একাদশে ভর্তির টাকা নিয়ে বগুড়া মহিলা কলেজে ছাত্রলীগ নেত্রীর সংঘর্ষ,কমিটি বিলুপ্ত

0

জিসাফো ডেস্কঃ একাদশ শ্রেণিতে ২০১৬-১৭ শিক্ষা বর্ষে টাকার বিনিময়ে অবৈধ ভাবে ছাত্রী ভর্তি করে হাতিয়ে নেয়া টাকার ভাগবাটোয়ারকে কেন্দ্র করে সাধারণ কর্মীদের হাতে শারিরীকভাবে লাঞ্ছিত হয়েছেন ছাত্রলীগ নেত্রী আঞ্জুমান আরা আয়না। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে বগুড়া সরকারি মুজিবুর রহমান মহিলা কলেজে এই ঘটনা ঘটে।

এসময় আরেক ছাত্রলীগ নেত্রী রত্নসরকার পালিয়ে আত্মরক্ষা করেন। এ ঘটনার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে ছাত্রলীগ সরকারি মুজিবর রহমান মহিলা কলেজ শাখা কমিটি বিলুপ্ত করা হয়।

সাধারণ ছাত্রীরা জানায়, সরকারি মুজিবুর রহমান মহিলা কলেজ শাখার সভাপতি আয়না খাতুন ও সাধারণ সম্পাদক রত্না সরকার  গত কয়েক দিনে কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগসাজশ করে অনলাইনে যাদের সিরিয়াল আসেনি তাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে  প্রথম বর্ষে  ছাত্রী ভর্তি করায়। ছাত্রী ভর্তি বাবদ দুই নেত্রী ২ লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেয়। কলেজের সাধারণ ছাত্রলীগ কর্মী যারা দুই নেত্রীকে ভর্তির কাজে সহযোগিতা করেছে তাদেরকে এই টাকার কোনো ভাগ না দেওয়ায় তারা ক্ষুব্ধ হয়।

বৃহস্পতিবার সকালে সাধারণ কর্মীদের মধ্যে জানাজানি হয় যে, হাতিয়ে নেয়া ২ লাখ টাকার মধ্যে সভানেত্রী এক লাখ ২০ হাজার এবং সাধারণ সম্পাদক ৮০ হাজার টাকা ভাগবাটোয়ারা করে নিয়েছেন। তারা আরও জানতে পারেন, সভানেত্রী তার কাছে রাখা টাকা বৃহস্পতিবার সকালে তার ভাই এর হাতে বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছেন।

এ খবর জানাজানি হলে  ছাত্রলীগের সাধারণ কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে তারা কলেজ ক্যাম্পাসে দুই নেত্রীকে ঘেরাও করে। এসময় সাধারণ সম্পাদক দৌঁড়ে পালিয়ে তার কক্ষে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দিয়ে আত্মরক্ষা করলেও আয়না কর্মীদের রোষালনে পড়ে শারীরিক ভাবে লাঞ্ছিত হন।

এ এঘটনার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলা ছাত্রলীগের এক জরুরি সভা আহবান করা হয়। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সরকারি মুজিবুর রহমান মহিলা কলেজের ৬১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।

জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নাঈমুর রাজ্জাক তিতাস কমিটি বিলুপ্ত করার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ভর্তি বাণিজ্য নয়, দলীয় শৃংঙ্খলা ভঙ্গ এবং কলেজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির কারণে কমিটি ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে। আগামী মাসের ২০ তারিখের মধ্যে সেখানে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে।

উল্লেখ্য, মজিবুর রহমান মহিলা কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। সাধারণ ছাত্রীদের অনৈতিক কাজে বাধ্য করাসহ বিভিন্ন অভিযোগে জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে সাধারণ ছাত্রীরা।