ইসিকে রিজভী বলেন আপনারা সরকারি অন্যায় ও দুষ্কর্মের সারথি হয়েছেন

0

জিসাফো ডেস্কঃ নির্বাচন কমিশন (ইসি) নির্বাচন নিয়ে বেপরোয়া অপরাধ কর্মকাণ্ডকে আশকারা দিচ্ছে এমন অভিযোগ করে প্রতিষ্ঠানটিকে এবার ‘দুষ্কৃতিকারী’ হিসেবে আখ্যায়িত করলো বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি।

ইসির সমালোচনা করে দলটি বলেছে, ‘নির্বাচন কমিশন শুধু ব্যর্থই নয়, দুষ্কৃতিকারীও বটে। কারণ তারা নির্বাচন নিয়ে বেপরোয়া অপরাধ কর্মকাণ্ডকে আশকারা দিচ্ছে। কমিশন নিজস্ব শক্তিকে অস্বীকার করে সরকারের পদলেহন করার জন্যই দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।’

সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির কেন্দ্রীয় দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ এ কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘সরকার মনে করছে, একদলীয় শাসন পাকাপোক্ত করতে হলে সর্বাগ্রে গোটা জাতিকে বোবা করে দিতে হবে। সেজন্যই সকল স্থানীয় নির্বাচনে সব পদ সরকারের একচেটিয়া অধিকারে রাখার জন্য পৌরসভা মেয়র ও ইউপি চেয়ারম্যানের পদগুলো দখল ও কেড়ে নেয়া হচ্ছে। তাই গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে সকলের অংশগ্রহণে সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন প্রয়োজন। সে লক্ষ্যে হাসিনামুক্ত নির্বাচনের পাশাপাশি সে নির্বাচন বর্তমান তল্পিবাহক নির্বাচন কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তামুক্তও হতে হবে।’

নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশে রিজভী আহমেদ বলেন, ‘আপনারা সরকারি অন্যায় ও দুষ্কর্মের সারথি হয়েছেন। এর জন্য আপনাদেরকে জবাবদিহি করতে হবে, বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। তবে এখনো সময় আছে, ভালো পথ অনুসরণ করুন, বিপথ থেকে সরে আসুন। সংবিধান আপনাদেরকে যে শক্তি দিয়েছে সেটা অনুযায়ী দুষ্কৃতিকারী এবং প্রশাসনের যেসব লোক সরকারি দলের পক্ষে অন্যায়গুলো করছে তাদেরকে নিবৃত করুন। অন্যথায় এর পরিণতি হবে ভয়াবহ।’

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন প্রসঙ্গে বিএনপির এ যুগ্ম-মহাসচিব বলেন, ‘মঙ্গলবার (২২ মার্চ) দেশব্যাপী প্রথম ধাপে ৭২১টি ইউপিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সারাদেশে অনুষ্ঠিতব্য এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোটারবিহীন সরকারের গুণ্ডাবাহিনী তাণ্ডবের মাত্রা আরো অধিকহারে বৃদ্ধি করেছে।’

এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, ‘আসন্ন এ ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ঢাকার পার্শ্ববর্তী কেরানীগঞ্জ থানার আগানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদ খানকে সোমবার বিকেলে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ।’ তিনি দলের পক্ষ থেকে আসাদ খানকে গ্রেপ্তারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে তার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন।

এ সময় কয়েকটি ইউনিয়নের নাম উল্লেখ করে রিজভী আহমেদ বলেন, ‘এসব ইউপিতে বিএনপির প্রার্থীরা আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীবাহিনীর হাতে আক্রান্ত হচ্ছে। কিন্তু স্থানীয় প্রশাসন ও নির্বাচনী কর্মকর্তাদের বিষয়টি অবহিত করলেও তারা এ ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। এভাবে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।’

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, সহ-দপ্তর সম্পাদক আসাদুল করিম শাহীন, স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম-সম্পদক আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।