অবৈধ সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকতে পরনির্ভরশীল

0

জিসাফো ডেস্কঃ সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকতে ও পরনির্ভরশীলতার কারণে রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তাকে উম্মুক্ত করে দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

ভারতের হাইকমিশনারের সম্প্রতি সফরকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, বাংলাদেশর বিভিন্ন বাহিনীসমূহের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো পরিদর্শন করছেন বর্তমান সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ট একটি দেশের কূটনীতিকরা। এটি কিসের আলামত? সরকার নিজেকে টিকিয়ে রাখার জন্য অন্য দেশের সমর্থন নিতে গিয়ে দেশের স্বাধীনতা ও স্বার্বভৌমত্বের পরিণতি এখন হুমকির মুখে।

তিনি বলেন, ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য পরনির্ভরশীলতার কারণেই প্রভুদের কাছে রাষ্ট্রীয় গােপনীয়তাকে উম্মুক্ত করে দেয়া হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিদেশি কূটনীতিকের পরিদর্শন কি অজানা চুক্তির বহিঃপ্রকাশ? সামগ্রিকভাবে মনে হচ্ছে আমাদর সকল সরকারি প্রতিষ্ঠানকে পার্শ্ববর্তী দেশের এক্সটেনশনে পরিণত করার উদ্যোগ চলছে। প্রতিবেশী দেশকে খুশি করার জন্য নানা উপহারে ভূষিত করা হচ্ছে। আর এর বিনিময়ে বাংলাদেশের প্রাপ্তি হচ্ছে লবডঙ্কা।

 

রিজভী আরও বলেন, ভোটারবিহীন আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে পুরাে দেশকে ভারতের হাতে তুলে দিচ্ছে। কোথাও ট্রানজিটের নামে করিডার দিয়ে, কোথাও মালামাল পরিবহনের নামে ও সমুদ্র বন্দর ব্যবহারের সুযােগ দেয়া হচ্ছে। বাংলাদেশের স্থল পথ, নৌপথ এমনকি আকাশ পথকে তারা অবাধ ব্যবহার করলেও বিনিময়ে আমরা কিছুই পাচ্ছি না।

সরকার জিয়া পরিবারকে ধ্বংস করার জন্য টার্গেট করেছে মন্তব্য করে বিএনপির এ নেতা বলেন, জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ধংস করার জন্য এ সরকার শুরু থেকে জিয়া পরিবারকে টার্গেট করেছে। সরকার আদালতের ঘাড় বন্ধ রেখে বিচারিক প্রক্রিয়ার নামে জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে অমানবিক আক্রমণ চালাচ্ছে। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াক প্রতি সপ্তাহে একবার অথবা দুইবার আদালত উপস্থিত থাকতে বাধ্য করা হচ্ছে। এটা সরকার প্রধানের প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ।

ভারতের হাইকমিশনারের সফর নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কিন্তু এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ড্যান ডাব্লিউ মজিনা ৬৩টি জেলার সফর নিয়ে কেন প্রশ্ন তোলেননি? -সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে রিজভী বলেন, দেখুন ব্যক্তিগত সফর, সেটা অন্যান্য দেশ হলে একটা কথা ছিল। কিন্তু একটি বিশেষ দেশের কূটনীতিকরা বার বার যেতে থাকেন তখন তো একটা প্রশ্ন দেখা দিতেই পারে। সেই প্রশ্নের কথাই এখানে বলেছি।

উল্লেখ্য, গত ৩০ জানুয়ারি ভারতের হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা রাজশাহীর সরদায় অবস্থিত বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি পরিদর্শন করেন। এছাড়া রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স, নগর ভবন ও জয়কালী মন্দির পরিদর্শন করেন।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, আইন বিষয়ক সম্পাদক সানাউল্লাহ মিয়া, সহ-দফতর সম্পাদক মুনির হোসেন, ছাত্রদলের দফতর সম্পাদক আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।