এক লাখ চাঁদা দাবি, ইতিমধ্যে ৭০ হাজার হাতিয়ে নিয়েছে এসআই

0

জিসাফো ডেস্কঃ এক মানবাধিকার কর্মী ও ব্যবসায়ীকে হয়রানি এবং তার কাছ থেকে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে সুনামগঞ্জের ছাতক থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নুর মিয়ার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ওই ব্যবসায়ী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পুলিশের আইজিপি, রেঞ্জের ডিআইজিসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। সিলেট রেঞ্জের অতিরিক্ত মহা-উপ-পরিদর্শক নজরুল ইসলাম ঘটনাটি তদন্ত করছেন। তবে ওই এসআই এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

ব্যবসায়ী রাজু আহমেদ পীরের অভিযোগ, তিনি ছাতকের জাউয়া গ্রামের বাসিন্দা ও ইউনিটি ফর ইউনিভার্স হিউম্যান রাইটস অব বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন-এর ছাতক উপজেলা কমিটির সচিব। মেঘনা গ্রুপের স্থানীয় পরিবেশক হিসেবে কাজ করেন। অভিযোগে তিনি বলেন, তাকে মিথ্যা মামলার ভয় দেখিয়ে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছেন ছাতক থানার উপ-পরিদর্শক নুর মিয়া। ইতিমধ্যে রাজু আহমেদের কাছ থেকে ৭০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা। টাকা লেনদেনের সব তথ্য-প্রমাণ আছে বলেও জানান রাজু।

 রাজু আহমেদ জানান, গত বছর ১৯ ডিসেম্বর তার বাবা মারা যান। এর কিছুদিন পর রাশিদা বেগম নামে এক নারী তার বাবার বিবাহিত দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করে বিষয়-সম্পত্তির অংশ দাবি করেন। পরে বিষয়টি নিয়ে গ্রাম্য সালিশ বসলে উপযুক্ত তথ্য-প্রমাণ হাজির করতে পারেননি রাশিদা বেগম। সালিশের বিচারকরা ব্যাপারটি স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করে দেন। তবে গত কয়েক দিন আগে রাশিদা বেগম একই দাবি নিয়ে ছাতক থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। ওই অভিযোগের তদন্ত করতে গত ২০ অক্টোবর জাউয়া বাজারে মিতু এন্টারপ্রাইজে এসে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। দাবিকৃত টাকা পরিশোধ না করলে রাজু আহমেদের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করার হুমকি দেন ছাতক থানার উপ-পরিদর্শক নুর মিয়া।

রাজু আহমেদ আরও জানান, গত ২৫ অক্টোবর পুলিশের উপ-পরিদর্শক নুর মিয়া তাকে ফোন করে বলেন, তার কথায় রাজি থাকলে ২৬ অক্টোবর ছাতক থানায় এক লাখ টাকা নিয়ে দেখা করতে। তা না হলে ২৭ অক্টোবর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হবে এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দেন। এরপর তিনি ২৬ অক্টোবর থানায় দেখা করতে গেলে ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নির্দেশে গ্রেপ্তার করা হবে বলে ওই এসআই হুমকি দেন। পরে তিনি উপ-পরিদর্শক নুর মিয়াকে ৩০ হাজার টাকা দেন। এই টাকা পাওয়ার পর নুর মিয়া তাকে দুই একদিনের মধ্যে আরও ৪০ হাজার টাকা দেয়ার জন্য বলেন। এরপর গত ৩০ অক্টোবর নুর মিয়া ফোন করে রাজু আহমেদের কাছ টাকা চান। তখন রাজু আহমেদ তাকে ২০ হাজার টাকা দেয়ার প্রস্তাব দেন। কিন্তু পুলিশ কর্মকর্তা নুর মিয়া তাতে রাজি হননি। এরপর ৩১ অক্টোবর নুর মিয়াকে আরও ৪০ হাজার টাকা দেয়া হয়। পুলিশ সদস্য নুর মিয়া তাকে এই লেনদেনের কথা গোপন রাখার পরামর্শ দেন এবং প্রকাশ করলে বিপদ হবে বলে হুমকি দেন।

রাজু আহমেদ এ ঘটনায় ছাতক থানার উপ-পরিদর্শক নুর মিয়ার বিরুদ্ধে স্বরাষ্টমন্ত্রী, পুলিশের আইজিপি, রেঞ্জের ডিআইজিসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

রাজু আহমেদ জানান, এরপর থেকে নূর হোসেন ও তার পরিচিত বিভিন্ন প্রভাবশালী মহল তাকে হুমকি দিচ্ছে। রবিবার রাতে সাবেক চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম ও আকলুছ মিয়াকে দিয়ে মীমাংসার প্রস্তাব পাঠান ওই এসআই।

তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে উপ-পরিদর্শক নুর মিয়া বলেন, এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা। কারণ উনি অভিযোগে বলেছেন আমি ৩১ অক্টোবর তার কাছ থেকে টাকা নিয়েছি। কিন্তু ওইদিন আমি নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করেছিলাম। আর মীমাংসার প্রস্তাব ও ভয়ভীতির অভিযোগও ডাহা মিথ্যা কথা।

জানতে চাইলে সিলেট রেঞ্জের অতিরিক্ত মহা-উপ-পরিদর্শক নজরুল ইসলাম বলেন, এটা এখনও তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ হলে এ বিষয়ে কথা বলা যাবে, এখন নয়।