আবাবিল বাহিনীর গল্প ও একজন মাহবুব মিঠু

0

মিনার রশীদ

এক জুনিয়র বন্ধুর পরামর্শে বছর দেড় বা দুই আগে ফেইস বুকিং শুরু করি । এখানে এসে হলুদ মিডিয়া নামক হস্তিবাহিনীর বিরুদ্ধে এক ধরনের আবাবিল বাহিনীর অস্তিত্ব টের পাই ।
বর্তমান মিডিয়ার সবাই মিথ্যার পক্ষে – সেটা বলাও বোধ হয় ঠিক হবে না । এখানেও বিবেক, মানবতা ও সত্যের পক্ষে কিছু মানুষ ও প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তবে তাদের সংখ্যা ও প্রভাব খুবই সামান্য।
এমতাবসথায় টেকনোলজির কল্যাণে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলি আর্ত মানবতার জন্যে আশীর্বাদস্বরূপ আবির্ভূত হয়েছে। অবস্থা এমন হয়ে পড়েছে যে ফেইস বুকের প্রতিষ্ঠাতা জুকারবার্গ ইচ্ছে করলেও তাদের পলিসি বদলাতে পারবেন না। কারণ কোন বিশ্ববেহায়া বা বিশ্ব স্বৈরচারারের মনের বাসনা পূর্ণ করলে সেটা তাদের অন্য কোন কম্পিটিটরদের জন্যে বিশেষ সুযোগ সৃষ্টি করে দিবে। ফেইস বুকের জায়গায় অন্য কোন বুক চলে আসবে।

এই বিষয়টি না বুঝেই তারানা হালিমগণ ফেইস বুককে মুজিব কোট পরাতে চেয়েছিলেন । এই দেশে পহেলা বৈশাখে প্রকাশ্য দিবালোকে নারীর বস্ত্র হরণকারীদের বিচার হয় না, একটুস খানি দুষ্টুমি হিসাবে ধরে নিয়ে সেই মামলা ডিসমিস করা হয়। এদেশে প্রতি দশ জন পুরুষের মধ্যে নয়জন নাকি বউ পেটায় ( তথ্যসূত্র : আনিসুল হক ,প্রথম আলো ) । সেই দেশে তারানা হালিমরা নারীর প্রতি ডিজিটাল অবমাননার জন্যে নিতান্ত কাতর হয়ে পড়ে!
জুকারবার্গের মত ব্যক্তি ঘাষ খেয়ে বড় হন নি বলেই তারানা হালিমদের আসল মতলবটি আগে ভাগেই ধরে ফেলেছেন ।

কাজেই সোশাল মিডিয়ার আবাবিল বাহিনীর সম্মুখে বড় বড় হস্তিবাহিনী( মিডিয়া)র বহর নিয়েও এই অবৈধ সরকার অত্যন্ত অসহায় হয়ে পড়েছে। একটা কোম্পানীর কর্মচারীদের সাথে সরকারের মন্ত্রীদের বৈঠকে সেই অসহায়ত্ব ফুটে উঠেছে।

এই সব আবাবিল বাহিনীর মধ্যে যাদের ছোড়া কংকর এই হস্তিবাহিনীকে বেশি বেশি আঘাত করেছে তাদের মধ্যে অষ্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরত ও সদ্য প্রয়াত মাহবুব মিঠু ছিলেন অন্যতম । এই কলাম সৈনিকের হঠাৎ এমনভাবে চলে যাওয়া বুদ্ধিবৃত্তিক এই আন্দোলনটির জন্যে মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়েছে। এই কঠিন সময়টিতে মাহবুব মিঠুর মত এক্টিভিষ্ট ও লেখকের খুবই দরকার ছিল।

অষ্ট্রেলিয়ার মারডক ইউনিভার্সিটির শিক্ষক ড: মোয়াজ্জেম ভাইয়ের কাছ থেকে তাঁর আচমকা মৃত্যুর সংবাদটি শুনে তা হজম করতে বেশ কষ্ট হয়েছে। মাহবুব মিঠুর সাথে আমার তেমন ঘনিষ্ঠতা ছিল না । শুধু একদিন ড: মোয়াজ্জেম ভাইয়ের মাধ্যমে কিছুক্ষণ টেলিফোনে কথা হয়েছে । একদিনের আলাপেই তাকে অনেক আপন মনে হয়েছে।

তবে তার লেখার মাধ্যমে তাকে জেনেছি নিত্যদিন । কোন ঘটনা ঘটার সাথে সাথেই তার সুচিন্তিত মতামত ফেইস বুক পেইজে চলে আসত । এর মাধ্যমে দেশের জন্যে সর্বক্ষণ তার হৃদয়ের ব্যাকুলতা ও মনের আকুতিটি ফুটে উঠত। শরীরটি প্রবাসে থাকলেও তার মনটি সর্বদা পড়ে থাকত বাংলাদেশে। তিনি ছিলেন খাটি দেশপ্রেমিক , নির্র্ভেজাল জাতীয়তাবাদি।

পরম করুণাময়ের পরিকল্পনা আমাদের জানা নেই। আমাদের মন সায় না দিলেও কোন এক মহাপরিকল্পনার আওতায় হয়তোবা তাকে এভাবে হঠাৎ চলে যেতে হয়েছে। তবে তার শুরু করা কাজটি দিয়ে গেছে অন্যদের কাঁধে ।

আল্লাহপাক তাকে শান্তিতে রাখুন । তার সকল ভুল ত্রুটি ক্ষমা করে বেহেস্ত নসীব করুন । তার শোক সন্তপ্ত পরিবারকে এই কষ্ট সহ্য করার শক্তি দান করুন । আমিন ।