আওয়ামী লীগের যুদ্ধাপরাধীনামা -৪

0

গত ৩ পর্বে আওয়ামীলীগের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির যুদ্ধাপরাধ ও একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর সাথে সম্পৃক্ততার কথা প্রকাশ করা হয়েছে।তারই ধারাবাহিকতায় আজ পর্ব-৪ প্রকাশ করা হল।

আশিকুর রহমান:

আওয়ামী লীগের বর্তমান কোষাধ্যক্ষ আশিকুর রহমান মুক্তিযুদ্ধের সময় টাঙ্গাইলের এডিসি ছিলেন। এই এডিসিরাই রাজাকার, শান্তিবাহিনী নিয়োগ দিত। টাংগাইলের মুক্তিযোদ্ধারা আশিকুরের রাজাকারী চরিত্র সম্মন্ধে সম্যক অবহিত। মার্চ ৩১, ২০১০ এর এক সমাবেশে বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী আশিকুর রহমানের যুদ্ধকালীন সময়ের বিভিন্নকর্মকান্ডের সমালোচনা করে বলেছেন, আওয়ামী লীগের মধ্যে অনেক যুদ্ধাপরাধী আজ নেতৃত্বের আসনে সমাসীন।

http://www.dailynayadiganta.com/2010/04/01/fullnews.asp?News_ID=203656&sec=1

মোসলেম উদ্দিন, এম, পিঃ

আওয়ামী লীগের এম পি মোসলেম উদ্দিনের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ নিয়ে রিপোর্ট ছেপেছে আওয়ামী এমপি সাবের হোসেনের পত্রিকা ভোরের কাগজ, ৮ এপ্রিল ২০১০।

http://www.bhorerkagoj.net/content/2010/04/08/news0067.php

২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ মহাজোট থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোসলেম উদ্দিনের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের মামলাটি হয়েছে ময়মনসিংহের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে। ফুলবাড়িয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের শ্রমবিষয়ক সম্পাদক ও জোড়বাড়িয়া গ্রামের মৃত ওয়াহেদ আলী মণ্ডলের ছেলে মুক্তিযোদ্ধা জালাল উদ্দিন বাদী হয়ে বাংলাদেশ দণ্ডবিধি আইনের ১০৯/১১৪/১১৩/১৩(ক)৩০২/২০১/৪৩৬/৩৭৯/৩৪ ধারায় অ্যাডভোকেট মোসলেম উদ্দিনসহ ১৪ জনের নাম উল্লেখ এবং আরও ২০-২৫ জনকে আসামি করে মামলাটি করেছেন।

মামলার এজাহারে অ্যাডভোকেট মোসলেম উদ্দিনসহ বিবাদীরা স্বাধীনতাবিরোধী, রাজাকার, আলবদর, আলশামস, দালাল, যুদ্ধাপরাধী, জঙ্গি, দেশদ্রোহী ও আইন অমান্যকারী লোক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলাটি করার পর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক ম্যাজিস্ট্রেট লুৎফর রহমান শিশির মামলাটি গ্রহণ করে ফুলবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, ১৯৭১ সালের ২৭ জুন দুপুর ২টায় সব বিবাদী পাকবাহিনীসহ মামলার বাদী জালাল উদ্দিনের বাড়ি লুণ্ঠন করে অগি্নসংযোগ করে বাড়িঘর পুড়িয়ে দেয়। এ সময় মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রাজ্জাক, আবদুস সালাম, আবদুল মান্নানের বাড়িসহ আরও ৪-৫টি বাড়ি ভস্মীভূত করা হয়।

নোয়াখালীর ওবায়দুলল্লাহ মজুমদার ও চট্টগ্রাম থেকে নির্বাচিত ‘এমপিএ’ অধ্যাপক শামসুল হকঃ

নোয়াখালী থেকে নির্বাচিত আওয়ামী লীগের ‘এমএনএ’ (জাতীয় পরিষদ) মো. ওবায়দুলল্লাহ মজুমদার ও চট্টগ্রাম থেকে নির্বাচিত ‘এমপিএ’ (প্রাদেশিক পরিষদ) অধ্যাপক শামসুল হক দু’জনই ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর তৈরি এমএ মালেকের নেতৃত্বে গঠিত মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন। তারা দুজনই পরলোকগত।

এসব নিয়ে আমাদের সময়, ২৮ ও ২৯ এপ্রিল ২০১০ এ “আওয়ামী লীগেও ছিল যুদ্ধাপরাধী! সেই তালিকা তৈরি করছে জামায়াত” এবং “নির্বাচিত সংসদ সদস্য হয়েও আওয়ামী লীগের ২৫ নেতা পাক হানাদার বাহিনীর সঙ্গে হাত মেলান” নামে চমৎকার দুইটা রিপোর্ট প্রকশিত হয়। সেগুলোর উপর ভিত্তি করেই তৈরি করা হয়েছে নিম্নোক্ত প্রতিবেদন। http://www.amadershomoy.com/content/2010/04/28/news0217.htm

http://www.amadershomoy.com/content/2010/04/29/news0852.htm

তালিকাভুক্ত অপর আওয়ামী লীগ নেতারা হচ্ছেন-

চট্টগ্রামের প্রাদেশিক আসন ২৪ থেকে নির্বাচিত ‘এমপিএ’ সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, পটুয়াখালী থেকে নির্বাচিত ‘এমপিএ’ মুজিবুর রহমান তালুকদার, যশোর থেকে নির্বাচিত ‘এমপিএ’ মো. মঈনুদ্দীন মিয়াজী, খুলনার ‘এমপিএ’ হাবিবুর রহমান খান, বগুড়া থেকে নির্বাচিত গণপরিষদ সদস্য মো. হাবিবুর রহমান, ঢাকার মোহাম্মদপুর থেকে নির্বাচিত ‘এমএনএ’ জহির উদ্দিন, লে. কর্নেল একেএম মাহবুবুল ইসলাম (পাবনা), সৈয়দ হোসেইন মনসুর (পাবনা), মো. আবদুল গাফফার (খুলনা), মো. সাঈদ (খুলনা), মোশাররফ হোসেন শাহজাহান, একে ফায়জুল হক (বরিশাল), এবিএম নুরুল ইসলাম (ফরিদপুর), আমজাদ হোসেন খান (ফরিদপুর), মো. নুরুল ইসলাম (ঢাকা), আখতারুজ্জামান (ময়মনসিংহ), সৈয়দ বদরুজ্জামান ওরফে এসবি জামান (ময়মনসিংহ), ডা. আবুল হাসেম (সিলেট)।

উল্লেখিত ২০ নেতার প্রত্যেকে জাতীয় পরিষদ অথবা প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচিত সদস্য ছিলেন। দৈনিক পাকিস্তানও আজাদসহ বিভিন্ন পত্রিকায় এসব নেতার স্বাধীনতাবিরোধী বিবৃতি প্রকাশ হয়। তালিকাভুক্ত এসব আওয়ামী লীগ নেতারা মুক্তিযুদ্ধের সময় কেবল বক্তৃতা বিবৃতি দিয়ে ইয়াহিয়া সরকারের পক্ষই নেননি, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীকে সহযোগিতা করেন বলেও তাতে উল্লেখখ আছে। যে কারণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সময়েই সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে কিছু গণপরিষদ সদস্যের সদস্য পদ বাতিল করা হয়। অনেকের নাগরিকত্বও বাতিল করা হয়েছিল। উলেস্নখিতদের অনেকেই ইতোমধ্যে মারা গেছেন।

‘৭১ সালের ৩ জুলাই সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী এক বিবৃতিতে বলেছিলেন, ‘পাকিস্তানকে খণ্ডবিখণ্ড করার জন্য জনগণ আমাকে ভোট দেয় নাই।’

৬ জুলাই মুজিবুর রহমান তালুকদার পৃথক বিবৃতিতে ‘পাকিস্তানকে খণ্ড-বিখণ্ড করার জন্য আওয়ামী লীগের মতলব সম্পর্কে তাঁর কোনো ধারণা ছিল না’ বলে মন্তব্য করেন।

হাবিবুর রহমান খান বলেন, ‘পাকিস্তানএক ও অবিচ্ছেদ্য। পাকিস্তানকে ধ্বংস করতে পারে এমন কোনো শক্তি পৃথিবীতে নেই।’

লেখক

অ্যাডভোকেট নয়ন খান