উই মাস্ট গেট রাইটফুল শেয়ার অব গ্যানজেন্স ওয়াটার– শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান

0

উই মাস্ট গেট রাইটফুল শেয়ার অব গ্যানজেন্স ওয়াটার – শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান

জুবায়ের তানভীর সিদ্দিকী কর্তৃক সংগ্রহিত ও পরিমার্জিত

১৩ জানুয়ারি ১৯৭৬ সাল, বাংলাদেশের জীবনে একটি অবিস্মরণীয় দিন। এই দিনই প্রথম বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের উপর ফারাক্কার বিরূপ প্রতিক্রিয়ার কথা বিশ্ব দরবারে তুলে ধরা হয়। বলিষ্ঠ কন্ঠে জিয়াউর রহমান ইসলামী পররাষ্ট্রমন্ত্রী সম্মেলনে বললেন, “উই মাস্ট গেট রাইটফুল শেয়ার অব গ্যানজেন্স ওয়াটার’। কনফারেন্স হল স্তব্ধ বিস্ময়ে শুনলো এক জাতীয়তাবাদী নেতার যুক্তিপূৰ্ণ শক্ত-বাঁধুনী বক্তব্য। তিনি সমগ্র মুসলিম বিশ্বের কাছে আবেদন জানালেন, তাঁরা যেন এরকম একটি অতি জরুরী ও গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা সমাধানে সাহায্য ও সহযোগিতা করেন। তাঁর বক্তৃতায় তিনি বাংলাদেশ সীমান্তে পার্শ্ববতী রাষ্ট্রের উস্কানিমূলক তৎপরতার কথাও বললেন। সমুদ্র আইন সংক্রান্ত নিউইয়র্ক সম্মেলনে জলসীমারেখা নির্ধারণের ব্যাপারে বাংলাদেশের ভূমিকার সমর্থন দানের জন্যে জেনারেল জিয়া মুসলিম দেশসমূহের নেতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। জেনারেল জিয়ার বক্তৃতা সম্মেলনে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করা হয়। মুসলিম বিশ্ব ও তৃতীয় বিশ্বের জনগণের ন্যায্য দাবি-দাওয়া পূরণে বাংলাদেশের দ্ব্যর্থহীন সমর্থনের উল্লেখ করে বিপুল করতালির মধ্য দিয়ে জেনারেল জিয়া তাঁর বক্তব্য শেষ করেন।

এর পরের দিন অর্থাৎ ১৪ মে ফারাক্কা সম্পর্কে ওআইসি’র ভূমিকা সম্পর্কে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে সম্মেলনের মুখপাত্ৰ গিনির থিরনো নবিকা ডিয়ালো বললেন, বাংলাদেশের এ দুর্দিনে মুসলিম বিশ্ব নীরব থাকতে পারে না।

ইস্তাম্বুলের পর জাতিসংঘে বিষয়টি নিয়ে যাওয়ার ফলে ভারত ১৯৭৭ সালে তিন বছরের জন্যে পানি বন্টনের একটি সাময়িক চুক্তি করে। প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ফারাক্কা সমস্যা সম্পর্কে জাতিসংঘে জোরালো বক্তব্য রাখেন গত নভেম্বর। কথা ছিল ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরসীমা রাও বাংলাদেশে আসবেন এবং ফারাক্কা সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সাথে আলাপ করবেন। কিন্তু তিনি আসেননি।

পৃথিবীর যে কোন সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা যায়। তবে সে জন্যে প্রয়োজন আন্তরিক সদিচ্ছা ও সহযোগিতার মনোভাব। আমরা আশা করবো, সার্কভূক্ত দেশগুলো আঞ্চলিক সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে এ এলাকার গণমানুষের জীবনযাত্রার মানােন্নয়নের লক্ষ্যে সবরকম বিবদমান সমস্যাগুলোর শান্তিপূর্ণ সমাধানে এগিয়ে আসবে। একটি কথা মনে রাখতে হবে, যুদ্ধে বিজয়ী ও বিজেতা কেউ অক্ষত থাকে না। পাশের বাড়িতে আগুন দিলে নিজের বাড়িও পুড়তে পারে॥”

– আবদুর রহিম (সাংবাদিক) / সুপ্রভাত বাংলাদেশ ॥ [ ননী প্রকাশনী – ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৫ । পৃ: ৭৪-৭৭ ]