ইউপি নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপেও চলছে দখল-বর্জন ও সহিংসতা: শিশুসহ নিহত ৩

0
জিসাফো ডেস্কঃ দ্বিতীয় ধাপে ইউপি নির্বাচনের ভোটেও ব্যাপক ভোট জালিয়াতি, কেন্দ্র দখল নিয়ে সংঘর্ষ -সহিংসতায় প্রাণহানি এবং প্রতিপক্ষের ভোট বর্জন অব্যাহত রয়েছে। এর আগেও প্রথম ধাপের নির্বাচনে ব্যাপক জালিয়াতি এবং বিভিন্ন কেন্দ্রে সংঘর্ষ-সহিংসতায় অন্তত ২৮ জনের প্রাণহানি এবং ভোট বর্জনের ঘটনা ঘটেছিল। আজ বৃহস্পতিবার এ পযর্ন্ত প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী বিভিন্নস্থানে সংর্ঘষে কমপক্ষে ৩জন নিহত হয়েছে।

কেরাণীগঞ্জের হযরতপুর ইউনিয়নের মধুরচর সরকারী প্রথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর ক্যাডারদের হামলা ও গুলিতে শাহিদুল ইসলাম সুভ (১০) নামের ১ শিশু গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে। এই ঘটনায় আরও দুইজন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারাত্মক আহত হয়েছেন। নিহত শাহিদুল ইসলাম ওই এলাকার ঢালিকান্দি গ্রামের আলাল মোল্যার ছেলে। স্থানীয়রা জানান, আজ সকাল পৌনে ১০ দিকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী  আয়নালের ক্যাডার রানা মোল্যার নেতৃত্বে ২০ থেকে ৩০ জন অস্ত্রধারী কেন্দ্রে হামলা চালায়। একজন প্রত্যক্ষ দর্শী জানান, সকাল থেকে সুষ্ঠুভাবে ভোট গ্রহণ চলছিল। হঠাৎ ১০ টার দিকে আওয়ামী লীগ  প্রার্থীর ক্যাডাররা কেন্দ্রে হামলা চালায়। এসময় তারা ১০ থেকে ১৫ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এতে স্থানীয় আলাল মোল্লার এক শিশু পূত্রসহ মোট ৩ জন গুলিবিদ্ধ হয়। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় শিশু শাহিদুল ইসলামকে স্থানীয় মডার্ণ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিছুক্ষণের মধ্যে শিশুটির অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজে রেফার করা হয়। ঢাকায় নেয়ার পথে শিশুটি মারা যায়। বাকী আহতরা এলাকার বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। গোলাগুলির পর ওই কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ বন্ধ হয়ে যায়। পরে সংবাদ পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে বিজিবি উপস্থিত হয়। এসময় সন্ত্রসীরা পালিয়ে যায়। বর্তমানে সেখানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। তাৎক্ষণিকভাবে ভোটাররা আতঙ্কে ভোট কেন্দ্র ছেড়ে চলে যায়। এখন ঘটনাস্থলে অর্ধশতাধিক পুলিশ-বিজিবি ও র‌্যাব সদস্য মোতায়েন রয়েছে।

যশোরের চাঁচড়ায় ব্যালট ছিনতাই, কেন্দ্র দখল ও জালভোটকে কেন্দ্র করে দুইপক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহতের খবর পাওয়া গেছে। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতের নাম পরিচয় জানা যায়নি। এছাড়া, যশোরের চুড়ামনকাঠিতে জাল ভোট দিতে সহায়তার অভিযোগে এক কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসারকে আটক করা হয়েছে।

কুমিল্লা জেলার বরুড়ার খোশবাস ইউনিয়নে আরিফপুর কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় গুলিতে বিএনপি প্রার্থী জাকির হোসেন গুরুতর আহত হন।

আজ ভোটগ্রহণের শুরুতেই আওয়ামী লীগের লোকজন কেন্দ্র দখলের চেষ্টা করলে বিএনপি সমর্থকরা বাধা দেয়। এতে করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এলাকায় উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। যেকোনো মুহূর্তে আবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে। এসময় সেখান থেকে ৪জনকে আটক করা হয়েছে। কুমিল্লার আড্ডায় একটি কেন্দ্রের পাশ থেকে ককটেলসহ ১৪জনকে আটক করা হয়েছে।

কুষ্টিয়ায় ইউপি নির্বাচনে ভোট গ্রহণ শুরু হওয়ার এক ঘণ্টা পার না হতেই ভোট স্থগিত করা হয়েছে। আজ সকালে দৌলতপুর উপজেলার আড়িয়া ইউনিয়নের আড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট স্থগিত করা হয়। তবে কিছুক্ষণ পরে ওই কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ আবার শুরু হয়েছে।

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চর এলাহী ইউপি নির্বাচন বর্জন করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুল মতিন তোতা।  সকাল সোয়া ৯টায় নির্বাচনে জাল ভোট প্রদান ও অনিয়মের অভিযোগ এসে তিনি সাংবাদিকদের নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত জানান।

এছাড়া, মাদারীপুর জেলার সদর উপজেলার কুনতিপাড়া কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ-বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে অন্তত আটজন আহত হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পরিচয় জানা যায়নি। আজ সকাল ৮টায় দ্বিতীয় দফার ভোট শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই এ সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং স্বাভাবিক ভোটগ্রহণ চলতে থাকে ।

জাল ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে মেলান্দহ উপজেলার নয়ানগর ইউনিয়নের মামা-ভাগ্নে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সাময়িক ভোটগ্রহণ বন্ধ রয়েছে। জানা গেছে, ভোটগ্রহণ শুরুর আগেই মেলান্দহ উপজেলার ওই কেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসারের সহযোগিতায় জাল ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে এলাকাবাসীর সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনতে পুলিশ ৩ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এর ফলে ওই কেন্দ্রে সাময়িক ভোটগ্রহণ বন্ধ রয়েছে।

এদিকে চাঁদপুরের হাইমচরের একটি কেন্দ্রে ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। এসময় আওযামী লীগ এবং বিদ্রোহী প্রার্থীর মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাও ঘটে। চাঁদপুরের গাজীপুর, ঝিনাইদহের যাদবপুরে বিএনপি প্রার্থী এবং জামালপুরের ফুলকোচায় স্বতন্ত্রপ্রার্থী ভোট বর্জন করেছেন। এদিকে ভোট গ্রহণ শুরুর আগের রাতে ভোলা সদরের রাজাপুর গ্রামে আওয়ামী লীগ সমর্থিত ও বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে আহত একজন মারা গেছেন।

বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় নাছির সরদারের। নিহত নাছির ভোলা সদর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের জনতা বাজার এলাকার আবদুল জলিল সরদারের ছেলে ও আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী কর্মী ছিলেন। এর আগে বুধবার সকাল থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত জনতা বাজারে দফায় দফায় এ সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন। এদের মধ্যে ২০ জনকে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।