আসলাম রাষ্ট্রদ্রোহী হলে জয় কী, প্রশ্ন বিএনপির

0

জিসাফো ডেস্কঃ ইসরায়েলের ক্ষমতাসীন লিকুদ পার্টির নেতা মেন্দি এন সাফাদির সঙ্গে সাক্ষাত করার জন্য বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদোহীতার মামলা হলে, একই কারনে সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে- সে বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিএনপি।

রোববার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের সঙ্গে সাক্ষাতের ব্যাপারে মেন্দি এন সাফাদি যে কথা বললেন এতে করে জয়ের নীরব থাকা প্রশ্নবিদ্ধ। গণমাধ্যমে তাদের (সাফাদি-জয়) সাক্ষাতের খবর এসেছে। কিন্তু আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন এটা নাটক। অথচ একই ব্যক্তির সঙ্গে বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরী কথা বললে হয় রাষ্ট্রদ্রোহ আর প্রধানমন্ত্রীর ছেলের সঙ্গে বৈঠক হলে হয় দেশপ্রেমিক। এখন সরকার এ বিষয়ে কি পদক্ষেপ নেয় জনগণ সেটি দেখতে চায়।’

রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ওই সংবাদ সম্মেলন হয়।

বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীর সঙ্গে সাফাদির বৈঠক নিয়ে তোলপাড়ের মধ্যেই বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাফাদি জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র ও তার তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদের সঙ্গে গত বছর তার সাক্ষাৎ হয়েছিল। বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীর সঙ্গে দেখা হওয়ার আগেই যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে তাদের কথা হয়।

বাংলাদেশ সরকার উৎখাতে সাফাদির সঙ্গে বৈঠকের অভিযোগে বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীকে আটক করে এরই মধ্যে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, ‘একজন নিরীহ মানুষকে ‘মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে’ ও ‘ষড়যন্ত্র করে’ কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। এখন থলের বিড়াল বের হয়েছে। সরকার কত ধরণের ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তকারী হতে পারে, এর দৃষ্টান্ত হচ্ছে জয় ও মেন্দির বৈঠক। আজকে এই যে ঘটনা শুধু বিএনপি নয়, দেশের সমগ্র জনগোষ্ঠি জানতে চায় সরকার কি ব্যবস্থা নেয়।’

এক প্রশ্নের জবাবে রিজভী বলেন, ‘সরকার মিথ্যা তথ্যের ওপর ভর করে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দিচ্ছে, যাতে করে একটি কার্যকর আন্দোলন গড়ে উঠতে না পারে। ভোটারবিহীন সরকার অবৈধভাবে ক্ষমতায় আছে। ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য এসব মামলা দেয়া হচ্ছে। ক্ষমতায় টিকে থাকার স্বার্থে এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে তারা কাজ করছে না। দেশের স্বাধীনতা বিক্রি করে দিয়ে হলেও সেই কাজ গুলো করছে।

এ সময় তিনি অভিযোগ করেন সরকার বিচার বিভাগের ওপর ‘নগ্ন হস্তক্ষেপ’ করছে।

সংবাদ সম্মেলন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, অর্থবিষয়ক সম্পাদক আব্দুস সালাম,সহ-দফতর সম্পাদক আসাদুল করিম শাহীন উপস্থিত ছিলেন।