আদালতের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে সরকার আমরা শঙ্কিত – মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

0

সুপ্রিম কোর্টের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় পরিবর্তনে সরকার প্রধান বিচারপতির ওপরে চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, আপনি তো এখন প্রধান বিচারপতির ওপরে চাপ সৃষ্টি করছেন, তাকে জোর করে তাকে দিয়ে এখন রায় পরিবর্তন করানোর জন্য আপনারা প্রকাশ্যে বলছেন। আমরা খুব স্পষ্ট করে বলতে চাই, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ কী করবেন আমরা জানি না, প্রধান বিচারপতি কী করবেন আমরা জানি না। বাংলাদেশের  জনগণ কখনো আপনাদের এই অন্যায়কে মেনে নেবে না। বাংলাদেশের জনগণ তারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে আপনাদের সকল দুঃশাসনকে পরাজিত করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করবে। গতকাল রবিবার সকালে গত ৮ আগস্ট লন্ডনের মুরফিল্ড আই হাসপাতালে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ডান চোখে অস্ত্রোপচারের পর তার আরোগ্য কামনায় নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন। এ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। : সরকারের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা এখনো বলি, এভাবে কথা-বার্তা না বলে, এভাবে গণতন্ত্রের সংশ্লিষ্ট স্তম্ভগুলোকে ধ্বংস না করে, বিচার বিভাগের ওপর চাপ সৃষ্টি না করে সোজা রাস্তায় আসুন, সোজা পথে ফিরে আসুন, সিদা পথে চলুন। নির্বাচনের জন্য একটা সহায়ক সরকারের মাধ্যমে একটা নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন। অন্যথায় আপনাদের (আওয়ামী লীগ) সাধারণ সম্পাদক সাহেবই বলেছেন যে, পালাবার পথ খুঁজে পাবেন না। : ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের বিরুদ্ধে সরকারের কয়েকজন মন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আজকে আওয়ামী লীগের নেতারা, সরকারের মন্ত্রীরা প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে বিষোধগার করছেন। অপরাধ কী? সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ একটি যুগান্তকারী রায় দিয়েছে, একটি ঐতিহাসিক রায় দিয়েছে- ষোড়শ সংশোধনীতে আওয়ামী লীগ সরকার বিচারপতিদের অভিসংশন করবার ক্ষমতা পার্লামেন্টের হাতে দিয়েছিলো। কোন সংসদ? যে সংসদ নির্বাচিত নয়, যে সংসদে জনগণের ম্যান্ডেট নেই, যে সংসদ নির্বাচনে শতকরা ৫ জন মানুষও ভোট দিতে যায়নি। যৌক্তিকভাবে তারা (সুপ্রিম কোর্ট) সেই সংসদের হাতে সেই অধিকার দেননি। তারা সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল করেছেন যা অতীতে ছিলো, তাদের কাছেই দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এখন আওয়ামী লীগের নেতা ও মন্ত্রীরা যে ভাষায় কথা বলছেন, এটা কোনোভাবে গণতন্ত্রের ভাষা হতে পারে না। : প্রধান বিচারপতির বাসভবনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গমনে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা খুব উদ্বিগ্ন হয়ে গেছি, আমরা শঙ্কিত হয়ে গেছি আজকের একটা পত্রিকার খবর দেখে। খবর এসছে, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাহেব শনিবার রাতে প্রধান বিচারপতির বাসায় গেছেন। কখন গেছেন? তার আগে আওয়ামী লীগের ওয়ার্কিং কমিটির মিটিং করে তারপরে তিনি প্রধান বিচারপতির বাসাভবনে গেছেন। আমি আরো বিস্মিত হলাম, সেখানে তিনি নৈশ ভোজ করেছেন। শুধু তাই নয়, গতকাল একজন মন্ত্রী যে ভাষায় কথা বলেছেন, প্রধান বিচারপতিতে তুই-তোকারি করেছেন, অশালীন ভাষায় কথা বলেছেন। এমন কথা বলেছেন যে, হাত এতো লম্বা হয়ে গেছে, হাত কেটে দেয়া হবে। এই যে সন্ত্রাসের ভাষা, এই যে সহিংসতার ভাষা, এই যে অসংসদীয় ভাষা- এটা একমাত্র আওয়ামী লীগই নেতা-কর্মীদের মুখে শোভা পায়। : মির্জা ফখরুল শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, আমরা দুঃখিত হই, লজ্জিত হই, শঙ্কিত হই যে, গণতন্ত্রকে ধ্বংস করবার জন্য আবার কী নতুন ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে? একটা কথা আমাদের মনে রাখতে হবে এই অপশক্তিকে যদি আমরা পরাজিত করতে না পারি, এই দুঃশাসনকে সরাতে না পারি তাহলে বাংলাদেশে গণতন্ত্র ফিরে আসবে না, দেশের মানুষ ভোটের অধিকার ফিরে পাবে না। বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেশের প্রয়োজন-জনগণের প্রয়োজন-সময়ের প্রয়োজন আজকে মুখ খুলতে হবে এই স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে, এই দুঃশাসনের বিরুদ্ধে, এই পাশবিক নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে। ভুলে গেলে চলবে না যে, তারা আমাদের ভাইদেরকে এক এক করে মেরেছে, ভুলে গেলে চলবে না যে, তারা আমাদের সহকর্মীদের গুলি করে দিয়েছে। কিছুক্ষণ আগে আমরা মহানগর বিএনপি উত্তরের উদ্যোগে কয়েকটি পরিবারের হাতে কিছু সহযোগিতা দিয়েছি। আপনাদের মনের মধ্যে সবসময় আগুন থাকা উচিত যে, আপনাদের সহকর্মীদের এভাবে হত্যা করা হয়েছে, গুম করে ফেলা হয়েছে। সেই আগুনকে প্রশমিত করতে দিলে চলবে না। এই অন্যায়কে পরাজিত করতে হলে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। : ছাত্রদলের সভাপতি রাজিব আহসান এবং সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসানের সঞ্চালনায় দোয়া মাহফিলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, প্রচার সম্পাদক শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, ঢাকা মহানগর বিএনপি উত্তরের সিনিয়র সহ-সভাপতি মুন্সি বজলুল বাসিত আনজু, সাধারণ সম্পাদক আহসান উল্লাহ হাসান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রশীদ হাবিব, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি  শফিউল বারী বাবু, সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল, ঢাকা মহানগর যুবদল উত্তরের সভাপতি এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, ওলামা দলের সাধারণ সম্পাদক শাহ নেসারুল হক, ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মামুনুর রশিদ মামুন, সহ- সভাপতি এজমল হোসেন পাইলট, আলমগীর হাসান সোহান, নাজমুল হাসান, আবু আতিক আল হাসান মিন্টু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, মিজানুর রহমান সোহাগ, ওমর ফারুক মুন্না, মেহবুব মাছুম শান্ত, গোলাম মোস্তফা, সেলিনা সুলতানা নিশিতা, দফতর সম্পাদক আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী, ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ মাহমুদ, ছাত্রদল ঢাকা মহানগর উত্তরের দফতর সম্পাদক মো. তানভীর আহম্মেদ খান ইকরামসহ ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।