উত্তরাঞ্চলীয় জেলা “কুড়িগ্রাম” এবং “ঠাকুরগাঁয়ে”র বন্যা দূর্গত মানুষের মাঝে ত্রান বিতরন

0

জিসাফো ডেস্কঃ দেশের উত্তরাঞ্চলীয় জেলা “কুড়িগ্রাম” এবং “ঠাকুরগাঁয়ে”র বন্যা দূর্গত মানুষের জন্য রিটায়ার্ড আর্মস ফোর্সেস অফিসার্স ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন (RAOWA) এবং সাধারন জনগনের সমন্বিত উদ্যোগে, জিয়া সাইবার ফোর্স এর তত্ত্বাবধায়নে ত্রান বিতরন করা হয়।

যারা ক্লান্তিকে বদলেছে হাসিতে আনন্দে, রাতের ঘুম কে বিসর্জন দিয়েছে মানুষের সেবায়।তারাই তো নায়ক। KM Mahabub KM Sobuj জহিরুল, বিধান,আলামিন,সহ এই ছোট্ট সোনামণি যে রাত জেগে আনন্দ নিয়ে ত্রানের কাজে তার নিষ্পাপ হাসি দিয়ে জুগিয়েছে উতসাহ। তোরাই মানুষ। হ্যাটস অফ

আমাদের বেশির ভাগ দ্রব্য সামগ্রী পৌছেছি, শুরু হয়েছে প্যাকিং, চলবে সারা রাত , চ্যারিটি কন্সার্ট এর পরের অংশ।সেই সাথে রাস্তার ভয়াবহ যানজট কে মাথায় রেখে ত্রানবাহী ট্রাক কে পর্যাপ্ত সময় হাতে নিয়ে ছাড়তে চাই যাতে করে নির্ধারিত সময়ে আমরা ত্রান পৌছে দিতে পারি অসহায় পরিবারের হাতে।কাউকে যেন ত্রান নিতে এসে রোদে পুড়ে অসুস্থ হতে না হয়।

কাল চলবে চ্যারিটি কন্সার্ট এর প্রচারনায় পোস্টারিং, Ahamed Musa Belal Akib Khan সালেহ আব্দুল্লাহ Shipon Ahmed সহ কয়েকজন ঢাকার বেশকয়েক টি স্পটে সকাল সন্ধ্যা পোস্টারিং করবে।

KM Harun ভাই নিয়ে কিছু বললাম না, কঠোর ও সুশৃংখল ব্যাবস্থাপনা নিয়ে প্রশংসা যতই করি কম হবে।

ফ্ল্যাশব্যাক
এই লেখাটি যখন আমি লিখছি, তখন কুড়িগ্রাম থেকে ৪০০ কিলোমিটার দূরে বসে স্মৃতির মনস্পটে দেখছি বানভাসি হতভাগা মানুষের অসহায় শুন্য দৃষ্টি, শুনছি তাদের আর্তনাদ, বারবার সেই আশীতিপর বৃদ্ধ বৃদ্ধার ৫০ বছরের শ্রম দিয়ে সাজানো টিনের একটি মাত্র ঘর বিলীন হয়ে যাওয়ার কথা নিজেকে বড় অসহায় করে তুলছে।বাধের উপর আশ্রয় নেওয়া বৃদ্ধার শেষ সম্বল হারানোর বোবা কান্না আর শুন্য দৃষ্টির সামনে বড় অপরাধী লাগছে নিজেকে।এরকম হাজারো মানুষের কান্না শুনেছি কুড়িগ্রাম জেলার হলোখানা ইউনিয়নের হামিরকুঠি বাধ এর দুর্গত এলাকায়।ছোট শিশুগুলো ত্রান দেব শুনে সে কি আনন্দ।বিশ্বাস করুন শত কোটি টাকায় ও সে আনন্দ,নির্মল হাসি কিনতে পারবেন না।

 

 

Razaul Karim BD ভাই হলোখানা ইউনিয়নের নিবেদিত প্রান একজন সমাজকর্মী ও জি সা ফো প্রতিনিধি, যেদিন জানিয়েছি Shohidul Islam Babul ভাই ও Wahid Un Nabi ভাই এর উদ্যোগে সর্বসাধারণ ও অবসরপ্রাপ্ত সামরিক বাহিনীর মহৎ প্রান মানুষগুলি বাড়িয়ে দিয়েছে সাহায্যের হাত,আসছি আমরা পৌছে দিতে সেই ভালোবাসা,সেই সাহায্যকে আপনাদের এলাকায়, সেদিন থেকে মানুষটি এই ত্রাণ কার্যক্রম কে সুষ্ঠ ও সুশৃংখল ভাবে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত দের মাঝে বিতরনের সকল প্রচেষ্টা সফল ভাবে সম্পন্ন করেছেন।এ জন্যই তিনি উপজেলা শহরে নয় নিয়ে গিয়েছেন প্রায় ১৫ কিলো ভেতরে হামির কুঠি বাধে যার পাশে রয়েছে শহীদ রাষ্ট্র পতি জিয়াউর রহমানের নিজ হাতে খনন করা জিয়া ক্যানেল।

সফল ভাবে সম্পন্ন হয়েছে ত্রান কার্যক্রম।৩২০ টি দুর্গত পরিবার কে ত্রান দ্রব্য সহয়াতা, প্রায় ২০০ পরিবারকে বস্ত্র সহায়তা ও ২৯ টি পরিবার কে নগদ ১০০০০ টাকা ও ক্ষতিগ্রস্থ ১ টি মসজিদ এ ১০০০০ টাকা করে দেয়া হয়েছে।

 

অন্তরের অন্তস্থঃল থেকে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা রইল কূড়িগ্রাম হলোখানা ইউনিয়ন পরিষদের ৬ বার নির্বাচিত চেয়ারম্যান ওমর চাচা, সজল ভাই, জীবন ও তার বন্ধুদের প্রতি।

সারাজীবন কৃতজ্ঞ থাকব ক্যাপ্টেন রেজা স্যার, Amiruzzaman Khan Shimul চাচা ও (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) স্যারের প্রতি, উনারা উনাদের মুল্যবান সময় ও ব্যাস্ততার তোয়াক্কা না করে চলে এসেছিলেন আমাদের সাথে এই হতভাগা দুর্গত মানুষগুলোর মাঝে মিশে যেতে।

ত্রান দেওয়া শেষে ধরলা নদীর পাড় আর সৈয়দপুর বিমান বন্দরে গিয়ে উপলব্ধি করছিলাম হারিয়ে ফেলা সেই মহানায়ক শহীদ জিয়াউর রহমানের স্পর্শের অনুভুতি।তার ছোয়া সেই পাথর দুটিতে শ্রদ্ধাভরে হাতের স্পর্শ লাগতেই নিজের ভেতরের শিহরণ ও ঝাপসা হয়ে আসা চোখ দুটি আবারো ভিজে উঠছে।

ফিরে চললাম ঢাকায়,নিতান্ত স্বার্থপরের মত এই অসহায় আর্তনাদ কে পেছনে ফেলে জীবন জীবিকার তাগিদে আমরা ১৪ জন। রেজাউল ভাই বারবার কেদে ফেলছিলেন কারন তার এলাকায় সরকারী ত্রাণ দেয়নি কিন্তু আমরা দিয়েছি।দাড়িয়েছি তার মানুষের পাশে। ওখানে নাকি ঈদের সময় ১ টাকার বিনিময়ে একবেলা খাওয়ানোর আয়োজন করে একটি সংগঠন। আমরা ১০০০ জনের খাবারের টাকা রেজাউল ভাইর কাছে দিয়েছি।

রাতের অখন্ড নীরবতা ভেদ করে গাড়ি ছুটিয়ে নিচ্ছে ড্রাইভার পিন্টু ভাই,মনে নিয়ে একরাশ আত্মতৃপ্তি, মুখে একগাল হাসি। সে এরকম একটা কাজে আসতে পেরে ধন্য।ক্লান্ত শরীর এলিয়ে দিয়েছি গাড়ির সিটে,কানে বেজে চলছে আইয়ুব বাচ্চুর অনবদ্য গান “ফেরারী এ মন টা আমার”।

চোখ বুজে আধো তন্ত্রায় দেখছি শহিদুল ইসলাম বাবুল ভাই আর নবী ভাইর সেই হাসিমাখা দুটি মুখ আর খুব আফসোস করছি Kajol Rehman ভাইর সাথে এত কাছে গিয়েও না দেখা হবার বেদনায়।ভাবছি #DHS গ্রুপের কিছু উদ্যামী মানুষের কথা।

হ্যা আমরা পেরেছি,আমরা পারি এবং আমরা পারব, কারন দিস ইজ দি ব্রিগেডস, দিস ইজ দি জিয়া সাইবার ফোর্স ZCF ব্রিগেডস। কারন আমাদের প্রজ্ঞা #মানবতার_সেবায়_আমরা