আন্দোলনকারী ছাত্রীদের উপর ছাত্রলীগের হামলা

0

জিসাফো ডেস্কঃ-শহিদ মিনারে অবস্থান করা মেয়েদের উপর ছাত্রলীগের হামলা।প্রকাশ্য বাঁশ,লাঠি,রড নিয়ে তাদের আন্দোলনকারী ছাত্র/ছাত্রীদের উপর চড়াও হয়।

আন্দোলনকারীরা হামলার জন্য এবারও দায়ী করছেন সরকার সমর্থক ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগকে।তাদের এ দাবী অমূলক নয়।

তবে সেখানে উপস্থিত ছাত্রলীগ কর্মীরা বলেছেন, সংগঠন থেকে নয়, সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেব তারা ‘শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ’ বজায় রাখতে কাজ করছেন।

এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম গোলাম রাব্বানী বলেছেন, হামলা বা মারধরের বিষয়ে কেউ তাকে জানায়নি। অভিযোগ পেলে তারা ব্যবস্থা নেবেন।

এর আগে গত শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করতে গিয়ে পিটুনির শিকার হন আন্দোলনকারীদের প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক হাসান আল মামুন ও যুগ্ম আহ্বায়ক নূরুল হক নূর।
ঢাকার পর চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়েও কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের কর্মসূচিতে হামলা চালিয়ে মারধর করা হয়।

সোমবার সারা দেশে বিশ্ববিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে বিক্ষোভ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকার আন্দোলনকারীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরির সামনে কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে ছাত্রলীগ কর্মীদের উপস্থিতি দেখে ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতারা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে জড়ো হতে শুরু করেন।

বেলা সোয়া ১১টার দিকে কয়েকজন আন্দোলনকারী শহীদ মিনার চত্বরে ব্যানার নিয়ে দাঁড়ালে একদল যুবক দৌড়ে এসে তাদের ওপর চড়াও হয় এবং বেধড়ক মারধর শুরু করে। হামলাকারীদের মধ্যে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদেরও দেখা যায়।

হঠাৎ এই হামলার মুখে আন্দোলনকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। দুজনকে চত্বরে ফেলে এলোপাতাড়ি লাথি ঘুষি মারতে দেখা যায় এসময়।
বিক্ষোভ মিছিলে আসা ইডেন কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী লুৎফর রহমান লুমা সাংবাদিকদের বলেন, “কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন ফেইক ফেইসবুক আইডি থেকে আমাদের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। এখন প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। বলছে, ছেলেদের গুম করা হবে আর মেয়েদের ধর্ষণ করা হবে।”

ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন বলেন, “ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। আমাদের যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক হোসেনকে ফ্লোরের ওপর ফেলে বেধড়ক মেরেছে। আমাকেও তারা মেরেছে, আমি দৌড়ে পালিয়ে এসেছি।”

ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা ফারুককে একটি মোটর সাইকেলে করে তুলে নিয়ে গেছে বলেও অভিযোগ করেন মামুন।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকরা হামলাকারীদের পরিচয় জানতে চাইলে তারা দাবি করেন তারা ‘এখানকার ছাত্র’।

সেখানে উপস্থিত হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান সানী বলেন, “আমরা সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে এখানে এসেছি। তারা প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে বাজে কথা বলেছে। তারা পরিকল্পনা করেছিল আজকের কর্মসূচিতে তারা লাঠিসোঁটা, রড নিয়ে অবস্থান করবে। তারা বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করতে চেয়েছে। এরা আর কেউ না, এরা জামায়াত-শিবির। তাই আমরা এখানে এসেছি। আমরা ছাত্রলীগ না, আমরা সাধারণ শিক্ষার্থী।”
এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম গোলাম রাব্বানী বলেন, “শনিবার যে ঘটনা ঘটেছে সে বিষয়ে আমি অবহিত হয়েছি। আমাদের প্রক্টরিয়াল টিম ও শিক্ষকরা যার যার অবস্থান থেকে কাজ করেছেন। তবে আজকের হামলা বা মারধোরের বিষয়ে আমাকে কেউ অবহিত করেনি।”

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’ ব্যানারে কয়েক মাস ধরে আন্দোলন করে আসছে একদল শিক্ষার্থী।

তাদের আন্দোলনের মুখে প্রধানমন্ত্রী কোনো ধরনের কোটাই আর রাখা হবে না বলে জানালেও সরকারি প্রজ্ঞাপন না আসায় নানা কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ।