একরাম হত্যায় প্রমাণ হয় অভিযানের নামে পরিকল্পিত হত্যা চলছে : মির্জা ফখরুল

0

কেএম সবুজঃ‘বন্দুকযুদ্ধে’ একরাম হত্যার অডিওই প্রমাণ করে মাদক বিরোধী অভিযানে সরকারের ‘ভিন্ন উদ্দেশ্য’ ছিলো বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, আমরা এই অভিযান (মাদক বিরোধী অভিযান)-কে প্রথমেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছি। এই অভিযান চালানো হয়েছে সম্পূর্ণভাবে একটি ভিন্ন উদ্দেশ্যে, একটি ভিন্ন কারণে। আমরা যেটা আশঙ্কা করেছিলাম যে, এটাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হবে কিনা। আজকে এই অডিওর মধ্য দিয়ে এটা যদি সত্য হয়ে থাকে তাহলে নিঃসন্দেহে এটা প্রমাণিত হচ্ছে যে, এই অভিযানে মধ্য দিয়ে সরকার জনগণের দৃষ্টিকে অন্যদিকে প্রবাহিত করতে চায়। গতকাল শনিবার বিকালে ধানমন্ডির ফখরুদ্দিন কনভেনশন সেন্টারের উদ্যোগে রংপুর মেডিকেল কলেজ জাতীয়তাবাদী প্রাক্তন ছাত্র কল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে এক ইফতার মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন। : মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সরকারের দমননীতির কঠোর সমালোচনা করে বলেন, তাদের (সরকার) যে দুঃশাসন, তাদের যে অন্যায়-অত্যাচার-হত্যা কল্পনা করা যায়? একটা স্বাধীন মুক্ত দেশে পাখির মতো মানুষকে গুলি করে মারা হচ্ছে তার কোনো বিচার হবে না। বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড- এই কোন দেশে বাস করছি আমরা। এটা কী সেই জঙ্গলের মধ্যে, জঙ্গি আইন এখানে আছে। এগুলোকে প্রতিরোধ করে আমাদের দাঁড়াতে হবে। আজকে আমাদের পথে নামতে হবে, পথেই এদের পরাজিত করতে হবে। : মাদকবিরোধী অভিযানে কক্সবাজারে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার আগে টেকনাফের পৌর কাউন্সিলর একরামুল হকের সঙ্গে টেলিফোনে ‘শেষ কথোপকথনের’ যে অডিও রেকর্ড তার পরিবার প্রকাশ করেছে, তাতে পুরো মাদকবিরোধী অভিযান এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে বলে মনে করছেন মানবাধিকার কর্মীরা। চারটি ক্লিপ মিলিয়ে ১৪ মিনিট ২২ সেকেন্ডের ওই অডিও রেকর্ডে কয়েকজনের কণ্ঠ, গুলির শব্দ আর চিৎকার সাংবাদিকদের শুনিয়ে একরামের স্ত্রী আয়েশা বেগম অভিযোগ করেছেন, তার স্বামীকে মাদকবিরোধী অভিযানের নামে ‘পরিকল্পিতভাবে হত্যা’ করা হয়েছে। : সারা দেশে চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে ১৩ দিনে নিহত ১২২ জনের মধ্যে কক্সবাজারের টেকনাফ পৌরসভার কাউন্সিলর একরামুল হক একজন, যিনি গত ২৬ মে রাতে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন বলে র‌্যাবের ভাষ্য। : মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের দেশের গণতন্ত্রকে এই সরকার পরিকল্পিতভাবে ধবংস করে দিয়েছে। জনগণের কোনো অংশগ্রহণ নেই সংসদে ও শাসনব্যবস্থায়। দেশে সুশাসন বলতে কিছু নাই দুঃশাসন পুরোপুরিভাবে। সে কারণে জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে। চালের দাম যেভাবে বেড়েছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম যে হারে বেড়েছে যেটা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। কেউ কোথাও কোনো বিচার পান না। না আদালতে বিচার রয়েছে না অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানে রয়েছে। যারা ব্যবসায়ী ব্যবসা করছেন তারা শুধুমাত্র ভিন্ন মতের হওয়ায় তারা গ্যাস অথবা বিদ্যুতের সংযোগ পান না। মাসের পর মাস, বছরের পর বছর তাদের শিল্প-কারখানা পড়ে থাকে। এটা একটা খন্ডিত চিত্র। মেগা প্রকল্পের নামে ‘মেগা লুট’ হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বেগম খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে কারাগারে বন্দি করে রাখা হয়েছে অভিযোগ করে উচ্চ আদালতে জামিন স্থগিত করার কথা তুলে ধরেন। : মির্জা ফখরুল বলেন, এই অবস্থা চলতে দেয়া যেতে পারে না। এটা শুধুমাত্র বিএনপি ও বেগম খালেদা জিয়ার একার সমস্যা নয়, এটা সমস্যা সমগ্র জাতির। আজকে সমগ্র জাতিকে রুখে দাঁড়াতে হবে। দেশকে ধ্বংস করে দেবার যে ষড়যন্ত্র, দেশকে একেবারে দুর্বল করার যে ষড়যন্ত্র, সেই ষড়যন্ত্রকে রুখে দিতে হলে অবশ্যই জাতীয় ঐক্য ও জনগণের ঐক্য সৃষ্টি করতে হবে। এই সম্মিলিত ঐক্যের মাধ্যমে যে দানব আমাদের ওপর চেপে বসেছে তাকে একটি আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সরাতে হবে। এজন্য সকলকে প্রস্তুতি নেবার আহবানও জানান বিএনপি মহাসচিব। : আয়োজক সংগঠনের সভাপতি ড. আব্দুস সালামের সভাপতিত্বে ও ডা. আবুল কালামের পরিচালনায় আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অধ্যাপক একেএম আজিজুল হক, সহ-সভাপতি অধ্যাপক ফরহাদ হালিম ডোনার, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মোস্তাক রহিম স্বপন, চিকিৎসক একেএম মোজাম্মেল হক, এটিএম ফরিদউদ্দিন, ফরহাদ হাসান চৌধুরী প্রমুখ।