আওয়ামী লীগের লোকখরা আর অন্যদিকে বিএনপির সমাবেশ জনসমুদ্র, ফেসবুকে নানা মন্তব্য

0

মঙ্গলবার ৫ জানুয়ারি ছিল বহু বিতর্কিত ভোট চুরির দ্বিতীয় বার্ষিকী। এ উপলক্ষ্যে ঢাকায় সমাবেশ করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবং আওয়ামী লীগের নির্যাতনের শিকার বিএনপি।

আওয়ামী লীগ দুটি সমাবেশ আয়োজন করে। তবে বিএনপিকে একটির অনুমোদন দেয়া হয়। অবশ্য অপেক্ষাকৃত বড় সমাবেশস্থল সোহরা্ওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপিকে সমাবেশ করতে দেয়নি সরকার এবং আওয়ামী লীগ। বিএনপির সমাবেশের আহবানের দুইদিন পর আওয়ামী লীগ সেখানে সমাবেশ ডাকে এবং সরকার সে কারণে কাউকেই সমাবেশ করতে দেয়নি।

কিন্তু নয়া পল্টনে অপেক্ষাকৃত ছোট পরিসরের জায়গায় বিএনপির সমাবেশে যে বিশাল সংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন তা দেখে অনেকে বিস্মিত হয়েছেন।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগের সমাবেশ দুটিতে ছিল উল্টো চিত্র।

মজার বিষয় হল, দেশের সরকার-অনুগত মিডিয়ায় সমাবেশগুলোর উপস্থিতির ছবি এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে স্টেজের ছবি ব্যবহার করেছে সরকারপন্থী সংবাদমাধ্যমগুলো।

এ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে অনেকে কৌতুক করছেন। নিচে কয়েকজন ফেসবুক ব্যবহারকারীর কিছু মন্তব্য তুলে ধরা হল–

মাহমুদুর রহমান নামে একজন নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন,“অনেক দমন পীড়ন করে আর পৌর নির্বাচনে ল্যান্ডস্লাইড ভিক্টোরী করেও জনমত পক্ষে আনা যাচ্ছে না। ঢাকায় দুটি সমাবেশ হলো। একটি বিএনপির আর অন্যটি আওয়ামী লীগের। স্বল্প সময়ের নোটিশে বিএনপির সমাবেশের টার্নআউট আর আওয়ামী সমাবেশের টার্নআউট বলে দিচ্ছে পার্থক্য কোথায়। আওয়ামী লীগের মনোবল অনেকটা ক্ষতিগ্রস্ত হলো এবং পিছিয়েও গেল। দমন-পীড়নের মাত্রা আরও বাড়বে কিনা দেখার বিষয়।”

মোহাম্মদ শাহীন লিখেছেন, “আওয়ামীলীগের সাথে জনগণ নেই এটা আবার প্রমান হলো।”

তাজ উদ্দিন লিখেছেন, “এই কারনে নিরপেক্ষ ভোট দিতে ভয় পায় আওয়ামীলীগ।”

বিএনপির সমাবেশের জনসমুদ্রের একটি ছবি শেয়ার করে সাংবাদিক শাহিন হাসানাত মন্তব্য করেছেন, “এই জনতাও কি পাকিস্তান থেকে এসেছে?!”

ধূসর মানচিত্র নামের একটি আইডি থেকে মন্তব্য করা হয়েছে, “ব্যানার নিয়ে আসা শ্রমিক লীগের এক ইউনিটের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে সঞ্চালক মায়া বলেন, ‘এই শ্রমিক লীগ তো বেশি বিরক্ত করছে। লোক আনছে দুইটা ব্যানার আনছে দুইশটা।’ তিনি মহানগর আওয়ামী লীগের কয়েকটি ওয়ার্ড ও থানার নেতাদের ব্যানার গুটিয়ে পরে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দেখা করারও কড়া নির্দেশ দেন।”

সেলিম রেজা লিখেছেন, “আওয়ামী লীগের জনসমর্থন যে ৫% এর নিচে তা আজকের ঢাকার সমাবেশ আরেকবার প্রমাণ হল।”

ইলিয়াস মিয়া লিখেছেন, “আজ রাতে শেখ হাছিনার ঘুম হবেনা!”

কাজী শুভ লিখেছেন, “সে কারনে আওয়ামীলীগ ভোট চুরি করে।”

ফখরুল ইসলাম ফারুক নামে একজন লিখেছেন, “আর দ্যাকাইন না লজ্জা পাচ্ছি।”

জহিরুল ইসলাম লিখেছেন, “লীগের সমাবেশে অাছে পুলিশলীগ। বিএনপিতে অাছে জনগন।”

এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান লিখেছেন,

এত লোক নিয়ে জনসভা করলে তো ২০১৯ সালেও ইলেকশন দিবে না।

শিশির লিখেছেন, 

খেয়াল করলাম, অনলাইনে বেশিরভাগ সংবাদমাধ্যমে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির ৫ জানুয়ারির সমাবেশের ছবি দেয়া হয়নি। ‘সমাবেশের ছবি’ হিসেবে প্রায় সবাই (দুয়েকটা ব্যতিক্রম ছাড়া) স্টেজের ছবি ব্যবহার করেছে। উভয় দলের ক্ষেত্রেই সমাবেশে উপস্থিতির ছবি এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। এর রহস্য কী?