ঐকমত্যের নির্বাচন কমিশন গঠনের প্রস্তাব বেগম জিয়ার

0

জিসাফো ডেস্কঃ গত বছর অনুষ্ঠিত হওয়া স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইসির ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ উল্লেখ করে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘জাতীয় নির্বাচনের জন্য একটি স্থায়ী ব্যবস্থা প্রণয়ন বাঞ্ছনীয়। সকল রাজনৈতিক দলের মতামতের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে। মহাসচিব বা সাধারণ সম্পাদক পর্যায়ে বৈঠক করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘দুই রাজনৈতিক জোটের দুই মূল প্রতিনিধি, সহায়তাকারী আরো দু’জন প্রতিনিধি বৈঠকে থাকবেন। নিবন্ধনকৃত রাজনৈতিক দল বা বিভিন্ন সময়ে সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে বাছাই কমিটি হবে।’

রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলে শুক্রবার বিকেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন ও কাঠামো সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব উপস্থাপনের জন্য এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বিএনপি।

সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়া বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনকে অধিকতর শক্তিশালীকরণের জন্য বিধিবিধান ও আরপিও সংস্কার করতে হবে। ভোট গ্রহণের পর খালি ব্যালট বাক্স যদি থাকে তা নিরাপদে রাখতে হবে। ভোটগ্রহণের সময় ব্যালট বাক্স পরিপূর্ণ হয়ে গেলে তা পোলিং বুথেই রাখতে হবে। নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব সচিবালয় গঠন করতে হবে। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের আর্থিক স্বাধীনতা থাকতে হবে, নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে।’

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রাজনৈতিক দলের প্রতি আনুগত্য প্রকাশকারী নির্বাচন কমিশনের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের অতিসত্ত্বর প্রত্যাহার করতে হবে। নির্বাচন কমিশন একটি কমিটি গঠন করবে, যা ২০০৮ ও ২০১৪ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলের প্রতি আনুগত্য প্রকাশকারী সব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রত্যাহার করবে। নির্বাচনের সময় কয়েকটি মন্ত্রণালয় নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে কাজ করবে। নির্বাচনের সময় নির্বাচন কমিশন প্রতিরক্ষা বাহিনীকে বিচারিক ক্ষমতা প্রদান করবে।’

খালেদা জিয়া বলেন, ‘প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। নির্বাচন কমিশন পোলিং এজেন্টদের প্রশিক্ষণ প্রদান করবে। নির্বাচন কমিশন কর্মকর্তাদের বিচারিক ক্ষমতা প্রদান করতে হবে। নির্বাচনী আইন ভঙ্গের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচনে পর্যবেক্ষক নিয়োগ করতে হবে। রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী কিংবা দলের প্রতি আনুগত্য প্রকাশকারী ব্যক্তি নির্বাচন পর্যবেক্ষক হতে পারবে না।’

খালেদা জিয়ার বাছাই পাঁচ সদস্য :

সব দলের ঐক্যের ভিত্তিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনারদের খুঁজে বের করতে পাঁচ সদস্যের বাছাই কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন খালেদা জিয়া। এ বাছাই কমিটিতে সাবেক প্রধান বিচারপতি, আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি, অবসরপ্রাপ্ত সচিব, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ও দক্ষ যোগ্য নারী থাকবেন।

নির্বাচন কমিশন :

জেলা জজের মর্যাদা সম্পন্ন, ন্যূনতম ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদমর্যাদা সম্পন্ন, সিনিয়র আইনজীবী, বিশিষ্ট নাগরিকদের মধ্য থেকে নির্বাচন কমিশনার নিযুক্ত হবেন। রাজনৈতিক দলগুলোর মতামতের ভিত্তিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও চারজন নির্বাচন কমিশনার নিযুক্ত হবেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার পদে দু’জনের মধ্যে একজনকে এবং নির্বাচন কমিশন পদে আটজন থেকে চারজনকে রাষ্ট্রপতি চূড়ান্ত করবেন।

খালেদা জিয়ার সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, তরিকুল ইসলাম, লে জে (অব) মাহবুবুর রহমান, ড. আবদুল মঈন খান, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, ব্যারিস্টার শাজাহান ওমর, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, ড. এ জেম এম জাহিদ হোসেন, আহমদ আজম খান।

এছাড়াও প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক উল হক, সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন, জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. মোস্তাহিদুর রহমান, ২০ দলীয় জোটের মধ্যে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব) অলি আহমদ, জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান টিআইএম ফজলে রাব্বী চৌধুরী, বিজেপির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, জাগপার সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জে (অব) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীর প্রতীক, বাংলাদেশ ন্যাপ চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানী, এনডিপির চেয়ারম্যার খোন্দকার গোলম মোর্ত্তজা, এনপিপির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, জমিয়তে ওলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মহিউদ্দিন ইকরাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।