অবৈধ সরকার বিদ্যুৎ নিয়ে সবসময় ডাহা মিথ্যা কথা বলে এসেছে

0

জিসাফো ডেস্কঃ বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধির কথা বলে জনগণের পকেট থেকে লক্ষ-কোটি টাকা বের করে নিয়ে জনগণকে দুর্বিষহ লোডশেডিং উপহার দিয়েছে সরকার। তার অভিযোগ, বর্তমান সরকার বিদ্যুৎ নিয়ে সবসময় ডাহা মিথ্যা কথা বলে এসেছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের তথ্য নিয়ে তারা জনগণকে ধোকা দিচ্ছে।

মঙ্গলবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এসব কথা বলেন।

বিএনপি নেতা রিজভী বলেন, ‘কুইক রেন্টালের নামে বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ দিয়ে ক্ষমতাসীনদের আত্মীয়-স্বজনদের মোটাতাজাকরণ ছাড়া বিদ্যুতের কিছুই উন্নতি হয়নি। ভর্তুকি দিয়ে কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করে মূলতঃ লুটপাটেরই সুযোগ দেওয়া হয়েছে। কেটে নেওয়া হয়েছে সাধারণ মানুষের পকেট।’

তিনি বলেন, ‘অনুন্নয়নের শরীরে প্রসাধনী মাখালেই উন্নয়ন হয় না। সেটি হয় ধাপ্পাবাজি। আওয়ামী সরকার শুরু থেকেই এ কাজটি করে আসছে। জ্যৈষ্ঠের খরতাপে মানুষের যখন স্বস্তি দরকার, তখন এই লোডশেডিং সরকারের উন্নয়নের জলজ্যান্ত উদাহরণ।’

রিজভী বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে পুলিশের তল্লাশি ঘটনার প্রতিবাদে আগামীকাল সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা হতে যাচ্ছে। জনসভা উপলক্ষে বিএনপি ঢাকা মহানগর ও অঙ্গ সংগঠনগুলো ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। ইতোমধ্যে জনসভার অনুমতির জন্য আমরা গণপূর্ত বিভাগ ও পুলিশের কাছে চিঠি দিয়েছি। আজকের (মঙ্গলবার) মধ্যেই তারা অনুমতি দেবেন বলে আমরা বিশ্বাস করি।’

তারিখঃ ২৩ মে, ২০১৭
ব্রিফিংঃ এডভোকেট রুহুল কবির রিজভী
সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি
সুপ্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনরা
আপনাদের সবাইকে জানাচ্ছি আমার সালাম ও শুভেচ্ছা।
বিএনপি চেয়ারপারসন সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী দেশের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দলের প্রধান বেগম খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে পুলিশি তল্লাশির ঘটনা দেশ-বিদেশে মানুষের মনে বিরুপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে, সর্বত্র সরকারের প্রতি চারদিক থেকে ধিক্কার উঠেছে। বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আকস্মিকভাবে পুলিশি হানা সরকারের একটি অশুভ নীলনকশারই অংশ। ভোটারবিহীন সরকার ও তাদের ঘনিষ্টজনদের অনাচারে বেসামাল হয়ে পড়ায় মানুষের চোখকে ভিন্ন দিকে সরানোর জন্যই বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে ঘৃণ্য আক্রমণ চালিয়েছে। গণতন্ত্র ও বহুত্ববাদকে ধুলায় মিশিয়ে দেয়া হয়েছে স্বেচ্ছাচার, একদেশদর্শীতা আর দূর্নীতির চাপে। পরীক্ষার আগে প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষার কয়েকদিন পরেই উত্তরপত্র ছাত্রদের রুমে রুমে পাওয়াসহ অশিক্ষা-কুশিক্ষায় শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস, দেশে বিনিয়োগের পরিবেশ না থাকায় টাকা পাচারসহ অর্থনীতির ত্রাহি অবস্থা, ভয়াবহ সামাজিক অবক্ষয়েরমুখে ক্ষমতাপীয়াসি সরকারের নুন্যতম কোন ভাবমুর্তি নেই। তাই ফন্দিবাজ সরকার নিজেদের কুকর্ম ঢাকতেই মরিয়া হয়ে উঠেছে। বিরোধী দলের ভাবমুর্তি নষ্ট করার জন্যপোড়ামাটি নীতি গ্রহন করেছে। এরই অংশ হিসেবে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে পুলিশি তল্লাশি চালিয়েছে। অশুভ পরিকল্পনা কখনই মানুষের চোখকে ধুলা দিতে পারে না।

জান্তব হিং¯্রতা আওয়ামী লীগের মজ্জাগত। পুলিশি ক্ষমতার যথেচ্ছ প্রয়োগ বিএনপিসহ বিরোধীদলগুলোকে দমন ক্রিয়ায় নিযুক্ত। বর্তমান ২ নম্বর বাকশালী শাসনে প্রশ্নাতীত একক কর্তৃত্বে অধিষ্ঠিত হয়েছেন শেখ হাসিনা। তাই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ ছাড়া পুলিশ বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে হানা দিতে পারত না। এ ঘটনায় জনমনে এই প্রশ্নই দেখা দিয়েছে আবারও প্রধানমন্ত্রী পিছনের দরজা দিয়ে আরেকটি ভোটারশুণ্য নির্বাচন করবেন কিনা?

বন্ধুরা
বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে পুলিশি হানার ঘটনার প্রতিবাদে আগামীকাল সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা হতে যাচ্ছে। জনসভা উপলক্ষে বিএনপি ঢাকা মহানগরি ও অঙ্গ সংগঠনগুলো ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহন করেছে। ইতিমধ্যে অনুমতির জন্য আমরা গণপূর্ত বিভাগ ও পুলিশের কাছে চিঠি দিয়েছি। আজকেও মধ্যেই তারা অনুমতি দিবেন বলে আমরা বিশ্বাস করি।
প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুরা

বন্ধুরা,
ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে। শুধু বিপর্যয় বললে ভূল হবে মানুষের জীবন বিপন্ন হতে চলছে। গরমজনিত রোগে হাসপাতালগুলোতে ভীড় বাড়ছে। গ্রামাঞ্চল ও মফস্বল শহরে লোডশেডিং হচ্ছে প্রায় ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা করে। ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা, রাজশাহীর মতো বড় বড় শহর-নগরেও লোডশেডিং হচ্ছে দফায় দফায়। এদিকে বিদ্যুৎ সংকটে সারা দেশের মানুষের মধ্যে যখন ত্রাহি দশা, তখন বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) ওয়েবসাইট দিচ্ছে সম্পূর্ণ ভিন্ন তথ্য। পিডিবির ওয়েবসাইটে দেখা গেছে, গতকাল ও এর আগের কয়েকদিন দেশে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ প্রয়োজন ছিল, উৎপাদিত হয়েছে তার চেয়ে বেশি। তাদের বোর্ডের ওয়েবসাইটে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সংক্রান্ত তথ্যে দেখা যায়- ২১ মে বিদ্যুৎ চাহিদা ছিল ৮ হাজার ৮০০ মেগাওয়াট; উৎপাদন ছিল ৮ হাজার ৮৩০ মেগাওয়াট। ২০ মে চাহিদা ছিল ৮ হাজার ৭০০ মেগাওয়াট; উৎপাদন ৮ হাজার ৮১৯ মেগাওয়াট। ১৯ মে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ৮ হাজার ৫৫০ মেগাওয়াট; উৎপাদন ছিল ৮ হাজার ৭৫৩ মেগাওয়াট। অর্থাৎ দেশের কোথাও কোনো লোডশেডিং নেই বরং চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বেশি। আর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু সাংবাদিকদের বলেন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ এ মুহূর্তে আমরা দিতে পারব না। এটা হতে আমাদের আরও ৩-৪ বছর লেগে যাবে। আরইবির কর্তকর্তারা গতকাল বলেছেন রাজধানীর চাহিদা মেটাতে গিয়ে তাদের সরবরাহ অনেকাংশে কাটছাঁট করেছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। এ কারণে ঢাকার বাইরের পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলোতে গড়ে ৬-৭ ঘণ্টা লোডশেডিং করতে হয়েছে। কোথাও কোথাও আরও বেশি। ঢাকাকে আলোকিত রাখতে রাতে বেশিরভাগ গ্রামকে রাখা হচ্ছে অন্ধকারে।

বন্ধুরা
বর্তমান সরকার বিদ্যুৎ নিয়ে সবসময় ডাহা মিথ্যা কথা বলে এসেছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের তথ্য নিয়ে তারা জনগনকে ধোকা দিচ্ছে। মূলত কুইকরেন্টালের নামে বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ করে ক্ষমতাসীনদের আত্মীয় স্বজনদের মোটাতাজাকরণ ছাড়া আর কিছুই উন্নতি হয়নি। ভর্তুকি দিয়ে কুইকন্টোল বিদ্যুৎ স্থাপন করে মূলতঃ লুটপাটেরই সুযোগ দেয়া হয়েছে, আর কেটে নেয়া হয়েছে সাধারণ মানুষের পকেট। অনুন্নোয়নের শরীরে প্রসাধনি মাখালেই উন্নয়ন হয়না। সেটি হয় ধাপ্পাবাজি। আওয়ামী সরকার শুরু থেকেই এ কাজটি করে আসছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধির কথা বলে জনগণের পকেট থেকে লক্ষ কোটি টাকা বের করে নিয়ে জনগণকে উপহার দেয়া হয়েছে দুর্বিষহ লোডশেডিং। জৈষ্ঠ্যের খরতাপে মানুষের যখন স্বস্তি দরকার তখন এই দীঘক্ষণ লোডশেডিং সরকারের উন্নয়নের জলজ্যান্ত উদাহরণ।ধন্যবাদ সবাইকে। আল্লাহ হাফেজ।