একজন নির্ভেজাল মানুষের অপমূত্যু

0

কুষ্টিয়া : কুষ্টিয়া সদর উপজেলার শিশিরপাড়া মাঠের কাছে শুক্রবার সকালে দুর্বৃত্তদের হাতে নিহত হোমিও চিকিৎসক মীর সানোয়ার রহমান ভিন্ন কোনো মতের ছিলেন না।

নিহতের স্বজন, স্থানীয় লোকজন ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইসলাম ধর্মকে নিয়ে কটূক্তি করা, খ্রিস্টান ধর্ম প্রচার করা এধরনের কোনো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না তিনি।

স্থানীয় ও এলাকাবাসী  জানান, কুষ্টিয়া শহরের পূর্ব মজমপুর এলাকায় হোমিও চিকিৎসক সানোয়ার রহমান ছানার পৈত্রিক বাড়ি। তারপরও মানুষের সেবা করতে শহরতলী বটতৈল শিশির মাঠে প্রায় ১৪ বছর আগে সাড়ে ৭ বিঘা জমি কিনে আম-কাঁঠাল-লিচু-সুপারি-নারকেলসহ নানা জাতের ফলের গাছ, পুকুর গড়ে তোলেন এখানে। বর্তমানে এই সম্পদের মূল্য কোটি টাকার উপরে।

খামারবাড়ির কর্মচারি আল্লেক মিয়া জানান, এসব দেখভাল করতে স্থানীয় শুকুর আলী নামে একজন কেয়ার টেকার। মালিকের অবর্তমানে শুকুর গোপনে গাছের ডাব-সুপারি, আম, পুকুরের মাছ বিক্রি করে ফেলতেন। এ কথা জানতে পেরে গত দুই বছর আগে চাকরি থেকে বাদ দেয় তাকে। সেই থেকে শত্রুতা শুরু হয় তাদের মধ্যে। সেই সূত্র ধরেই গত মঙ্গলবার জোরপূর্বক দুই বস্তা আম পেড়ে নেয় স্থানীয় যুবক রেজাউলসহ কয়েকজন।

বর্তমান কেয়ারটেকার মাহিম জানান, মালিক সানোয়ার প্রতিবাদ করে রেজাউলের ডান পাশের কানের উপর চড় মারে। এতেই ক্ষিপ্ত হয় সে। শুক্রবার দুর্বৃত্তদের হামলায় নিহত হোমিও চিকিৎসক সানোয়ারের মোটরসাইকেল, জুতার সঙ্গে তার ডান পাশের একটি কানও উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহতের ভাই মীর সাইদুর রহমান জানান, ওইদিন হোমিও চিকিৎসক সানোয়ার রহমানের সঙ্গে মোটরসাইকেলের সঙ্গী ছিলেন কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সাইফুজ্জামানও। উন্নত চিকিৎসার জন্য ওইদিন তাকে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। তারা দুজনই গান শুনতে পছন্দ করতেন। আমপাড়াকে কেন্দ্র করে ছানা একবার প্রশাসন দিয়ে এলাকার রবি নামে এক যুবককে কারাগারে দিয়েছিল। সম্প্রতি সে জেল থেকে ছাড়া পেয়েছে বলে জানা গেছে। ওই ঘটনার জের হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।

কুষ্টিয়ার বটতৈল ‘ওয়ে অব লাইফে’র ম্যানেজার লুইস বিশ্বাস জানান, আমাদের ওয়ে অব লাইফ নামে একটি খ্রিস্টান মিশনারি প্রতিষ্ঠানে সে কখনো আসেনি। আইএস তাকে হত্যা করেছে এসব নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।

কুষ্টিয়া মডেল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহাবদ্দিন জানান, এ ঘটনায় কুষ্টিয়া মডেল থানায় নিহত সানোয়ার রহমানের ভাই মীর আনিসুর রহমান বাদী হয়ে অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। এখন পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। দোষীদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে।

র‌্যাব-১২ এর সিও শাহাবুদ্দিন আহম্মেদ জানান, জঙ্গি হামলার বিষয়টি মাথায় নিয়েই তারা তদ্ন্ত কাজ চালাচ্ছে।

শনিবার সকালে কয়েক হাজার মানুষের উপস্থিতিতে নিহত চিকিৎসকের নামাজে জানাজা শেষে কুষ্টিয়া পৌর গোরস্থানে দাফন করা হয়। এ নৃশংস হত্যার প্রতিবাদে পূর্ব মজমপুরসহ এলাকাবাসী শনিবার শহরে মানববন্ধন করেছে। বন্ধ রেখেছে দোকান ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। অবিলম্বে দোষীদের গ্রেপ্তার করা না হলে বৃহৎ আন্দোলনের ডাকও দিবেন তারা।

উল্লেখ্য, জেলার সদর উপজেলার শিশিরপাড়া মাঠের কাছে শুক্রবার সকালে হোমিও চিকিৎসক মীর সানোয়ার রহমানকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় দুর্বৃত্তরা ওই চিকিৎসকের সঙ্গে থাকা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাইফুজ্জামানকেও কোপায়। এতে তিনি আহত হন। বর্তমানে তিনি ঢাকায় একটি প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।