‘ঐক্যবদ্ধ প্লাটফর্ম’ হলে জঙ্গিবাদের পতন হতে বাধ্য:ব্যারিস্টার মওদুদ

0

জিসাফো ডেস্কঃ সনাতন ধর্মালম্বীদের রথযাত্রার এক অনুষ্ঠানে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, ‘আজকে আমাদের এখানে জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদ উত্থানের ফলে যে অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে, সেটা বাংলাদেশের জন্য একটি ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি বলে আমরা মনে করি। জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদ রুখতে সরকারের কাছে আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ‘জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি’র উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন।’

রোববার (১০ জুলাই) সন্ধ্যায় রাজধানীর স্বামীবাগ আশ্রমে আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ-ইসকনে শ্রী শ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা-২০১৬ মহোৎসব উপলক্ষে এক ধর্মসভায় এসব কথা বলেন মওদুদ।

বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘যে ঐক্যের কথা আপনারা (সরকার) বলছেন, আমরাও একই ঐক্যের কথা বলছি। আসুন, আজকে আমরা সকলে মিলে বেগম খালেদা জিয়া জাতীয় ঐক্যের যে আহ্বান জানিয়েছেন, দল-মত নির্বিশেষে সকল রাজনৈতিক দল, গোষ্ঠী, শ্রেণি প্রতিনিধি, সুধী সমাজের যেসব সংগঠন আছে সবাইকে নিয়ে একটি ‘ঐক্যবদ্ধ প্লাটফর্ম’ তৈরি করি। যাতে এই উগ্রবাদ ও জঙ্গিবাদকে প্রতিহত করা যায়।’

দেশে একটি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিনিধিত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠার যৌক্তিকতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘যদি দেশে জনপ্রতিনিধিত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক সরকার থাকে, তাহলে জঙ্গিবাদের পতন হতে বাধ্য।’

সাম্প্রদায়িকতা নিয়ে দলের অবস্থান স্পষ্ট করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেন, ‘বিএনপি কোনো প্রকারের, কোনো রকমের সাম্প্রদায়িকতায় বিশ্বাস করে না। আমরা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে বিশ্বাস করি।’

বিএনপি সরকারে থাকাকালে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় ছিলো- দাবি করে মওদুদ বলেন, ‘আমরা যখন ক্ষমতায় ছিলাম, তখন সকল সম্প্রদায়ের লোক বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোক শান্তিতে ও নিরাপদে ছিলো। আমরা সেই অবস্থাতে ফিরে যেতে চাই, যেখানে আপনাদের (হিন্দু সম্প্রদায়) নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা অক্ষুণ্ন থাকে।’

তিনি বলেন, ‘আজকে দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য- আমাদের দেশে কিছু কিছু ঘটনা ঘটছে, যা আমরা প্রত্যাশা করিনি। কিছু মানুষ বিভ্রান্ত হয়ে আমাদের দেশকে অস্থিতিশীল করার প্রচেষ্টায় মগ্ন আছে। এ ব্যাপারে আমাদের সকলকে সচেতন ও সক্রিয় থাকতে হবে, যাতে করে জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদের উত্থান বাংলাদেশে না হয়।’

এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, ‘আমরা মনে করি, দেশে যদি গণতান্ত্রিক অধিকার না থাকে, সমান অধিকার না থাকে, একদলীয় শাসনের বলয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করা হয়, তাহলে সেখানে জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদের উত্থান অবধারিত।’

কৈশোরকালে পুরান ঢাকার বাসিন্দা হিসেবে হিন্দু সস্প্রদায়ের পূজা-পার্বণে অংশ নেয়ারও স্মৃতিচারণ করেন মওদুদ।

ধর্মসভা অনুষ্ঠানে স্বামীবাগ আশ্রমের জায়গাটি সন্ত্রাসীদের হাত থেকে রক্ষা করে ইসকনকে হস্তান্তর করার ক্ষেত্রে ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ভূমিকার কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন আয়োজকরা। পরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসাধীন সাদেক হোসেন খোকার আশু আরোগ্য কামনায় প্রার্থনা করা হয়।

স্বামীবাগ আশ্রমের সেবায়েত যশোদানন্দন আচার্যের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন- বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা নিতাই রায় চৌধুরী, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুন্ডু, স্থানীয় কমিশনার তরিকুল ইসলাম টিপু, ইসকনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কৃষ্ণ কীর্তন দাশ ব্রহ্মচারী, স্বামীবাগ আশ্রমের সদস্য সুখী সুশীল দাস ব্রহ্মচারী ও ইসকনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বিমল প্রসাদ দাশাধিকারী প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে বিএনপির নেতাদের মধ্যে দেবাশীষ রায় মধু, রমেশ দত্ত, তরুণ দে, চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান, ছাত্রদলের মিল্টন বৈদ্য, মৃনাল কান্তি বৈষ্ণব, তপন কুমার বসু (মিন্টু) প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।