ইয়াবা পাচার এখন ভিক্ষার আড়ালে, প্রতিবন্দী ভিক্ষুকদের দিয়ে চলছে রমরমা ইয়াবা ব্যাবসা

0

জিসাফো নিউজ ডেস্কঃ  শারীরিক প্রতিবন্ধী ভিক্ষুকের দুই হাতে থাকা ক্রাচের ভেতরে ৯৮০টি ইয়াবা বড়ি পাওয়া যায়

ইয়াবা পাচারে জড়িত থাকার অভিযোগে আল আমিন মিয়া নামের শারীরিক প্রতিবন্ধী এক ভিক্ষুককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল সোমবার ভোরে নগরের শাহ আমানত সেতু এলাকায় একটি বাসে তল্লাশি চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে বাকলিয়া থানা-পুলিশ। তাঁর দুই হাতে থাকা ক্রাচের ভেতরে ৯৮০টি ইয়াবা বড়ি পাওয়া যায়।

begger-in-dhaka

বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মুহসিন প্রথম আলোকে বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে শাহ আমানত সেতু এলাকায় টেকনাফ থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে আসা একটি বাসে তল্লাশি চালিয়ে ভিক্ষুক আল আমিনকে আটক করা হয়। গতকাল বিকেলে আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।

এর আগে গত ২৭ জুলাই দুই পা হারানো আবুল হোসেন নামের এক ভিক্ষুকের কাছ থেকে ১ হাজার ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করেছিল পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি এড়াতে ইয়াবা ব্যবসায়ীরা শারীরিক প্রতিবন্ধী ভিক্ষুকদের পাচারের কাজে ব্যবহার করছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশ বলছে, গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আল আমিন বলেছেন, কিছুদিন আগে চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে ভিক্ষা করার সময় আয়াজ উদ্দিন নামের টেকনাফের এক লোকের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। তিনিই তাঁকে প্রস্তাব দেন ভিক্ষা না করে ইয়াবার ব্যবসা করতে। তাঁর কথায় রাজি হয়ে ১০ দিন আগে ৫ হাজার ইয়াবা বড়ির একটি চালান টেকনাফ থেকে চট্টগ্রামে নিয়ে আসেন। একই কাজ করতে গিয়ে গতকাল ধরা পড়েন।

পুলিশ জানায়, আল আমিন জিজ্ঞাসাবাদে বলেছেন, ইয়াবার চালানটি চট্টগ্রামে পৌঁছে দিতে পারলে ৫ হাজার টাকা পেতেন তিনি। এর আগের চালানটি পৌঁছে দিয়ে ১০ হাজার টাকা পেয়েছিলেন।

জানতে চাইলে নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) দেবদাস ভট্টাচার্য মুঠোফোনে প্রথমআলোকে বলেন, কৌশল পাল্টে ইয়াবা পাচারকারীরা শারীরিক প্রতিবন্ধী ভিক্ষুকদের ব্যবহার করছে। ইয়াবা পাচার রোধে ও জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।