আইএস ফেরত ভারতীয় আনোয়ারের কা‌হিনী

0

ঢাকা : গত বছর অক্টোবরে আনোয়ার (ছদ্মনাম) নামের ২৫ বছর বয়সী এক ভারতীয় তরুণ সিরিয়ার ইসলামি জঙ্গি সংগঠন আইএসে যোগ দিয়েছিলেন। আইএসের হয়ে যুদ্ধ করতে সিরিয়ায় যাওয়ার পরিকল্পনাও করেছিলেন। তুরস্ক পর্যন্ত পৌঁছেও যান কিন্তু শেষ পর্যন্ত ফিরে এসেছেন। সেই আনোয়ার সম্প্রতি ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির মুখোমুখি হন।

আনোয়ার জানান কীভাবে তিনি ভারত থেকে সেই সুদূর তুরস্ক পর্যন্ত পৌঁছালেন। যাত্রাপথের শুরুতেই ভারতের অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর মুম্বাই বিমানবন্দর। অথচ কৌশলে তিনি অভিবাসন কর্মকর্তাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে সরাসরি পৌঁছে যান সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই। সেখান থেকে একই কায়দায় তুরস্কে।

বিশ্বের এত বড় বড় বিমানবন্দরের কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনী পেরিয়ে যেতে তাকে ভারতে নিযুক্ত আইএসের প্রতিনিধিরা সাহায্য করেছে। আনোয়ার মূলত একজন কম্পিউটার ডিপ্লোমাধারী ছাত্র। কিন্তু তিনি আইএসে যোগ দিতে ডাচ বহুজাতিক তেল কোম্পানি শেলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন ব্যবসায়ীর ছদ্মবেশ ধারণ করেন। আর পাসপোর্টে লাগিয়ে নেন জাল ব্যবসায়ী ভিসা যার সবকিছু ওই আইএস প্রতিনিধিরাই ব্যবস্থা করেছিল। এমনকি তারা আনোয়ারকে যাতে বিমানবন্দরে কোনো প্রশ্নের সম্মুখিন হতে না হয় সেটার ব্যবস্থাও করেছিল। দুবাইয়ে তার জন্য আগে থেকেই  হোটেলের ব্যবস্থা করে রাখা হয়েছিল।

কিন্তু আনোয়ার শেষ পর্যন্ত সিরিয়া যাননি। তুরস্ক থেকে হঠাৎ সিদ্ধান্ত পাল্টে ফিরে আসেন ভারতে।

তুরস্কে পৌঁছে ইস্তাম্বুলের সোলেমানিয়া মসজিদে নামাজের পর আনোয়ার আইএস নেতাদের সঙ্গে দেখা করেন। সেখানে আইএস সামরিক শাখার বড় বড় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু হঠাৎ রাতে ঘুমানোর পর মন পরিবর্তন হয় এবং সেখান থকে পালিয়ে আঙ্কারায় ভারতীয় দূতাবাসের দিকে দৌড়াতে থাকেন আনোয়ার। পরে দূতাবাসের সহায়তায় তিনি দেশে ফেরেন।

সিরিয়ার একেবারে কাছাকাছি গিয়েও কেন তিনি ফিরে এলেন এমন প্রশ্নে আনোয়ার বলেন, দুবাই পৌঁছানোর পর আইএসের ওই লোকজনদের আচরণ পাল্টে গেল। তারা তার সাথে বাজে আচরণ করতে লাগলো। এমনকি তাকে বিভিন্নভাবে নির্যাতনও করা হতো। তাছাড়া ওখানে গিয়ে তিনি অনুভব করলেন তিনি তার পরিবারকে অনেক বেশি ভালোবাসেন। তাই খুব দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে মাঝপথ থেকে ফিরে এসেছেন।

আনোয়ার জানান, প্রথপমেই ফেসবুকের মাধ্যমে তার সাথে যোগাযোগ করে আইএসের ট্যালেন্ট হান্টের সদস্যরা। তারপর চেন্নাইয়ে (মাদ্রাজ)সরাসরি দেখাও হয় তাদের।

তিনি জানান, তারা মূলত এমন তরুণদের প্রতি বেশি উৎসাহী ছিলেন যারা আন্তর্জাতিক রাজনীতি সম্পর্কে বেশ ভালো ধারণা রাখেন। এভাবে এক সময় আনোয়ার আইএসের জন্য যুদ্ধ করার জন্য মনস্থির করেন।

আইএসের সদস্যরা ভিসা বাবদ তাকে এক লাখ রুপি দেয়। সুন্দর সিরীয় নারীর সাথে বিয়ে দেয়ারও লোভ দেখানো হয়। এছাড়াও আনোয়ার যদি যুদ্ধ করতে গিয়ে মারা যান তাহলে তার পরিবারকে মোটা অংকের টাকাও দেয়া হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেয় তারা।

বর্তমানে ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থা পরিচালিত বিশেষ কর্মসূচি যা বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠন থেকে ফেরত আসা সদস্যদের উপযুক্ত শিক্ষা দেয়ার মাধ্যমে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে তাদের তত্ত্বাবধানে আছেন আনোয়ার। এই কর্মসূচির একজন কর্মকর্তা বলেন, কেউ সম্পূর্ণ কার্যক্রম শেষ করলে আমরা  তার সম্পর্কে বলতে পারি যে সে আর সমাজের জন্য কোনো প্রকার হুমকি নয়। তবে আমাদের সফলতার হার প্রায় ৫০ শতাংশ।

ভারতীয় গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, প্রকৌশলী, চিকিৎসক, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টসহ অন্যান্য পেশার প্রায় ৭০ জন আইএসে যোগ দেয়ার চেষ্টা চালিয়েছেন। এছাড়াও ৬০ জনকে বিভিন্ন ভারতীয় বিমানবন্দর থেকে আটক করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো বিমানবন্দরে হামলা করেছিল ভারতের বেঙ্গালোরের কফিল আহমেদ। এছাড়াও প্রায় চারজন ভারতীয় এ পর্যন্ত আইএসের পক্ষে যুদ্ধ করতে গিয়ে মারা গেছে। আরো ভারতীয় আইএস যোদ্ধা রয়েছে বলেছেও ধারণা করা হয়।