আমাদের যে লক্ষ্য গণতন্ত্র পুনঃরুদ্ধার আমরা করতে পারব

0
জিসাফো ডেস্কঃ বিএনপির নতুন পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার পর সোমবার প্রথমবারের মতো দলীয় কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এসে সাংবাদিকদের কাছে ‘অনেক যোগ্য লোকের পদ না পাওয়ার কথা’ স্বীকার করেন তিনি।
 
পদবঞ্চিতদের বিষয়টি নিয়ে ভাববেন কি না- জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “এই মুহূর্তে কোনো প্রশ্নই ওঠে না। কারণ কমিটি ঘোষণা হয়ে গেছে।“কোনো ব্যক্তি বা কেউ যদি মনে করেন, আমি বঞ্চিত হয়েছি, তাহলে তার উচিৎ হবে অপেক্ষা করা পরবর্তী কাউন্সিলের জন্য।”
 
গত শনিবার সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটি, ৭৩ সদস্যের উপদেষ্টা কাউন্সিল ও ৫০২ সদস্যের জাতীয় নির্বাহী কমিটি ঘোষণার পরপরই উপদেষ্টা মোসাদ্দেক আলী ফালু এবং সহ প্রচার সম্পাদক শামীমুর রহমান শামীম পদত্যাগের ঘোষণা দেন। আরও অনেক নেতা নিজেদের অসন্তোষের কথা জানিয়ে গণমাধ্যমে মুখ খোলেন।মির্জা ফখরুল সেদিন নতুন কমিটিকে ‘ভাইব্রেন্ট ও ডায়নামিক’ অভিহিত করলেও বিএনপির প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ওবায়দুল কাদের পরদিন ‘জাম্বো সাইজের’ এই কমিটিকে ‘তামাশা’ আখ্যায়িত করেন।নতুন কমিটি ঘোষণার পর দলীয় কার্যালয়ে নেতা-কর্মীদের ভিড় থাকা স্বাভাবিক হলেও রোববার তেমন চিত্র দেখা যায়নি। প্রায় সারাদিনই দলীয় কার্যালয় ছিল অনেকটা ফাঁকা। সোমবার এসে সেই চিত্র পাল্টেছে।
 
এদিন সকাল থেকেই নেতা-কর্মীদের ভিড় দেখা যায় বিএনপি কার্যালয়। নতুন কমিটির তৃণমূল স্তরের নেতারা কর্মীদের সঙ্গে কোলাকুলি করেন। কোনো কোনো কর্মী তাদের নতুন নেতাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।
 
তবে এস এম জিলানিসহ কয়েকজন নেতা নতুন কমিটি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
 
এমন পরিবেশে বেলা সাড়ে ১১টায় বিএনপি কার্যালয়ে আসেন মহাসচিব। তাকে স্বাগত জানান দলের সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, সহ দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু ও মুনির হোসেন নতুন নেতারা। পরে নতুন নেতারা মহাসচিবের সঙ্গে তার চেম্বারে কুশল বিনিময় করেন।
 
বেলা সাড়ে ১২টার দিকে নিজ চেম্বারে সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের জবাব দেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।নতুন কমিটি নিয়ে ক্ষোভ-বিক্ষোভের প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, গত ১৯ মার্চ জাতীয় কাউন্সিলে দল খালেদা জিয়াকে কার্যনির্বাহী কমিটি গঠনের দায়িত্ব দিয়েছিল। সেই অনুযায়ী তিনি পূর্ণাঙ্গ কমিটি করে দিয়েছেন। এ কমিটি নিয়েই বিএনপি আগামী তিন বছর রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করবে।
 
“প্রতিটি রাজনৈতিক দলের যখন একটা কমিটি করা হয়, তখন দেখা যাবে সেখানে কিছু সংখ্যক যোগ্য মানুষও পদবঞ্চিত হচ্ছেন। এটা স্বাভাবিক যে, এতো যোগ্য লোকের সংখ্যা থাকে, সবাইকে অ্যাকোমোডেট করা সম্ভব হয় না। সেই দিক থেকে বিএনপিতে স্বাভাবিকভাবে সবাইকে অ্যাকোমোডেট করা সম্ভব হয় নাই আমাদের চেয়ারপারসনের পক্ষে।নতুন কমিটি গঠনে বিএনপি চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শিমুল বিশ্বাস, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ও স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের ‘প্রভাব’ কাজ করেছে এবং তাদের অনুসারীরা ভালো পদ পেয়েছেন বলে কিছু নেতার অভিযোগের কথা গণমাধ্যমে এসেছে।
 
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “যে কথাটা আপনি বলেছেন, এটা অপপ্রচার। বিএনপিকে হেয়-প্রতিপন্ন করবার জন্য একটা মহল প্রথম থেকেই কাজ করে যাচ্ছে।”
 
এ প্রসঙ্গে গণমাধ্যম ‘পক্ষপাতমূলক’ আচরণ করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
 
“আপনারা (সাংবাদিকরা) ইদানিংকালে বিএনপির ভুল-ত্রুটি খুঁজছেন। আপনারা কিন্তু সরকারি দলের ভুল-ত্রুটি খুঁজছেন না, সেগুলোকে সেভাবে তুলে ধরছেন না।
 
“যখন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ব্যাহত হয়, গণতন্ত্র থাকে না, যখন সরকারি চাপ মিডিয়ার ওপর বেশি করে পড়ে, তখন বাধ্য হয়েই আমরা মনে করি, এ ধরনের একটা প্রবণতা দেখা যায় যে, বিরোধী দলকে যতটা পারা যায় চাপ দেয়ার জন্য। আমরা অতীতেও এ সমস্ত অবস্থা ফেইস করেছি।”
 
নতুন কমিটি বিএনপির লক্ষ্য পূরণে সক্ষম হবে- এমন আশা প্রকাশ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের আস্থা আছে, এই কার্য্করী কমিটির মাধ্যমে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সব ক্রাইসিস ওভারকাম করতে পারবেন। আমাদের যে লক্ষ্য গণতন্ত্র পুনঃরুদ্ধার আমরা করতে পারব।”
 
‘ত্যাগী ও যোগ্য’ অনেকে বাদ পড়েছেন বলে যে অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিষয়টি পুনর্মূল্যায়ন করা হবে কি না- জানতে চাইলে তিনি বলেন, “কেউ বাদ পড়তেই পারেন। সবাইকে অ্যাকোমোডেট করা সম্ভব নয় তো। এটা হতেই পারে। একটা দলের মধ্যে শত শত হাজার হাজার যোগ্য লোক আছে, তাদের সবাইকে তো যুক্ত করা সম্ভব না।”
 
বঞ্চিতদের বিক্ষোভের প্রসঙ্গ তুলে তাদের জন্য কোনো পরামর্শ আছে কি না জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, “বিক্ষোভ করে তো কোনো লাভ হবে না। আর ধৈর্য্য তো ধরতেই হবে। কারণ শেষ কথা বলতে তো কিছু নেই।
 
“সব সময়ই পরবর্তী একটা বিষয় থাকে। রাজনৈতিক দলগুলোতে পদের জন্য প্রতিযোগিতা সবসময় থাকে। সব রাজনৈতিক দলে আছে; পৃথিবীর সব দেশেই আছে।”
 
বিভিন্ন উপ-কমিটিতে যোগ্য নেতাদের যুক্ত করা হবে বলেও জানান তিনি।
 
বিএনপির নতুন কমিটি নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় মির্জা ফখরুল বলেন, “আমি বলছি যে, তিনি একটা রাজনৈতিক শিষ্ঠাচার বির্বজিত উক্তি করেছেন। এটা অভিপ্রেত নয়।”
 
কমিটি ঘোষণার পর নেতা-কর্মীরা ‘জেগে উঠেছে’ কি না- এমন প্রশ্নে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “সেটা আপনারা যেভাবে দেখেন সেভাবে না। আপনারা যেভাবে জেগে উঠতে দেখেন, সেভাবে জেগে উঠতে, কনসুলেটেড করতে হয়, তখনই জেগে ওঠে।
 
“পুরো ব্যাপারটা সামগ্রিক অবস্থার ওপর, পারিপার্শ্বিকতার ওপর, দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা আছে কি না, তার ওপর নির্ভর করে। যে দেশে গণতন্ত্র নেই, সে দেশে জেগে ওঠাটা সহজে হয় না।”
 
এ সময়ে অন্যদের মধ্যে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন, সহ-সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, আসাদুল করীম শাহিন, নির্বাহী কমিটির সদস্য জামাল শরীফ হীরু, সাইফুল ইসলাম পটু ও কাজী রফিক উপস্থিত ছিলেন।