এ ফলাফল বিশ্বাস যোগ্য হতে পারে না

0

প্রেসিডেন্ট হিসাবে জেনারেল জিয়া শপথ নেন ১৯৭৭ সাল সালের ২১শে এপ্রিল। প্রেসিডেন্ট জিয়া যখন এক ভয়াবহ প্রতিকুল পরিস্থিতে দেশের হাল ধরেন সে সময় তাকে সাহায্য করত একদল নিবেদিত প্রান সৎ উপদেষ্টা। কিন্তু কতদিন উপদেষ্টা পরিষদ দিয়ে কাজ চালানো যায়? প্রেসিডেন্ট জিয়া বললেন, “রাজনৈতিক শুন্যতা দেশের জন্য ভালো না।”

এছাড়া বিভিন্ন পক্ষ থেকে বিভিন্ন কথা উঠছিলো, সেনাবাহিনীর চীফ আর প্রেসিডেন্ট একই ব্যাক্তি, উনি ক্ষমতায় আসেন সিপাহী জনগনের বিপ্লবের মাধ্যমে, তার ক্ষমতায় থাকার জন্য কি জনগনের মত আছে কি না সেটা যাচাই করা প্রয়োজন। ইত্যাদি সহ আরো অনেক কিছু। উপদেষ্টা পরিষদে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় “হ্যা” “না” ভোট নেবার জন্য। সে সময় একজন শাষনতান্ত্রিক বিশেষজ্ঞ ছিলেন আব্দুল কুদ্দুস ( পরে বিচারপতি) তিনি বিভিন্ন অর্ডার, আইন, শাষনতন্ত্রের ধারা উল্লেখ্য করে প্রেসিডেন্ট আর প্রধান সামরিক আইন প্রশাষকের কাজের মধ্যে একটা সমন্বয় সাধন করে একটা অধ্যাদেশ জারি করার ব্যাবস্থা করেন। কিন্তু শাষনতান্ত্রিক ভাবে তা যথাযথ করার জন্য একটা গনভোট দরকার ছিল।।

১৯৭৭ সালের ৩০শে মে গনভোট অনুষ্ঠিত হয়, ফলাফল ঘোষনা করা হয় ৩১শে মে। ফলাফল ঘোষনায় দেখা যায় জিয়ার পক্ষে হ্যা ভোট পড়ে ৯৮.৯৭% আর না ভোট পড়ে ১.০৩%। বলা যায় ওভার হোয়েলমিং মেজরিটি।

ওই সময় স্বরাষ্ট্র সচিব ছিলেন জনাব সালাউদ্দীন আহমেদ (সি এস পি)। এই অবিশ্বাস্য ফলাফল সৃষ্টি করতে তিনি হয়ত তার অধিনস্ত সমস্ত অফিসারদের কাজে লাগিয়েছিলেন আর চেয়েছিলেন জিয়ার বাহাবা কুড়াতে। কিন্তু প্রেসিডেন্ট জিয়া বলেন, “ এ ফলাফল বিশ্বাস যোগ্য হতে পারে না। It is untenable. It has dented my credibility due to maneuvering and over enthusiasm. এই সব আলোচনা জনাব সালাউদ্দীন আহমেদের উপস্থিতিতে ফলাফল ঘোষনার দিন বিকালেই চলছিলো ওখানে উপস্থিত ছিলেন প্রয়াত সাইফুর রহমান সাহেব যা তিনি তার “কিছু কথা কিছু স্মৃতি” বইতে লিখে গেছেন।

ওই সময় তিনি আরো বলেন, “I have submitted myself to the electorate, immediately. ওই দিন ই তিনি সিদ্ধান্ত নেন যে আমাদের নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। তিনি আরো মন্তব্য করেন যে এসব লোকের অতি উৎসাহে আমার সামগ্রিক প্রক্রিয়া নসাৎ হয়ে গেছে। প্রেসিডেন্ট জিয়া জনাব সাইফুর রহমান কে বলেন, যত কিছু হোক না কেন ৯৮% লোক আমাকে ভোট দেবে এটা বিশ্বাস করা যায় না, আওয়ামীলীগের মত বড় পার্টি আমাকে ভোট দেবে তারাও কি আমাকে ভোট দেবে? অবিশ্বাস্য। মুলতঃ ওই সময় থেকেই দেশে রাজনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু।

উপমহাদেশের আর কোন রাজনীতিবিদ এভাবে সৎসাহস নিয়ে নির্বাচনে জিতে নির্বাচনের অস্বচ্ছতা নিয়ে কথা বলছে কিনা আমাদের জানা নেই। অথচ এই ব্যাপারটাকেই আওয়ামী টক শোর ষ্টার রা পুজি করে প্রচারনা চালায়।

নতুন একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসাবে একটা রাজনৈতিক দল গঠনের প্রয়োজনীয়তা দেখা যায়। ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্দুস সাত্তার কে আহ্বায়ক করে জাতীয়তাবাদী গনতান্ত্রিক দল তথা জাগদল নামে একটা রাজনৈতিক ফোরাম গঠন করা হয়। এই ফোরাম গঠিত হয় ১৯৭৮ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে। জাগদলের নামে একটা নির্বাচনী জোট গঠন করা হয় – ওই নির্বাচনী জোটে ছয়টি রাজনৈতিক দল যোগ দেয় যা জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট হিসাবে আত্ম প্রকাশ করে। রাজনৈতিক দল ছয়টা হল জাগদল, মুসলিম লীগ, ন্যাপ (ভা), ইউনাইটেড পিপলস পার্টি, বাংলাদেশ লেবার পার্টি ও বাংলাদেশ তফসিলী সম্প্রদায়। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে এই জাতীয়তাবাদী ফ্রন্টের প্রার্থী ছিলেন জিয়াউর রহমান।

অন্য দিকে আওয়ামী লীগ, ন্যাপ (মো) জাতীয় জনতা পার্টি, পিপলস লীগ, গনআজাদী লীগ সহ ১০ টি দলের সমন্বয়ে গঠিত হয় গনতান্ত্রিক ঐক্য জোট নামে একটি নির্বাচনী জোট। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে এজোটের প্রার্থী ছিলেন জেনারেল (অবঃ) এম এ জি ওসমানী।

অবাধ ও সুষ্ঠু সে নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট জিয়া বিপুল ভোটে জিতে।

উৎসঃ দ্যা জিয়া ডাইন্যাষ্টি পেজ থেকে