এ কেমন বর্বরতা, পুলিশের নৃশংসতায় পঙ্গু হয়ে গেলো সম্ভাবনাময় ৩ তরুণ!!!!!

0

জিসাফো ডেস্কঃ চিরদিনের জন্য পঙ্গু হয়ে গেলো জয়পুরহাটের সম্ভাবনাময় ৩ তরুণ। পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’ নাটকের পর কেটে ফেলতে হয় ৩ জনেরই পা। ইসলামী ছাত্রশিবির জয়পুরহাট জেলা সভাপতি আবু যর গিফরী ও সেক্রেটারি ওমর আলী ঢাকা আসার পথে দীর্ঘ ৯ দিন নিখোঁজ ছিলেন। তারপর সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে র‌্যাব তাদের আটকের কথা জানায় এবং পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। পুলিশ গভীর রাতে অভিযানের নামে তাদের খুব কাছ থেকে দু’জনেরই পায়ের হাঁটুর উপর গুলী চালায়। ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের হত্যার উদ্দেশ্যেই গুলী চালানো হয়েছিল। এ সময় আটক আরো একজনের পায়ে গুলী চালানো হয়। রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালে পুলিশী প্রহরায় চিকিৎসাধীন তিনজনেরই পা ইতিমধ্যে কেটে ফেলা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে সম্ভাবনাময় এই ৩ তরুণ চিরদিনের জন্য পঙ্গু হয়ে গেলো।

আবুজার গিফারী নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার দক্ষিণ দেশীবাই গ্রামের হামিদুর রহমানের ছেলে এবং ওমর আলী জয়পুরহাট পৌর শহরের তেঘরবিশা এলাকার আব্দুল ওহাব এর ছেলে। আরেক জন হচ্ছে আলামিন।

গত ৮ ডিসেম্বর ব্যক্তিগত কাজে ঢাকায় আসার পথে রাজধানীর আব্দুল্লাহপুরে বাস থেকে নামিয়ে আবু যর গিফরী ও ওমর আলীকে আটক করে আইন শৃংখলা বাহিনী। এ নিয়ে তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করা হয়। গত ১৫ ডিসেম্বর ছাত্রশিবির দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে।

নিখোঁজ হওয়ার ৯ দিন পর ১৭ ডিসেম্বর ছাত্রশিবিরের নিখোঁজ দুই নেতাকে আটক করার কথা জানায় র‌্যাব। র‌্যাব-৫ এর পক্ষ থেকে বলা হয়, শিবিরের এই ২ নেতাকে ভোররাতে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার কদমতলী থেকে আটক করা হয়। এর সাথে কথিত অস্ত্র উদ্ধারের কথা জানায় র‌্যাব। ওইদিন দুই ছাত্রনেতাকেই সাংবাদিক সম্মেলনে হাজির করা হয়। তারা তখন স্স্থু ও স্বাভাবিকভাবে হেঁটে সকলের সামনে আসেন।

এ নিয়ে দেয়া বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের তৎকালীন কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল জব্বার ও সেক্রেটারি জেনারেল আতিকুর রহমান বলেন, জয়পুরহাট শিবির নেতাদের নিয়ে র‌্যাবের অস্ত্র উদ্ধারের দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও সাজানো নাটক ছাড়া কিছু নয়। ভিন্ন মতের জন্য দু’জন নিরপরাধ ছাত্রকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার ও তাদের জড়িয়ে অস্ত্র নাটক সাজিয়ে র‌্যাব তাদের প্রতি জনগণের আস্থাকে আরেকবার প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। তারা বলেন, নিরীহ ছাত্রদের জড়িয়ে অস্ত্র উদ্ধার নাটক যেমন অমানবিক তেমনি গ্রেফতারের পর অস্বীকার ও ৯ দিন পর হাজির করা সম্পূর্ণ বেআইনী। জাতির দুর্ভাগ্য যে এই নিকৃষ্ট কাজ স্বয়ং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছ থেকে দেখতে হয়েছে।

র‌্যাব তাদের আটকের কথা জানানোর পরই পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। পুলিশ তাদের পাওয়ার পরই কথিত বন্ধুক যুদ্ধের নাটক সাজিয়ে গুলী করে। এ সময় জয়পুরহাটে শিবিরের দুই নেতাসহ তিনজন গুলীবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন। এর মধ্যে শিবিরের দুই নেতা দীর্ঘ ৯ দিন নিখোঁজ ছিলেন। পুলিশ বলছে, ‘বন্দুকযুদ্ধে’ তারা আহত হয়েছে। এ সময় অস্ত্র উদ্ধার করার দাবি করে পুলিশ। তবে ছাত্রশিবির বলছে, রাতের আধাঁরে পরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজিয়ে তাদের গুলী করা হয়েছে। আহতদের আশংকাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার আওলায় গ্রামে ১৮ ডিসেম্বর ভোররাতে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ গুলীবিদ্ধ হয়ে মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন ইসলামী ছাত্রশিবির জয়পুরহাট শাখার সভাপতি আবু যর গিফারি (২৮) ও সেক্রেটারি ওমর আলীসহ (২২) তিনজন। গুলীবিদ্ধ অপর জনের নাম আলামিন (২৬)। আহতদের প্রথমে জয়পুরহাট জেলা আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি হলে তাদের অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় বগুড়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। এরপর তাদের ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

ইতিমধ্যে তাদের তিনজনেরই একটি করে পা হাটু থেকে কেটে ফেলা হয়েছে। এভাবে আর কত মানুষ পঙ্গু হবে? কত সম্ভাবনা এভাবে অকালে ঝরে পড়বে? স্বজনদের প্রশ্ন আইন শৃংখলা বাহিনী এভাবে নিজেরাই আইন হাতে তুলে নিলে মানুষ কোথায় যাবে? কেউ অপরাধ করে থাকলে তাকে আইনের আওতায় আনা যেতে পারে। যেখানে তার আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ থাকবে। কিন্তু আটক করেই এভাবে মানুষকে চিরদিনের জন্য পঙ্গু করে দেয়া মানবাধিকারের চরম লংঘন। কোনোভাবেই তা সমর্থনযোগ্য হতে পারে না?

গতকাল রোববার দেয়া যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি আতিকুর রহমান ও সেক্রেটারি জেনারেল ইয়াসিন আরাফত বলেন, আইশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি অংশ তাদের পবিত্র দায়িত্বকে জলাঞ্জলি দিয়ে একের পর নৃশংসতা ও বেআইনী কাজের নিকৃষ্ট নজির স্থাপন করে চলেছে। ছাত্রশিবির জয়পুরহাট জেলা সভাপতি আবু যর গিফরী ও সেক্রেটারি ওমর আলী ঢাকায় আসার পথে গত ৮ ডিসেম্বর গ্রেফতার করার পর বেআইনীভাবে অস্বীকার করে ৯ দিন পর অস্ত্র উদ্ধারের নাটক সাজিয়ে মিডিয়ার সামনে হাজির করে র‌্যাব। এমন বেআইনী কাজের পরও তাদেরকে রাতের আধাঁরে পরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজিয়ে গুলী করা হয়। এখন তারা আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি আছে। ইতিমধ্যে তাদের পা কেটে ফেলতে হয়েছে।

তারা বলেন, পুলিশের এই নৃশংসতায় জাতি হতবাক। দেশ ও জনগণের প্রতি তাদের ওয়াদার কথা বেমালুম ভুলে গিয়ে একের পর এক বর্বরতা চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। গ্রেফতারের পর বেআইনীভাবে হাজির না করা এবং রাতের আধাঁরে গুলী করা কোন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব হতে পারে না। এই নৃশংসতা পুলিশের মহান পেশার সম্পূর্ণ বিপরীত ও প্রতারণা। তাদের কিছু বর্বর কর্মকাণ্ড বার বার পুলিশের পবিত্র অবস্থানে কলঙ্ক লেপন করছে। পুলিশের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন অমানবিক কর্মকাণ্ডে তাদের প্রতি জনগণের আস্থা শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে। আমরা এই ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। এই ঘটনার মাধ্যমে আবারো প্রমাণিত হয়েছে যে, দেশে আইনের শাসন ও মানবাধিকার আজ শূন্যের কোঠায়।