উ. কোরিয়ার পরমাণু পরীক্ষা নিয়ে বিশ্ব জুড়ে নিন্দা

0

ঢাকা: সম্প্রতি বুধবার হাইড্রোজেন বোমার সফল পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া। এ নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। শুধু তাই নয় এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যদের মধ্যে এক জরুরি বৈঠক ডেকেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন। এ তথ্য প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের মার্কিন মিশন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন কূটনীতিক রয়টার্সকে জানিয়েছেন, উত্তর কোরিয়ার পরমাণু বিষয়ে রুদ্ধদ্বার আলোচনা হয়েছে। মার্কিন মিশনের মুখপাত্র হেগার চেমালি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ‘ উত্তর কোরিয়ার পরমাণু পরীক্ষা সম্পর্কে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং জাপান নিরাপত্তা পরিষদকে জরুরি বৈঠকের জন্য বুধবার অনুরোধ জানিয়েছে।’

তিনি আরো জানিয়েছেন, ‘যদিও আমরা উত্তর কোরিয়ার পরমাণু পরীক্ষার বিষয়টি নিয়ে এই মুহূর্তে নিশ্চিত নই তবু আমরা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের আওতায় যে কোনো ধরনের সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানাই। এছাড়া আমরা আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা এবং অঙ্গীকার রক্ষায় উত্তর কোরিয়াকে আহ্বান জানাচ্ছি।’

এদিকে উত্তর কোরিয়ার চতুর্থ সফল পারমাণবিক পরীক্ষার পর দেশটির বিরুদ্ধে সবচেয়ে শক্তিশালী এবং বিস্তৃত নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্ররাষ্ট্র এবং দক্ষিণ কোরিয়া।

বুধবার উত্তর কোরিয়া জানিয়েছিল, তারা প্রথমবারের মত হাইড্রোজেন বোমার সফল পরীক্ষা চালিয়েছিল। এতে করে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়া এমনকি উত্তর কোরিয়ার একমাত্র মিত্র দেশ চীনসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রের মধ্যে উদ্বেগ এবং বিদ্বেষ ছড়িয়ে পড়েছে।

উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক পরীক্ষার বিষয়ে বৃহস্পতিবার সকালে ২০ মিনিট ধরে ফোনালাপ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট পার্ক গিয়ন হাই। পার্কের কার্যালয়ের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

তারা জানিয়েছে, ‘দুই নেতা আরো কিছু বিষয়ে একমত হয়েছেন। তারা দু’জনই এ বিষয়ে একমত যে উত্তর কোরিয়ার সাম্প্রতিক পারমাণবিক পরীক্ষার জন্য দেশটিকে যথেষ্ট মূল্য দিতে হবে। সেই সঙ্গে তারা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের শক্তিশালী প্রস্তাবেরও সমর্থন করেছেন।’

কম্প্রিহেনসিভ নিউক্লিয়ার টেস্ট ব্যান ট্রিটি অরগ্যানাইজেশনের প্রধান ( সিটিবিটিও) লেসিনা জেরবো জানিয়েছেন, ‘পারমাণবিক এই পরীক্ষা সার্বজনীন গৃহিত পারমাণবিক পরীক্ষা নীতিকে লঙ্ঘন করেছে। এটা আন্তর্জাতিক শান্তি এবং নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও বড় ধরনের হুমকি। ২০১১ সালে দেশটিতে কিম জং উন ক্ষমতায় আসার পর এটা দ্বিতীয় বারের মত পারমাণবিক পরীক্ষা। এর আগে দেশটি ২০১৩ সালে একটি পারমাণবিক পরীক্ষা চালিয়েছিল। ১৯৯৬ সাল থেকে ১শ ৬০টির বেশি দেশ পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি ও ব্যবহারের বিরুদ্ধে সিটিবিটির পক্ষে অনুমোদন দিয়েছে।

তবে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক পরীক্ষার জন্য বেশ বেগ পেতে হবে ২০১৬ সালে দেশটির ডেমিক্রেটি দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী এবং সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনকে। কেননা অনেকেই ওবামা এবং হিলারির পররাষ্ট্র নীতির দিকে আঙ্গুল তুলেছেন। দেশটির রিপাবলিকান দলতো সরাসরি এই ঘটনায় ওবামা এবং হিলারির পররাষ্ট্র নীতিতে দায়ী করেছেন। তাদের দাবি ওবামা/হিলারির দুর্বল এবং নড়বড়ে পররাষ্ট্র নীতির জন্যই উত্তর কোরিয়া হাইড্রোজেন বোমা হামলার সফল পরীক্ষা চালাতে সক্ষম হয়েছে।

অপরদিকে উত্তর কোরিয়ার এ ধরনের পরীক্ষাকে তীব্র নিন্দা করে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ‘উচ্চ মাত্রার উত্তেজক’ বলে বিবেচনা করেছেন দেশটির বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি। তিনি এক বিবৃতিতে এ ধরনের পরীক্ষাকে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের জন্য চরম হুমকি এবং নিরাপত্তা পরিষদের নীতি লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ‘আমরা উত্তর কোরিয়াকে একটি পারমাণবিক অস্ত্রধারী শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে মানি না এবং মেনে নেব না।’

এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জাপান জানিয়েছে, এ ধরনের পরীক্ষা নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের পরিপন্থী। জাপানের প্রধানমন্ত্রী এই ঘটনাকে ‘বিপজ্জনক’ বলেও আখ্যা দিয়েছেন। তবে এই পরীক্ষাকে ঐতিহাসিক সাফল্য হিসেবে তুলে ধরে অন্যান্য পরমাণু অস্ত্রসম্ভারে এগিয়ে থাকা দেশগুলির সমকক্ষ হয়েছে বলে দাবি করেছে উত্তর কোরিয়া।

গতমাসেই উত্তর কোরিয়ার তরুণ নেতা কিম জং উন দাবি করেছিলেন যে, তারা ইতোমধ্যেই হাইড্রোজেন বোমা তৈরি করে ফেলেছেন। তার এই দাবি নিয়ে অবশ্য সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু বুধবারই হাইড্রোজেন বোমার পরীক্ষামূলক বিস্ফোরণের দাবি জানিয়েছে পিয়ংইয়ং।

বিশ্ব জুড়ে উত্তেজনা ছড়াতেই পিয়ংইয়ং এই পরীক্ষামূলক বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে বলে মন্তব্য করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এক্ষেত্রে তারা কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণেরও হুঁশিয়ারি জানিয়েছে।