একজন কর্মীর আর্তনাদ এবং শহীদ জিয়া

0

১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামের সার্কিট হাউসে জিয়াকে হত্যার এক মাস পর ওই বছরের ১ জুন নগরীর কোতয়ালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয় বলে জানা গেছে। তৎকালীন নগর গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তা মোকাররম হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। চট্টগ্রামের তৎকালীন জিওসি মো. আবুল মঞ্জুরসহ ১০ জনকে আসামি করা হয়। বাকিরা হলেন— কর্নেল দেলোয়ার হোসেন, মেজর ফজলে হোসেন, মেজর মোজাফ্ফর আহমেদ, মেজর রেজাউল করিম, মেজর দোস্ত মোহাম্মদ, ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ রফিক, ক্যাপ্টেন জামিউল হক ও ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ ইলিয়াস।

মামলা দায়েরের প্রায় দু’বছর পর ১৯৮৩ সালের ১০ এপ্রিল এটি বিচারের জন্য নথিভুক্ত হয়। কোতয়ালী থানার এ মামলার তদন্তের দায়িত্ব পান তৎকালীন সহকারী কমিশনার আব্দুল হক। কিন্তু বছরের পর বছর গেলেও তদন্ত হয় না। আদালতে একের পর এক শুনানির তারিখ পড়তে থাকে। ১৯৯১ থেকে ’৯৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকলেও মামলার কোনো অগ্রগতি হয়নি।

এর পর ’৯৮ সালে মামলাটির পুনর্তদন্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। মামলা সিআইডিতে স্থানান্তর করা হয়। পরবর্তী সময়ে এর নথিপত্রের হদিস না পাওয়ায় মামলাটির কোনো অগ্রগতি হয়নি। থানা থেকে গায়েব হয়ে যায় মামলার নথি। পুলিশের তৎকালীন সহকারী কমিশনার আব্দুল কাদের খান ‘এ বিষয় কিছুই করার নেই’ মর্মে উপর মহলে জানিয়ে দেন। শেষ পর্যন্ত ২০০১ সালের অক্টোবরে পুলিশ চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। তাতে বলা হয়, ‘জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের বিচার যেহেতু সামরিক আদালতে হয়েছে তাই আর কিছু করার নেই’।

তবে কি আমাদের বন্ধী থাকতে হবে দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রে খুন তথ্যে’ কিন্তু আমরা বের হতে চাই, আমরা জানতে চাই, বিচারের আওতাভুক্ত করতে চাই কৃষক রাজার খুনিদের। ফৌজদারি অপরাধ তামাদি হয় না। ইনশাআল্লাহ আমরা খুনিদের বিচারের মুখামুখি করবো এই হোক আমাদের দিপ্ত শপথ।

আমার নেতার একটা ঘটনা দিয়ে ইতি টনছি ঃ ১৯৭৬ সালের ১৩ মার্চ ঢাকা মহানগরের রামপুরায় অবস্থিত টেলিভিশন ভবনে, তৎকালীন বেতার ও তথ্য বিভাগের পদস্থ অফিসারদের এক সমাবেশে জেনারেল জিয়াউর রহমান বলেছিলেন (দৈনিক বাংলা ১৪ মার্চ ১৯৭৬): ‘আমরা সকলে বাংলাদেশী। আমরা প্রথমে বাংলাদেশী এবং শেষেও বাংলাদেশী। এই মাটি আমাদের, এই মাটি থেকে আমাদের অনুপ্রেরণা আহরণ করতে হবে। জাতিকে শক্তিশালী করাই আমাদের লক্ষ্য। ঐক্য, শৃঙ্খলা, দেশপ্রেম, নিষ্ঠা ও কঠোর মেহনতের মাধ্যমেই তা সম্ভব।’

জিয়াউর রহমান একজন সামরিক সৈনিক থেকে হয়েছিলেন একজন রাজনীতিবিদে এবং পেয়েছিলেন রাষ্ট্রনায়কের মর্যাদায়। অন্যদিকে জিয়াউর রহমানও একজন মানুষ ছিলেন; মানুষ হিসেবে তারও ভুলভ্রান্তি ছিল; ভুলভ্রান্তি থাকাই স্বাভাবিক; কিন্তু তার অর্জন ছিল অনেক বেশি, অনেক মহৎ ও অনেক তাৎপর্যপূর্ণ।