আহত র‍্যাবের গোয়েন্দা প্রধান লে. কর্নেল আবুল কালাম আজাদ মারা গেছেন

0

জিসাফো ডেস্কঃ সিলেটে শিববাড়ির পাঠানপাড়ায় বোমা বিস্ফোরণে গুরুতর আহত র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার পরিচালক লে. কর্নেল আবুল কালাম আজাদ মারা গেছেন। র‍্যাবের মিডিয়া উইং থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক ক্ষুদে বার্তায় তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন ছিলেন।

জানা গেছে, আবুল কালাম আজাদের ১ম নামাজে জানাজা জু্মার নামাজের পর সেনানিবাস কেন্দ্রীয় মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে। ২য় জানাজা র‍্যাব সদর দফতরে বিকাল ৩ টায় অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তাকে বনানীর সামরিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।

প্রসঙ্গত, সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থানাধীন শিববাড়ি এলাকায় পাঠানপাড়ায় ‘আতিয়া মহল’ নামে পাঁচতলা একটি বাড়ির নিচতলায় জঙ্গিরা অবস্থান করছে বলে খবর পায় পুলিশ। ২৩ মার্চ (বৃহস্পতিবার) রাত থেকে বাড়িটি ঘিরে রাখার কথা জানায় পুলিশ। শুক্রবার সকাল ৮ টার দিকে আতিয়া মহলের ভেতর থেকে বাইরের দিকে গ্রেনেড ছোড়া হয়। এক পর্যায়ে ওই বাড়িতে অভিযান চালাতে ঢাকা থেকে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট সোয়াতকে পাঠানো হয় ঘটনাস্থলে। পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে পুরো এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেয় সেনাবাহিনীর প্যারা-কমান্ডো দল। ২৫ মার্চ (শনিবার) ভোরে আতিয়া মহলে অভিযান শুরু করে সোয়াত ও সেনাবাহিনীর প্যারা-কমান্ডো বাহিনী।

শনিবার সন্ধ্যায় পাঠানপাড়ায় বোমা বিস্ফোরণে আহত হন কালাম আজাদ। আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে রাখা হয়। কিন্তু শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় রাতে বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টারে ঢাকায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নিয়ে আসা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টা ৫ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

লে. কর্নেল আজাদের আহত হওয়া সম্পর্কে একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, এক পুলিশ সদস্যকে সতর্ক করতে গিয়েই তিনি বিস্ফোরণে গুরুতর আহত হন। প্রথম দফা বোমা বিস্ফোরণের পর এক পুলিশ সদস্য পলিথিনে মোড়া একটি পরিত্যক্ত বস্তু দেখে এগিয়ে যান। কালাম আজাদ তখন ওই পুলিশ সদস্যকে ‘ডোন্ট টাচ… ডোন্ট টাচ’ বলে সতর্ক করেন। তিনি গাড়িতে উঠার সময় ওই পুলিশ সদস্যকে একটি লাঠিতে করে ওই ‘সন্দেহজনক’ বস্তুটি তুলতে দেখে এগিয়ে যান কালাম আজাদ। তিনি কাছে পৌঁছালে পলিথিনে মোড়া বোমাটি মাটি পড়ে বিস্ফোরিত হয়।

গত রবিবার র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান জানান, ‘র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার পরিচালক লে. কর্নেল আবুল কালাম আজাদকে গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকায় নিয়ে আসা হয়েছে। তিনি শঙ্কামুক্ত নন। সিএমএইচে তার চিকিৎসা চলছে। চিকিৎসকরা এখনও নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে পারছেন না।’

উন্নত চিকিৎসার জন্য আবুল কালাম আজাদকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হবে বলেও জানিয়েছিলেন র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার সিনিয়র সহকারি পরিচালক মিজানুর রহমান। তবে শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল না থাকায় তা সম্ভব হয়নি।

দুই দফা বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় আবুল কালাম আজাদ ছাড়াও দু্ই পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও চার বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হন। নিহতরা হলেন – সিলেট পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) পরিদর্শক চৌধুরী মুহাম্মদ আবু কায়সার দীপু, জালালাবাদ থানার ওসি (তদন্ত) মনিরুল ইসলাম, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা ছাত্রলীগের উপ পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক জান্নাতুল ফাহিম, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ওয়াহিদুল ইসলাম অপু, শহীদুল ইসলাম ও আব্দুল কাদের। এছাড়াও ওই ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৫০ জন। রবিবার (২৭ মার্চ) সন্ধ্যায় সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়, অভিযানে তাদের হাতে অন্তত দুই জঙ্গি নিহত হয়েছে। এরপর সোমবার আরও দুই জঙ্গি নিহত হওয়ার তথ্য জানায় সেনাবাহিনী।