আওয়ামী দু:শাসনে কসমেটিকস উন্নয়নের ফটোসেশন দেখতে দেখতে জনগণ ক্লান্ত

0

জিসাফো ডেস্কঃ পহেলা মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপির সমাবেশের অনুমতি নিয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী গড়িমসি করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি। শনিবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী এ অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের জোট শরিকরা যখন খুশি, তখন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশের বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনগুলোকে সেখানে সমাবেশের অনুমতি দিয়ে এত টালবাহানা কেন? শ্রমিক দিবস আন্তর্জাতিক দিবস, এই দিনটি শ্রমজীবীদের অধিকার আদায় ও অধিকার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ দিন। এ দিবসটি পালনের জন্য জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল সর্বপ্রকার প্রস্ততি সম্পূর্ণ করেছেন। এতে সহাযোগিতা করছে বিএনপি। এতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘পহেলা মে সম্ভব না হলে ২ কিংবা ৩ মে যেকোনো এক দিন সমাবেশের অনুমতি প্রদানের জোর দাবি জানাচ্ছি।’

বিএনপি দুর্গত এলাকায় ফটোশেসন করতে গেছে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এমন বক্তব্যের জাবাবে রিজভী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্য সম্পূর্ণভাবে সত্যের অপলাপ। বর্তমান আওয়ামী বরং দুঃশাসনের কসমেটিকস উন্নয়নের ফটোসেশসন দেখতে দেখতে জনগণ এখন ক্লান্ত হয়ে পড়েছে।’

তিনি বলেন, ‘সরকারি বাধা না থাকলে বিএনপিসহ অন্যান্য বিরোধী দলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অঞ্চলে ব্যাপক ত্রাণকার্য চলাতে সক্ষম হতো। এমনকি বেসরকারি সাহায্য সংস্থা নাগরিক সংগঠনগুলোও সরকারের অসহযোগিতার কারণে ত্রাণকার্য চালাতে পারছে না।’

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আমি বিএনপির পক্ষ থেকে সরকারকে বলতে চাই, জনগণের আহার, ক্ষুধা ও অসহায়ত্ব নিয়ে মশকরা করবেন না। দেশের সব রাজনৈতিক দল বিভিন্ন এনজিও এবং নাগরিক ও সামাজিক সংগঠনগুলোর ত্রাণ তৎপরতায় বাধার সৃষ্টি করবেন না।’

এ সময় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালীর ওপর ‘আওয়ামী সন্ত্রাসীদের ন্যক্কারজনক, কাপুরুষিত’ হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান তিনি। একই সঙ্গে অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেফতার করে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানান রিজভী।

সংবাদ সস্মেলনে উপস্থিত ছিলেন-বিএনপি চেয়াপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট শামছুল আলম, যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, তথ্যবিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল, আন্তর্জাতিক-বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার, মহিলাবিষয়ক সম্পাদক নূরে আরা সাফা, সহ-সংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, জয়ন্ত কুমার কুন্ড, সহ-দফতর মুনির হোসেন, ঢাকা মহানগর বিএনপি দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার, যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোরতাজুল করিম বাদরু প্রমুখ।

ব্রিফিং : এ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী
সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি

সুপ্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা,
সবাইকে আমার সংগ্রামী শুভেচ্ছা।
পাহাড়ী পানির ঢলে ভয়াবহ বিপর্যস্ত হাওড় এলাকার মানুষ এখন বিপন্ন অসহায় অবস্থার মধ্যে ক্ষুধার্ত দিনযাপন করছে। সহায়-সম্বল হারিয়ে প্রায় নি:স্ব হতে বসেছে সাড়ে আট লাখের অধিক পরিবার, অথচ ত্রাণ ও দৃর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় থেকে মাত্র তিন লাখ ত্রিশ হাজার পরিবারকে সাহায্য দেয়ার ঘোষনা দেয়া হয়েছে। সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে-হাওড় অঞ্চলের প্রায় কোটির কাছাকাছি মানুষ খাদ্য ঝুঁকির মুখে রয়েছে আর পঞ্চাশ লক্ষ মানুষ ভয়াবহ খাদ্য সংকটের মুখে পড়েছে। অথচ দুর্গত এলাকাগুলোতে কোন সরকারী ত্রাণ নেই। উপদ্রুত হাওড় এলাকাবাসীদের সাহায্য-সহায়তা নিয়ে মন্ত্রী-এমপিদের মুখেই শুধু বড় বড় কথার ফুলঝুরি। কিন্তু শাসকগোষ্ঠী হাওড় এলাকার জীবন-জীবিকায় গভীর সংকটে নিপতিত মানুষের অসহায়ত্ব নিয়ে তামাশাই করে যাচ্ছে, কিন্তু কার্যকর কোন উদ্যোগ গ্রহণ করছে না। অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ী ঢলে পানির তলে ডুবে গেছে লক্ষ লক্ষ হেক্টর ক্ষেতের ফসল। ঘরে ঘরে খাবার অভাবে মানুষ আহাজারী করছে। কাজের সন্ধানে ক্ষুধার জ্বালায় মানুষ ভিটে বাড়ী ছেড়ে দেশের অন্যত্র চলে যাচ্ছে। এক ভীষণ দুর্ভিক্ষের আগ্রাসন সেই এলাকায় ধেয়ে আসছে। উপদ্রুত হাওড় এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের তালিকা তৈরীর দায়িত্ব দেয়া হয়েছে আওয়ামী লীগের নেতাদেরকে। এতে বেছে বেছে পছন্দের আওয়ামী লোকদের তালিকা করা হচ্ছে। যাদেরকে ত্রাণ সরবরাহ করা হবে, ফলে ক্ষতিগ্রস্ত লক্ষ লক্ষ সাধারণ কৃষক বঞ্চিত হবে। এই ঘটনায় স্থানীয় আওয়ামী নেতাদেরকে দুর্নীতি করার সুযোগ দেয়ার জন্যই ক্ষুধার্ত অসহায় দুর্গত মানুষকে তাচ্ছিল্য করা হলো। আওয়ামী লীগের শাসন মানেই জনগণকে কবরে পাঠিয়ে নিজেদের লুটপাটকে নিশ্চিত করা-এটাই হচ্ছে বরাবরের আওয়ামী দু:শাসনের নমূনা। গতকাল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন-বিএনপি দুর্গত এলাকায় ফটোসেশন করতে গেছে। তার বক্তব্যটি সম্পূর্ণভাবে সত্যের অপলাপ। হাওড়ের প্রথম আঘাতের সময় আমাদের দলের মহাসচিব হাওড় এলাকায় গেছেন, সেখানে ত্রাণকাজে অংশ নিয়েছেন। গত পরশু দিন বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান বেগম সেলিমা রহমান কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপি’র নেতাকর্মীদের নিয়ে দুর্গত এলাকায় ব্যাপক ত্রাণকার্য চালিয়েছেন। বিএনপি’র আরেক ভাইস চেয়ারম্যান এবং বিএনপি’র জাতীয় ত্রাণ কমিটির আহবায়ক জনাব আবদুল্লাহ আল নোমানকে সুনামগঞ্জে ত্রাণকার্য চালাতে প্রশাসন বাধা দিয়েছে। এরপরও স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা ব্যাপকভাবে দৃর্গত হাওড় এলাকায় ত্রাণতৎপরতা অব্যাহত রেখেছেন। সরকারী বাধা না থাকলে বিএনপিসহ অন্যান্য বিরোধী দলগুলো ব্যাপক ত্রাণকার্য চালাতে সক্ষম হতো। এমনকি বেসরকারী সাহায্য সংস্থা, নাগরিক সংগঠনগুলোও সরকারে অসহযোগিতার কারনে ত্রাণ কার্য চালাতে পারছে না।

সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা,
বর্তমান আওয়ামী দু:শাসনে কসমেটিকস উন্নয়নের ফটোসেশন দেখতে দেখতে জনগণ এখন ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। আওয়ামী শাসকগোষ্ঠী যখনই ক্ষমতায় আসে তখনই সারাদেশ লুটপাট করে জনগণকে পুঁইশাকের লতার মতো শুকিয়ে মারে। আর নিজেরা নাদুস নুদুস হয়ে জোর করে ক্ষমতায় বহাল থাকে।

আমি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র পক্ষ থেকে সরকারকে বলতে চাই-জনগণের আহার, ক্ষুধা ও অসহায়ত্ব নিয়ে মশকরা করবেন না। দেশের সকল রাজনৈতিক দল, বিভিন্ন এনজিও, নাগরিক ও সামাজিক সংগঠনগুলোর ত্রাণ তৎপরতায় বাধার সৃষ্টি করবেন না।

বন্ধুরা,
এখন একটি ভিন্ন বিষয়ে আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই-
বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের অন্যতম সদস্য আতাউর রহমান ঢালী আজ তার গ্রামের বাড়ী চাঁদপুরের মতলব যাবার পথে চিরার চর ব্রীজের নিকট আগে থেকে ওঁত পেতে থাকা আওয়ামী যুবলীগ-ছাত্রলীগের দুই আড়াইশোর একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী তার ওপর হামলা চালায়। সন্ত্রাসীরা তাঁর গাড়ী ভাংচুর এবং আতাউর রহমান ঢালীসহ সঙ্গীদের ব্যাপক মারধর করে আহত করেছে। স্থানীয় একজন মন্ত্রীর নির্দেশেই আতাউর রহমান ঢালীর ওপর এই বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়েছে। আমি আতাউর রহমান ঢালীর ওপর আওয়ামী সন্ত্রাসীদের এই ন্যাক্করজনক ও কাপুরুষোচিত হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবী করছি।
সবাই ভাল থাকুন। আল্লাহ হাফেজ।