অর্থনৈতিক উন্নয়নে ইউনূসের পরামর্শ চাইল ভারতের রাজ্য সরকার

0

শীর্ষ নিউজ, ঢাকা : ভারতের (বিজেপি) সরকারের পল্লী উন্নয়ন ও অন্তর্ভূক্তিমূলক অর্থায়ন কর্মসূচি প্রণয়নের লক্ষে নোবেল বিজয়ী প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের পরামর্শ ও সহায়তা চেয়েছেন মহারাষ্ট্র সরকারের অর্থ, পরিকল্পনা ও বনমন্ত্রী সুধীর মানগান্তিবার।

মহারাষ্ট্রের উন্নয়ন কর্মকৌশল নিয়ে ড. ইউনূসের সঙ্গে আলোচনাকালে তিনি এ সহায়তা চান। এসময় অর্থ ও পল্লী উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী দীপক কেশরকারও এই সভায় উপস্থিত ছিলেন। চার ঘন্টাব্যাপী এই বিশদ আলোচনায় আরো অংশ নেন বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবগণ, উন্নয়ন কর্মকান্ডে নিয়োজিত সরকারের বিভিন্ন এজেন্সীর প্রধানরা, শিক্ষাবিদগণ, জাতীয় পল্লী অর্থায়ন প্রতিষ্ঠান ঘঅইঅজউ-এর প্রতিনিধিবৃন্দ প্রমূখ।

মহারাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রী সামাজিক ব্যবসা, গ্রাম ও শহরের বেকার যুব সমাজের বেকারত্ব দূর করার কর্মসূচি সম্পর্কে জানতে চান। তিনি ও তাঁর সহকর্মীরা জানতে চান, তাঁদের রাজ্যে ক্ষুদ্র ঋণ কর্মসূচি এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারী উদ্যোক্তাদের জন্য গৃহীত ঋণ কর্মসূচিগুলো কেন ভালভাবে কাজ করছে না এবং বাংলাদেশে গ্রামীণ ব্যাংকের অভিজ্ঞতায় কী-করে এই কর্মসূচিগুলোকে ঊজ্জীবিত করা যায়।

তারা আরো জানতে চান, প্রফেসর ইউনূসের কর্মসূচিগুলো কীভাবে প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা হয়েছে এবং বাংলাদেশে এগুলোর সফলতার কারন কী। অর্থমন্ত্রী তাঁর রাজ্যে বাস্তবায়ন করা যায় এমন যথাযথ প্রকল্প এবং সেগুলোর সুনির্দিষ্ট ফলাফল সম্পর্কেও মন্ত্রী আগ্রহ দেখান, যাতে মহারষ্ট্রের বাজেট প্রক্রিয়ায় এগুলো অন্তর্ভূক্ত করা যায়।

এসময় প্রফেসর ইউনূস বলেন, অর্থোপার্জন একটি সুখকর জিনিষ, তবে অন্যদের সুখী করা অতি-সুখকর।

এ কথার পরিপ্রেক্ষিতে অর্থমন্ত্রী বলেন, তিনি তাঁর রাজ্যের ১৭ লক্ষ স্বাবলম্বী গ্রুপকে “অতি-সুখী গ্রুপ”-এ পরিণত করতে চান।

সভা শেষে মন্ত্রী ঘোষণা করেন যে, তিনি দসারা ও দিওয়ালীর মধ্যবর্তী সময়ে (২৩ অক্টোবর থেকে ৯ নভেম্বরের মধ্যে) তাঁর বিশেষজ্ঞবৃন্দ ও রাজ্য কর্মকর্তাদের নিয়ে বাংলাদেশে একটি স্টাডি ভিজিটে আসবেন।

বাস্তবায়ন কর্মকৌশল চূড়ান্ত করতে ও আলোচনা চালিয়ে যেতে তিনি মহারাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব, ভারতে ইউনূস সামাজিক ব্যবসার কান্ট্রি ডিরেক্টর ও ঢাকায় ইউনূস সেন্টারের সমস্বয়ে একটি ত্রিপাক্ষিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবও করেন।