ইসি আ’লীগের কাছে কমিটেড এবং তা তার বক্তব্যে ফুটে উঠেছে : রুহুল কবির রিজভী

0

ইসি আ’লীগের কাছে কমিটেড এবং তা তার বক্তব্যে ফুটে উঠেছে : রুহুল কবির রিজভী

সুত্র : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি

১০ই ফেব্রুয়ারি ২০১৭, বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনের সম্পুর্ণ বক্তব্য নিম্নরূপ…

সুপ্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা,

আস্সালামু আলাইকুম। শুক্রবার ছুটির দিনেও আমাদের ডাকে প্রেসব্রিফিংয়ে উপস্থিত হওয়ার জন্য সবাইকে জানাচ্ছি আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা।

সাংবাদিক বন্ধুরা

গত পাঁচ বছরেও সাংবাদিক সাগর-রুনি দম্পতি হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন হয়নি। সরকারের সীমাহীন অবহেলায় ধামাচাপা দেয়ার চক্রান্ত্রের আবর্তে পড়ে আছে সাগর-রুনী হত্যা মামলাটি। গত পাঁচ বছরে ৪৬ বার সময় নিয়েও আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, ‘সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি’ হত্যা মামলার তদন্ত চলছে। র্যাব এর তদন্ত করছে। তবে এই মুহূর্তে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে আমার জানা নেই। পাঁচ বছরেও তদন্তে সফলতা না আসায় নিহত সাগর-রুনির পরিবার, স্বজন, সাংবাদিক মহলে ক্ষোভ, হতাশা ও বিষন্ন-বেদনার সৃষ্টি হয়েছে। ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি সকালে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাড়িতে সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি খুন হন। এ হত্যাকান্ড দেশে বিদেশে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। সে সময় ঘটনাস্থলে এসে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন পুলিশকে তদন্ত শেষ ও আসামিদের ধরার জন্য ফলাও করে ৪৮ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়েছিলেন। সে সময় শেষ হওয়ার আগেই তৎকালীন আইজিপি বলেছিলেন তদন্তে প্রণিধানযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। কাঙ্খিত সেই ৪৮ ঘন্টা এখনও শেষ হয়নি। সেই ৪৮ ঘণ্টা এখন পাঁচ বছরে গিয়ে ঠেকেছে। শুধু সাগর-রুনিই নয় বর্তমান ভোটারবিহীন সরকারের শত্রুতে পরিণত হয়েছে সাংবাদিকরা। গণতন্ত্রহীন দেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা আজ ভুলুন্ঠিত। ভোটারবিহীন সরকারের সংসদ সদস্যরা মহান জাতীয় সংসদে যেভাবে গণমাধ্যমকে আক্রমণ করে বক্তব্য দিচ্ছেন, যেভাবে সাংবাদিকদের শাসক দলের লোকেরা গুলি করে হত্যা করছে, যেভাবে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হাজার হাজার কোটি টাকার মানহানী মামলা দিচ্ছেন সংসদ সদস্যসহ সরকার দলীয় লোকেরা তা শুধু শুভ ইঙ্গিতই বহন করেনা এটি স্বৈরশাসকের বিষাক্ত ছোবল। বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর আমলে প্রায় অর্ধশত’র মতো সাংবাদিককে হত্যা করা হয়েছে।

সাংবাদিক বন্ধুরা

সাগর-রুনি হত্যাকান্ডের প্রকৃত হত্যাকারি কে তা রহস্যজালে ঢেকে আছে এবং কেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকান্ডটিকে এড়িয়ে যাচ্ছে তা নিয়ে মানুষের মনে এক দীর্ঘ প্রশ্নের উদ্রেক হয়েছে। নিশ্চয়ই এর পিছনে রাঘব বোয়ালরা জড়িত। পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও সাংবাদিক দম্পতির হত্যাকান্ডের ঘটনায় প্রকৃত খুনীদের বের করতে না পারা জাতির জন্য লজ্জার। অবিলম্বে সাগর-রুনির প্রকৃত খুনীদের হত্যাকারীদের আইনের আওতায় নেয়ার জন্য আবারো জোর দাবি জানাচ্ছি।

প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুরা

গতকাল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেছেন আগামী জাতীয় নির্বাচন ও নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে তারা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আলোচনা করেছেন। সে সময় তিনি বলেছেন বিএনপি গত নির্বাচনে অংশ না নিয়ে যে ভুল তারা করেছে, এর পরিণাম তাদের যতটা দুর্বল, সংকুচিত করেছে, এলোমেলো করেছে, সেখানে তাদের ভবিষ্যতে রাজনৈতিক অঙ্গনে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যাওয়ার একটা ঝুঁকি রয়েছে। আমি জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাহেবকে বলতে চাই-একবার আপনার প্রধানমন্ত্রীকে বলুন গদি ছেড়ে দিয়ে একটি অন্তবর্তিকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠন করে সেই সরকারের মাধ্যমেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত করতে, তাহলেই বোঝা যাবে কোন দল রাজনৈতিক প্রাঙ্গনে অপ্রাসঙ্গিক হয়েছে। কার ভুল হয়েছে বিএনপি না আওয়ামী লীগ, সেটি জনগণই বিচার করবে। নির্বাচনে আপনাদের জামানত বাঁচবে কী না সেই ব্যাপারে প্রচেষ্টা গ্রহণ করুন। আমরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদুতের সাথে একমত, তিনি বলেছেন-বন্ধুপ্রতিম দেশ হিসেবে বাংলাদেশে আগামী নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ দেখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র।

বন্ধুরা,

দলীয় সরকারের অধীনে ও সরকারের হুকুমে রকিবউদ্দিন নির্বাচন কমিশন নির্বাচনী ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছেন। রক্তরঞ্জিত করেছেন ভোট ব্যবস্থাকে। এদেশে নির্বাচনী উৎসবকে তিনি কারবালার মতো শোকের মাতমে পরিণত করেছেন। তিনি ৫ জানুয়ারী তামাশার নির্বাচনসহ সকল নির্বাচনে লাশ ও রক্তাক্ত নির্বাচন উপহার দিয়েছেন। যেটি ইতিহাসে বিবর্ণ কালো অধ্যায় হয়ে রয়েছে। জাতি কাজী রকিবউদ্দিনকে কোনদিন ক্ষমা করবে না। এবারেও যিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনার হলেন সেটি আওয়ামী দলীয় চেতনায় কাজী রকিবউদ্দিন এর চেয়েও আরো কয়েক ধাপ অগ্রবর্তী। তার অধীনে আগামী জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হওয়ার ব্যাপারে দেশের মানুষের মধ্যে আস্থার সৃষ্টি হয়নি। তাঁর অতীত কর্মকান্ড এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার ঘোষনার পরপরই তাঁর বিভিন্ন বক্তব্যে তিনি যে কমিটেড আওয়ামী লীগার সেটি ফুটে উঠেছে। তাঁর অধীনে নির্বাচন হলে সেটি ভোটারবিহীন একতরফা নির্বাচনই হবে। তাতে বর্তমান বিরাজমান দু:শাসন আরো দীর্ঘদিন টিকে থাকবে। তাঁর অধীনে নির্বাচন হলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অনুকুলে অসুদোপায় অবলম্বন করে তিনি যে ভোট ও নির্বাচনী ব্যবস্থাকে চূড়ান্তভাবে নির্মূল করার বিপজ্জনক প্রতিজ্ঞা নিয়ে কাজ করবেন না সেটি কে বলতে পারে ? সুতরাং জনমতের প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি সাংবিধানিক পদ থেকে সরে দাঁড়ালে জাতি তাঁকে স্বাগত জানাবে।

ধন্যবাদ সবাইকে। আল্লাহ হাফেজ।

Published By : Zubair Tanir Siddique