অন-লাইন ব্যস্ত রাখার আওয়ামী কৌশল এবং জাতীয়তাবাদীদের করণীয়

0

মাঝে মাঝেই কিছু ভিডিও, খবরের লিংক বা ছবি অনলাইনে সাড়া ফেলে দেয়। আমরা অধিকাংশই সে সব বিষয় নিয়ে এত ব্যস্ত হয়ে পড়ি যে ভুলে যাই দেশে একজন স্বৈরশাসক ক্ষমতায় আছে। ভুলে যাই এ মুহুর্তে আমাদের করণীয় কি? আমরা ফুটবলের মত এক পা থেকে অপর পায়ে ছুটে চলার মত এক ইস্যু থেকে অপর ইস্যুতে দ্রুত ছুটে যাই।

আজকের অনলাইন ছেয়ে গেছে একটা ভিডিওতে। এখানে ঢাকার এক উঠতি মাস্তান নারী সংক্রান্ত ব্যাপারে একটা ছেলেকে পিটাচ্ছে। আমরা ভিডিওটাকে হাজার হাজার লাইক এবং শেয়ারে ভরিয়ে দিলাম। আমরা এ অন্যায়ের প্রতিকারের জন্য সবাই এতটাই উদগ্রীব হয়ে পড়েছি যাতে মনে হয়েছে দেশের সবচেয়ে বড় প্রবলেম হলো এই উঠতি মাস্তান।

অথচ বাংলাদেশের রিজার্ভ হ্যাক হওয়ার ঘটনা নিয়ে এত তোড়জোড় লক্ষ করা যায়নি। রিজার্ভ হ্যাকের ঘটনা এই সামান্য চর থাপ্পড়ের ঘটনার চেয়ে অনেক বড় এবং সুদুরপ্রসারী হবার পরও কেন তা এতটা সাড়া ফেলতে পারেনি? কারণ রিজার্ভ হ্যাক হবার পর তা নিয়ে দেশপ্রেমিক জাতীয়তাবাদীরা সোচ্চার হলেও সরকার দলীয় একটিভিস্টরা ছিল চুপ। তারা বরং সরকারকে বাঁচানোর জন্য একটা এস্কেপ রুট খুঁজছিলো। এই ভিডিও তাদের সেই এস্কেপ রুট দিয়ে দিলো। তারা এই ভিডিওকে এত গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করা শুরু করলো যে, অনেকে হ্যাকের ঘটনা ভুলে গেলো। এই চড়-থাপ্পরের ঘটনাই যেন এই মুহুর্তে জাতির সবচেয়ে বড় সমস্যা।

এ কারণে জাতীয়তাবাদী অনলাইন একটিভিস্টদের খুব চিন্তা ভাবনা করে খবর, ভিডিও বা ছবি শেয়ার করতে হবে। তুলনামূলক গুরুত্বহীন খবর যা দেশ এবং জাতির স্বার্থের সাথে সম্পর্কযুক্ত নয় তা শেয়ার দেয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। পত্রিকার প্রতিটা ইঞ্চি জায়গা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, আপনার টাইম লাইনও তেমন গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে গুরুত্বহীন সংবাদ যত কম থাকে ততই ভালো। তবে একই সাথে খেয়াল রাখতে হবে আপনার টাইম লাইন যেন বৈচিত্রহীন একঘেয়ে না হয়ে যায়।

বার বার ইস্যু পরিবর্তন করার চেয়ে একটা ইস্যু কেন্দ্রিক একটিভিজম শুরু করার পর প্রয়োজনে সেটাকে বাস্তবায়ণ করার জন্য অফলাইনেও কর্মসূচী দিতে হবে। সেটা সফল হলেই কেবল অন্য ইস্যুতে যাওযা যেতে পারে। উদ্দেশ্যহীন তরীর মত অন-লাইনে যেন কোন জাতীয়তাবাদী একটিভিস্ট ঘুরে না বেড়ায় তা নিশ্চিত করার জন্য এদের সবাইকে নির্দিষ্ট কিছু প্ল্যাটফর্মের আওতায় নিয়ে আসা যেতে পারে।

মনে রাখতে হবে, জাতীয়তাবাদীদের কোন মিডিয়া নাই। অনলাইনই তাদের মিডিয়া। এখানে প্রত্যেক জাতীয়তাবাদীকেই অনেক সিনসিয়ার এবং ডেডিকেটেড হতে হবে। কোনভাবে ভুল বা অসত্য খবর প্রচার করা ঠিক হবে না। জাতীয়তাবাদী একটিভিস্টদের প্রচার করা খবর যেন মূলধারার মিডিয়ার চেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্য হয় তা নিশ্চিত করতে হবে।