আজ পবিত্র হজ

0

সৌদি আরব: বুধবার পবিত্র হজ। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসলামনের কণ্ঠে আরাফাতের ময়দানে ধ্বনিত হবে ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ অর্থাৎ ‘হে আল্লাহ আমি হাজির তোমার দরবারে।’

মিনায় ফজরের নামাজ আদায় করেই ‘লাব্বায়েক আল্লাহুম্মা লাব্বায়েক’ ধ্বনিতে মক্কা নগরী থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে আরাফাতের ময়দানের উদ্দেশে হজযাত্রীরা রওনা হন। যেখানে মহানবী (সা.) বিদায়ী ভাষণ দিয়েছিলেন। হজযাত্রীরা আরাফাতের ময়দানে এসে নিজ নিজ খিমায় আশ্রয় নিবেন।

সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করার নামই হজ। এখানেই দিনভর এবাদত বন্দেগিতে মশগুল থাকবেন তারা। এর আগে-পরে অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজ করার মাধ্যমে হজের পরিপূর্ণতা শেষ করা হয়।

শুভ্র সেলাইবিহীন এক কাপড়ে সবাই হাজির হয়েছেন মহান আল্লাহর দরবারে তার নৈকট্যলাভের আশায়। লাখ লাখ মানুষের পদচারণা আর হাজার হাজার তাঁবুতে পরিপূর্ণ মিনা এখন মানুষ আর তাঁবুর শহর।

বুধবার মধ্যাহ্নের পর মসজিদে নামিরা থেকে হজের খুতবা দেয়ার কথা রয়েছে সৌদি আরবের সর্বোচ্চ মুফতি শেখ আবদুল আজিজ বিন আবদুল্লাহ আল শেখের।

দৃষ্টিশক্তিহীন এ ইমাম তুলে ধরবেন মুসলিম বিশ্বের বর্তমান পরিস্থিতি ও কোরআন-হাদিসের আলোকে করণীয় দিকনির্দেশনা। মসজিদে নামিরা থেকে খুতবার শব্দ গোটা আরাফাত ময়দানে শোনা না গেলে মুসল্লিরা রেডিও এবং টিভির মাধ্যমে শুনবেন গুরুত্বপূর্ণ এ খুতবা। হাজীরা জামাতবদ্ধ হয়ে একই আজানে ভিন্ন ভিন্ন একামতে একসঙ্গে আদায় করবেন জোহর ও আসরের নামাজ।

সূর্যাস্তের পরপরই তারা মুজদালেফার উদ্দেশে ত্যাগ করবেন আরাফাতের ময়দান। মুজদালেফায় পৌঁছে আদায় করবেন মাগরিব ও এশার নামাজ। রাত্রিযাপন করবেন খোলা আকাশের নিচে। শুক্রবার ফজরের নামাজের পর আবার প্রত্যাবর্তন করবেন মিনায় এবং সেখানে শয়তানকে কঙ্কর নিক্ষেপ ও কোরবানি আদায়ের মাধ্যমে পরিত্যাগ করবেন ইহরাম। এরপর একে একে মক্কার কাবাশরিফে গিয়ে ফরজ তাওয়াফ আদায় এবং সাফা মারওয়া পাহাড়ে সায়ি করবেন। ১১ ও ১২ জিলহজ জামারায় শয়তানের প্রতিকৃতিতে কঙ্কর নিক্ষেপ করবেন হাজিরা। এর মধ্য দিয়েই হজের সব কার্যক্রম শেষ হবে।

এদিকে, চলতি বছর সৌদিতে বিদেশি হাজির সংখ্যা হচ্ছে ১৩ লাখ ৭৪ হাজার ২০৬ জন। এ সংখ্যা গতবছরের চেয়ে কিছু কম।

তবে বাংলাদেশসহ ১৫০টির বেশি দেশ থেকে এবার প্রায় ২০ লাখ মানুষ হজ পালন করার কথা আছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ থেকে গিয়েছেন ১ লাখ ৬ হাজারের বেশি।

সৌদি পাসপোর্ট বিভাগের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সোলায়মান বিন আবদুল আজিজ ইয়াহা বলেন, ‘গত সোমবার পর্যন্ত ১৩ লাখ ৭৪ হাজার ২০৬ জন হজযাত্রী বিভিন্ন দেশ থেকে এসেছেন। সৌদি আরব ও এর আশপাশের স্থানীয় হজযাত্রীদের হিসাব এখনো পাওয়া যায়নি।’