একজন রিজভী আহমেদ ও আমাদের অন্ধ রাজনীতি

0

আলফাজ উদ্দিন : দীর্ঘ দিন ধরে বিএনপি’র কারাবন্দি যুগ্ম মহাসচিব এ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী কারাগারে গুরুতর অসুস্থ বলে জানিয়েছে বিএনপি। পাশাপাশি তার শারীরিক অসুস্থতা বিবেচনায় এনে তাকে জামিনে মুক্তি দিয়ে সুচিকিৎসার সুযোগ দেয়ার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছে তারা। বিএনপির সহ-দফতর সম্পাদক মোঃ আব্দুল লতিফ জনি স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে দলের পক্ষে এ দাবি জানান দলটির মুখপাত্র ড. আসাদুজ্জামান রিপন।

৮০ দশকের যে সমস্ত ছাত্রনেতা দের দেখে সাধারন ছাত্র ছাত্রীরা রাজনীতি করার অনুপ্রেরণা পেত, রিজভী ছিলেন তাদের শীর্ষে। তার কাব্যিক বক্তৃতা শোনার জন্য রাজনীতি বিমুখ ছাত্র ছাত্রীরাও দাঁড়িয়ে পড়ত। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে তিনি ছিলেন আপোষহীন। স্বৈরাচারের রাইফেলের গুলি পঙ্গু করে দিয়েছে কিন্তু স্তব্দ করতে পারে নাই, তিনি দমে যান নাই। বজ্রকন্ঠ, অগ্নিচেতনা নিয়ে ক্র্যাচে বা লাঠিতে ভর করে এই মানুষটা মতিহার থেকে অপারেজয় বাংলা সবখানে দাপিয়ে বেড়িয়েছেন।তার জন্ম কুড়িগ্রামে।এক অজপাড়া গাঁ থেকে রাজশাহীকে জয় করেছিলেন তিনি দৃঢ়তায়, সততায়, বাগ্মীতায় । ঠিক সেভাবেই তিনি জয় করেছিলেন সারা বাংলাদেশের তরুণ সমাজকে।

rizvi2

যে সময়ে সারা বাংলাদেশের শতকরা ৯৯ ভাগ শিক্ষা প্রতিষ্টান সমূহের ছাত্র সংসদ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের আধিপত্য ছিল, সেই সময়ের ছাত্রদলের সর্বশেষ কাউন্সিলে গোপন ভোটের মাধ্যমে যে কমিটি গঠন হয়েছিল তিনি ছিলেন সেই কমিটির সর্বাধিক ভোট প্রাপ্ত নির্বাচিত সভাপতি।তিনিই সর্ব প্রথম দেখিয়েছিলেন যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর বাইরে থেকেও কারও অনুকম্পা ছাড়াও সর্বোচ্চ রাজনৈতিক পদ পাওয়া যায়। তার পরে ছাত্রদলের নেতৃত্বের জন্য আর কাউন্সিল হয় নি। ১/১১ পরবর্তী বি এন পি র দুঃসময়ে তিনি প্রয়াত খন্দকার দেলোয়ার হোসেন এর সাথে থেকে বীর সেনানীর মত নেতৃত্ব দিয়েছেন। ফিনিক্স পাখির মতো বিএনপি’কে জাগিয়ে তুলেছিলেন, ঠিক তেমনই বিএনপির গত আন্দোলনেও তিনিই একমাত্র সৎ সাহস নিয়ে সামনে ছিলেন। যখন রাকাবের চেয়্যারম্যন ছিলেন তখন অনেক তরুণ তার অনুপ্রেরনায় কৃষি ভিত্তিক খামারে নেমেছিল। আপনার বিরুদ্ধে কোনদিন কেউ দুর্নীতির আঙুল তুলতে পারেনি। এই পঙ্গুত্ব নিয়ে তিনি বোমা মারতে যাবেন, গাড়ি ভাঙতে যাবেন এটা কোন পাগলে বিশ্বাস করবে? আপনাকে মাসের পর মাস রিমান্ডের নামে নির্যাতন করা হবে । এটা অবিশ্বাস্য।

জনপ্রিয় সৎ এই কারাবন্দি নেতা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে জানিয়েছে তার স্ত্রী আঞ্জুমান আরা আইভী। তিনি জানান, ডায়াবেটিক, হার্ট, কিডনি, পাকস্থলিসহ নানা সমস্যায় দীর্ঘদিন ধরে ভুগছেন তিনি। ত্রিশ জানুয়ারী টানা আট মাসের অধিক সময় ধরে কারাগারে বন্দী থাকায় শারীরীক এসব জটিলতা এখন প্রকট আকার ধারণ করেছে। বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিজন সেলে চিকিৎসাধীন রিজভীকে জামিন দিয়ে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে পাঠানোর দাবি জানিয়েছেন স্ত্রী আঞ্জুমান আরা। গত ৩০ জানুয়ারি রাতে গ্রেফতার হন রুহুল কবির রিজভী। গ্রেফতার হওয়ার পর একের পর এক মামলায় তাকে রিমান্ডে নেয় পুলিশ।

৩৫ দিন রিমান্ডে থাকায় অবস্থায়ই অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। রিজভী আহমেদের স্ত্রীর আবেদনের প্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট চিকিৎসার নির্দেশ দিলে গত ২২ আগষ্ট কাশিমপুর কারাগার থেকে তাঁকে চিকিৎসার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের প্রিজনসেলে স্থানান্তর করা হয়। সবচেয়ে বড় সমস্যা তার পাকস্থলির। এরশাদবিরোধী আন্দোলনে গুলিতে তার অন্ত্র ছিদ্র হয়ে যায়। সার্জারি করার পরও মাঝে মাঝে সেখানে এক ধরনের ব্লক তৈরি হয়। এতে তার মারাত্মক পেটে পীড়া দেখা দেয়। তখন তিনি কিছুই খেতে পারেন না। শুধু বমি করতে থাকেন। কারাগারে যাওয়ার পর থেকে এ সমস্যা তার বেড়েছে। তিনি আরো জানান, প্রায় ১৫ বছর আগে তার একটি গুলি অপসারণ করতে অস্ত্রোপচার করতে হয়। ওই সময় তার নাড়িভুড়ি অনেকটা কেটে ফেলতে হয়। এরপর থেকে তিনি স্বাভাবিক সব খাবার খেতে পারেন না।

images

ওই গুলির কারণে তাকে খুঁড়িয়ে হাঁটতে হয়। এছাড়াও বিগত জোট সরকারের আমলে গাড়ি দুর্ঘটনায় তার একটি হাত ও পা ভেঙে যায়। অস্ত্রোপচার করা পরও তার পা পুরোপুরো স্বাভাবিক হয়নি। কিডনি ও প্রোস্টেট গ্লান্ডের সমস্যার কারণে ইদানিং রিজভীর প্রশ্রাবে খুব সমস্যা হচ্ছে। অর্ধেক প্রশ্রাব হয়ে আটকে থাকছে। এতে প্রচ- ব্যথায় রাতে ঘুমাতে পারছেন না তিনি। তাঁর স্ত্রী আরজুমান আরা আইভী জানান, তার পায়ের অস্ত্রোপাচার ব্যাংককের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে হয়। সেখানে তার নিয়মিত চেকআপ করাতে হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন সেই চেকআপও করাতে পারেননি রিজভী আহমেদ। তিনি আরো জানান, রিজভী আহমেদকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর জন্য চিকিৎসক পরামর্শ দিয়েছেন বিধায় তাকে জামিনে মুক্তি দেয়ার দাবি জানিয়েছেন।