভব করতে পারলেন না। এই না-পারার কারণেই সৎ এবং ন্যায়পরায়ন শিক্ষকরা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লেন। তাঁরা অপরিসীম মানসিক উৎকন্ঠা নিয়ে শন্কা, ত্রাস এবং ভীতির মধ্যে দিন কাটাতে বাধ্য হলেন। অতি শিগ্‌গির গোটা দেশের তাবত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই মুজিববাদী ছাত্রদের এবং তাঁদের পেছন বুদ্ধি-পরামর্শ যোগানো শিক্ষকদের প্রভাব ঘুর্ণিহাওয়ার মত অপ্রতিরোধ্য বেগে ছড়িয়ে পড়ল।
তাঁর বাহিনী অশ্বমেধ যগ্জ্জের মত যদিকেই গেছে সবকিছু ভেঙেচুরে তছনছ করে ফেলেছে। শেষমেষ ছিল আমাদের একটা বিশ্ববিদ্যালয়। আমরা ভাবতে শিখেছি, এই বিশ্ববিদ্যালয়ই স্বাধীনতা, শান্তি, কল্যাণ, প্রগতি, সাম্য এবং হরিৎবরণ আশা-আকাঙ্খার লালনক্ষেত্র। এইখানে এই বিশ্ববি্দ্যালয়ে এমন এক শন্কাহীন স্বাধীনতা নিবাস করেন, বিরাজ করেন এমন এক সুস্থশালীনতা আমাদের জ্ঞানদায়িনী মা বিশ্ববিদ্যায়ের অঙে অঙে এমন এক প্রসন্ন পবিত্রতার স্রোত প্রবাহিত হয়, কোন রাজন্য, কোন সমরনায়ক, কোন শক্তিদর্শী মানুষ কোনদিন তা স্থুল হস্তের অবলেপে কলন্কিত করতে পারেনি। আকাশের মত উদার, বাতাসের মত নির্ভর, অনির্বার ঝর্নার উৎসের মত স্বচ্ছ এবং সুনির্মল স্বত:স্ফুর্ত স্বাধীনতা এইখানে প্রতিদিন,প্রতিদিন বসন্তের নতুন মুকুলের আবেগে অন্কুরিত হয়।এই অন্কুঠিত স্বাধীনতার পরশমনির ছোঁয়ায় প্রতিটি আপদকালে এই জাতি বারেবারে নবীন হয়ে ওঠে। এর প্রতিষ্ঠাকালের পর থেকে আমাদের জন্মভুমির ওপর দিয়ে কতই না ঝড় বয়ে গেছে। কতবার ঘোড়ার খুরে, বন্দুকের আওয়াজে কেঁপে উঠেছে আকাশ, গর্বিত মিলিটারির বুটের সদম্ভ পদবিক্ষেপে চমকে উঠেছে রাত্রির হৃদয়। কত শাসক এল, কত মানুষ প্রাণ দিল। আমাদের এই ধৈর্যশীলা জ্ঞানদায়িনী মা সংহত মর্যাদার শক্তি, সাহস, বলবীর্য সবকিছু ফুরিয়ে যাবার পরেও শিখিয়েছে কি করে প্রতীক্ষা করতে হয়। নীরব ভাষায় মৌন আকাশের কানে কানে বারেবারে জানতে চেয়ে গেছে শক্তি, ক্ষমতা, দম্ভ এসবের পরিণতি কোথায়? ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের অতন্রপ্রহরীর দল, তারা কোথায়? কোথায় মি. জিন্না, কোথায় নাজিমুদ্দিন, কোথায় নুরুল আমিন? জেনারেল আইয়ুব খান, আবদুল মোনেম খান, ইয়াহিয়া খান এই সমস্ত শক্তিদর্পী মানুষেরা আজ কোথায়? তাঁরা যে আতন্ক, যে ঘৃণা, যে সন্ত্রাস সৃষ্টি করে এ দেশের জনপদবাসীর জীবনধারায় ঘুর্ণিঝড়ের সুচনা করেছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় কি আপন সন্তানদের তার আর্তি থেকে বেরিয়ে আসার প্রেরনা দেয়নি? ( 20-09-1975 আহমদ ছফা)
২১. ক. ১৯৭২ এর পর ধীরে ধীরে এইবার মুজিব নামলেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনার যে শক্তি দেশে ছিল তার বিনাশ সাধনে। তাহলে মুজিব কি ভিলেন নয়? সে কি মহাপ্রতারক নন? নয় মাস ব্যাপী মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণকারী তাজউদ্দিনকে প্রথমেই সরিয়ে দিলেন। মুক্তিযোদ্ধাদের বাদ দিয়ে পাকিস্তানের কাঠামোভুক্ত সেনা সদস্যদের দিয়ে গঠিত সেনাবাহিনীকে রাখলেন। অথচ নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধে বেসামরিক মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান কতো বেশী তা কি তিনি জানতেন না? এটা ছিল সর্বজন বিদিত।
1332779312007_15_86c8f7
তবু পাঠকের অবগতির জন্য বাংলাদেশের নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধের সময় লে: জেনারেল (অব:) জেএফআর জ্যাকব যিনি ছিলেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের চীফ অব স্টাফ তাঁর একটা বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিতে চাই। এটি শাহরিয়ার কবির কর্তৃক তাঁর সাক্ষাৎকার থেকে নেওয়া। সাক্ষাৎকারটি ‘বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও ভারত’ এই শিরোনামে ঢাকা থেকে প্রকাশিত দৈনিক জনকণ্ঠ-এ ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়। দৈনিক জনকণ্ঠের ৭ এপ্রিল, ১৯৯৬-এ প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে জ্যাকব বলছেন (শাহরিয়ার কবিরকে), ‘সম্ভবত আপনাদের ঐতিহাসিকরা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস থেকে এ সত্যটি নিশ্চয়ই বের করে নিয়ে এসেছেন যে, মুক্তিযুদ্ধে প্রধান ভূমিকা পালন করেছে অসামরিক মুক্তি বাহিনী,নিয়মিত সেনাবাহিনী নয়।’ এই অসামরিক মুক্তিযোদ্ধারা জীবনের সব রকম ঝুঁকি নিয়ে দলে দলে হাজারে হাজারে ঢুকেছিল দেশের গভীর অভ্যন্তরে পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করবার জন্য। অনেকের হাতে ছিল শুধু একটা হ্যান্ড গ্রেনেড। প্রবাসী লীগ সরকারের সেনাবাহিনী সদস্যদের মতো এরা বেতনভোগীও ছিল না। অথচ সেনাবাহিনী থেকে এদেরকেই বাদ দেওয়া হল। পাকিস্তানের নিকট রেখে যাওয়া ব্রিটিশ উননিবেশবাদীদের উপনিবেশিক আমলাতান্ত্রিক কাঠামোটাকে এভাবেই রক্ষা করা হল এবং এই কাঠামোতে এসে জায়গা করে নিল পাকিস্তান প্রত্যাগত সেনা সদস্যরা। এই বুঝি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা প্রতিষ্ঠা! হয়তো এ সকল কথা অনেক লীগপন্থীর খারাপ লাগবে। তবু একটু স্মরণ করুন তো মুজিবের কথাগুলো ‘যেদিকে তাকাই সেদিকেই দেখি চাটার দল’, ‘সবাই পায় সোনার খনি, আমি পেয়েছি চোরের খনি’। এই রকমই তো হবার কথা! কারণ আওয়ামী লীগকে তো তাঁর গুরু সোহরাওয়ার্দী এবং তিনি সেইভাবেই গড়ে তুলেছিলেন ১৯৫৬-’৫৭ থেকে। মাকাল গাছে আম হবে কি করে? শেখ মমুজিব তো মাকাল, অথচ দেশের সবাই কি চোর আর চাটার দল ছিল?ভাসানী? যাঁর গড়া আওয়ামী লীগ থেকে গুরু-শিষ্যে মিলে ১৯৫৭-তে তাড়িয়েছিলেন তাঁকে। বামপন্থীরা? তারাও কি চাটার দল,আর চোর ছিল?
২১. খ. ১৯৭২-৭৫ এ হিন্দুরা ব্যাপক নির্যাতিত হয়েছিল, এই হিন্দুর মত ষাটের দশকের তরুণ প্রজন্মের অবস্থাটা। ওদের কেউ নেই। কমিউনিস্ট নেতারা তাদের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করে, কোণঠাসা করে, তাদেরকে ভুল পথে যেতে বাধ্য করে। যে যুদ্ধটা তরুণ প্রজন্ম গড়ে তুলল তাতে অংশ নিতে তারা দেয় না। একই কাজ আর এক দিক থেকে করে আওয়ামী লীগ, ভারত সরকার। তাদের ভূমিকার স্বীকৃতি দেবার কেউ নেই। বরং সবাই তাদের শত্রু। হিন্দু তবু হয়তো পশ্চিম বাংলায় গিয়ে একটা জায়গা খুঁজে নেবার চেষ্টা করতে পারে। এরা যাবে কোথায়? এরা তো নকশাল! নকশাল হলেও নকশাল, না হলেও নকশাল। ১৯৭২-এ নকশাল দেখলেই গুলি করার হুকুম দিলেন মুজিব। এর মানেটা কি দাঁড়ায়?মনে আছে? ভাসানী বললেন, ‘নকশাল কি কারো গায়ে লেখা থাকে?’ যদি সেদিন ভাসানী ঐ হুংকার না দিতেন তবে মুজিবের হাতে আরো কত মানুষ সেদিন নিহত হত? তাহলে মুজিব কি বাংলাদেশের প্রথম শ্রেষ্ঠ পেশাদার খুনি?
 Abdul_Gaffar_Choudhury
২১. গ. আবদুল গাফফার চৌধুরী ফ্যাসিবাদের সবক দিয়েছেন । ওটা নাকি শুধু ইউরোপের! তা জার্মানী-ইটালীর ফ্যাসিবাদ মুজিব পাবেন কোথা থেকে?হিটলার-মুসোলিনির ঐ সাহস, তেজ,শক্তি তাঁর কোথায়? তাঁর যেমন সাহস,শক্তি, চরিত্র তেমনই তো তাঁর ফ্যাসিবাদ হবে! ঠিক আছে গাফফার চৌধুরীর একে ফ্যাসিবাদ বলতে যখন এতই আপত্তি তো এর একটা নাম দেওয়া যাক লুম্পেন ফ্যাসিবাদ। হাঁ, হিটলার-মুসোলিনির শেখানো ফ্যাসিবাদের অক্ষম, পঙ্গু, বিকৃত কিন্তু ধ্বংসাত্মক অনুকরণ এক লুম্পেন ও লুটেরা শ্রেণী কর্তৃক। আর এ লুম্পেন ফ্যাসিবাদেরই নাম দেওয়া হল এ দেশে মুজিববাদ। আবদুল গাফফার চৌধুরীর লেখা সব কথার উত্তর দেওয়ার প্রয়োজন বোধ আমার নেই। তবে মনে হয় আমার লেখার ভিতর দিয়ে তাঁর যুক্তি ও বক্তব্যগুলোর জবাব বেরিয়ে এসেছে। কিন্তু বাকশাল সম্পর্কে তিনি যে বক্তব্য দিয়েছেন তার একটা জবাব দিয়ে আমি তাঁর প্রসঙ্গ শেষ করব। তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও যখন লক্ষ্য করলেন,পশ্চিমা গণতন্ত্রের ছিদ্রপথে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও জনসাধারণের অধিকারের উপর ক্রমাগত হুমকি সৃষ্টি হচ্ছে তখন তিনি বাকশাল গঠনের মাধ্যমে শোষিতের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি ফ্যাসিবাদী হলে, বিশ্ব ধনবাদ ও সাম্রাজ্যবাদের স্বার্থের বরকন্দাজ হলে তাঁকে এমন নির্মমভাবে প্রাণ দিতে হত না। শেখ মুজিবের বাকশাল প্রতিষ্ঠা হয়তো সময়োপযোগী ছিল না; কিংবা তার প্রতিষ্ঠা-পদ্ধতিও ত্রুটিমুক্ত ছিল না (তার জন্য প্রাণ দিয়ে তাঁকে চড়া দাম দিতে হয়েছে), কিন্তু তাঁর বাকশাল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে প্রশ্ন তোলা ও বিতর্ক সৃষ্টি করা কোনো যুক্তিনিষ্ঠ রাজনীতিকের পক্ষে সম্ভব নয়। দীর্ঘকাল বামপন্থী রাজনীতি করার পরেও মেননের মধ্যে এই যুক্তিনিষ্ঠা ও বাস্তববাদিতার অভাব দেখে আমি বিস্মিত হয়েছি।’ (আবদুল গাফফার চৌধুরীর কলাম, কাছে দূরে, ‘গণতান্ত্রিক শিষ্টাচার, ফ্যাসিবাদ এবং সুবিধাবাদী বিশ্লেষণ’, ভোরের কাগজ,ঢাকা, ২২ আগস্ট ১৯৯৬)।
২১. ঘ. মঈদুল হক তার বইয়ে লিখেছেন : ** মুজিববাদী আর রক্ষী বাহিনীর সেইসব নির্যাতনের অনেক ঘটনা আমি জানি। ভয়ানক ক্ষোভ জেগে ওঠে যখন মনে হয় সেই সব নারীর কথা যাদের স্বামী, ভাই বা আর কেউ বামপন্থী হবার কারণে তাদেরকে মুজিবাদী অথবা রক্ষী বাহিনীর সদস্যরা ধরে নিয়ে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করত, কাউকে দিনের পর দিন মুজিবাদী কিংবা রক্ষী বাহিনীর ক্যাম্পে আটকে রেখে ঐ নিগ্রহের শিকার করত। আমার প্রশ্ন যদি কোনো পুরুষ ভুল রাজনীতি করে, এমন কি অপরাধ কিংবা গুরুতর অপরাধও করে তবে সেই অপরাধের সঙ্গে যাদের কোনো সম্পর্ক নেই এমন কি কিছুই যাদের জানাও নেই সেই নিরপরাধ, অসহায় নারীরা কেন এমন নিগ্রহের শিকার হবে? ইয়াহিয়াবাদেরই কি আরেক রূপ মুজিববাদ? এইসব অপরাধ,অন্যায়ের জন্য মুজিব কি কোনোদিন অনুতাপও প্রকাশ করেছিলেন? তিনি বন্দী করে নিয়ে এসে সিরাজ শিকদারকে হত্যা করলেন। সিরাজ শিকদারের রাজনীতির পদ্ধতিতে ভুল ছিল। কিন্তু এ দেশে তাঁর কি কোনোই অবদান ছিল না? ভুল মানুষেরই হয়। সেই ভুল সংশোধনের সুযোগ কি তাকে দিয়েছিলেন? তাকে তিনি কোনো দিন ডেকেছিলেন? তিনি যেমন কাউকে চান নি তেমন সিরাজকেও চান নি। যে তরুণ ষাটের দশকে গোপনে হলেও প্রথম উচ্চারণ করল স্বাধীনতার বাণী তাকে এভাবে হত্যা করার কোন্ অধিকার মুজিবের ছিল? ***
২১. ঙ. ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলার আবালবৃদ্ধবনিতা, কৃষক, শ্রমিক, সিপাহি জনতা, মুক্তিযোদ্ধা সবাই মিলে জানবাজি রেখে যুদ্ধ করলো, ৩০ লক্ষ শহীদ হলো, অসং্খ্য মা বোন ধর্ষিতা হল, কিন্তু মুজিব পরিবারের কেউ মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছে কি? শেখ হাসিনা? শেখ কামাল? শেখ মনি? শেখ সেলিম? কেন তারা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেননি? এ জাতিকে সেই প্রশ্নের উওর তাদের দিতেই হবে। বরং শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা সহ মুজিব পরিবার পাকিস্তানের সামরিক জান্তার অধীনে বশ্যতা স্বীকার করে রাও ফরমান আলী মারফত প্রতি মাসে ১৮০০ রুপি সরকারী ভাতা পেত পাকিস্তান সরকার থেকে। এটা কি ভন্ডামি নয়? এও কি সভ্য দুনিয়াতে কোনদিন সম্ভব? ম্যান্ডেলা, ক্যাষ্ট্রো, মুসেলীনী, খোমিনী মাও সে তুং, চে গুয়েভারা যখন আন্দোলন করেছিলেন তখন শত্রু পক্ষ কি তাদের পরিবারকে নিরাপদ আশ্রয় আর মাসিক সরকারী ভাতা কি দিয়েছিল??? না, না, না, বরং শত্রুপক্ষ তাদের পরিবারকে দেখামাত্র গুলি করেছে। তাহলে এ থেকে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় শেখ মুজিব ও তার পরিবার বেঈমান, ভন্ড, মুনাফিকী চরিত্র সম্পন্ন…..!!!! এই অসভ্যতার, বেঈমানিরর শেষ কোথায়? আর মুক্তিযুদ্ধে হাসিনা অংশ না নিয়ে এখন মুখে তিনি আর তার চামচারা দিনরাত মমুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলে ব্যবসা করে, সবাইকে ধোঁকা দিয়ে ২৪ ঘন্টা চিল্লাচিল্লি করে জাতিকে মূক আর বধির বানানোর মিশনে নেমেছে।
৭ই নভেম্বর ১৯৭৫ এর প্রয়োজনীয়তা প্রেক্ষাপট ও আমাদের অনুপ্রেরনাঃ
Khaleda

“জাতীয় জীবনে ৭ নভেম্বর এক ঐতিহাসিক দিন। ১৯৭৫ সালের এ দিনে জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ত্ব রক্ষায় সৈনিক-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে নেমে এসেছিলেন সকল ষড়যন্ত্র রুখে দিতে। ৭ নভেম্বরের চেতনা আমাদের জাতীয় জীবনে প্রেরণার উৎস।

স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশের রাজনীতি ক্রমেই কর্ত্ত্বত্ববাদী হয়ে ওঠার এক পর্যায়ে একদলীয় বাকশালী একনায়কতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা রূপ পেয়েছিল। এমনি এক প্রেক্ষাপটে মতাদর্শগত কোন্দল যখন চরমে উঠেছিল তখন আওয়ামী লীগেরই একটি বৃহৎ অংশ ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট একটি অভ্যুত্থান সংগঠিত করে ক্ষমতা দখল করে। এরই ধারাবাহিকতায় ঐ বছরের ৩ নভেম্বর সেনাবাহিনীর একটি অংশ আধিপত্যবাদের ভাবনায় প্ররোচিত হয়ে তৎকালীন সেনাবাহিনীর প্রধান মহান স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানকে স্বপরিবারে ক্যান্টনমেন্টে বন্দী করে।

দেশবাসী ও সশস্ত্রবাহিনীর দেশপ্রেমিক সদস্যগণ উপলব্ধি করতে পারেন-জাতীয় স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ত্বকে ভূলুন্ঠিত করার জন্যই এই চক্রান্ত করা হয়েছে।

ষড়যন্ত্রকারীদের চক্রান্তকে রুখে দেয়ার জন্য অকুতোভয় সৈনিক-জনতা এক ইস্পাত কঠিন ঐক্যে শপথবদ্ধ হন ৭ নভেম্বর এক ঐতিহাসিক বিপ্লব সংগঠনের জন্য। তারা বন্দীদশা থেকে মুক্ত করেন তাদের প্রিয় সেনাপতিকে।

এই ঐতিহাসিক পট পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে দেশ নতুন করে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নেয়। বহুদলীয় গণতন্ত্র পূণ:প্রতিষ্ঠিত হয়।

দেশ যখন অপশাসনে নিপতিত হয় তখন গণতন্ত্র, স্বাধীনতা যুদ্ধের মূল্যবোধ-অঙ্গীকার হুমকির সম্মুক্ষীণ হয়। বাংলাদেশে এখন একটি বিনাভোটের সরকার ক্ষমতায় প্রতিষ্ঠিত। তারা দমন-নিপীড়ণের মধ্য দিয়ে জনগণের কন্ঠ রোধ করে দেশের স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়ে শুধুই ক্ষমতায় থাকতে এখন বিভোর হয়ে উঠেছে।
এই দু:শাসনের অবসান হওয়া জরুরী। জনগণ যদি অবাধে ভোট দেয়ার অধিকারটুকু ফিরে পায় তাহলেই তারা স্বৈরাচারী শাসনের বিপক্ষে তাদের আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটাতে পারবেন।

আমি মনে করি, ৭ নভেম্বরের চেতনায় সকল জাতীয়তাবাদী দেশপ্রেমিক শক্তির ঐক্যবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন।

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে দেশবাসীকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
আল্লাহ হাফেজ, বাংলাদেশ জিন্দাবাদ।”

-বেগম খালেদা জিয়া
চেয়ারপার্সন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপি
৬ নভেম্বর ২০১৫, লন্ডন।

বাংলাদেশের দুর্দিনে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও তার করম্পন্থাঃ

1499523_627383843989722_1400463053_n

১.  শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষক। এটাই কাল থেকে মহাকালে ইতিহাসের পথ পরিক্রমায় সত্য। তার আহবানেই সাড়া দিয়ে এদেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধ শুরু করেছিল।
1925048_1431609173748075_2112159320_n1150395_1431610120414647_455814729_n
২. তিনিই সফলতম সেক্টর কমান্ডার,মুক্তিযুদ্ধকালের মহাবিরত্বগাথার জন্য বীর উত্তম খেতাবপ্রাপ্ত, যিনি একাই সারা দেশের স্বাধীনতার মূর্ত প্রতিক হয়ে আছেন আমাদের ইতিহাসের পাতায়, শুধু তাই নয় তিনি ছিলেন অত্যন্ত কালজয়ী মেধাবী ক্যাডেট, আর বন্ধুবৎসল, সৎ, সৃজনশীল ব্যক্তি যার নেতৃত্বগুণ ছিল প্রশংসিত আর সমালোচনারর উর্ধে।
1604854_1431619683747024_228725273_n1601000_318883171592750_52724543_n
৩. শহীদ প্রেসিডেণ্ট জিয়াউর রহমান এত নির্লোভ ব্যক্তি ছিলেন যা বাংলাদেশে তো বটেই সারা বিশ্বে আজো বিরল। ১৯৭৫ সালে ঐতিহাসিক সিপাহি জনতার বিপ্লবের সময় তার কাছে প্রেসিডেণ্ট হবার, মোশতাক সরকার, এমনকি বিপথগামী কর্নেল তাহের ও প্রস্তাব করে প্রেসিডেন্ট হবার, কিন্তু মহানায়ক জিয়া সবিনয়ে সে প্রস্তাব প্রত্যাখান করেন। ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বর সিপাহি জনতা বিপ্লবের পর তিনি রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন। ১৯শে নভেম্বর ১৯৭৬ সালে তাঁকে পুনরায় সেনাবাহিনীর চীফ অফ আর্মী স্টাফ পদে দায়িত্বে প্রত্যাবর্তন করা হয় এবং উপ-প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের দায়িত্ব দেয়া হয়।
11892211_1677115099176741_4285966428123647992_n
১৯৭৫ সালের ১৫ই আগষ্ট বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবর রহমানের হত্যাকান্ডের পর, খন্দকার মোশতাক আহমেদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তারপরে ঐ বছরের ২৫শে আগষ্ট জিয়াউর রহমান চীফ অফ আর্মী স্টাফ নিযুক্ত হন। ঐ বছরের ৩রা নভেম্বর বীর বিক্রম কর্নেল শাফায়াত জামিলের নেতৃত্বাধীন ঢাকা ৪৬ পদাতিক ব্রিগেডের সহায়তায় বীর উত্তম মেজর জেনারেল খালেদ মোশাররফ এক ব্যার্থ সামরিক অভ্যুত্থান ঘটান। এর ফলে ৬ই নভেম্বর খন্দকার মোশতাক আহমেদ পদত্যাগ করতে বাধ্য হন এবং আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতি হন। এর পর জিয়াউর রহমানকে চীফ-অফ-আর্মি স্টাফ হিসেবে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয় এবং তাঁর ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের বাসভবনে গৃহবন্দী করে রাখা হয় যা সেনাবাহিনীর মধ্যে তাঁর জনপ্রিয়তার কারনে অত্যন্ত বিরূপ প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়।
11949378_1490329234613324_2105408657567400095_n
সেনাবাহিনীর চেইন অব কমান্ড ভঙ্গের প্রতিক্রিয়ায় ক্ষুদ্ধ সেনাসদস্যরা বীর উত্তম কর্নেল (অবঃ) আবু তাহেরের নেতৃত্বে ৭ই নভেম্বর সিপাহী জনতার আরেক পাল্টা অভ্যুত্থান ঘটায় এবং ২য় ফিল্ড আর্টিলারির সেনাসদস্যরা লেঃ কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদের (আর্টিলারি) নেতৃত্বে, জিয়াউর রহমানকে তাঁর ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের গৃহবন্দীত্ব থেকে মুক্ত করে ২য় ফিল্ড আর্টিলারির সদরদপ্তরে নিয়ে আসে । ঐ দিন সকালেই পাল্টা অভ্যুত্থানের প্রতিক্রিয়ায় কর্নেল (অবঃ) আবু তাহেরের অধীনস্থ সৈন্যরা ক্যাপ্টেন জলিল ও ক্যাপ্টেন আসাদের নেতৃত্বে শেরে বাংলা নগরে ১০ম ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সদরদপ্তরে বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর জেনারেল খালেদ মোশাররফ বীর উত্তম,কর্নেল খন্দকার নাজমুল হুদা বীর বিক্রম এবং লেঃ কর্নেল এ টি এম হায়দার বীর উত্তম কে হত্যা করে ।

এরপর জেনারেল জিয়া ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসেন। তিনি সেনাবাহিনীতে নিয়ম বহির্ভূতভাবে গণবাহিনী সৃষ্টি,সেনা কর্মকর্তাবৃন্দকে হত্যা সহ বিভিন্ন কারনে কর্নেল (অবঃ) আবু তাহেরের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহীতার অভিযোগ আনেন। এতে ১৯৭৬ সালের ২১শে জুলাই সামরিক ট্রাইব্যুনালে কর্নেল তাহেরের ফাঁসি হয়। অনেকে ধারনা করেন, ৭ই নভেম্বর কর্নেল তাহেরের জনপ্রিয়তা দেখে জিয়াউর রহমান শঙ্কিত ছিলেন। তাই ক্ষমতা নিষ্কণ্টক রাখার জন্যই তাহেরের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহীতার অভিযোগ আনেন।

২০১৩ সালের ২০ই মে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, ১৯৭৬ সালে দেশদ্রোহীতার অভিযোগে করা তাহেরের বিচার এবং মৃত্যুদন্ডকে ‘অবৈধ এবং অসাংবিধানিক ঘোষনা করে এবং এটিকে হত্যাকান্ড হিসেবে অভিহিত করে।

 

1184913_1431616393747353_1869843794_n
 
৪. শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯৭৬ সালের ৮ই মার্চ সর্বপ্রথম মহিলা পুলিশ গঠন করেন, ১৯৭৬ সালে কলম্বোতে জোটনিরপেক্ষ আন্দোলন সম্মেলনে যোগদান করেন এবং বাংলাদেশ ৭ জাতি গ্রুপের চেয়ারম্যান পদে পদোন্নতি লাভ করেন। ( সার্কের স্বপ্নদ্রষ্টা ছিলেন এই মহানায়ক)
 1506562_657112861031752_5561975385863823680_n 1239272_683121735085965_1909802094_o
 
৫. শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্বাধীণ বাংলাদেশের সর্বপ্রথম গনতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত বৈধ প্রেসিডেণ্ট। এটাই মাইলফলক।
 
 10325221_233487733516352_3178095459566350919_n 1013842_1481436238738257_1529690197_n
৬. ক. ১৯৭৬ সালে মহানায়ক জিয়া সর্বপ্রথম গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী গঠন করেন। খ. ১৯৭৭ সালের ২০শে ফেব্রুয়ারি সর্বপ্রথম একুশের পদক প্রবর্তন করেন এবং রাষ্ট্রপতি আবু সাদাত সায়েম এঁর উত্তরসূরি হিসেবে ২১শে এপ্রিল বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসাবে শপথ গ্রহণ করেন। রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন জিয়া দেশে আবার গণতন্ত্রায়ণের উদ্যোগ নেন। তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র চালুর সিদ্ধান্ত নেন। মহানায়ক জিয়াই বাংলাদেশের গনতন্ত্রের প্রবাদপুরুষ। তিনিই বাংলাদেশের গনতান্ত্রিক ব্যবস্থার জনক। দেশের রাজনীতিতে প্রতিযোগিতা তৈরীতে গনতান্ত্রিক ব্যবস্থা তিনিই সর্বপ্রথম সকল দলের জন্য রাজনীতি করতে অনুমতি দান করেন। গ. ১৯৭৬ সালেই ইতিহাসের অমর মহানায়ক জিয়া উলশি যদুনাথপুর থেকে স্বেচ্ছাশ্রমে বাংলাদেশে সর্বপ্রথম খাল খনন উদ্বোধন করেন যা একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।
 
 1909135_1431616810413978_987632597_o 10375997_696785090383099_7788807226084339280_a
ঘ. মহানায়ক জিয়াই বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের জনক এবং তিনিই সেই বিখ্যাত ব্যক্তি যিনি ঐতিহাসিক বাস্তবধর্মী, কল্যানমূখী, বৈজ্ঞানিক ১৯ দফা প্রণয়ন করেছিলেন। ঙ. স্বাধীন বাংলাদেশে তিনিই ভোটের রাজনীতি শুরু করেছিলেন। তাই তিনিই স্বাধীন বাংলাদেশের ভোটাধিকার এর মূর্ত প্রতীক। তাছাড়া তিনি সকল সংবাদপত্র অফিস খুলে দিয়েছিলেন যা ইতিপূর্বে বাকশালের হায়েনা আর ফেরাউনের দোসররা বন্ধ রেখেছিল সেই ১৯৭৫ সাল থেকে।
 
 ertee rtyrh
 
৭. ক. মহানায়ক জিয়া প্রবর্তিত উন্নয়নের রাজনীতির কতিপয় সাফল্য: -*-* সকল দলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান। ** জাতীয় সংসদের ক্ষমতা বৃদ্ধি।বিচার বিভাগ ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেয়া। ** দেশে কৃষি বিপ্লব, গণশিক্ষা বিপ্লব ও শিল্প উৎপাদনে বিপ্লব। ** সেচ ব্যবস্থা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে স্বেচ্ছাশ্রম ও সরকারী সহায়তার সমন্বয় ঘটিয়ে প্রথম বছরেই ১৪০০ খাল খনন ও পুনর্খনন আর তার সম্পুর্ণ শাসনামলে ৪০০০ এর অধিক খাল,ডোবা, নালা খনন। *** গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রবর্তন করে অতি অল্প সময়ে ৪০ লক্ষ মানুষকে অক্ষরজ্ঞান দান। *** গ্রামাঞ্চলে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়তা প্রদান ও গ্রামোন্নয়ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণের জন্য গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী (ভিডিপি) গঠন।গ্রামাঞ্চলে চুরি, ডাকাতি, রাহাজানি বন্ধ করা। ***- হাজার হাজার মাইল রাস্তা-ঘাট নির্মাণ। *** ২৭৫০০ পল্লী চিকিৎসক নিয়োগ করে গ্রামীণ জনগণের চিকিৎসার সুযোগ বৃদ্ধিকরণ। *** নতুন নতুন শিল্প কলকারখানা স্থাপনের ভেতর দিয়ে অর্থনৈতিক বন্ধ্যাত্ব দূরীকরণ। -*** কলকারখানায় তিন শিফট চালু করে শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধি। *** কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও দেশকে খাদ্য রপ্তানীর পর্যায়ে উন্নীতকরণ। -**** যুব উন্নয়ন মন্ত্রাণালয় ও মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয় সৃষ্টির মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে যুব ও নারী সমাজকে সম্পৃক্তকরণ। *** ধর্ম মন্ত্রণালয় প্রতিষ্টা করে সকল মানুষের স্ব স্ব ধর্ম পালনের সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধিকরণ। *** বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সৃষ্টি করে প্রযুক্তির ক্ষেত্রে অগ্রগতি সাধন। *** তৃণমূল পর্যায়ে গ্রামের জনগণকে স্থানীয় প্রশাসন ব্যবস্থা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করণ এবং সর্বনিম্ন পর্যায় থেকে দেশ গড়ার কাজে নেতৃত্ব সৃষ্টি করার লক্ষ্যে গ্রাম সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন। *** জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের আসনলাভ। *** তিন সদস্যবিশিষ্ট আল-কুদস কমিটিতে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি। *** দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে ‘সার্ক’ প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগ গ্রহণ। *** বেসরকারিখাত ও উদ্যোগকে উৎসাহিতকরণ। *** জনশক্তি রপ্তানি, তৈরি পোশাক, হিমায়িত খাদ্য, হস্তশিল্পসহ সকল অপ্রচলিত পণ্যোর রপ্তানীর দ্বার উন্মোচন। *** শিল্পখাতে বেসরকারি বিনিয়োগের পরিমাণ বৃদ্ধি ও বিনিয়োগ ক্ষেত্রের সম্প্রসারণ। ** বাংলাদেশে গার্মেন্টস শিল্প প্রবর্তন করেন মহানায়ক জিয়া।
 
10360623_746883318695677_1454819713874688731_n 10369187_746883728695636_5574781443374642864_n
 
৭. খ. শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কখনোই তোষামোদ, তৈলমর্দন, আর সুপারিশ, অন্যায় আবদার, প্রশাসনে দূর্নীতি সহ্য করতেন না, চেইন অব কমান্ড নিজে পুরোপুরি মেনে চলতেন আর অপরকেও চলতে বলতেন। তিনি ছিলেন আপাদমস্তক সৎ রাজনীতিবিদ, সফল সমরনায়ক, আর বিচক্ষণ দেশনায়ক। তিনি নিজ দল বিএনপির কেউ অন্যায় করলে সাথে সাথে জেলে পাঠাতেন ( উদাহরন মওদুদ আহমেদ), এমনকি প্রেসিডেন্ট জিয়া আপন ভাইকেও দূর্নীতির দায়ে একবার বরখাস্ত ও জেলে ভরেছেন ( উদাহরন : আহমেদ কামাল) । পাঠকগণ, লক্ষ করুন এমন সৎ রাষ্ট্রপতি আর এমন বিরল, সত্যাশ্রয়ী মহান রাজনীতিবিদ এই বাংলাদেশ আর একজন ও আছেন ?
 
 
 
৭. গ. মহানায়ক জিয়া কোন দূর্নীতি করেন নি আর কোন অনিয়মককে প্রশ্রয়ও দেননি। উদাহরন :;:: “” একদিন সকালে কর্নেল তাহের, খালেদ মোশারফ, আরো কয়েকজন আর্মি অফিসার মহানায়ক জিয়ার অফিসে এসে ছোট্ট একটা আবদার করলেন যে, তারা বাৎসরিক বনভোজন করতে যাবে, সাথে তাদের বহু আত্নীয় স্বজনও যাবে তাই যে বাস বরাদ্দ আছে তাতে হবেনা, তাদের আরো ৩টি বাস বেশি দরকার , তাই সেটা জিয়া সাহেবের অনুমতি লাগবে, সেজন্য তারা তার অফিসে আসলেন, কিন্তু সব আবদার শুনে মহানায়ক জিয়া বলে দিলেন, “” আইনে যা আছে তার বাহিরে একচুঁলও আমি নড়বো না, সেটা সুঁচ থেকে শুরু করে হিমালয় পর্বত পর্যন্ত হলেও….. “”” ( প্রয়াত মেজর সফিউদ্দিন আহমেদ এর ডায়েরী অবলম্বনে) বন্ধুরা, এই ঘটনা থেকে কি বুঝলাম? এরকম মহানায়ক আমাদের দরকার যুগে যুগে। বাকশালের শয়তানদদের উদ্দেশ্য করে বলতে চাই :::::::: *** যদি সৎ সাহস থাকে তাহলে শেখ মুজিব নিয়ে আমার ২১ টি প্রশ্নের যুক্তিসংগত উত্তর দিন, তারপর না হয় আমি আওয়ামীলীগকে একটা সালাম দিব, আর যদি আমার প্রশ্নের উওর দিতে না পারেন তাহলে হাতে চুড়ী পরেন আর নাকে খঁত দিন, এরপর আওয়ামীলীগ এর রাজনিতি বাদ দিন, বিএনপিতে যোগ দিন, অবশ্যি শর্ত আছে, আপনাদের নিয়ে সন্দেহও আছে, যদি বিএনপি নেতারা রাজি হন আপনাদের মত কুলাংগারদের দলে নিতে কারন আপনাদের রেকর্ড আর আমলনামা তো ইবলিশ শয়তানের চেয়েও খারাপ …..!!!! আর যদি বিএনপি আপনাদের না নেন তাহলে হায় হায় পার্টিতে যোগদিন…… *** যাই হোক আসুন সবাই অতীত বাদ দিয়ে একটু ভবিষ্যতের কথা ভাবি….. তাই আসুন বিভেদ ভুলে, বিভ্রান্তি না ছড়িয়ে দল-মত নির্বিশেষে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলি, ইতিহাসের পাতায় যার যে অবদান তাকে খাঁটো করে না দেখে ইতিহাসে যার যা প্রাপ্য, যতটুকু পাওনা তা তাকে বুঝিয়ে দেই, আসুন সত্য ঘটনা নিজে জানি আর অপরকে জানাই। ইতিহাস নিয়ে কাঁদাছোড়াছুড়ি বন্ধ করি। আসুন সৎ রাজনীতির চর্চা করি, নিজে ভাল হই, আর সত্যকে সত্য বলে মেনে নেই।
DSC07817 DSC07819 DSC07857DSC07851 DSC07828
 
জিয়াউর রহমান অসম্ভব জনপ্রিয় ছিলেন। অনেক উচ্চ পদস্থ সামরিক কর্মকর্তা জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন। বিপদের সমূহ সম্ভবনা জেনেও দেশের স্বার্থে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামের স্থানীয় সেনাকর্মকর্তাদের মধ্যে ঘঠিত কলহ থামানোর জন্য ১৯৮১ সালের ২৯শে মে চট্টগ্রামে আসেন এবং সেখানে চট্টগ্রামের সার্কিট হাউসে থাকেন। তারপর ৩০শে মে গভীর রাতে সার্কিট হাউসে তথকালীন সেনাপ্রধান লেঃ জেঃ হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদের ইশারায় ও মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুরের নেতৃত্বে এক ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানে জিয়া শহীদ হন। জিয়াউর রহমানকে ঢাকার শেরে বাংলা নগরে দাফন করা হয়। প্রেসিডেন্ট জিয়ার জানাজায় বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ জনসমাগম ঘটে যেখানে প্রায় ২০ লক্ষ্যাধিক মানুষ সমবেত হয় ।
DSC07849DSC07797
 
জাতিকে মারামারির, হানাহানি, বিভেদ, গ্রুপিং, লবিং, দালালী, হিংসা, অহংকার আর বিদ্বেষানলে না পূড়িয়ে আসুন একতাবদ্ধ হই। তাহলেই আমরা জাতীয়তাবাদী শক্তির বিজয় তথা সমগ্র বাংলাদেশের বিজয় সূচনা করতে পারবো। ইনশাআল্লাহ্‌…. সেই শুভকামনাই করি দিবানিশি সবসময়…..!!! ” সমৃদ্ধ, সুস্থ, ন্যায়ভিত্তিক, উন্নত, প্রজ্ঞাবান, সুষ্ঠু, সাবলীল, বৈজ্ঞানিক উৎকর্ষের বাংলাদেশ গঠন এ আমার কিংবা আমাদের চিরদিনের লালিত স্বপ্ন, আসুন সেই সোনালী স্বপ্ন পূরনে একসাথে একতাবদ্ধভাবে সবাই মিলে কাজ করি…..!!!
 DSC07814

লেখকঃ ডঃ সাইফুল ইসলাম, ক্যালিফোর্নিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ।

ছবি সংগ্রহঃ ক্যাপ্টেন নিমো ও জিয়া সাইবার ফোর্স ওয়েব।

সম্পূর্ণ নিউজ কভারেজ ও সজ্জাঃ ফাইজাল এস খান।