অস্ত্র দিয়ে জনগণের ন্যায় সঙ্গত দাবিকে দাবিয়ে রাখা যায় না,ফখরুল ইসলাম

0

জিসাফো ডেস্কঃ বর্তমান সরকার মহান ভাষা আন্দোলন ও মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের রক্তের সঙ্গে বেঈমানি করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সোমবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্সিটিটিউট মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী বিএনপি কর্তৃক আয়োজিত আবার সালাম বরকত নামে রাজপথে, শুন্যে তুলে পতাকা একুশে ফেব্রুয়ারি মহান শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, “বর্তমান শাসক গোষ্ঠি তারা ভাষা আন্দোলনে শহীদদের সাথে বিশ্বাস ঘাতকতা করেছে। তারা ভাষা আন্দোলনের শহীদদের রক্তের সাথে বেঈমানি করেছে। একই সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের যে চেতনা তার সাথে বিশ্বাস ঘাতকতা করেছে এবং মুক্তিযুদ্ধের রক্তের সাথে বেঈমানি করেছে। আজকে রাষ্ট্রতন্ত্রকে ব্যবহার করে, বন্দুক-অস্ত্র ব্যবহার করে জনগণের যে ন্যায্য দাবিগুলোকে তারা দাবিয়ে রাখছে। কিন্তু বাংলাদেশের ইতিহাসই বলে, কখনো জোর করে, অস্ত্র দিয়ে জনগণের ন্যায় সঙ্গত দাবিকে দাবিয়ে রাখা যায় না এবং কখনোই যাবে না।”

ভাষা আন্দোলনের সংগ্রমের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “ভাষা আন্দোলনের মধ্য থেকে আমরা বড় রকমের দুটি জিনিস জানতে পারি। একটি হচ্ছে শাসক গোষ্ঠি যদি জনগণের হৃদয়ের ভাষা না বোঝে তাহলে যত জনপ্রিয় মানুষই হোক না কেন অতি অল্প সময়ের মধ্যেই তারা জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। আর একটি কথা, যেটি অত্যন্ত সত্য কথা, এই বাহান্নর ভাষা আন্দোলনেই, আমরা যে একটি স্বতন্ত্র জাতি বা জাতিগোষ্ঠি তার সূচনা করেছিল এই বাহান্নোর ভাষা আন্দোলন এবং সেখান থেকেই শুরু হয়েছিল আমাদের স্বাধীনতার আন্দোলন, আমাদের আত্ম পরিচয়ের আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধের আন্দোলন। ভাষা আন্দোলন ছিল মূলক একটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন। বৃহত্তর জনগোষ্ঠির যে চাহিদা সেটাকে যদি মূল্য দেয়া না যায়, তাহলে সেই গণতন্ত্রকে কখনোই প্রতিষ্ঠিত করা যায় না। আজকের প্রেক্ষাপটে এই বিষয়গুলো আমাদের সামনে চলে এসেছে।”

আওয়ামী লীগের নেতারা বা তথাকথিত কিছু বুদ্ধিজীবি আছেন, “যারা সব সময় দেখবেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, ভাষা আন্দোলনের চেতনা এই কথা গুলো খুব ব্যবহার করেন। একবারের জন্যও তারা বলেন না বা বলতে পারেন না যে ভাষা আন্দোলনের চেতনাও ছিল মূলত গণতান্ত্রিক চেতনা এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনায় ছিল মূলত গণতন্ত্রের চেতনা। এই জায়গা গুলোতেই আজকের সংঘাত। এখনকার শাসক গোষ্ঠি বৃহত্তর জনগোষ্ঠির যে আশা-আকাঙ্খা তাকে সম্পূর্ণ রুপে পদদলিত করে আজকে তারা একটি একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চায়।”

এসময় নেতাকর্মীদের উপর সরকারের অত্যাচারের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এ সরকার বিএনপির পাঁচ’শ নেতাকে হত্যা করেছে। হাজার হাজার হাজার নেতাকে পুঙ্গ করেছে। অনেক নেতা নিজ এলাকায় থাকতে পারে না, পাশের থানা বা শহরে এসে পালিয়ে আছে। মহানগরের অনেক নেতাও বাড়িতে থাকতে পারে না বলেও জানান তিনি।”

সরকারের উন্নয়নের কথা উল্লেখ করে বিএনপির এ নেতা বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকার উন্নয়নের নামে মিথ্যাচার করছে। উন্নয়নের নামে কল্পকাহিনী করে দেশবাসীকে, বিশ্ববাসীকে বোকা বানানো হচ্ছে। তাদেরকে বোঝানো হচ্ছে যে বাংলাদেশ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। এতো প্রবৃদ্ধি দেখানো হয়েছে যে কখনো হয়নি। আজকে বাংলাদেশ উদীয়মান রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। আমি স্মরণ করে দিতে চাই, যে ২০০৩-৪-৫ সালে প্রবৃদ্ধির যে হার ছিল এখন পরযন্ত সরকার সেখানে প্রবৃদ্ধির হার নিয়ে যেতে পারেনি।”

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “আজকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার যাকে করা হয়েছে তার সম্পর্কে ইতোমধ্যেই শুনেছেন। তিনি একজন আওয়ামী লীগ দলীয় ব্যক্তি। আমরা খুব পরিস্কার ভাবে বলতে চাই, ২০১৪ সালের পাঁচ জানুয়ারির নির্বাচন এদেশের মানুষ অগ্রাহ্য করেছে। তার ফলাফল গ্রহণ করেনি। বিশ্ববাসীয়ও গ্রহণ করেনি। আজকে যদি আবারো চাতুরির সঙ্গে জনগণের সঙ্গে প্র্রতারণা করে আবারো যদি একদলীয় নির্বাচন করতে চাই তাহলে এদেশের মানুষ এবং বিশ্ববাসী গ্রহণ করবে না। আগামীতে যে নির্বাচন আসবে সে নির্বাচন আমরা দেখতে চাই, একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে, নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ থেকে নির্বাচন পরিচালনা করবে তাহলে দেশের মানুষ গ্রহণ করবে। অন্যথায় এ দেশের মানুষ গ্রহণ করবে না।”

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক এমাজ উদ্দিন আহমদ, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, ব্যারিস্টার মুওদুদ আহমদ, ভাইস চেয়ারম্যান এ জেড এম জাহিদ, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন প্রমুখ।