আওয়ামী লীগ জানে ভালো নির্বাচন কমিশন হলে তারা বিজয়ী হতে পারবে না

0

জিসাফো ডেস্কঃ নির্বাচন কমিশন (ইসি) নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রস্তাব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। প্রধানমন্ত্রীকে আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের দেওয়া প্রস্তাবে কোনো ভুল থাকলে বলেন। এর থেকে ভালো কোনো প্রস্তাব থাকলে দেন।’

জাতীয় প্রেস ক্লাবে রোববার দুপুরে বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির ৯ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি আহ্বান জানান।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন এদের (বিএনপি) সঙ্গে কিসের আলোচনা? মূল কথা হলো তিনি নির্বাচন কমিশন নিয়ে আলোচনা করতে চান না। প্রধানমন্ত্রীকে বলবো, আমাদের প্রস্তাবে কোনো ভুল থাকলে সেটা বলেন। আর যদি ভালো কোনো প্রস্তাব থাকে তাহলে দিতে পারেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ জানে ভালো নির্বাচন কমিশন হলে তারা বিজয়ী হতে পারবে না। তারা ৫ জানুয়ারির মতো নির্বাচন করতে চায়।’

নির্বাচন কমিশন নিয়ে খালেদা জিয়ার প্রস্তাব প্রসঙ্গে স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ‘যে নেত্রী বার বার গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছেন, তিনি একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য যোগ্য, সাহসী ও দক্ষ নির্বাচন কমিশনের প্রয়োজনের কথা বলে একটি প্রস্তাব দিলেন। তা নিয়ে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে নানা কথা বলা হলো। চেয়ারপারসনের বক্তব্য শেষ হতে না হতেই তাদের সাধারণ সম্পাদক বললেন, এটা অন্তঃসারশূন্য। আবার বললেন এতে কিছু থাকলে তা রাষ্ট্রপতি দেখবেন। এরমানে কিছু ভালো কথা আছে। যে বক্তব্যে ভালো কথা থাকে সেটা অন্তঃসারশূন্য হয় কিভাবে?’

‘এখন আমাদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় হয়েছে, আমরা তাদেরকে (আওয়ামী লীগ) বারবার সুযোগ দেব কিনা’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এমন পরিস্থিতি চলতে পারে না। আন্দোলন সংগ্রাম হবে। সে আন্দোলনে সবাইকে অংশ নিতে হবে। আর আমাদেরকে জনগণের কাছে যেতে হবে।’

নজরুল ইসলাম আরো বলেন, ‘তারা (আওয়ামী লীগ) দেশে যা যা হত্যা করেছে, বিএনপি তা পুনরুদ্ধার করেছে। দেশে কে গণতন্ত্রের পক্ষে আর কে বিপক্ষে তা দৃষ্টান্ত প্রমাণ করবে। শেখ মুজিবুর রহমান বাকশাল করে গণতন্ত্রকে হত্যা করেন। জিয়াউর রহমান সেই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করেন। আবার এরশাদের অধীনে নির্বাচনে না যাওয়ার কথা ছিলো সকল বিরোধী দলের। সে সময় চট্টগ্রামে শেখ হাসিনা বলেছিলেন, যারা এরশাদের অধীনে নির্বাচনে যাবে তারা জাতীয় বেইমান হবেন। কিন্তু সেই নির্বাচনে তিনি গেলেন। আর ওই নির্বাচনে না গিয়ে বেগম খালেদা জিয়া আপোষহীন নেত্রী হলেন।’

দেশে এখন গণতন্ত্র নেই দাবি করে তিনি বলেন, ‘নয় মাস যুদ্ধের মধ্য দিয়ে দেশ স্বাধীন হয়েছিলো। ওই যুদ্ধে ভারত আমাদের সহায়তা করেছিলো। সে জন্য ভারতের কাছে কৃতজ্ঞ। কিন্তু অন্যদেশের বাহিনীর কারণে দেশ স্বাধীন হয়নি। এদেশের যোদ্ধাদের কারণেই দেশ স্বাধীন হয়েছে। গণতন্ত্র ও শোষণ থেকে মুক্তির জন্য দেশ স্বাধীন হলেও দেশে এখণ গণতন্ত্র নেই।’

কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অবঃ) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীর প্রতীক, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, জেবেল রহমান গাণি, এম এম আমিনুর রহমান, গোলাম মোস্তফা ভুইয়া, আবু নাসের মোহাম্মদ ব্যারিস্টার পারভেজ হোসেনসহ দলীয় নেতাকর্মীরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।