একজন দক্ষ রাজনীতিবীদ আব্দুল্লাহ আল নোমানঃমুল্যায়ন সময় ও তৃনমূলের দাবী

0

১৯৭২ সালের ৯ই ডিসেম্বর। মুক্তিযুদ্ধের পর টাঙ্গাইলের সন্তােষে ন্যাপের প্রথম কংগ্রেস ডাকলেন মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী। সে কংগ্রেসে মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে ন্যাপের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন কাজী জাফর আহমেদ। সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন এস এ বারী এটি, আবদুল্লাহ আল নোমান, টাঙ্গাইলের আবদুর রহমানসহ চারজন।
সে কমিটিতে রাশেদ খান মেনন প্রচার এবং আবদুল মান্নান ভূঁইয়া নির্বাচিত হয়েছিলেন কৃষি সম্পাদক। (সে নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে একটি গল্প রয়েছে)। ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের সময় ভাসানী ভুখা মিছিল আর ভারতীয় পন্য বর্জন আন্দোলন শুরু করেন।
৩রা জুন লালদীঘির মাঠে ভাসানীর উপস্থিতিতে সে স্মারকলিপি পাঠ করেছিলেন তিনি। পরবর্তীকালে কাজী জাফরের সঙ্গে ইউপিপিতে যান আবদুল্লাহ আল নোমান।
১৯৭৮ সালে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট গঠন করলে তিনি বিএনপিতে যোগ দিয়ে আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এবং জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠিত শ্রমিক দলের প্রথম কমিটির সহ সভাপতি নির্বাচিত হন। পরে বিএনপির চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, যুগ্ম মহাসচিব, শ্রমিক দল সভাপতি এবং ভাইস চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব পালন করেছেন পর্যায়ক্রমে।
অন্যদিকে কাজী জাফর পরবর্তীকালে এরশাদের প্রধানমন্ত্রী, জাতীয় পার্টির মহাসচিব পদসহ অনেক পথ মাড়িয়ে মৃত্যুর আগে বিএনপি জোটে যোগ দেন।
শহিদ জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির প্রথম সরকারের উপ-প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন এসএ বারী এটি। আর সে এস এ বারী এটির ব্যক্তিগত সচিব ছিলেন (সরকারী কর্মকর্তা হিসেবে) বিএনপির আজকের মহাসচিস মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
আবদুল মান্নান ভূঁইয়া ন্যাপ থেকে বেরিয়ে কাজী জাফরের নেতৃত্বে ইউপিপির সাধারণ সম্পাদক এবং ১৯৮০ সালে বিএনপিতে যোগ দিয়ে কৃষক দলের আহ্বায়ক, পরে কৃষি সম্পাদক হন। বিএনপির ৮ বছর যুগ্ম মহাসচিব এবং ১১ বছর মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন।
রাশেদ খান মেনন ন্যাপ ভাসানীর পর ওয়ার্কার্স পার্টি করে দলটির সভাপতি হন। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান, উপদেষ্টা থেকে কেন্দ্রীয় কমিটির বতু কর্মকর্তা-সদস্য, শ্রমিক দলের শীর্ষ নেতৃত্বসহ চট্টগ্রাম বিএনপির বেশীরভাগ সিনিয়র নেতাই আবদুল্লাহ আল নোমানের সরাসরি রাজনৈতিক শিষ্য। উল্লেখিত তথ্যগুলো ওনাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের ভগ্নাংশ এগুলো পর্যালোচনার করলে নিশ্চয়ই তার রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড সম্পর্কে অনেকের ধারনা আরো পরিস্কার করবে। আবদুল্লাহ আল নোমান ১৯৭৮ সাল থেকে নিরবিচ্ছিন্নভাবে বিএনপির রাজনীতি করছেন।
অন্যদিকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ১৯৯০ সালে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ১৯৯২ সালে ঠাকুরগাঁও বিএনপির সভাপতি, ২০১০ সালে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং ২০১৬ সালে মহাসচিব মনোনীত হন। ১/১১’র আগে তিনি কৃষক দলের সহ-সভাপতি ছিলেন। মওলানা ভাসানীর ন্যাপ বিলুপ্তির পর বিএনপিতে যোগ দেন তরিকুল ইসলাম।
১৯৮০ সালে বিএনপির তৎকালীন চেয়ারম্যানের বিশেষ সচিব, যুগ্ম মহাসচিব, ভাইস চেয়ারম্যান এবং ৭ বছর আগেই স্থায়ী কমিটির সদস্য হয়েছেন তিনি। ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ১৯৭৭-৭৯ সালে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সরকারের মন্ত্রী, উপদেষ্টা, উপ-প্রধানমন্ত্রীর মর্যাদা ভোগ করেন। জিয়ার মৃত্যুর পর এরশাদের জাতীয় পার্টিতে যোগ দিয়ে তিনি উপ-প্রধানমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী, উপ-রাষ্ট্রপতির মর্যাদা ভোগ করেন। ১৯৯৬ সালে বিএনপিতে ফিরে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য হন।
এম কে আনোয়ার ১৯৯১ সালে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ১৯৯৭ সাল থেকে ভাইস চেয়ারম্যান এবং ২০০৯ থেকে স্থায়ী কমিটির সদস্য হয়েছেন। ১৯৯৯ সালের ২২ মার্চ বিএনপিতে যোগ দিয়ে ২০০৬ সালে স্থায়ী কমিটিতে পদোন্নতি পেয়েছেন লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান।
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ১৯৯১ সালে পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৮ (পাহাড়তলী-ডবলমুরিং-বন্দর) আসনের উপ-নির্বাচন থেকে।
সালাহউদ্দিন আহমেদ ১৯৯১-৯৫ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে। ১৯৯৫ সালে বিএনপিতে যোগ দিয়ে তিনি ৯৬ সাল থেকে কক্সবাজার জেলা সভাপতি ২০০৯ থেকে যুগ্ম সম্পাদক এবং বর্তমানে স্থায়ী কমিটিতে পদোন্নতি পেয়েছেন।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য এবং প্রথম ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন স্থায়ী কমিটির সদস্য হয়েছেন দুই দশক আগে। স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান সবাই রাজনীতি এবং বয়সে তার জুনিয়র। এমনকি বিএনপির রাজনীতিতে তারা ২০০৯ সাল পর্যন্ত নোমান ভাইয়ের পরের পদে দায়িত্ব পালন করছেন।
বিএনপির এককালের প্রভাবশালী সদস্য, বর্তমানে এলডিপি প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রম আগেই বিএনপির রাজনীতি আসেন নোমান। ১৯৮০ সালে বিএনপিতে যোগ দিয়ে অলি দুই দশক আগে স্থায়ী কমিটির সদস্য নির্বাচিত এবং এক দশক আগে বিএনপি ছাড়েন। যারা বিএনপি স্থায়ী কমিটির আলোচনায় আছেন।
চট্টগ্রাম লালদিঘির ময়দান থেকে লক্ষ জনতার বিশাল সমাবেশ থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে জননেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব আব্দুল্লাহ্ আল নোমান ১৯৮৮ সালে দেশনেত্রী খেতাবে ঘোষনা করেন।বাংলাদেশের সব চেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী আজকের গণতন্ত্রের মাতা বেগম খালেদা জিয়াকে।
এটা কোন বিদ্রোহ নয়। নয় কোন দেশনেত্রীর পরিবারকে নিয়ে কোন জীব জন্তুর অঙ্গঁ প্রত্যঙ্গেঁর উদাহারন দিয়ে সমালোচনা। এটা কেবল তৃনমুলের ও চাটগাঁবাসীর প্রাণের দাবী।

(ফেসবুক হতে সংগ্রীহিত

সংগ্রহেঃআলফাজ উদ্দিন)