অর্থমন্ত্রী সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন: ছাত্রমৈত্রী

0

বাংলাদেশের সংবিধানে শিক্ষার ব্যয়ভার বহনের দায়িত্ব রাষ্ট্রের উপর অর্পণ করা হয়েছে। অথচ সেখানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিজের টাকার পড়াশোনা করতে হচ্ছে। আমরা মনে করি, শিক্ষার ওপর ভ্যাট আরোপ করে অর্থমন্ত্রী শিক্ষা সংক্রান্ত সংবিধানের মুল চেতনার পরিপন্থি কাজ করেছেন।

শনিবার সকাল ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রীর কেন্দ্রীয় সভাপতি আবুল কালাম আজাদ। বেসরকারি উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উপর আরোপিত ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবিতে ও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আবুল কালাম আজাদ। তিনি বলেন, ‘আমরা জানি পণ্যের ওপর ভ্যাট আরোপ করা হয়। কিন্তু শিক্ষা কোন পণ্য নয়, শিক্ষা হচ্ছে প্রতিটি নাগরিকের জন্মগত অধিকার। আন্দোলন চলাকালে এনবিআর ভ্যাট পরিশোধের দায়িত্ব শিক্ষার্থীদের নয় বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের বলে যে বক্তব্য প্রদান করেছে তা আমরা প্রত্যাখ্যান করছি। কারণ আমরা মনে করছি, এটি শুভংকরের ফাঁকি।’

তিনি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করে বলেন, ‘আগামী রোববার থেকে আমরা ভ্যাট বিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণ করবো এবং একটি কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল প্রতিটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মাঝে উপস্থিত হয়ে সংহতি প্রকাশ করবেন।’

সংবাদ সম্মেলন পরবর্তীতে আবুল কালাম আজাদ বাংলামেইলকে বলেন, ‘আমরা মনে করি অর্থমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের উপর ভ্যাট আরোপ করে সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন। একইসাথে প্রশাসন ন্যাক্কারজনক ঘটনার জন্ম দিয়েছে। সেই সাথে আন্দোলনের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী চুপ কেন? এটি তার কাছে আমাদের প্রশ্ন।’

অতি শিগগিরই সরকার এই ভ্যাট প্রত্যাহার করবে বলে সংবাদ সম্মেলনে প্রত্যাশা করেন সংগঠনের নেতারা। অন্যথায়, আগামীতে ছাত্রসমাজকে সাথে নিয়ে আরো কঠোর কর্মসূচী দেয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।