উন্নয়নের কথা বলে আওয়ামীলীগ তাদের পকেটের উন্নয়ন করছে

0

জিসাফো ডেস্কঃ বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণকে ইউনেস্কোর ইন্টারন্যাশনাল মেমোরি রেজিস্ট্রারে অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে স্বীকৃতি প্রদান উপলক্ষে রাষ্ট্রীয়ভাবে উদযাপনে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সমাবেশের প্রতি ইঙ্গিত করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘বড় গলায় বড় বড় অনুষ্ঠান করে স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী শিক্ষকদের সরকারি চিঠি পাঠায় হাজির হতে হবে। না হলে সরকারি অনুদান বন্ধ হয়ে যাবে, চাকরি চলে যাবে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চিঠি দেয় হাজির না হলে ৫/৬ দিনের বেতন কাটা যাবে। লেক তৈরি করা হয়েছে। সেই লেকের পাশে স্টেজ নির্মাণ করে বুলেট প্রুফ মঞ্চে দাঁড়িয়ে বক্তৃতায় বলা হচ্ছে, বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল।’

তিনি বলেন,‘ডেভেলপমেন্ট কার হচ্ছে? ডেভেলমেন্ট আপনাদের হচ্ছে। উন্নয়ন হচ্ছে আপনাদের উন্নয়ন, গুটি কতক মানুষের ‍উন্নয়ন। যারা কয়েকটি প্রতিষ্ঠান তৈরি করে একদিকে বিদ্যুৎখাত থেকে লুটছে, অন্যদিকে মেগা প্রকল্প, ফ্লাইওভার, এক্সপ্রেস ওয়ে ইত্যাদি করে লুটপাট করেছে।’

শনিবার বিকেলে গুলশানে হোটেল লেকসোরে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন ইউনিভার্সিটি টিচার্স (এগ্রিকালচারাল সায়েন্স) এর উদ্যোগে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৫৩তম জন্মদিবস উপলক্ষে ‘তারেক রহমানের রাজনীতি এবং কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন বাংলাদেশ ‍কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক গোলাম হাফিজ কেনেডি।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এই উন্নয়নের কথা বলে তারা (ক্ষমতাসীন) তাদের পকেটের উন্নয়ন করছে। তারা নিজেদের বিত্ত তৈরি করছে, সেই বিত্ত তৈরি ছাড়া আর কিছু হচ্ছে না। কিছুদিন আগেও পত্র-পত্রিকায় সংবাদ বেরিয়েছে বাংলাদেশে কিছুসংখ্যক মানুষ অনেক উন্নত হচ্ছে, তাদের বিত্ত বাড়ছে আর কিছুসংখ্যক মানুষ দারিদ্র সীমার আরও নিচে চলে যাচ্ছে।’

একাত্তরের ৭ মার্চ ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে ভাষণ দিয়েছিলেন সেই ভাষণকে ‘ঐতিহাসিক’ হিসেবে আখ্যায়িত করলেও ইউনোস্কোর স্বীকৃতি যেভাবে উদযাপন করা হয়েছে এর সমালোচনা করেন মির্জা ফখরুল।

ফখরুল বলেন, ‘৭ মার্চের যে ভাষণ নিঃসন্দেহে তা ঐতিহাসিক। ইউনেস্কোর একটা তালিকায় এই ভাষণ যুক্ত হয়েছে। খুব ভালো কথা। অস্বীকার কে করেছে? আপনারা এতো বছর পরে হঠাৎ ঢাকঢোল পিটিয়ে নামছেন, তখন কিন্তু দেশের মানুষ কষ্টে আছে। আবারো চালের দাম ৬০ টাকা হয়েছে। বলেছিলেন বিনামূল্যে সার দেবেন, এখন সেই সার তিন গুণ বেশি দামে কিনতে হচ্ছে।’

ফখরুল বলেন, ‘প্রশাসন শেষ হয়ে গেছে। এখানে তাদের পছন্দ মতো লোককে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিচ্ছে এবং দলীয়করণ করা হচ্ছে সর্বক্ষেত্রে। বিচার বিভাগ শেষ করে ফেলেছে। প্রধান বিচারপতিকে মতের মিল না হওয়ায় তাকে প্রথমে এক মাসের ছুটি নিতে বাধ্য করা হয়েছে এবং পরে দেশ থেকে তাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। স্থায়ীভাবে চলে যেতে হয়েছে এবং তাকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছে।’

‘সংসদ নেই। যে সংসদ এটাকে সংসদ বলা যায় না। ১৫৪ জন অনির্বাচিত এবং শতকরা ৫ ভাগ ভোটে সংসদ দাঁড়িয়ে আছে। এই সংসদে একটা বিরোধী দল আছে তারা সরকারে আছে। তাহলে রাষ্ট্রের পিলারগুলো কোথায়?- বলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল।

রোহিঙ্গাদের মায়ানমারে ফেরত পাঠানোর ‘সমঝোতা চুক্তি’ নিয়ে প্রশ্ন তুলে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আপনারা (সরকার) রোহিঙ্গা বিষয়ে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে চুক্তি করে ফেললেন মায়ানমারের সঙ্গে, ভালো কথা। কিন্তু আমি পেলাম কী? কিছুক্ষণ আগে জানতে পারলাম পররাষ্ট্র মন্ত্রী ব্রিফিং করেছেন ২০১৬-তে যারা এলো শুধু তাদের ফেরত নেবে। বাকিগুলোর ব্যাপারে তারা কোনো কথা বলবে না। তাও আবার কখন থেকে ফেরত নেবে, কবে শেষ হবে তাও কিছু বলা হয়নি।’

মায়ানমার সফর করে দেশটির সঙ্গে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে একটি সম্মতিপত্র সই করে এসে শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেন, ‘স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী মায়ানমার গত ৯ অক্টোবর ২০১৬ এবং ২৫ আগস্ট ২০১৭ এর পরে বাংলাদেশে আশ্রয়গ্রহণকারী বাস্তুচ্যুত রাখাইন রাজ্যের অধিবাসীদের ফেরত নেবে। এই চুক্তির অধীনে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের পর ৯ অক্টোবর ২০১৬ এর আগে বাংলাদেশে আশ্রয়গ্রহণকারী বাস্তুচ্যুত রাখাইন রাজ্যের অধিবাসীদের প্রত্যাবাসনের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

মির্জা ফখরুল অভিযোগ করে বলেন, ‘জাতিসংঘকে সম্পূর্ণ বাইরে রেখে অন্যান্য দেশগুলো যারা ইন্টারেস্টেড তাদের বাইরে এই কাজগুলো করে এলেন অতি দ্রুততার সঙ্গে। প্রধানমন্ত্রী একবারও গেলেন না মায়ানমারে বা চীনে বা ভারতে বা রাশিয়ায়। আমরা বারবার বলেছি ডিপলোমেটিক যে যে এফোর্স, সেই এফোর্সগুলো আমরা দেখতে পেলাম না।’

এছাড়া কৃষি উন্নয়নে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়ার নানা পদক্ষেপ এবং দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের চিন্তাভাবনা তুলে ধরেন বিএনপি মহাসচিব।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো. ইদ্রিস মিয়া‘র সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য অধ্যাপক তাহমেরী এস ইসলাম, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের সাবেক চেয়ারম্যান মোখলেছুর রহমান, এগ্রিকালচারিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য সচিব কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন, নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কামরুজ্জামান কায়সার, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের ডিন অধ্যাপক আবদুল কুদ্দুস প্রমূখ বক্তব্য দেন।

সেমিনারে উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে অধ্যাপক ইসমাইল হোসেন কচি, অধ্যাপক মো. মাহবুব আলম, অধ্যাপক আমীর হোসেন, অধ্যাপক তরিকুল ইসলাম, অধ্যাপক মোশাররফ হোসেন, অধ্যাপক সিদ্দিকুল ইসলাম, অধ্যাপক আবু তালেব, দেলোয়ার হোসেন টিটু, সামিউল ইসলাম, মমতাজ উদ্দিন আহমেদ, তৌহিদুল ইসলাম, এনামুল কাদির প্রমুখ।