আমাদের নিজস্ব গরুর দিকে নজর দিলে সীমান্ত হত্যা থেমে যাবে

0

জিসাফো ডেস্কঃ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) বিদায়ী মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ বলেছেন, ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীবাহিনী বিএসএফ ও মিয়ানমার সীমান্ত রক্ষীবাহিনী বিজিপির সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের উন্নয়ন হয়েছে। কিন্তু সীমান্ত হত্যা শূন্যে নামিয়ে আনতে পারিনি। এই অতৃপ্তি নিয়েই বিজিবি থেকে ফেরত যেতে হচ্ছে।

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর পিলখানা বিজিবি সদর দফতরের ক্যাপ্টেন শহীদ আশরাফ হলে দায়িত্বের ৪ বছরের কর্মকাণ্ড ও উন্নয়ন নিয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেছেন।

এ সময় বিজিবি মহাপরিচালক অভিযোগ করেন, ‘সম্পর্ক উন্নয়নে আমরা যতটা আন্তরিকভাবে চেষ্টা করছি মিয়ানমার ততোটা সাড়া দিচ্ছে না।’

ভারতীয় গরু থেকে দৃষ্টি ফেরাতে হবে দাবি করে বলেন, ‘আমাদের নিজস্ব গরুর দিকে নজর দিলে সীমান্ত হত্যা থেমে যাবে।  গরু চোরাকারবারিদের সঙ্গে অস্ত্র চোরাচালান, মাদক চোরাচালান ও সন্ত্রাসীদের সীমান্ত পারাপার জড়িত।’

অপর এক প্রশ্নের জবাবে বিজিবি প্রধান বলেন, ‘স্বাধীনতার পর থেকেই ৫৩৯ কিলোমিটার সীমান্ত অরক্ষিত ছিল। আমার সময়ে এই বিশাল অরক্ষিত সীমান্তের ৩৩২ কিলোমিটার নিয়ন্ত্রণে এনেছি।’

বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, ‘সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি হত্যার দায়ে অনেক বিএসএফ সদস্যকে চাকুরী থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। কিন্তু এগুলো প্রচারের বিষয় নয় বলে গণমাধ্যমে আসে না। তবে আমাদেরকে বিএসএফ কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন সময় অবগত করেছে।’

এসময় বিজিবি প্রধান সীমান্তে দায়িত্ব পালনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে বলেন, ‘সীমান্তে সড়ক ও কাঁটাতারের বেড়া না থাকা বিজিবির দায়িত্ব পালনে বড় চ্যালেঞ্জ। একইসঙ্গে সীমান্ত এলাকার নাগরিকদের অর্থনৈতিক দৈন্যদশাও একটা চ্যালেঞ্জ। দারিদ্র্যতার কারণে চোরাকারবারিরা সীমান্তবাসীকে ব্যবহার করে।’

তিনি এনজিও কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আপনারা সীমান্ত এলাকার মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নতির জন্য কাজ করতে পারেন।’

ফেলানী হত্যার বিচার শেষ না হওয়া বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বিদায়ী মহাপরিচালক বলেন, ‘আমি এ বিচার নিয়ে ব্যক্তিগতভাবেও অনেক দেন দরবার করেছি। বর্তমানে এটা ভারতের বিচারিক আদালতে রয়েছে। বিচার কার্য শেষ না হওয়ায় আমার ভেতর অতৃপ্তি রয়েছে।’

সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অস্ত্র ও মাদক কিভাবে আসে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের গাড়ি স্ক্যানার নেই। ফলে পেয়াজ, বালু বা অন্যান্য পণ্যের গাড়িতে করে যদি এসব আসে তাহলে কিভাবে খুঁজে বের করা সম্ভব। আমি ১৭টি স্ক্যানার ডিমান্ড করেছি। হয়তো ভবিষ্যতে পাওয়া যাবে।’

তবে বিজিবির অনেক সাফল্য আছে দাবী করে এসময় তিনি জানান, গত ৪ বছরে ৩ হাজার ১৫ কোটি ৯০ লক্ষাধিক টাকার চোরাচালান ও মাদক দ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। জড়িত থাকার অভিযোগে ১ হাজার ৫৭৭ জনকে আটক করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। এছাড়াও ২৩৭টি পিস্তল, ১৫২টি বন্দুক, ২৬টি রিভলভারসহ বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া প্রায় দেড় কোটি ইয়াবা ট্যাবলেট, সাড়ে ষোল লক্ষাধিক বোতল ফেনসিডিল, ৯ লক্ষাধিক বোতল মদ, ৩৭ হাজার কেজির অধিক গাঁজা ও ৮৫ কেজির অধিক হেরোইনসহ অন্যান্য মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে।

বিজিবির অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলার বিষয়ে মহাপরিচালক বলেন, ‘চার বছরে ৬০ জনের বেশি বিজিবি সদস্যকে চাকুরী থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। মাদক এবং বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কের কারণে তাদের বহিষ্কার করা হয়। তবে অনেকের আবেদনের কারণে বহিষ্কারের শাস্তি মওকুফ করে অকালীন অবসরে পাঠানো হয়েছে। এতে করে সেসকল সদস্য অবসর সুযোগ সুবিধা পাবে।’

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) বিদায়ী মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ আগামী রোববার বিজিবি সদর দফতরে শেষ কর্ম দিবস হিসেবে নবাগত মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. আবুল হোসেনকে দায়িত্ব হস্তান্তর করবেন বলেও জানান।

উল্লেখ্য মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ লেফট্যানেন্ট জেনারেল পদে পদোন্নতি পেয়েছেন। তিনি বাংলাদেশে সেনাবাহিনীতে প্রত্যাবর্তন করবেন।