ইনু দিল্লির অত্যন্ত আস্থাভাজন ও বহুদিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র :ভারতীয় সাংবাদিক

0

জিসাফো ডেস্কঃ মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু ভারতের আস্থাভাজন ও ঘনিষ্ট মিত্র বলে স্বীকার করেছেন ভারতীয় সাঙবাদিক রঞ্জন বসু।

আওয়ামী লীগ এমপি কাজী নাবিল আহমেদের অনলাইন পত্রিকা বাংলা ট্রিবিউনে এই সাংবাদিক ইনুকে দিল্লির অত্যন্ত আস্থাভাজন ও বহুদিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র বলে তুলে ধরেছেন । পাঠকদের জন্য সেই রিপোর্ট্টি তুলে ধরা হলো-



হাসানুল হক ইনু এক সংক্ষিপ্ত ভারত সফরে বুধবার দিল্লিতে পৌঁছেছেন। বৃহস্পতিবার তিনি ভারতের একটি নামি থিঙ্ক ট্যাঙ্কে ভাষণ দেবেন।

গুলশানে গত মাসে জঙ্গি হামলার পর থেকে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুই আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে কার্যত বাংলাদেশের মুখপাত্রের ভূমিকা পালন করছেন।

ভারতসহ বিভিন্ন দেশের মিডিয়ায় তিনি প্রচুর সাক্ষাৎকার দিয়েছেন, বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ কিভাবে আজকের চেহারায় এলো তা নিয়ে সরকারের বক্তব্য মূলত তার মুখ থেকেই শোনা গেছে।

তথ্যমন্ত্রীর এবারের ভারত সফরও অনেকটা সেই ধারাবাহিকতাতেই। দিল্লির নামকরা স্ট্র্যাটেজিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনে বৃহস্পতিবার বিকেলে এক অনুষ্ঠানে তিনি বাংলাদেশের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির একটি বস্তুনিষ্ঠ ছবি তুলে ধরবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ভারতের শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠী রিলায়েন্সের অর্থায়নে পরিচালিত হয় এই অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশন বা ওআরএফ, তাদের মতামত বা গবেষণা যথেষ্ট গুরুত্ব পেয়ে থাকে ভারত সরকারের কাছ থেকেও। সেই ওআরএফ-এর মঞ্চে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর ভাষণ তাই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

তথ্যমন্ত্রী ইনুর বক্তৃতার আগে এই অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্য পেশ করবেন সাবেক ভারতীয় কূটনীতিক পিনাকরঞ্জন চক্রবর্তী, যিনি দীর্ঘদিন ঢাকাতে ভারতীয় হাইকমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

নির্ধারিত বক্তৃতার পর হাসানুল হক ইনু উপস্থিত শ্রোতাদের নানা প্রশ্নের জবাব দেবেন বলেও কথা রয়েছে।

তবে ওআরএফের এই পুরো অনুষ্ঠানে মন্ত্রীর বক্তৃতা বা প্রশ্নোত্তর পর্ব–পুরোটাই হবে অফ দ্য রেকর্ড, অর্থাৎ তথ্যমন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে আলোচনার বিষয়বস্তু মিডিয়াতে প্রকাশ করা চলবে না।

তবে উদ্যোক্তা ওআরএফের পক্ষ থেকে একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘গুলশানের জঙ্গি হামলা বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আমাদের ধারণাকে পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। সে দেশের সরকার এ বিষয়টাকে কিভাবে দেখছে এবং কিভাবে এর সমাধানের পথ খুঁজছে–তথ্যমন্ত্রীর বক্তব্য থেকে আমরা তার একটা স্পষ্ট ধারণা পাব বলেই আশা করছি।’

ভারত সফরে হাসানুল হক ইনু এ দেশের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক বা ক্যাবিনেট মন্ত্রীদের কয়েকজনের সঙ্গেও দেখা করতে পারেন, তবে সে সব বৈঠক এখনও পুরোপুরি চূড়ান্ত হয়নি। দিল্লির রাষ্ট্রপতি ভবনে তার সৌজন্য সাক্ষাৎ হতে পারে রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জীর সঙ্গেও।

জাসদের প্রবীণ নেতা হাসানুল হক ইনু দিল্লির অত্যন্ত আস্থাভাজন ও বহুদিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র বলেও পরিচিত। দক্ষিণ এশিয়ায় সার্বিক নিরাপত্তা যখন এক ঘোর সংকটের মুহূর্তে, তখন তার দিল্লি সফর বাংলাদেশ-ভারতে মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতাকে একটা অন্য মাত্রা দেবে বলেই আশা করা হচ্ছে।