এডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার একজন সৌভাগ্যবান ফেরারী আসামী

0

সৃষ্টির শুরুতেই কোন দল জন সাধারনের সাপোর্ট বা ভালবাসায় সিক্ত হতে পারে না।দলের কর্মকান্ড দেশ ও জাতির উন্নয়নে দলটি কি ভূমিকা রাখতে পারবে দলের প্রতিষ্ঠাতাকে মানুষের আস্থা আর্জন করতে হবে।এক কথায় একটি অগ্নি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। কিন্তু আশ্চর্য্য হলেও সত্য যে বাংলাদেশ জাতীয়তবাদী দল বা বি এন পি নামক দলটি প্রতিষ্ঠিত করতে তেমন কিছুই করতে হয়নি। বি এন পি’র প্রতিষ্ঠাতা স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের গণ মানুষের আস্থার প্রতীক।দিশেহারা জনসাধারন তাঁর হাতে তুলে দিয়ে ছিলেন বাংলাদেশের নেতৃত্বের দায় ভার।শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তাঁর মেধা ও সাংগঠনিক দক্ষতা দিয়ে বাংলাদেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছিল। শহীদ জিয়াউর রহমান এমন একটি দল প্রতিষ্ঠিত করেছে যে দলটি শুরু থেকে আজ প্রযন্ত দেশের মানুষের গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করে চলছে। কিন্তু অত্যান্ত পরিতাপের বিষয় এই গণতান্ত্রিক দলটিতে আজ কিছু স্বৈরাচার মনা অসাধু ব্যক্তিকে জেলা কমিটির চালকের আসনে বসিয়েছে!!! তাদের একজন নারায়ণগঞ্জ জেলা বি এন পি’র সভাপতি এডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার।

received_149270415429809

তৈমুর আলম খন্দকারের সংক্ষিপ্ত পরিচয়ঃ
তৈমুর আলম খন্দকার পেশায় একজন আইনজীবী। অতীত রাজনীতি বলতে তাঁর তেমন কোন পরিচয় নাই।এক সময় তিনি নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম আলী আহম্মেদ চুনকা সাহেবের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন।(মরহুম আলী আহম্মেদ চুনকা সাহেব নারায়ণগঞ্জে আওয়মী লীগের অন্যতম নেতা ছিলেন।বর্তমান নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন মেয়র চুনকা সাহেবের মেয়ে ডাঃ সেলিনা হায়াত আইভি) চুনকা সাহেবের মৃত্যুর পর তৈমুর আলম খন্দকার আওয়মী লীগের পক্ষ থেকে নির্বাচন করতে চাইলে তেমন কোন সাড়া পায়নি।
বি এন পি’তে যোগদানঃ
১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর নারায়ণগঞ্জের বি এন পির নেতাকর্মীদের উপর অমানুষিক নির্যাতন চলে। তখন নারায়ণগঞ্জ জেলা বি এন পি অনেকটা নেতা শূন্য হয়ে পরে। আর এই সুযোগটা হাত ছাড়া করেনি এডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার। যোগদেয় জাতীয়তাবাদী দলে।হয়তো অনেকের মনে প্রশ্ন আসতে পারে বি এন পি’র ক্রান্তিকালে তিনি দলের জেলা কমিটির হাল ধরেছে তাতে দোষের কি? প্রিয় পাঠক আপনাকে মনে রাখতে হবে আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় আসে তখন নারায়ণগঞ্জে ওসমান পরিবারে প্রভাব থাকে আকাশ ছোঁয়া।ঐ পরিবারটির সাথে আতাত না করে কোন কাজ করা অসম্ভব ছিল তখন কার পরিস্থিতিতে। আর ওসমান পরিবারের প্রিয় পাত্র হচ্ছে তৈমুর আলম খন্দকার।
এডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার দলে যোগ দেয়ার পর থেকে কেদ্রের নিদের্শে নারায়ণগঞ্জ জেলা বি এন পি’র চালকের আসনে আছেন।মাঠকর্মীরা কেন্দ্রের আদেশ মান্য করে তাকে নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি হিসেবে মেনে নেয়। কিন্তু বিপত্তি ঘটলো যখন নারায়ণগঞ্জের মাঠকর্মীরা জানতে পারলো তৈমুর আলম নিজ স্বার্থে নারায়ণগঞ্জ আওয়মী লীগের প্রভাব শালী ওসমান পরিবারের সাথে আতাত করে চলছে।

received_149271648763019

দলের প্রবীণ জনপ্রিয় নেতা ও কর্মীদের বলির পাঠা বানিয়ে নিজ পরিবারের স্বার্থ সিদ্ধি করছে।জেলা কমিটি থেকে শুরু করে থানা ইউনিয়ন এমন কি মহল্লা ভিত্তিক কমিটি গুলোতে তাঁর পরিবার ও নিজ বলয়ের লোকজন ছাড়া অন্যদের রাখতে দিচ্ছে না।এখন প্রশ্ন হল বিগত আন্দোলন গুলোতে যে সকল নেতাকর্মী রাজপথে আন্দোলন করেছে মামলা হামলার শিকার তাঁরা কেনো কমিটিতে থাকতে পারবে না? তৈমুর আলমের কেনো এই স্বেচ্ছাচারিতা ও পরিবারতন্ত্র রাজনীতি? আন্দোলনের সময় তৈমুর আলমের পরিবার ও তাঁর বলয়ের কতজন লোক রাজপথে ছিল? আন্দোলনের সয়ম বা দলীয় কোন কর্মসুচিতে তৈমুর আলম গ্রেফতারের ভয় দেখিয়ে অনুপস্থিত থাকার কারন কি? নারায়ণগঞ্জ জেলার বহু নেতাকর্মীকে পুলিশ গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠিয়েছে কিন্তু তিনি তৈমুর আলম সভাপতি হওয়া সত্যেও তাঁকে কেন গ্রেফতার করছে না পুলিশ? এমন সব কিছু প্রশ্নের উত্তর খোঁজতে গিয়ে বেরিয়ে আসে কিছু আশ্চর্য তথ্য যা অনেকের অজানা।

received_149273902096127

তৈমুর আলমের প্রধান দুইটি উদ্দেশ্য হল নারায়ণগঞ্জ জেলা বি এনপি’র সভাপতি পদে অধিষ্ঠ থেকে নিজ পরিবার বা বলয়ের লোক জন নিয়ে আওয়ামী লীগের সাথে আতাত করে জেলাটিতে প্রভাব বিস্তার করা।বি এন পি জেলা সভাপতি হিসেবে অবৈধ সরকারের কোন চাপ বইতে হচ্ছে না তাকে।সরকার দলের স্থানীয় এম পি’র সাথে তাঁকে প্রায় টিভি টকশোতে দেখা যাচ্ছে অথচ তৈমুর আলম একজন ফেরারি আসামি!!! দলের বিভিন্ন কর্মসুচিতে অবৈধ সরকারের স্থানীয় গুন্ডা ও পুলিশ বাহিনী হামলা করেছে আশ্চর্য্যের বিষয় হামলাকৃত প্রতিটা কর্মসুচিতে তৈমুর আলম অনপুস্থিত ছিলেন।তার এই কর্মকান্ড নেতাকর্মীদের গভীর সন্দেহের জন্মদেয়।নেতাকর্মীদের সন্দেহ আরো মজবুত হয় যখন ওসমান পরিবারে খুব কাছাকাছি তৈমুর আলমকে দেখা যায়।
নারায়ণগঞ্জ মহানগরে কিছু নব্য নেতার জন্ম দিয়েছে এডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার।স্থানীয় নেতাদের কাছে মহানগর নব্য নেতাদের পরিচয় জানতে চাইলে প্রবীণ নেতারা আবাক হয়ে উল্টো প্রশ্ন করে এরা কারা? আগে কখনোই দেখিনি তাদের। যখন নব্য নেতাদের পরিচয় জানতে অনুসন্ধান করি তখন বেরিয়ে আসে আরো এক অবাক করা বিস্ময় কর তথ্য। কিছু ধনীব্যক্তিকে পদ পদবীর দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁর বলয়ে যোগ করেছে।তৈমুর আলমের মন গড়া কর্মসুচি ব্যায় ভার তারাই বহন করে।নব্য নেতারা তৈমুর আলমের ফেরারি নাটককে জায়েজ রূপ দেয়ার জন্য গত ৭ নভেম্বর জাতীয় সংহতি ও বিপ্লব দিবস উপলক্ষে তৈমুর আলমকে প্রধান অতিথি রেখে নেতাকর্মী বিহীন একটি অনুষ্ঠান করে।

received_149272362096281

সেই অনুষ্ঠানে তৈমুর আলম সশরীরে না এসে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তার বক্তব্য দেন।তিনি ফেরারি গ্রেফতারের ভয়ে তিনি সশরীরে কর্মসুচিতে যোগদিতে পারেন নাই।(অথচ ১২/১১/২০১৫ ইং তারিখে তৈমুর আলম নারায়ণগঞ্জ আসেন এবং তাঁর বলয়ের কয়েক জন আহবায়ক নিয়ে ছাত্রদলের কমিটি নিয়ে একটি মূলক মিটিং করে।খবরটি পাওয়ার পর সত্যতা যাচাই করে ১৪/১১/২০১৫ ইং তারিখে আমি একটি নিউজ করি “তৈমুর আলমের নীল নকশা ফাঁস” এই শিরনামে।) অদক্ষ ব্যক্তি দিয়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর কমিট গঠন করতে চাই যাদের সাংগঠনিক কোন জ্ঞান নেই।প্রমান স্বরূপ নিচের ছবিটি দেখুন বি এন পি’র প্রতিষ্ঠিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ছবির সাথে সম মানে তৈমুর আলমের ছবি দিয়ে ডিজিটাল ব্যানার ছেপেছে!!!

received_149285775428273
লিখার শিরোনামে আমি বলেছি (এডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার একজন সৌভাগ্যবান ফেরারি আসামি) আসুন বিষয়টি পরিস্কার বুঝার চেষ্টা করি।

received_149273912096126
যে কোন সরকার ক্ষমতায় আসার পর সরকারী বিভিন্ন সংস্থা গুলোতে দলীয় চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয়।নিয়ম অনুযায়ী বি এন পি সরকার ক্ষতায় আসার পর তৎকালীন যোগাযোগ মন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা সুপারিশ করে বি এন পি চেয়ারপার্সনের অনুমতিক্রমে তৈমুর আলমকে বি আর টি সি’র চেয়ারম্যান পদে নিয়গ দেন।( বি আর টি সি’র দুর্নিতির দায়ে জেল হাজতে যান তৈমুর আলম) প্রথা অনুযায়ী আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর সরকারী সংস্থা থেকে বি এন পি নিয়োগকৃত সকল চেয়ারম্যান দের অপসারণ করেন।কিন্তু তৈমুর আলম খন্দকার একমাত্র সৌভাগ্যবান বি এন পি নেতা যিনি এই অবৈধ আওয়মী লীগ সরকারের আমলে বধির সংস্থার চেয়ারম্যান পদে এখনো বহাল আছেন!!! এমন কি তার খুটির জোর? বধিরত্বের উপর এমন কি ডিগ্রি আর্জন করেছেন যে তৈমুর আলমকে ছাড়া বধির সংস্থা চালাতে অক্ষম অবৈধ সরকার? তৈমুর আলম বরাবর প্রচার করে যাচ্ছে সরকার বাদী মামলার ফেরারি আসামি তিনি। আপনাদের কাছে আমার প্রশ্ন একজন ফেরারি আসামি কি করে সরকারী একটি সংস্থার চেয়ারম্যান পদে বহাল থাকে? ভাবতে অবাক লাগে যেখানে এই অবৈধ সরকারের আমলে বি এন পি সমর্থিত সিটি মেয়র বিপুল ভোটে জয়লাভ করার পর জনপ্রতিনিধি হওয় সত্যেও অবৈধ সরকারের মিথ্যা মামলার স্বিকার হয়ে জেল হজতে মিত্যুর সঙ্গে পাঞ্জ লড়ছে।অথচ তৈমুর আলম খন্দকার এমন কি হনু হয়ে গেলেন যে অবৈধ আওয়ামী লীগ সরকার তাকে জামাই আদরে বধির সংস্থার চেয়ারম্যান পদে বহাল রেখেছেন?? আমি বিশ্বাস করি আপনারা আমার সাথে একমত হবেন যে তৈমুর আলম খন্দকার অবৈধ আওয়মী লীগ সরকারের সাথে আতাত করে বি এন পি’র রাজনীতি ধ্বংস করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত আছে।