আ.লীগে হাত আছে, আঙুল নেই

0

রাজশাহী: ২০১৪ সালের ২৫ অক্টোবর রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে সভাপতি নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও সাবেক সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন ডাবলু সরকার। কাউন্সিলের পর থেকে কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া সেই শেষ। ১১ মাস পেরিয়ে গেলেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে পারেননি রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের নেতারা।

তবে, মহানগর আওয়ামী লীগের একটি সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে পূর্ণাঙ্গ একটি কমিটি তৈরি করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। শোকের মাসের কারণে কমিটি অনুমোদনে দেরি হয়েছে। খুব শিগগিরই আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বাক্ষর করে নতুন কমিটি অনুমোদন করবেন। এদিকে দীর্ঘদিন কমিটি গঠন না হওয়ায় হতাশায় ভুগছেন মহানগর আওয়ামী লীগের অন্য নেতাকর্মীরা।

২০১৪ সালে কাউন্সিলের মাধ্যেমে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে ডাবলু সরকার নির্বাচিত হন। এর আগের কমিটিতে আওয়ামী লীগ নেতা লিটন ছিলেন সাধারণ সম্পাদক আর ডাবলু ছিলেন উপদপ্তর সম্পাদক। শেষ কাউন্সিলে লিটনের কোনো প্রতিদ্বন্দ্বি ছিলো না। তবে সাধারণ সম্পাদক পদে ডাবলু সরকারকে নির্বাচনের মাধ্যমে জিততে হয়েছে। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচনের পর ১১ মাস কেটে গেছে। দল ক্ষমতায় থাকলেও কমিটি না থাকায় হতাশায় পড়েছেন অনেক নেতাকর্মী।

দলের একাধিক নেতা অভিযোগ করেন, মহানগর আওয়ামী লীগের প্রস্তাবিত কমিটি নিয়ে অনেকের অভিযোগ আছে। দলের দীর্ঘদিনের ত্যাগী নেতারা তাদের সম্মানজনক পদ পাননি।

বিগত কমিটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান বাদশাকে নতুন কমিটিতে সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে। এভাবে কমিটি করায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন দলের ত্যাগী নেতাকর্মীরা। ইতোমধ্যে দলীয় সভানেত্রীর কাছে প্রস্তাবিত কমিটির বিরুদ্ধে অভিযোগও পাঠানো হয়েছে।

আওয়ামী লীগ নেতা অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান বাদশা বলেন, ‘নতুন কমিটিতে আমাকে সদস্য রাখা হয়েছে এমন কথা শুনেছি। আমি দলকে ভালোবাসি। দলে আমার অবস্থান কোথায় এ নিয়ে কোনো মাথাব্যথা নেই। যে অবস্থানে থাকি না কেন আওয়ামী লীগের হয়ে কাজ করে যাব।’

মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার বলেন, ‘কয়েক মাস আগে ৭১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি কেন্দ্রে জমা দেয়া হয়েছে। কিন্তু এখনও তা কেন অনুমোদন পায়নি তা জানা নেই। কিন্তু সাংগঠনিক প্রয়োজনে পূর্ণাঙ্গ কমিটি খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে।’

অপরদিকে, একই অবস্থা রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগেও। ২০১৪ সালের ৬ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সম্মেলনে সমঝোতার ভিত্তিতে রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনের সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরী সভাপতি ও আসাদুজ্জামান আসাদ সাধারণ সম্পাদক হন। এর আগের কমিটিতে ফারুক চৌধুরী ছিলেন সাধারণ সম্পাদক ও আসাদ ছিলেন যুগ্ম-সম্পাদক। জেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে আসাদ জনপ্রিয় ও ত্যাগী নেতা হিসেবে পরিচিত। তিনি দলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার পর জেলার নেতাকর্মীরা কিছু দিন উজ্জীবিত ছিলেন। কিন্তু এখনো পূর্ণাঙ্গ কমিটি না হওয়ায় তারা এখন হতাশায় ভুগছেন।

কমিটি গঠন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দলীয় শুভাকাঙ্ক্ষীরা। তাদের অভিযোগ, দল থাকলে কি হবে, যদি কমিটিই না থাকে তাহলে নেতারা আর কী করবেন। হাত থাকলেই তো চলবে না কাজের জন্য হাতের আঙ্গুল থাকা জরুরি।

রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ জানান, নেতাকর্মীদের পদ-পদবি নিয়ে প্রত্যাশা থাকে। কিন্তু পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন না হওয়ায় অনেকের মাঝেই হত্যাশা কাজ করছে। কমিটির নামের তালিকা জমা দেয়া হয়েছে। আশা করা যায়, তা শিগগিরই অনুমোদন পাবে।