ইন্ডিয়া’র সাথে যৌথ সামরিক মহড়ার অর্থ শুধুমাত্র বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে তাদের হাতে তুলে দেয়া

0

আমি ১৬০ মিলিয়ন বাংলাদেশীর কাছে জানতে চাই যে পৃথিবীর কোন দেশ বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় স্বার্থের জন্য হুমকিস্বরূপ? এই প্রশ্নকে সামনে রেখে, গত মাসে উই আর দি পিপল উইথ জেকব মিল্টন বাংলাদেশ একটি জরীপ করেছে ১০০০ বাংলাদেশীদের নিয়ে। এই এক হাজার বাংলাদেশীদের সকলেই মাস্টার্স ডিগ্রী সম্পন্ন।

জরীপের ফলাফল নিম্নরূপ:

প্রশ্ন: যুক্তিসঙ্গত এবং ভৌগোলিকভাবে, কোন কোন দেশকে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় স্বার্থের প্রতি হুমকি মনে করছেন ?

Answer: India – 91%
Myanmar – 7%
Not Sure – 2%

প্রশ্ন: আপনি কি বাংলাদেশকে এখন স্বাধীন মনে করেন ?

Answer: No – 88%
Yes – 9%
Not Sure – 3%

প্রশ্ন: এই মুহূর্তে কে বাংলাদেশ সরকার পরিচালনা করছে বলে আপনি মনে করেন?

Answer: India – 95%
Hasina Wazed – 4%
Not Sure – 1%

প্রশ্ন: এই মুহূর্তে বাংলাদেশে কে বেশি ক্ষমতাধর ব্যক্তি?

Answer: Mr. Harsh Vardhan Shringla – 87%
Hasina Wazed – 11%
Not Sure – 2%

প্রশ্ন: বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীকে এবং বাংলাদেশ রাইফেলসকে মূলত ধ্বংস করা হয়েছে পিলখানা হত্যাযজ্ঞের মধ্য দিয়ে। এই মুহূর্তে কে অথবা কারা বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীকে এবং বাংলাদেশ রাইফেলসকে নিয়ন্ত্রণ করছে?

Answer: India – 96%
Not Sure – 4%

প্রশ্ন: এমতাবস্থায় বাংলাদেশ কোন দেশের সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন করতে পারে যারা সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় স্বার্থে আমাদের পাশে দাঁড়াবে?

Answer: USA – 41%
China – 43%
India – 4%
Muslim Countries – 7%
Not Sure – 5%

আমি বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক সম্পর্কে জানি কিন্তু দেশের এই করুন অবস্থার কথা আমার জানা ছিল না। আমাদের দেশ এখন ইরাক বা আফগানিস্থানের চেয়ে কোনো ভাবেই ভালো অবস্থায় নেই যেই সব দেশে সাধারণ একজন মানুষের জীবন মূল্যহীন। ঐসব দেশে মানুষের মৃতদেহ রাস্তা, ডোবা, নর্দমা অথবা নদীর পাশে পরে থাকে।ইরাক এবং আফগানিস্থানের অবস্থা মেনে নেয়া যায় যেহেতু এই দুটি দেশ আমেরিকার দ্বারা অধিকৃত। কিন্তু বাংলাদেশের এই অবস্থা মেনে নেয়া যায়না যেহেতু আমরা কেউই জানিনা বাংলাদেশ কারো দ্বারা অধিকৃত কিনা?

উপরোক্ত জরীপের পরে বাংলাদেশের পরিস্থিতি বোঝার জন্য কারো বৈজ্ঞানিক হওয়ার দরকার নেই। অতি সহজেই সকলের বোঝার কথা যে বাংলাদেশ এখন ইন্ডিয়া’র অধিকৃত দেশ। কিন্তু একথা বলার মতো সাহস ইন্ডিয়া বা তাদের দালাল হাসিনার নেই। আমরা সকলেই আমেরিকার স্বার্থপরতার কথা জানি কিন্তু তারপরেও তারা তাদের স্বার্থপরতার কথা মিথ্যা দিয়ে সাজিয়ে গুছিয়ে বলার চেষ্টা করে। ইন্ডিয়া ঠিক তার উল্টো। ইন্ডিয়া খুঁজে বেড়ায় সিক্কিম, ভুটান এবং মালদ্বীপ এর মতো রাষ্ট্র। প্রথমে তারা ঐসব দেশের অসৎ রাজনীতিবিদদের এবং তথাকথিত বুদ্ধিজীবীদের ক্রয় করে। ধীরে ধীরে ইন্ডিয়া ঐসব দেশের প্রতিরক্ষা ব্যাবস্থাকে এমন ভাবে দুর্বল করে যে ঐসব দেশ তখন তাদের প্রতিরক্ষার দায়িত্ব ইন্ডিয়াকে দেয়া ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না। প্রতিরক্ষা ব্যাবস্থাকে দুর্বল করার জন্য ইন্ডিয়া ঐসব দেশের স্বশস্ত্র বাহিনীর উর্ধতন কর্মকতাদেরকে ক্রয় করে।প্রতিরক্ষা ব্যাবস্থাকে নিজেদের দায়িত্বে নেয়ার পরে তারা ব্যাঙ্কিং সেক্টর এবং পররাষ্ট্রনীতির উপর প্রভাব বিস্তার করে। সিক্কিমের দিকে তাকিয়ে দেখুন; সিকিম আজ নেই। ভুটানের দিকে তাকিয়েই দেখুন। ইন্ডিয়ান আর্মি ভুটানের স্বশস্ত্র বাহিনীকে ঘরে পাঠিয়ে দিয়েছে। তাদের ড্রাগন এয়ার লাইনস শেষ। মালদ্বীপ এর অবস্থা একই।

এখন ইন্ডিয়া’র নজর বাংলাদেশের উপর। ইন্ডিয়া ইতিমধ্যে তাদের নীলনকশা অনুসারে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঢুকে গেছে।

অতীতে, ইন্ডিয়া ব্যর্থ হয়েছে শেখ মুজিবকে ক্রয় করতে। ইন্ডিয়া এবার অতি সহজেই হাসিনা ওয়াজেদ সহ তাদের পুরো পরিবারকে ক্রয় করতে সক্ষম হয়েছে। মূলতঃ ইন্ডিয়া শুধুমাত্র হাসিনা এবং তার পরিবার বর্গকেই ক্রয় করেনি বরং পুরো আওয়ামী লীগকেই ক্রয় করেছে। হাসিনা, তার পরিবার এবং আওয়ামী লীগকে কিনেই ইন্ডিয়া থেমে থাকেনি। তারা বিএনপিকে পর্যন্ত লাড্ডু খাইয়ে দিয়েছে। আজ বিএনপি’র নেতৃবৃন্দ ইন্ডিয়ার বিপক্ষে কোন একটা কথা বলার ক্ষমতা রাখে না। বরং ইন্ডিয়া’র স্বার্থের পরিপন্থী কোনো নীতি নিয়ে কথা পর্যন্ত বলে না। বিএনপি ছাড়াও ইন্ডিয়া আমাদের দেশের পাঁচাটা কুলাঙ্গার বুদ্দিজীবীদের ক্রয় করেছে যারা সারাদিন বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করে আর ইন্ডিয়া’র স্বার্থ রক্ষা করে।

এই যৌথ সামরিক মহড়ার মধ্যে দিয়ে ইন্ডিয়া শুধুমাত্র আমাদের দেশেই প্রবেশ করেনি, বরং তারা এবার বাংলাদেশ থেকে আর ফিরে যাবে না। আনুষ্ঠানিকতা হয়তো থাকবে ফিরে যাওয়ার। কিন্তু আসলে তারা থেকেই যাবে যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা তাদের ঝাঁটাপেটা করে তাড়িয়ে না দেই। আজ আমাদের মাঝে শেখ মুজিব বা জিয়াউর রহমান জীবিত নেই যারা বেঁচে থাকলে ইন্ডিয়া হয়তো এই দুঃসাহস কখনোই দেখাতো না। দুঃখের বিষয় এই যে আমাদের দেশের বর্তমান রাজনৈতিক নেতারা লেন্দুপ দর্জি, সিসি অথবা নূরী আল মালিকি’র চেয়েও অযোগ্য।

আমরা যে কোনো রাজনৈতিক দলের সমর্থকই হই না কেন, আমাদের উচিত দলের নীতির বিরোধিতা করা যদি ওই নীতি দেশের স্বার্থের পরিপন্থী হয়। আমাদের সকলের উচিত এই সামরিক মহড়ার বিরোধিতা করা। একমাত্র তারাই এই সামরিক মহড়ার সমর্থক যারা বাংলাদেশী পাসপোর্ট নিয়ে ইন্ডিয়া’র স্বার্থরক্ষা করে। যদি কোনো নেতা এর উল্টো কথা বলে, দেশের স্বার্থে তাদেরকে প্রতিরোধ করুন। দেশের এই ক্রান্তি লগ্নে আওয়ামী লীগ, বিএনপি অথবা জামায়াত বাদ দিয়ে আমাদের সকলের উচিত আমাদের প্রিয় জন্মভূমির অস্তিত্ব রক্ষা করা।

১৯৭১ সালে আমরা বাংলাদেশীরা জীবন দিয়েছি কিন্তু প্রকৃত স্বাধীনতা পাইনি। অবস্থাদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে পুনরায় আমাদের রক্ত এবং জীবন দিতে হবে আমাদের মাতৃভূমির প্রকৃত স্বাধীনতার জন্য।

Jacob Milton
We Are The People