আশুলিয়ায় আ’লীগ পিটিয়ে হত্যা করল ভ্যানচালককে

0

জিসাফো ডেস্কঃ পাওনা টাকা আদায়ের জের ধরে আওয়ামী লীগ নেতা ডেকে নিয়ে মঈনুদ্দীন নামের ১ ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যা করেছে ওই বাহিনী। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন মোরশেদ আলম নামের আরো ১ ব্যক্তি। আহত মোরশেদ আলম স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। আশুলিয়ার পূর্ব ডেন্ডাবর এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। তবে ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার শেষ চেষ্টায় ব্যর্থ হয়েছে হত্যাকারীরা।

হাবীব কিনিকে চিকিৎসাধীন আহত মোরশেদ আলম জানান, মইনুদ্দীনের কাছে ৩ হাজার টাকা পেত স্থানীয় সুদ ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম। বেশ কিছু দিন ধরেই টাকা আদায়ের জন্য চাপ দিয়ে আসছিল রফিকুল। গত সোমবার বিকেলে টাকা দিতে না পারলে খবর আছে বলে হুমকি দিলে মইনুদ্দীন তার প্রতিবেশী ধামসোনা ইউনিয়ন বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক মোরশেদ আলমের কাছে ঘটনাটি বলেন। এ সময় মোরশেদ আলম মইনুদ্দীনকে নিয়ে রফিকুলের বাড়ির সামনে চায়ের দোকানে এসে রফিকুলকে ১ হাজার টাকা দিয়ে বাকি ২ হাজার টাকা পরিশোধের জন্য ১ মাসের সময় চান। এ সময় ক্ষিপ্ত হয়ে রফিকুল বলে, টাকা দিতে না পারলে ঘরের আসবাব দিক। এতে প্রতিবাদ করায় রফিকুলের সঙ্গীয় মেহেদী ও তুষার মোরশেদ মইনুদ্দীনের সঙ্গে বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে যায়। এ সময় তাদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকেই মেহেদী তার নেতা ডেন্ডাবর এলাকার ধামসোনা ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলামের সেকেন্ড ইন-কমান্ড হাসান মন্ডলকে ফোন করেন। খবর পেয়ে হাসান মন্ডল মইনুদ্দীনকে সাথে নিয়ে মোরশেদকে তার বাসায় যেতে বলেন। মোরশেদ মইনুদ্দীনকে নিয়ে হাসানের বাসার সামনের মার্কেটে গিয়ে তার খোঁজ করলে হাসানের সেকেন্ড ইন কমান্ড সোহেল আওয়ামী লীগ নেতা সাইফুল ইসলামের কাবে বসতে দেন এবং বলে হাসান ভাই আসছেন। কিছুক্ষণ পর সোহেল ফের মইনুদ্দীন ও মোরশেদকে কাব থেকে ডেকে নিয়ে পাশের চায়ের দোকানে নিয়ে আসেন, আর বলে হাসান ভাই এখানেই আসবেন। মুহূর্তের মধ্যে সেখানে লোহার রড, হকিস্টিক, চাপাতি ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র হাতে ২০-২৫ জনের একটি সন্ত্রাসী দল নিয়ে হাজির হয় মেহেদি। সেখানেই মোরশেদ ও মইনুদ্দীনকে ঘেরাও করে লোহার রড়, হকিস্টিক দিয়ে বেধরক মারধর করে। এক পর্যায়ে চাপাতি দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে তাদের। এরপর ইট দিয়ে মইনুদ্দীনের মাথা থেঁতলে দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা। পরে স্থানীয়রা মইনুদ্দীন এবং মোরশেদকে উদ্ধার করে পল্লী বিদ্যুৎ এলাকার হাবিব কিনিকে নিয়ে এলে মইনুদ্দীনকে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়া হয়। অবস্থা বেগতিক দেখে এনাম মেডিকেলও রাখেনি তাকে। সেখানেই মঈনুদ্দীনের মুত্যু হলে তার পরিবারের লোকজন কাউকে কিছু না জানিয়ে নিহত মঈনুদ্দীনকে তার গ্রামের বাড়ি শেরপুর জেলার নলকা থানার ডাকাইতা কান্দা এলাকায় নিয়ে যায়। এতবড় ঘটনায় থানা পুলিশ কিছুই জানে না বলে তোলপাড় শুরু হয়েছে শিল্পাঞ্চল এলাকাজুড়ে। খবর পেয়ে আশুলিয়া থানার ওসি মহসীনুল করিম নলকা থানার ওসিকে ফোন করে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ফেরত পাঠাতে বলেন।

ওসি মহসীনুল করিম জানান, খবর পাওয়ার সাথে সাথে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং অভিযোগ পেলেই মামলা নেয়া হবে। এদিকে এখন পর্যন্ত থানায় মামলা দিতে সাহস পাচ্ছে না আহত মোরশেদ আলম। মোরশেদ আরো জানান, মামলা দিলে তাকেও হত্যা করা হবে বলে হুমকি প্রদর্শন করা হয়েছে। এর ভয়ে হাসপাতাল ছেড়ে বাড়িতে যেতেও ভয় পাচ্ছে। এ ঘটনার বিষয়ে জানতে মেহেদী এবং সোহেল কাউকেই পাওয়া যায়নি। তবে হাসান মন্ডল জানান, তাদের বিচারের জন্য ডেকেছিলেন তিনি, মারধরের জন্য নয়। ঘটনাটি অনাকাঙ্খিতভাবে ঘটে গেছে। আওয়ামী লীগ নেতা সাইফুল ইসলাম জানান, তিনি এ ব্যাপারে হাসানের কাছে শুনেছেন মাত্র, আর কিছুই জানেন না। নিহতের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তার বড় ভাই রাজ্জাক জানান, আমার ভাইকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে তাদের বিরুদ্ধে তো মামলা করবই। তাই আমরা মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি। তবে নকলা থানার ওসি হায়দার জানান, ওসি আশুলিয়ার তথ্য অনুযায়ী আমরা নিহত মইনুদ্দীনের লাশ উদ্ধার করে শেরপুর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছি।