এই দেশেই এখন গণতন্ত্রের গ-ও নাই;মির্জা ফখরুল ইসলাম

0

জিসাফো ডেস্কঃ সরকারের অনুমতি না পাওয়ায় ‘বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে ৭ নভেম্বর রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করতে চেয়েও তা পারেনি বিএনপি। এমন অবস্থায় ১৩ নভেম্বর আবার সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছি বিএনপি।

এর আগে ৮ নভেম্বরের আলোচনা অনুষ্ঠান করতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে ২৭টি শর্তে ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সস্টিটিউশন মিলনায়তনের জন্য অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। যা বিএনপি গ্রহণ করেনি।

শর্তগুলো হলো : ১) এই অনুমতিপত্র স্থান ব্যবহারের অনুমতি নয়। ২) স্থান ব্যবহারের জন্য অবশ্যই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে অনুমতি নিতে হবে। ৩) ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনের অভ্যন্তরে আলোচনা সভার যাবতীয় কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। ৪) আলোচনা সভার নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য পর্যাপ্ত নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক (দৃশ্যমান আইডি কার্ডসহ) নিয়োগ করতে হবে। ৫) স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী নিজেস্ব ব্যবস্থাপনার আলোচনা সভাস্থলের অভ্যন্তরে ও বাইরে উন্নত রেজুলেশনযুক্ত সিসি ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে। ৬) নিজেস্ব ব্যবস্থাপনায় প্রতিটি প্রবেশগেটে আর্চওয়ে স্থাপন করতে হবে এবং আলোচনা সভায় আগতদের হ্যান্ড মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে চেকিং ব্যবস্থা করতে হবে। ৭) নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় vehicle scanner/search Mirror এর মাধ্যমে আলোচনাসভাস্থলে আগত সকল যানবাহন তল্লাশির ব্যবস্থা করতে হবে। ৮) নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় আলোচনা সভাস্থলে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা রাখতে হবে। ৯) ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনের বাইরে বা সড়কের পাশে মাইক/সাউন্ডবক্স ব্যবহার করা যাবে না। ১০) ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনের বাইরে বা সড়কের পাশে প্রজেকশন স্থাপনা করা যাবে না। ১১) ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনের বাইরে, রাস্তায় বা ফুটপাতে কোথাও লোক সমবেত হওয়া যাবে না। ১২) আযান, নামাজ, ও অন্যান্য ধর্মীয় সংবেদনশীল সময় মাইক/শব্দযন্ত্র ব্যবহার করা যাবে না। ১৩) ধর্মীয় অনুভূতির উপর আঘাত আসতে পারে এমন কোনো বিষয়ে ব্যাঙ্গচিত্র প্রদর্শন বক্তব্য প্রদান বা প্রচার করা যাবে না। ১৪) অনুমোদিত স্থান ব্যতিত অন্য কোনো স্থানে আলোচনা সভা করা যাবে না। ১৫) আলোচনা সভা ব্যতিত মঞ্চকে অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করা যাবে না। ১৬) আলোচনা সভা শুরুর দুই ঘণ্টা পূর্বে লোকজন সমাবেত হওয়ার জন্য আসতে পারবে। ১৭) ১৬.৩০ ঘটিকার মধ্যে আলোচনা সভার সার্বিক কার্যক্রম শেষ করতে হবে। ১৮) ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনের আশপাশসহ রাস্তায় কোনো অবস্থাতেই সমবেত হওয়াসহ যান ও জন চলাচলে কোনো প্রকার প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা যাবে না। ১৯) আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হয় এমন কার্যকলাপ করা যাবে না। ২০) রাষ্ট্রবিরোধী কোন কার্যকলাপ ও বক্তব্য প্রদান করা যাবে না। ২১) উস্কাকানিমূলক কোনো বক্তব্য প্রদান ও বিলি করা যাবে না। ২২) কোন ধরণের লাঠিসোটা, ব্যানার, ফেস্টুন বহনের আড়ালে লাঠি, রড ব্যবহার করা যাবে না। ২৩) মিছিল সহকারে আলোচনাসভায় আসা যাবে না। ২৪) রাস্তায় কোনো গাড়ি পাকিং করা যাবে না। ২৫)আইন-শৃঙ্খলা ও কোনো বিরূপ পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে আয়োজনকারী কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবেন। ২৬) উল্লেখিত শর্তাবলী যাথাযাথভাবে পালন না করলে তাৎক্ষণিকভাবে এই অনুমতি আদেশ বাতিল বলে গণ্য হবে। ২৭) জনস্বার্থে কর্তৃপক্ষ কোনো কারণ দর্শানো ব্যাতিরেকে এই অনুমতি আদেশ বাতিল করার ক্ষমতা সংরক্ষণ করেন।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর টেলিফোনে  বলেন, ‘উই আর টোটালি কর্নারড। কী আর বলার আছে? এদেশে কিছু করা যাবে না। আমাদেরকে বলে যে, আমাদের দলের ভেতর গণতন্ত্র নাই। আসলে এই দেশেই এখন গণতন্ত্রের গ-ও নাই।’

ফখরুল আরো বলেন, ‘মার্শাল ল ছাড়া এত শর্ত দিয়ে সমাবেশ করার কথা শুনিনি। আগে আমাদের আট বা নয়টি শর্ত দিয়ে সমাবেশ করতে বলত। এখন তা বাড়তে বাড়তে ২৭ এ গেল।’