ঋণ পরিশোধে অপারগ গৃহবধূকে গণধর্ষণ আ.লীগ-যুবলীগের

0

এম এ আজিজ রনিঃ নগরীর বাকলিয়ায় ক্ষুদ্রঋণের কিস্তির টাকা জমা দিতে না পারার অপরাধে স্বামী-স্ত্রী দু’জনকেই তুলে নিয়ে কার্যালয়ে আটকে রেখে মারধর ও গভীর রাতে ওই গৃহবধূকে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। গণধর্ষণে জড়িতরা সবাই স্থানীয় আওয়ামী লীগ-যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ধর্ষিতা। ইতোমধ্যে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে নগরীর বাকলিয়া থানার কল্পলোক আবাসিক এলাকায় খালপাড়ে ক্ষুদ্রঋণদানকারী ওই প্রতিষ্ঠানের অফিসে এ গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার একদিন পর ৬ নভেম্বর রাতে ওই নারী বাদী হয়ে বাকলিয়া থানায় চারজনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। আসামিরা হলেন— নূর মোহাম্মদ (৩৫), ছাব্বির প্রকাশ ছাগের (৩৬), রাসেল (২৫) এবং মো. বাহাদুর ওরফে অ্যাডভোকেট বাহাদুর (৩৫)। পুলিশ ধর্ষণে সহায়তার অভিযোগে অ্যাডভোকেট বাহাদুর (৩৫) নামে এক আইনজীবী ও সাবেক যুবলীগ নেতা এবং ধর্ষক ছাব্বির ওরফে ছাগেরকে (৩৬) গ্রেপ্তার করেছে। বাকলিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ মহসিন জানান, নূর মোহাম্মদের একটি মাল্টিপারপাস কোম্পানি আছে। ওই কোম্পানি থেকে বাকলিয়ার দরিদ্র, ভাসমান পর্যায়ের লোকজনকে ক্ষুদ্রঋণ দেয়া হয়। অ্যাডভোকেট বাহাদুরেরও ওই কোম্পানিতে বিনিয়োগ আছে। নূর মোহাম্মদ ও বাহাদুরসহ চারজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা হয়েছে। আমরা বাহাদুর এবং ছাগেরকে গ্রেপ্তার করেছি। বাকি দু’জনকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে ধর্ষিতা তরুণীর স্বামী নূর মোহাম্মদের প্রতিষ্ঠান থেকে সুদে তিন হাজার টাকা ঋণ নেন। প্রথম দুই কিস্তির টাকা তিনি ঠিকভাবে পরিশোধ করেন। আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারণে পরবর্তী কিস্তির টাকা আর পরিশোধ করতে পারেননি। টাকা আদায়ের জন্য বাকলিয়ার আব্দুল লতিফ হাট এলাকায় আব্দুন নূর কলোনিতে ১৮ বছর বয়সী ওই গৃহবধূর বাসায় গিয়ে তাকে এবং তার স্বামীকে তুলে নিয়ে যায় ছাব্বির এবং রাসেল। তাদের কল্পলোক আবাসিক এলাকায় খালপাড়ে ক্ষুদ্রঋণদানকারী ওই প্রতিষ্ঠানের অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে নূর মোহাম্মদ এবং বাহাদুর আগে থেকে ছিল। রাত সাড়ে ৯টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ওই গৃহবধূ এবং তার স্বামীকে চারজন মিলে মারধর করে ব্যাপক জখম করে। রাত ১১টার দিকে বাহাদুর ওই অফিস থেকে চলে যায়। রাত আড়াইটা থেকে শুক্রবার ভোর সাড়ে ৪টা পর্যন্ত রাসেলের সহযোগিতায় নূর মোহাম্মদ এবং ছাগের মিলে তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে বলে মামলার এজাহারে অভিযোগ করেছেন ওই গৃহবধূ। এদিকে মামলা দায়েরের পর পুলিশ ওই গৃহবধূর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে বলে ওসি জানিয়েছেন। পুলিশ আরো জানায়, গ্রেপ্তারের পর বাহাদুর নিজেকে প্রথমে দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক আইন বিষয়ক সম্পাদক বলে পরিচয় দেয়। নিজেকে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য দাবি করে পুলিশের সঙ্গে বাহাদুর উদ্ধত আচরণ করে বলেও সূত্র জানিয়েছে।